📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোগীর সেবা করার উপকারিতা

📄 রোগীর সেবা করার উপকারিতা


হযরত সাওবান রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুসংবাদ দান করেছেন, যখন কোনো মুসলমান অপর মুসলমান ভাইয়ের রোগে সেবা করার জন্য যায়, তখন সেখান থেকে সে ফেরার পথে জান্নাতের ফলমূল খাওয়ায় ব্যস্ত থাকে। (মুসলিম)

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য এক হাদীসে বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন বলবেন: হে বনী আদম! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করতে আসলে না কেন? সে বলবে, হে আল্লাহ! আপনি তো রাব্বুল আলামীন! আমরা কিভাবে আপনার সেবা করতে পারি? আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি কি জানতে না আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তো তার সেবা করলে না। তুমি কি জানতে না? তুমি যদি তার সেবা করতে, তবে আমাকে তার নিকটেই পেতে। (মুসলিম)

রোগীর সেবাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, হাশরের দিন আমলনামার হিসাব-নিকাশের সময় এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। আল্লাহ তা'আলা সেবাকারীদের উৎসাহ দানের জন্য রোগীর নিকটেই তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন।

• একবার হযরত যায়েদ ইবনে আকরাম রাযি.-এর চোখ উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সেবার জন্য গেলেন। (আহমাদ, আবু দাউদ)

• হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যখন কোনো ব্যক্তি রোগীর সেবা করার জন্য যায়, তখন সে ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে রহমতের সাগরে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেখানে থাকে বরং সে সময়ের মধ্যে সে রহমতের সাগরে ডুব দিতে থাকে। সুবহানাল্লাহ! (মালেক, আহমদ)

রোগীর সেবা মূলত প্রশান্তি ও উৎসাহদায়ক একটি কাজ। রোগ তার গুনাহসমূহকে কমিয়ে দেয় এবং অন্যের তুলনায় তার দু'আ অধিক কবুল হয়।

• হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন তুমি রোগীর সেবা করার জন্য যাবে, তখন তার দ্বারা নিজের জন্য দু'আ করাও। কেননা তার দু'আ ফিরিস্তাদেরই দু'আ। (ইবনে মাজাহ)

• হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. রোগীর সেবা সম্পর্কে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা বর্ণনা করেন। অন্য এক হাদীসে বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন গ্রাম্য লোকের সেবা করার জন্য গেলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিয়ম ছিল, যখন তিনি কোনো রোগীর সেবা করতে যেতেন, তখন সর্বদা বলতেন, কোনো ক্ষতি নেই তুমি ইনশাআল্লাহ পবিত্র হয়ে যাবে। (তাকেও নবীজী তা-ই বললেন।) সে বলল, কখনো নয় বরং জ্বরের তীব্রতা আরও বাড়ছে এবং এ বৃদ্ধের শরীরের এ জ্বর তাকে কবর পর্যন্ত পৌছে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ! এরূপই হবে। (বুখারী)

এ ব্যক্তির ইন্তেকাল হয় গেল। সে আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে নৈরাশ্য প্রকাশ করেছে। সরাসরি মৃত্যুর কথা না বললেও প্রকারান্তরে মৃত্যুর অকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাধ্য করেছে, তিনিও যেন তার আকাঙ্ক্ষার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন (নাউযুবিল্লাহ)।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলাম ও অনাড়ম্বর জীবন

📄 ইসলাম ও অনাড়ম্বর জীবন


ইসলাম অনাড়ম্বরতা ও সরলতার ধর্ম। এর প্রতিটি দিকেই রয়েছে শান্তি ও সরলতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবনকে সরল ও সাদামাটা বানিয়ে আমাদেরকে এ শিক্ষাই দিয়েছেন।

• কাঠের ও মাটির পাত্র অনাড়ম্বরতারই পরিচায়ক। আজ চীনের ইয়াং শহরের মানুষ পুনরায় মাটির পাত্র ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কারণ, ধাতব জাতীয় প্রতিটি পাত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

• চাক্কী এবং কুয়ার পানি ব্যবহার করা যেদিন থেকে বন্ধ হয়েছে, সেদিন থেকেই নারীদের মধ্যে মেদ, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, শিরা-উপশিরার খিঁচুনি (Muscle Strain), স্ত্রীরোগের (Gyanaecological Disease) মতো কঠিন কঠিন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

• একজন অভিজ্ঞ সার্জন বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আপনি গাইনী ওয়ার্ডে গিয়ে জরিপ চালিয়ে দেখুন, জরায়ু ক্যান্সারে সে সকল মহিলারা বেশি আক্রান্ত হয়, যারা গর্ভপাত করিয়েছে।

• গর্ভপাত ঘটালে অগণিত স্ত্রীরোগ দেখা দেয়।

• ইসলামের শিক্ষা হল, অধিক সন্তান প্রসবকারিণী নারীদেরকে তোমরা বিবাহ করো। কিন্তু "বাচ্চা কম মানে পরিবারে শান্তি" এ শ্লোগান নারীদের অসংখ্য রোগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

কাপড় ধোয়া একটি সাংসারিক নিয়ম এবং এর দ্বারা বাহু, বক্ষ এবং বক্ষের মাংসপেশীর যথেষ্ট ব্যায়াম হয়। এর দ্বারা নারীরা অগণিত স্ত্রীরোগ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু বর্তমানে এ স্থানকে মেশিন দখল করে নিয়েছে।

• গাইনী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা হল, যে সকল মহিলারা তাদের বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পরবর্তী সন্তান প্রসবের মাঝে এমনিতেই দূরত্ব সৃষ্টি হয়। নারীদেরকে সুখী সংসার বানানোর জন্য আর ঔষধ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।

পূর্বে মহিলারা সুতি কাপড় পরিধান করত। তখন তাদের মধ্যে গোপন স্ত্রীরোগ তেমন বেশি ছিল না। বিশেষত লিকোরিয়া তো ছিলই না। এটা শুধু আমার মুখের কথাই নয়। অসংখ্য অভিজ্ঞতার আলোকে বিজ্ঞানীরা এরূপ মন্তব্য করেছেন।

• ইতোপূর্বে মেয়েদের বিয়েশাদী খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যেত। কারণ, তখন রুসম-রেওয়াজের বাধা ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে দেরীতে বিবাহ করলে যেরূপ পুরুষদের ক্ষতি হয়, তদ্রূপ ক্ষতি নারীদেরও হয়। তাদের ব্রেষ্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

• যখন মহিলারা নিজেদের ঘরবাড়ি ঝাড়ু দেওয়া (আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, ঝাড়ু দিলে মহিলারা অসংখ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়ে যায়), পানি আনা, শিশুদেরকে খাবার খাওয়ানো, খাবার রান্না করা, সেলাই করা, কাপড় বুনানোর কাজ ইত্যাদি করত, তখন মহিলাদের স্ত্রীরোগ, মেদভুঁড়ি, হার্টের রোগ ইত্যাদি কম হত।

রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণে মেকআপ তৈরির সন্ধান কোনো হাদীসেই পাওয়া যায় নি। বর্তমান সমাজের মেয়েরা যখন থেকে এ এবং কদাকৃতি দূর করার বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহারের চক্করে পড়ে গেছে।

এক মহিলার দাড়ির মতো ঘন পশম গজাতে আরম্ভ করেছে। অনেক চিকিৎসা করিয়েছে, ক্রীম ব্যবহার করেছে, কিন্তু কোনো ফল হয় নি। অবেশেষে আমার কাছে আসে। তার বিবরণ শুনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে পরামর্শ দিলাম, উন্নাব (লাল রংয়ের ফল বিশেষ) ব্যবহার করবেন এবং সকল ক্রীম ব্যবহার ত্যাগ করবেন। কিছুদিন পর রোগিণীর যথেষ্ট উপকার হল।

• ঢিলা-ঢালা পোশাক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী খাদ্যের চেয়েও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ জাতীয় পোশাক ছেড়ে দিয়ে আজ আমরা বাস্তবিকই খুব পেরেশান।

• ইসলামি জীবন সাদাসিধে কিন্তু আরামদায়ক। পাশ্চাত্যের জীবন জটিল কিন্তু কষ্ট আর কষ্ট। সাদাসিধে জীবনযাপনকারী আধিকাংশ লোকই রোগ-ব্যাধি, অস্থিরতা, অনিদ্রা, আত্মহত্যা ও তালাকের মতো মারাত্মক জটিলতার শিকার খুব কম হয়ে থাকে।

• লাল রং অথবা লিপস্টিক, একথা দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট যে, প্রথম প্রথম লিপস্টিকে এরূপ চর্বি ব্যবহার করা হত, যা তাড়াতাড়ি গলত না। অনুসন্ধান করে জানা গেল, শূকরের চর্বি তাড়াতাড়ি গলে না। তারপর লিপস্টিকে শূকরের চর্বি ব্যবহার হতে লাগল। এখনো ভালো এবং দামি লিপস্টিকে শূকরের চর্বি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু লিপস্টিকে সাধারণত রং জাতীয় দ্রব্য এবং চর্বি জাতীয় শক্ত ভ্যাসলিন ব্যবহার করা হয়। তাই এটা খুবই ক্ষতিকর। কেননা রং থেকে রক্তের অগণিত রোগ-ব্যাধি জন্ম নেয়। তার মধ্যে শরীরের মারাত্মক রোগ ক্যান্সারও জন্ম নেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ‘ওয়াল বাহ্রিল মাসজুর’ এর আশ্চর্যজনক তথ্য

📄 ‘ওয়াল বাহ্রিল মাসজুর’ এর আশ্চর্যজনক তথ্য


"ওয়াল বাহরিল মাসজুম" সূরায়ে তুরের একটি আয়াত। মুফাসসিরগণ এর অর্থ করেছেন, আমি সমুদ্রকে উত্তপ্ত অগ্নির উপর রেখেছি।

ফ্রান্সের এক গবেষণা কেন্দ্র এ শব্দটির তত্ত্বানুসন্ধান করেছে। সমুদ্রে ৩০ হাজার মিটার গভীর গর্ত করার পর নিচ থেকে উত্তপ্ত পানি এবং কাদা বের হতে আরম্ভ করে। তারা যখন আরও খোদাই করলেন, তখন আরও বেশি গরম কাদা বের হতে আরম্ভ করল। এরপর আরও খোদাই করার চেষ্টা করা হলে খোদাই মেশিনটি গলে গেল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা হল, সমুদ্রের নিচে আগুন আর আগুন। সে আগুন এত তেজী এবং কঠিন যে, পৃথিবীর আগুনের সাথে তার তুলনা করা যায় না। সুতরাং ভেবে দেখুন! কুরআনে পুণ্যাত্মার ঠিকানা ইল্লিয়িয়নে বলা হয়েছে, যা রয়েছে আসমানে। আর পাপাত্মার ঠিকানা বলা হয়েছে সিজ্জীনে। সুতরাং এটাই কি সিজ্জীন? এ ব্যাপারে ওলামাদের বিভিন্ন মন্তব্য রয়েছে। কিন্তু সবগুলোর সমষ্টি ও সারকথা হল, এ আগুন বাস্তবিকই দুনিয়ার আগুন নয়। (আলবার্ট রিপোর্ট)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00