📄 ইসলামের অবদান
ইসলাম প্রাণীসমূহকে খাওয়ার উপযোগী বানানোর জন্য মৌলিক শর্ত দিয়েছে তার শরীরের সমস্ত রক্ত বের হয়ে যাওয়া। কাজেই স্বাভাবিকভাবে ঘাড়ের সামনের দিকটায় রক্ত প্রবাহের চারটি প্রধান রগ Jugular Veins, Carotid Arteries এবং তার সঙ্গে কণ্ঠনালীও কাটতে হবে। এতে প্রাণী সঙ্গে সঙ্গেই বেহুঁশ হয়ে যায়। কলিজা থেকে মাথায় যাওয়ার বড় রগ ও ধমনী দুটি কেটে গেলে তীরবেগে রক্ত বের হতে থাকে। প্রাণীও কাতরাতে থাকে। কেননা মস্তিষ্কের সাথে শরীরের সম্পর্ক হারাম মগজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর তখন প্রাণীটি জোরে জোরে হাত পা নাড়ার ফলে শরীরের শেষ প্রান্তে আটকে থাকা রক্তও বের হয়ে আসে।
ভারত উপমহাদেশে শুধু শিখ জাতি গোশত খেত এবং তারা প্রাণীটিকে দাঁড় করিয়ে তার ঘাড়ে তরবারির আঘাত করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলত। তাদের ভাষায় একে ঝটকা বলা হয় আর এরূপ গোশতকে বলা হয় মহাপ্রসাদ। ঝটকা করলে প্রাণীর মেরুদণ্ড কেটে যাওয়ার দরুন মস্তিষ্কের সাথে শরীরের সম্পর্ক নিঃশেষ হয়ে যায় এবং শরীরের রন্ধ্র নিস্তেজ হয়ে যায়। ফলে তার কাটা থেকে ঐ পরিমাণ রক্তই বের হয়, যা কাটা স্থানের আশপাশে থাকে। এরূপ প্রাণীর যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত শরীরের ভিতরে থেকে যায়। তাই গোশতের রং বিকৃত এবং স্বাদ বিনষ্ট হয়ে যায় এবং তা রান্না করার সময় একপ্রকার দুর্গন্ধ ছড়ায়।
ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঝটকা করে প্রাণী বধ করা হত। এরপর তারা একে নতুন রূপদান করে সানাল Guillotine অর্থাৎ প্রাণীকে কাঠের ফ্রেমে দাঁড় করিয়ে উপর থেকে একটি ভারি ছোরা ফেলে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলত। অভিজ্ঞতা জানা গেছে, এভাবে মেশিনে কাটা গোশত খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু তার ভিতরে রক্ত থেকে যায়, ফলে রান্না করার সময় এ থেকে একপ্রকার দুর্গন্ধ বের হয়। পশু যবাইয়ের আধুনিক কেন্দ্রকে Gleoteire বলে। এতে পশুগুটিকে ভিতরে নিয়ে মাথায় একটি ভারি হাতুড়ি মারা হয়।
অথবা মস্তিষ্কে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়। পশুটি যখন বেহুঁশ হয়ে যায়, তখন তার পায়ে শিকল লাগিয়ে উল্টো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ঐ বেহুঁশ প্রাণীর গলায় মেশিন দ্বারা করাতের মতো একটি ধারালো ছুরি চালিয়ে ইসলামি পদ্ধতির অনুসরণে গলার অর্ধেক পরিমাণ কেটে দেওয়া হয়। যবাইয়ের এ আধুনিক নিয়মের উদ্দেশ্য হল যেন রক্ত পুরাপুরি বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মেশিনের সাহায্য থাকা সত্ত্বেও চার পাঁচ মিনিট লেগে যায়। লাহোরের কসাইখানায় ইসলামি পদ্ধতিতে হাতে যবাই করলে ভেড়া বকরির এক মিনিট এবং গাভী-মহিষের জন্য তিন চার মিনিট ব্যয় হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে যবাই করার ক্ষেত্রে পশুকে বেহুঁশ করার জন্য মস্তিষ্কে যে আঘাত করা হয় অথবা বৈদ্যুতিক শক Surgical Shock দেওয়া হয়, এর কারণে হিস্টামিন সৃষ্টির কারণ হয়ে যায় এবং আঘাত পেয়ে মৃত প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
এ সকল প্রাণীর গোশত একেবারে অরুচিকর হয়। স্বাদ অনুভব করতে পারে এরূপ কয়েকজন ইউরোপীয় বন্ধুকে খুব কৌশলে একদিন তাজা যবাই করা গোশত এবং একদিন মেশিনে যবাই করা গোশত খাওয়ানো হল। তারা সকলে একমত হল, যবাই করা গোশতে যে স্বাদ রয়েছে, তা অন্য কোনো গোশতে নেই। যবাই করার ইসলামি পদ্ধতি প্রাণীর জন্য আরামদায়ক এবং ভক্ষণকারীদের জন্য অধিক নিরাপদ। (তিব্বে নববী আওর জাদীদ সায়েন্স)