📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সুন্নাতে রাসূল

📄 সুন্নাতে রাসূল


কোনো প্রাণী খাদ্যোপযোগী করার জন্য একে যবাই অতি জরুরি। ইসলামে জীবন্ত প্রাণীর দেহ থেকে গোশতের কোনো টুকরা কর্তন করা নির্দ্দয়, নিষ্ঠুরতা ও ক্ষতিকর (কাজ)। কেননা কর্তনের পর ক্ষতস্থান থেকে নির্গত রক্ত তাকে কষ্ট দিয়ে নিহত করতে পারে। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে কোন প্রকারে ক্ষতস্থানের ও পোড়া-ঘা চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা হয়। তবুও সামগ্রিকে দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত প্রাণীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে না। এটি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলেও পরবর্তীকালে কোনো কাজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য রাখে না। সুতরাং এর অবশিষ্ট গোশতও অকেজো হয়ে যায়। এ বিষয়ে আসমানী কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। তবে ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য হল, প্রাণীর জীবন। সুতরাং ইসলাম যবাইয়ের পর গোশতকে মানুষের খাদ্যের উপযোগী করার জন্য সহজসাধ্য ও বিধিবদ্ধ করার উপযুক্ত পন্থা শিক্ষা দিয়েছে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার পর এক দিনকার ঘটনায় হযরত আবু ওয়াকেদ লাইছী রাযি. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা শরীফে শুভাগমন করেন, তখন সেখানকার লোকেরা উষ্ট্রের ঝুঁটি কর্তন করত।

• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব কিছু জানার পর ইরশাদ করেন: জীবন্ত প্রাণীর দেহ থেকে যদি কোনো গোশতের টুকরা কর্তন করা হয়, তবে উক্ত গোশতও মৃত হয়ে যায়। (ইবনে মাজাহ)

মোটকথা, প্রাণীর উপর অন্যায়-অবিচার রোধ করতে এবং খাদ্যকে উত্তম, উন্নত ও বৈধ করতে ইসলাম কিছু বিধিবদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেছে। এভাবে ইসলাম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিশ্ববাসীর সম্মুখে তুলে ধরেছে। প্রাণীকে খাদ্যোপযোগী করার জন্য প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রাচীন কালে মানুষ প্রাণীদের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে ঘায়েল করে বধ করত। বড় বড় প্রাণীদের শিকার করা খুব কষ্টকর হত।

এ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল, প্রাণীটি আহত, ক্ষত-বিক্ষত ও রক্ত থেকে যাওয়ার কারণে অর্থাৎ ব্যথা ও আঘাতের কারণে প্রাণীর দেহ থেকে হিস্টামিন সৃষ্টি হত। ফলে রক্তনালীকে বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত করে দিত। এমতাবস্থায় ভীতির কারণে দেহ থেকে রক্ত পরিপূর্ণ বের হত না। যার কারণে গোশত বিস্বাদ ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। আল্লাহ তা'আলার পৃথিবী আবাদ করার প্রথম যুগে আল্লাহ তা'আলার প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে হত্যা করার পরিবর্তে যবাই করার বৈধ পন্থা শিখিয়েছেন। যেমন: ইবরাহীম আ. হাত সম্প্রসারিত করে ছুরি গ্রহণ করেন এবং নিজ পুত্রকে যবাই করেন।

পবিত্র তাওরাত গ্রন্থে ইবরাহীম আ.-এর দিকে সম্বন্ধ করে বলা হয়েছে, যখন তিনি কুরবানি করার জন্য বের হন, তখন রীতিমতো ছুরি সঙ্গে নেন। অনুরূপ ইউসুফ আ.-এর রক্তকে গুম করার ব্যাপারে লেখা হয়েছে, একটি বকরি যবাই করে ইউসুফ আ.-এর ভাইয়েরা এবং তাঁর জামাকে উক্ত বকরির রক্তে ভিজায়। তদ্রুপ আহরার গ্রন্থে জাদুকরদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন দগ্ধীভূত কুরবানির প্রাণীকে যবাই করে পাক করে। আল-কুরআন যবাই বুঝাতে “যাকিয়া” শব্দ ব্যবহার করেছে। এর অর্থ, পাক-পবিত্র করা। সুতরাং যবাই প্রাণীর গোশতকে অপবিত্র ও ময়লা থেকে পাক করে। খাদ্যের উপযোগী করে। এভাবে বৈধ ও স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় যবাই করে গোশত পাক পবিত্র করা পবিত্র তাওরাত ও কুরআন মজীদের শিক্ষা।

• বুখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. হতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। কোনো এক দাওয়াতে গোশত পাকানো হয়েছিল। সেখানে তাওরাতের আলিম যায়েদ বিন আমর বিন নোফায়েল উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন- আল্লাহর নামে যবাই না করলে সে গোশত আমি খাবই না। তদ্রুপ প্রতিমার স্থানে যবাইকৃত প্রাণীর গোশতও খাব না। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হযরত ঈসা আ. তাঁর যুগে যবাই করার এ পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। যার প্রচলন স্বয়ং ইসলাম করেছে। লাঠি, পাথর, ছুরি ইত্যাদি দ্বারা প্রাণীকে আহত করার পর ঘাড়ে মারার নতুন একটি পন্থাও আবিষ্কৃত হয়েছে।

কোনো প্রাণী খাদ্যোপযোগী করার জন্য একে যবাই অতি জরুরি। ইসলামে জীবন্ত প্রাণীর দেহ থেকে গোশতের কোনো টুকরা কর্তন করা নির্দ্দয়, নিষ্ঠুরতা ও ক্ষতিকর (কাজ)। কেননা কর্তনের পর ক্ষতস্থান থেকে নির্গত রক্ত তাকে কষ্ট দিয়ে নিহত করতে পারে। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে কোন প্রকারে ক্ষতস্থানের ও পোড়া-ঘা চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা হয়। তবুও সামগ্রিকে দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত প্রাণীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে না। এটি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলেও পরবর্তীকালে কোনো কাজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য রাখে না। সুতরাং এর অবশিষ্ট গোশতও অকেজো হয়ে যায়। এ বিষয়ে আসমানী কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। তবে ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য হল, প্রাণীর জীবন। সুতরাং ইসলাম যবাইয়ের পর গোশতকে মানুষের খাদ্যের উপযোগী করার জন্য সহজসাধ্য ও বিধিবদ্ধ করার উপযুক্ত পন্থা শিক্ষা দিয়েছে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার পর এক দিনকার ঘটনায় হযরত আবু ওয়াকেদ লাইছী রাযি. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা শরীফে শুভাগমন করেন, তখন সেখানকার লোকেরা উষ্ট্রের ঝুঁটি কর্তন করত।

• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব কিছু জানার পর ইরশাদ করেন: জীবন্ত প্রাণীর দেহ থেকে যদি কোনো গোশতের টুকরা কর্তন করা হয়, তবে উক্ত গোশতও মৃত হয়ে যায়। (ইবনে মাজাহ)

মোটকথা, প্রাণীর উপর অন্যায়-অবিচার রোধ করতে এবং খাদ্যকে উত্তম, উন্নত ও বৈধ করতে ইসলাম কিছু বিধিবদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেছে। এভাবে ইসলাম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিশ্ববাসীর সম্মুখে তুলে ধরেছে। প্রাণীকে খাদ্যোপযোগী করার জন্য প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রাচীন কালে মানুষ প্রাণীদের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে ঘায়েল করে বধ করত। বড় বড় প্রাণীদের শিকার করা খুব কষ্টকর হত।

এ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল, প্রাণীটি আহত, ক্ষত-বিক্ষত ও রক্ত থেকে যাওয়ার কারণে অর্থাৎ ব্যথা ও আঘাতের কারণে প্রাণীর দেহ থেকে হিস্টামিন সৃষ্টি হত। ফলে রক্তনালীকে বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত করে দিত। এমতাবস্থায় ভীতির কারণে দেহ থেকে রক্ত পরিপূর্ণ বের হত না। যার কারণে গোশত বিস্বাদ ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। আল্লাহ তা'আলার পৃথিবী আবাদ করার প্রথম যুগে আল্লাহ তা'আলার প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে হত্যা করার পরিবর্তে যবাই করার বৈধ পন্থা শিখিয়েছেন। যেমন: ইবরাহীম আ. হাত সম্প্রসারিত করে ছুরি গ্রহণ করেন এবং নিজ পুত্রকে যবাই করেন।

পবিত্র তাওরাত গ্রন্থে ইবরাহীম আ.-এর দিকে সম্বন্ধ করে বলা হয়েছে, যখন তিনি কুরবানি করার জন্য বের হন, তখন রীতিমতো ছুরি সঙ্গে নেন। অনুরূপ ইউসুফ আ.-এর রক্তকে গুম করার ব্যাপারে লেখা হয়েছে, একটি বকরি যবাই করে ইউসুফ আ.-এর ভাইয়েরা এবং তাঁর জামাকে উক্ত বকরির রক্তে ভিজায়। তদ্রুপ আহরার গ্রন্থে জাদুকরদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন দগ্ধীভূত কুরবানির প্রাণীকে যবাই করে পাক করে। আল-কুরআন যবাই বুঝাতে “যাকিয়া” শব্দ ব্যবহার করেছে। এর অর্থ, পাক-পবিত্র করা। সুতরাং যবাই প্রাণীর গোশতকে অপবিত্র ও ময়লা থেকে পাক করে। খাদ্যের উপযোগী করে। এভাবে বৈধ ও স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় যবাই করে গোশত পাক পবিত্র করা পবিত্র তাওরাত ও কুরআন মজীদের শিক্ষা।

• বুখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. হতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। কোনো এক দাওয়াতে গোশত পাকানো হয়েছিল। সেখানে তাওরাতের আলিম যায়েদ বিন আমর বিন নোফায়েল উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন- আল্লাহর নামে যবাই না করলে সে গোশত আমি খাবই না। তদ্রুপ প্রতিমার স্থানে যবাইকৃত প্রাণীর গোশতও খাব না। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হযরত ঈসা আ. তাঁর যুগে যবাই করার এ পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। যার প্রচলন স্বয়ং ইসলাম করেছে। লাঠি, পাথর, ছুরি ইত্যাদি দ্বারা প্রাণীকে আহত করার পর ঘাড়ে মারার নতুন একটি পন্থাও আবিষ্কৃত হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইহুদিদের জন্য হালাল প্রাণী তৈরি

📄 ইহুদিদের জন্য হালাল প্রাণী তৈরি


মুসলমান ছাড়াও ইহুদি এমন এক জাতি, যারা নিজেদের আসমানী গ্রন্থের উপর পুরোপুরি ঈমান রাখে এবং সে দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হালাল হারাম পুরোপুরিভাবেই মেনে চলে। অবশ্য তাওরাতের উপর খ্রিস্টানরাও ঈমান এনেছে। কিন্তু তারা হারাম জিনিসও ভক্ষণ করে। অথচ পোলোস এবং সেন্টপল (খ্রিস্টানদের ধর্ম যাজক) হারাম প্রাণীর একটি লম্বা ফিরিস্তি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু খ্রিষ্টানদের বাস্তব জীবনে তার কোনো প্রভাব পড়ে নি। যেভাবে মুসলমানগণ প্রাণী যবাই করে ইহুদিরাও সেভাবেই প্রাণী যবাই করে বরং ইহুদিরা অধিকতর সতর্কতা হিসেবে হারাম দ্রব্য ও যবাইকৃত প্রাণী নিরাক্ষণ করার জন্য প্রতিটি এলাকায় একটি ইহুদি পদ্ধতির যবাই কাউন্সিল Vad Kashruth রয়েছে। তাদের ভাষায় একে কাশরুখ অথবা কাফরুথ বলা হয়। যার অর্থ হল, খাদ্য সামগ্রী মূসা আ.-এর শরী'অত অনুযায়ী ব্যবস্থা করা। এ পরিষদ বিশ্বস্ত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইহুদিদেরকে সার্টিফিকেট দিয়ে শুদ্ধভাবে যবাইকৃত প্রাণীর গোশত বিক্রয়ের জন্য প্রেরণ করে। দোকানসমূহে হালাল গোশত বিক্রয়ের উপর কড়া নজর রাখার জন্য একজন ইনস্পেক্ট্ররও নির্ধারণ করে। তাকে Mashgihim বলা হয়।

পবিত্র তাওরাতের শিক্ষার আলোকে হালাল প্রাণী যবাই করার ক্ষেত্রে কসাইখানায় নিম্নোক্ত শর্তসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়।
(১) প্রাণী চতুস্পদ হতে হবে, তার ক্ষুর দ্বি-খণ্ড হতে হবে এবং জাবর কাটতে হবে।
(২) প্রাণীটি হারাম প্রাণী বা পাখীদের তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।
(৩) যবাইয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধর্মগুরুর হাতে যবাই করাতে হবে। এরূপ ধর্মগুরুকে Sohet বলে।
(৫) যবাইকারীর ছুরিটা যেন ক্ষুরের মতো ধারালো হয়; কাঁচি বা করাতের মতো দাঁতবিশিষ্ট নয়।
(৬) প্রাণীটিকে শুইয়ে মাথার নিম্নাংশে গর্দানের উপর একবার একদিকেই ছুরি চালাতে হবে। একবারে রগগুলো কাটতে না পারলে গোশত হারাম হয়ে যাবে।
(৭) যবাইকারী যবাইকালে ইবরানী ভাষায় বিশেষ দু'আটি পড়বেন।
(৮) যবাইয়ের পর প্রাণীর শরীরে লবণ লাগাতে হবে। যাতে শরীরের সমস্ত রক্ত বেরিয়ে আসে।
(৯) প্রাণীটি যবাই করার পর সঠিকভাবে যবাই হয়েছে কিনা পরিদর্শন করে দেখা হবে। গ্রাহ্য হলে তখন তার পায়ের সাথে একটি নিদর্শন লাগানো হবে। যাতে ইবরানী ভাষায় Koshcher lapesach (খাওয়ার উপযোগী) শব্দটি লেখা থাকবে। তাছাড়া ছবির মতো একটি মার্কা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং যবাইকারীর নাম যবাইয়ের তারিখ ও স্থানের নাম লিখা থাকবে।
(১০) এ পবিত্র গোশতের পিছনের পা থেকে Lschialic Narve টেনে বের করে দিতে হয়। কারণ তা হারাম।
(১১) এ পবিত্র গোশতকে এরূপ কোনো পাত্রে রান্না করা যাবে না, যে পাত্রে কখনো হারাম জিনিস রান্না করা হয়েছে। তাছাড়া গোশত রান্না করার সময় যেন দুধ না দেওয়া হয়।

লণ্ডনে ইস্ট ইণ্ড অঞ্চলে আব্দুল্লাহ নামক একজন ইহুদি কসাইয়ের গোশতের বিরাট ব্যবসা ছিল। শুধু ইহুদিরাই নয়, তার কাছ থেকে মুসলমানরাও গোশত খরিদ করত। একবার তার দোকান থেকে মুরগী খরিদ করা হল। তাতে দেখা গেল, মুরগীর পায়ের সঙ্গে যবাইকৃত প্রাণীর পবিত্রতা এবং যবাইকারীর নামের ফিতা ঝুলে আছে।

ইহুদিদের যবাইকৃত প্রাণীর উপর ইউরোপের অনেক খ্রিস্টানদের আপত্তি ছিল। মানবাধিকার গ্রুপগুলো এ যবাইকে জুলুম আখ্যা দিয়েছিল। তাই কয়েকবার এর উপর নিষাধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ইংল্যাণ্ডেও একবার এরূপ আন্দোলন হয়েছিল এবং সংবাদপত্রে বিভিন্ন কলাম ছাপা হয়েছিল। একে কেন্দ্র করেই একজন প্রসিদ্ধ অধ্যাপক এবং বৃটেনের রাণীর সরকারী ডাক্তার লর্ড বর্ডার লিখেছেন, আমি ইহুদিদের যবাই পদ্ধতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। এতে কোনো কষ্ট যাতনা ছাড়াই প্রাণীর মৃত্যু এত সহজেই হয় যে, আমিও খোদার কাছে দু'আ করি, তিনি যেন আমাকেও এরূপ সহজ মৃত্যু দান করেন।

মূলত সুন্নতে ইবরাহীমী ধর্ম অনুযায়ী যবাই করলে প্রাণীর প্রধান প্রধান রগগুলি সহজেই কেটে যায় এবং প্রাণীটি সঙ্গে সঙ্গে বেহুঁশ হয়ে যায়। সামান্য লাফালাফি করলেও তা হুঁশ থাকাবস্থায় হয় না। এজন্য প্রাণীকে খাদ্য উপযোগী করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এটাই।

মুসলমান ছাড়াও ইহুদি এমন এক জাতি, যারা নিজেদের আসমানী গ্রন্থের উপর পুরোপুরি ঈমান রাখে এবং সে দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হালাল হারাম পুরোপুরিভাবেই মেনে চলে। অবশ্য তাওরাতের উপর খ্রিস্টানরাও ঈমান এনেছে। কিন্তু তারা হারাম জিনিসও ভক্ষণ করে। অথচ পোলোস এবং সেন্টপল (খ্রিস্টানদের ধর্ম যাজক) হারাম প্রাণীর একটি লম্বা ফিরিস্তি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু খ্রিষ্টানদের বাস্তব জীবনে তার কোনো প্রভাব পড়ে নি। যেভাবে মুসলমানগণ প্রাণী যবাই করে ইহুদিরাও সেভাবেই প্রাণী যবাই করে বরং ইহুদিরা অধিকতর সতর্কতা হিসেবে হারাম দ্রব্য ও যবাইকৃত প্রাণী নিরাক্ষণ করার জন্য প্রতিটি এলাকায় একটি ইহুদি পদ্ধতির যবাই কাউন্সিল Vad Kashruth রয়েছে। তাদের ভাষায় একে কাশরুখ অথবা কাফরুথ বলা হয়। যার অর্থ হল, খাদ্য সামগ্রী মূসা আ.-এর শরী'অত অনুযায়ী ব্যবস্থা করা। এ পরিষদ বিশ্বস্ত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইহুদিদেরকে সার্টিফিকেট দিয়ে শুদ্ধভাবে যবাইকৃত প্রাণীর গোশত বিক্রয়ের জন্য প্রেরণ করে। দোকানসমূহে হালাল গোশত বিক্রয়ের উপর কড়া নজর রাখার জন্য একজন ইনস্পেক্ট্ররও নির্ধারণ করে। তাকে Mashgihim বলা হয়।

পবিত্র তাওরাতের শিক্ষার আলোকে হালাল প্রাণী যবাই করার ক্ষেত্রে কসাইখানায় নিম্নোক্ত শর্তসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়।
(১) প্রাণী চতুস্পদ হতে হবে, তার ক্ষুর দ্বি-খণ্ড হতে হবে এবং জাবর কাটতে হবে।
(২) প্রাণীটি হারাম প্রাণী বা পাখীদের তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।
(৩) যবাইয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধর্মগুরুর হাতে যবাই করাতে হবে। এরূপ ধর্মগুরুকে Sohet বলে।
(৫) যবাইকারীর ছুরিটা যেন ক্ষুরের মতো ধারালো হয়; কাঁচি বা করাতের মতো দাঁতবিশিষ্ট নয়।
(৬) প্রাণীটিকে শুইয়ে মাথার নিম্নাংশে গর্দানের উপর একবার একদিকেই ছুরি চালাতে হবে। একবারে রগগুলো কাটতে না পারলে গোশত হারাম হয়ে যাবে।
(৭) যবাইকারী যবাইকালে ইবরানী ভাষায় বিশেষ দু'আটি পড়বেন।
(৮) যবাইয়ের পর প্রাণীর শরীরে লবণ লাগাতে হবে। যাতে শরীরের সমস্ত রক্ত বেরিয়ে আসে।
(৯) প্রাণীটি যবাই করার পর সঠিকভাবে যবাই হয়েছে কিনা পরিদর্শন করে দেখা হবে। গ্রাহ্য হলে তখন তার পায়ের সাথে একটি নিদর্শন লাগানো হবে। যাতে ইবরানী ভাষায় Koshcher lapesach (খাওয়ার উপযোগী) শব্দটি লেখা থাকবে। তাছাড়া ছবির মতো একটি মার্কা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং যবাইকারীর নাম যবাইয়ের তারিখ ও স্থানের নাম লিখা থাকবে।
(১০) এ পবিত্র গোশতের পিছনের পা থেকে Lschialic Narve টেনে বের করে দিতে হয়। কারণ তা হারাম।
(১১) এ পবিত্র গোশতকে এরূপ কোনো পাত্রে রান্না করা যাবে না, যে পাত্রে কখনো হারাম জিনিস রান্না করা হয়েছে। তাছাড়া গোশত রান্না করার সময় যেন দুধ না দেওয়া হয়।

লণ্ডনে ইস্ট ইণ্ড অঞ্চলে আব্দুল্লাহ নামক একজন ইহুদি কসাইয়ের গোশতের বিরাট ব্যবসা ছিল। শুধু ইহুদিরাই নয়, তার কাছ থেকে মুসলমানরাও গোশত খরিদ করত। একবার তার দোকান থেকে মুরগী খরিদ করা হল। তাতে দেখা গেল, মুরগীর পায়ের সঙ্গে যবাইকৃত প্রাণীর পবিত্রতা এবং যবাইকারীর নামের ফিতা ঝুলে আছে।

ইহুদিদের যবাইকৃত প্রাণীর উপর ইউরোপের অনেক খ্রিস্টানদের আপত্তি ছিল। মানবাধিকার গ্রুপগুলো এ যবাইকে জুলুম আখ্যা দিয়েছিল। তাই কয়েকবার এর উপর নিষাধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ইংল্যাণ্ডেও একবার এরূপ আন্দোলন হয়েছিল এবং সংবাদপত্রে বিভিন্ন কলাম ছাপা হয়েছিল। একে কেন্দ্র করেই একজন প্রসিদ্ধ অধ্যাপক এবং বৃটেনের রাণীর সরকারী ডাক্তার লর্ড বর্ডার লিখেছেন, আমি ইহুদিদের যবাই পদ্ধতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। এতে কোনো কষ্ট যাতনা ছাড়াই প্রাণীর মৃত্যু এত সহজেই হয় যে, আমিও খোদার কাছে দু'আ করি, তিনি যেন আমাকেও এরূপ সহজ মৃত্যু দান করেন।

মূলত সুন্নতে ইবরাহীমী ধর্ম অনুযায়ী যবাই করলে প্রাণীর প্রধান প্রধান রগগুলি সহজেই কেটে যায় এবং প্রাণীটি সঙ্গে সঙ্গে বেহুঁশ হয়ে যায়। সামান্য লাফালাফি করলেও তা হুঁশ থাকাবস্থায় হয় না। এজন্য প্রাণীকে খাদ্য উপযোগী করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এটাই।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 যবাই করার ইসলামী নিয়মনীতি

📄 যবাই করার ইসলামী নিয়মনীতি


যবাই করার মৌলিক উদ্দেশ্য হল, হালাল প্রাণীর গোশত এমন উপায়ে সংগ্রহ করা, যাতে তার কষ্ট না হয়। তার রং-স্বাদ যেন রুচিসম্মত থাকে এবং ঐ গোশত কিছু সময় খাবার উপযোগী থাকে। প্রাণীকে যদি কষ্ট দেওয়া হয় বা তার শরীর থেকে যদি পুরো রক্ত বের না হয়, তা হলে তাতে হিস্টামিনের জন্ম হতে পারে। শরীরে রক্ত অবশিষ্ট থেকে গেলে এরূপ গোশত মানুষের জন্য খাওয়া উচিত নয়। হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন, যবাইয়ের ছুরিটা ভালোভাবে ধার দিয়ে নিবে এবং প্রাণীর সম্মুখে লুকিয়ে লুকিয়ে নিয়ে যাবে। যবাই করার সময় তাড়াতাড়ি যবাই করে ফেলবে। (আহমদ ও ইবনে মাজাহ)

এ বিষয়ে হযরত আওফ বিন শাদ্দাদ রাফি, রাসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইরশাদ নকল করেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জিনিসের সাথে সদয় ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তোমরা কাউকে হত্যা কর, তবে তা দ্রুত সম্পাদন করে ফেল আর যদি যবাই কর, তা হলে খুব তাড়াতাড়ি করে ফেল। ছুরিটা খুব ভালোভাবে ধার দিয়ে নাও এবং প্রাণীকে আরাম দাও। (মুসলিম)

• হযরত আবু হুরাইরা রাযি. ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুদাইল বিন ওয়ারাকা খুযায়ীকে একটি ছাই রংয়ের উটের উপর সাওয়ার করে মিনায় পাঠালেন। যেন তিনি তথায় গিয়ে অলিতে গলিতে ঘোষণা করে দেন যে, প্রাণীর যবাই হবে গলা এবং থুতনীর মধ্যবর্তী স্থানে আর তার প্রাণীর চামড়া ছাড়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবে না। মিনায় অবস্থান খাওয়া-দাওয়া এবং আনন্দফুর্তির জন্য। (দারা কুতনী)

এখানেও যবাইকে পবিত্র করার মাধ্যম বলা হয়েছে। যবাইকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রাণী ঠাণ্ডা-নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত যেন তার চামড়া ছাড়ানো না হয়। যাতে আরামের সাথে তার প্রাণ বেরিয়ে যায়।

যবাই করার অন্যান্য পদ্ধতির ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মুহাম্মদ বিন সফওয়ান বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন দুটি খরগোশ আমার হাতে ঝুলানো ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এ দুটি পেয়েছি এবং এগুলি যবাই করার জন্য লোহার কোনো জিনিস হাতের কাছে পেলাম না, তখন একটি ধারলো সাদা পাথর দিয়ে এগুলিকে যবাই করে ফেললাম। এখন আমি কি এগুলি খেতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, খাও।

• কা'ব ইবনে মালিক রাযি. বর্ণনা করেন, আমার বকরিপাল সিলা পাহাড়ের উপর চরত। আমার বাঁদী হঠাৎ দেখল, একটি বকরি মরে যাচ্ছে। সে একটি পাথর ভেঙে তার দ্বারা যবাই করে ফেলল। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হল। তিনি তা খাওয়ার নির্দেশ দিলেন। (বুখারী)

• আদী ইবনে হাতেম রাযি. বর্ণনা করেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম- হে আল্লাহর রাসূল! বলুন, যদি আমরা কোনো শিকার পাই এবং আমাদের নিকট ছুরি না থাকে, তা হলে কি আমরা পাথর অথবা লাকড়ির টুকরো দিয়ে যবাই করে ফেলব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, যেটা দিয়ে মনে চায় যবাই করে নিবে এবং আল্লাহ তা'আলার নাম উচ্চারণ করবে।

যবাই করার মৌলিক উদ্দেশ্য হল, হালাল প্রাণীর গোশত এমন উপায়ে সংগ্রহ করা, যাতে তার কষ্ট না হয়। তার রং-স্বাদ যেন রুচিসম্মত থাকে এবং ঐ গোশত কিছু সময় খাবার উপযোগী থাকে। প্রাণীকে যদি কষ্ট দেওয়া হয় বা তার শরীর থেকে যদি পুরো রক্ত বের না হয়, তা হলে তাতে হিস্টামিনের জন্ম হতে পারে। শরীরে রক্ত অবশিষ্ট থেকে গেলে এরূপ গোশত মানুষের জন্য খাওয়া উচিত নয়। হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন, যবাইয়ের ছুরিটা ভালোভাবে ধার দিয়ে নিবে এবং প্রাণীর সম্মুখে লুকিয়ে লুকিয়ে নিয়ে যাবে। যবাই করার সময় তাড়াতাড়ি যবাই করে ফেলবে। (আহমদ ও ইবনে মাজাহ)

এ বিষয়ে হযরত আওফ বিন শাদ্দাদ রাফি, রাসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইরশাদ নকল করেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জিনিসের সাথে সদয় ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তোমরা কাউকে হত্যা কর, তবে তা দ্রুত সম্পাদন করে ফেল আর যদি যবাই কর, তা হলে খুব তাড়াতাড়ি করে ফেল। ছুরিটা খুব ভালোভাবে ধার দিয়ে নাও এবং প্রাণীকে আরাম দাও। (মুসলিম)

• হযরত আবু হুরাইরা রাযি. ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুদাইল বিন ওয়ারাকা খুযায়ীকে একটি ছাই রংয়ের উটের উপর সাওয়ার করে মিনায় পাঠালেন। যেন তিনি তথায় গিয়ে অলিতে গলিতে ঘোষণা করে দেন যে, প্রাণীর যবাই হবে গলা এবং থুতনীর মধ্যবর্তী স্থানে আর তার প্রাণীর চামড়া ছাড়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবে না। মিনায় অবস্থান খাওয়া-দাওয়া এবং আনন্দফুর্তির জন্য। (দারা কুতনী)

এখানেও যবাইকে পবিত্র করার মাধ্যম বলা হয়েছে। যবাইকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রাণী ঠাণ্ডা-নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত যেন তার চামড়া ছাড়ানো না হয়। যাতে আরামের সাথে তার প্রাণ বেরিয়ে যায়।

যবাই করার অন্যান্য পদ্ধতির ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মুহাম্মদ বিন সফওয়ান বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন দুটি খরগোশ আমার হাতে ঝুলানো ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এ দুটি পেয়েছি এবং এগুলি যবাই করার জন্য লোহার কোনো জিনিস হাতের কাছে পেলাম না, তখন একটি ধারলো সাদা পাথর দিয়ে এগুলিকে যবাই করে ফেললাম। এখন আমি কি এগুলি খেতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, খাও।

• কা'ব ইবনে মালিক রাযি. বর্ণনা করেন, আমার বকরিপাল সিলা পাহাড়ের উপর চরত। আমার বাঁদী হঠাৎ দেখল, একটি বকরি মরে যাচ্ছে। সে একটি পাথর ভেঙে তার দ্বারা যবাই করে ফেলল। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হল। তিনি তা খাওয়ার নির্দেশ দিলেন। (বুখারী)

• আদী ইবনে হাতেম রাযি. বর্ণনা করেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম- হে আল্লাহর রাসূল! বলুন, যদি আমরা কোনো শিকার পাই এবং আমাদের নিকট ছুরি না থাকে, তা হলে কি আমরা পাথর অথবা লাকড়ির টুকরো দিয়ে যবাই করে ফেলব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, যেটা দিয়ে মনে চায় যবাই করে নিবে এবং আল্লাহ তা'আলার নাম উচ্চারণ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00