📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হিংস্র প্রাণীর ভুক্ত প্রাণী

📄 হিংস্র প্রাণীর ভুক্ত প্রাণী


হিংস্র প্রাণী কোনো প্রাণীকে খেয়ে ফেললে উক্ত প্রাণীর (ভুক্ত) প্রাণী গোশত খাওয়াকে ইসলাম হারাম করেছে। চাই তা মেরে ফেলুক বা জীবিত থাকুক। উদাহরণস্বরূপ নেকড়ে বাঘ ভেড়াকে খাওয়া শুরু করলে সেকেরা তাকে উদ্ধার করে নিল। এ ক্ষেত্রে ভেড়া জীবিত থাকলেও নেকড়ে যদি তার গায়ে দাঁত বসিয়ে থাকে, তবে উক্ত ভেড়ার গোশত ইসলামী শরী'অত মোতাবেক হারাম। হিংস্র জন্তু কোনো প্রাণীর উপর অক্রমণ করলে উক্ত প্রাণী পূর্ণ মাত্রায় ভীত-প্রকম্পিত হয়। এভাবে প্রাণীর দেহে হিস্টামিনের উপস্থিতি তাকে মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী করে দেয়। হিংস্র জন্তুর মুখের মধ্যে পাগলা রোগের জীবাণু থাকে।

শহরের কুকুরের দেহে উক্ত রোগের জীবাণু বনের হিংস্র জন্তুর মাধ্যমে প্রবেশ করে। চিতা বাঘ, নেকড়ে বাঘ, শৃগাল, খেঁকশিয়াল, বন বিড়াল, সিংহ ইত্যাদি কোনো প্রাণীর উপর মুখ দিয়ে থাবা মারলে সেখানে দাঁত বসে যায় এবং এর সাথে পাগলা রোগের জীবাণু ঢুকে যায়। জলাতংক (Rabies) এমন একটি মারাত্মক রোগ, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি আজ পর্যন্ত একজনও প্রাণে বাঁচে নি। যে ব্যক্তি এ রোগের শিকার হয়, কোনো চিকিৎসাতেই তার জীবন বাঁচানো যায় না।

ইসলাম পূর্ব থেকেই অবগত ছিল, হিংস্র জন্তুর মাধ্যমে পাগলা রোগ ছড়িয়ে পড়লে এর চিকিৎসা আদৌ সম্ভব হবে না। এ জন্য ইসলাম মুসলমানদেরকে পাগলা রোগ থেকে বাঁচার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
(১) কখনও ঘরের মধ্যে কুকুরকে স্থান দিবে না। লম্পট কুকুর (টো টো করে ঘুরে বেড়ায় এমন কুকুর) মেরে ফেলবে।
(২) কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দিলে উক্ত পাত্র সাতবার ধৌত করবে। তন্মধ্যে একবার মাটি দ্বারা উত্তমরূপে পরিষ্কার করবে।
(৩) যে প্রাণীর শরীরে কুকুর বা কুকুরের মতো জীবজন্তুর মুখের লালা প্রবেশ করেছে, সে প্রাণীর গোশতও খাবে না।

• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জরুরী নির্দেশের মাধ্যমে একবার মদীনার সমস্ত কুকুর নিধন করেন। তারপর ইরশাদ করেন: যে ঘরের মধ্যে কুকুর থাকবে, সে ঘরে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করবে না। তারপর এক বাণীতে বলেন, কুকুর পরিবারের সদস্যদের জন্য সর্বদা শান্তি ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লাহোর সেনানিবাসে আধুনিক ফ্যামিলি “নীশি” নামক এক জাতীয় রাশিয়ান কুকুর পালত। সারা দিন শিশুরা তার সাথে খেলাধুলা করত। এর মধ্যে ক্রোধান্বিত হওয়ার অভ্যাস ছিল না। হঠাৎ একদিন উক্ত ঘরের এক শিশুর খিচুনী (পেশী-সঙ্কোচন) দেখা দেয়। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রেও সন্দেহ ও জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। পরে শিশুটি সেখানেই মারা যায়। কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অনুরূপ আলামত অপর শিশুর মধ্যে দেখা দেয়। তাকে সাথে সাথে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কিন্তু এ শিশুটিও অবশেষে মারা যায়। মূলত কুকুরটি উক্ত ঘরে প্রতিপালিত হচ্ছিল। এর রোগজীবাণু ও পাগলারোগ থেকে বাঁচার জন্য টীকাও (ইনজেকশন), দেওয়া হয়েছিল। কুকুরটি ঘর থেকে বাইরে যেত না। ফলে অন্যান্য কুকুর থেকে রোগজীবাণুও বহন করত না। এটি বাইরের কাউকে দংশনও করে নি। সুতরাং আমরা একে বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলাম।

এর দাঁত এত বড় ও সুদৃঢ় ছিল না যে, কাউকে ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু মূলত তার সাথে সহাবস্থানের কারণে শিশু দুটি মারা যায়। তাই মানুষকে বুঝানোর জন্য কুকুরটি নিধন করে পোস্টমর্টেম করা হয়। ফলে চাক্ষুস দেখা যায়, এর শরীরে পাগলা রোগের জীবাণু ছিল এবং অন্যান্যদের উক্ত রোগে আক্রান্ত করার শক্তিও তার মধ্যে প্রবল ছিল। জীবাণু বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশের ধারণা মতে এ রোগ জীবজন্তুর মধ্যে তখন হয় যখন তাদের শরীয়ে অন্য কোনো মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করে। জীবাণু প্রবেশের ১০ দিনের মধ্যে উক্ত প্রাণী মারা যায়।

জীবাণু শরীরে প্রবেশ করেছে, অথচ জীবজন্তু রোগাক্রান্ত হয় নি -এটা একেবারেই অসম্ভব। তবে আমেরিকায় নাকি এক জাতীয় বাঁকুড় আবিষ্কার হয়েছে, যা আক্রান্ত হওয়া ব্যতীত পাগলা রোগের জীবাণু অন্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের শূকর, কুকুর ইত্যাদির স্টোর (খামার) করার প্রতি তেমন সমর্থন নেই। তবে লাহোর সেনানিবাসে কুকুরই নেই। আমাদের জানা মতে এত বড় ঘটনা অর্থাৎ কোনো জীবজন্তু নিজে আক্রান্ত হওয়া ব্যতীত রোগজীবাণু অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে সুস্থ থাকতে পারে তা জানা নেই।

উল্লেখ্য যে, ফ্লোরা নামে আমেরিকার এক মহিলার লজ্জাকর ঘটনা চিকিৎসা শাস্ত্রের বহু বই-পত্রে পাওয়া যায়। কুকুরের সংস্পর্শে থাকার কারণে উক্ত মহিলা পাগলা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। অথচ তার কুকুরকে রোগমুক্ত করা হয়েছিল। অন্য কুকুরদের সংমিশ্রণ থেকেও দূরে রাখা হয়েছিল। উল্লিখিত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, হিংস্র জীবজন্তুর লালা কেবল পাগলা রোগ নয় বরং অন্য যে কোনো মারাত্মক রোগ-ব্যাধিরও কারণ হতে পারে। সে জন্য যে প্রাণীর শরীরে হিংস্র জন্তুর লালা পড়েছে, সে প্রাণীর গোশত খাওয়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়টি স্বাস্থ্যসম্মত বিধিতে পরিণত করতে গিয়ে বলেন- অভদ্র, দুষ্টু ও নিকৃষ্ট জীবজন্তুর গোশত খাওয়া হারাম। হাদীসে খেঁকশিয়াল ও চিতা বাঘের কথা স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হারাম বস্তুর আসল রূপ

📄 হারাম বস্তুর আসল রূপ


প্রকাশ থাকে যে, ইসলাম কেবল সে সমস্ত বস্তু নিষিদ্ধ করেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও কষ্টদায়ক। এ বিষয়ে কুরআন আইন প্রণয়ন করে দিয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে আরও স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। ফিকহের কিতাব "তুহফাতুল আওয়াম"-এর মধ্যে হারাম বস্তুগুলোর একটি সুন্দর তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। এতে সামান্য মতানৈক্য থাকতে পারে। সেগুলো নিম্নরূপ:

(১) কুকুর (২) শূকর (৩) বিড়াল (৪) ইঁদুর (৫) গোসাপ (৬) জোঁক (৭) শাহীন (৮) কচ্ছপ (৯) সিংহ (১০) চিতা বাঘ (১১) নেকড়ে বাঘ (১২) গণ্ডার (১৩) হাতি (১৪) ভল্লুক (১৫) শিয়াল (১৬) বাজপাখী (১৭) হায়েনা (১৮) খেঁকশিয়াল (১৯) চিল (২০) বাজ (২১) বাঁদুড় (২২) সাপ (২৩) মাকড়সা (২৪) বিচ্ছুত (২৫) কাঁকড়া (২৬) মশা (২৭) মাছি।

দুর্গন্ধ ভক্ষণকারী যাবতীয় প্রাণী হারাম। তদ্রুপ যদি হালাল প্রাণীও দুর্গন্ধ বস্তু ভক্ষণ করে, ফল তাও হারাম। একে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যোপযোগী করা হয়, তাকে ইসতিবরা বলে। নিয়ম হল, ময়লা-আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণীকে কিছু দিনের জন্য নিরাপদ সংরক্ষিত স্থানে রেখে পাক-পবিত্র খাদ্যদ্রব্য খাওয়াতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে পূর্বে ভক্ষণ করা খাদ্য থেকে কোনো রোগজীবাণু প্রবেশ করে থাকলে, তার লক্ষণ প্রকাশ পাবে।

এটা একটি বিজ্ঞানসম্মত, আইনসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য পন্থা। এ পন্থায় উটকে ৪০ দিন, গাভীকে ২০ দিন, ভেড়া-বকরিকে ১০ দিন এবং গৃহপালিত মুরগী ইত্যাদিকে তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এ নির্ধারিত সময়-সীমা প্রাণীটি সুস্থাবস্থায় অতিবাহিত করলে এর গোশত ভক্ষণ করা বৈধ। অন্যথায় একে যবাহ করে বিনাশ করে দিতে হবে। কেননা তা মানুষের ভক্ষণ অনুপযোগী。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00