📄 রক্ত
কুরআনে কারীম রক্তকে হারাম ঘোষণা করেছে। এক স্থানে স্পষ্ট বলেছে, রক্ত দ্বারা উদ্দেশ্য প্রবাহিত রক্ত। কোনো জীবিত প্রাণীর দেহ থেকে নির্গত হওয়ার পরই রক্ত জমাট হয়ে যায়। জমাট হওয়ার পর যে উফর্ম (লোথড়া) প্রস্তুত হয়, তা হজম করার শক্তি সকল মানুষের পাকস্থলীর থাকে না। বিড়াল, কুকুর, বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ ইত্যাদি রক্ত পিপাসু প্রাণীর শরীরেও সে শক্তি থাকে না। সেজন্য কোনো মানুষ রক্ত পান করলে তা তার পাকস্থলীর হজমশক্তিকে অকেজো করে দেয়। তা ছাড়া রক্ত কেবল নিজেই হজম অযোগ্য নয় বরং তার পরে ভুক্ত খাদ্যকেও হজমের অযোগ্য করে দেয়। এভাবে তা পরিপাতক্রিয়াকে নষ্ট ও বিকল করার পর অবশেষে শরীর থেকে রক্তকে বের করে দেয়। ফলে শূলবেদনা সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞগণ মাত্র ক'দিন আগেই স্পষ্ট অবগত হয়েছেন যে, মানব শরীরে রক্ত পরিপাক করার মতো শক্তি নেই। কিন্তু হাজার বছর পূর্বে আল-কুরআন ঘোষণা দিয়েছে, রক্ত পান করা হারাম। এতে চিকিৎসা ও রাসায়নিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণিত হল যে, প্রাণীর রক্ত শরীরে আটকা পড়লে দেহের গোশত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কেননা মাত্র এক দিনে রক্তে হাজার হাজার জীবাণু সৃষ্টি হয়। যখন রোগজীবাণুর সংখ্যা অধিক বৃদ্ধি পায়, তখন তা সনাক্ত করা সহজ নয় বরং খুব কঠিন হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন প্রকার ঔষধ দিয়ে দেখতে হয়, উক্ত জীবাণু কিসে কিভাবে বিনাশ হয়। গবেষণার পরই কেবল জানা যায়, রক্তের জীবাণু কোথায়, কিভাবে, কেমন আছে? কাজেই রক্ত ব্যবহার করা বহুবিধ বিপদের কারণ হতে পারে।
📄 শুকরের গোশত
আল-কুরআন স্পষ্টভাবে পাঁচ স্থানে শূকরের গোশত হারাম বলে ঘোষণা করেছে। হিন্দুরা গাভী এবং শিখেরা ময়ূরের গোশত না খেলেও বরকতময় মনে করে। অপবিত্র হওয়ার কারণে ইসলাম শূকরের গোশতকে হারাম ও নিষিদ্ধ করেছে। যেহেতু ইসলামের কোনো কাজ প্রজ্ঞাশূন্য নয়, তাই ঈমান ও একীনের দাবি অনুযায়ী এটা নির্ধিধায় পরিত্যাজ্য হওয়াই উচিত। কিন্তু যারা কারণ জানতে ইচ্ছুক বা যারা ইসলাম মানে না (অমুসলিম) তারা অবাক হয়ে বলেন, ডাক্তার তো গোশত পরীক্ষা করেই খাওয়ার অনুমতি দেন। তা ক্ষতিকর হয় কিভাবে? সাধারণত মানুষ যেসব রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, শূকরও সেসব রোগে আক্রান্ত হয়। যেমন: তার রক্তনালী দিয়ে চর্বি বের হয়। হৃৎপিণ্ডে কম্পন পড়ে। ব্লাডপ্রেসার (রক্তচাপ) হয়। যে-ঘরে শূকর বসবাস করে বা যে গোশত খায় তার অস্তিত্ব হুমকীর সম্মুখীন হয়। কেননা এগুলো চলাফেরা করার সময় বাইর থেকে বিভিন্ন প্রকার রোগজীবাণু বয়ে নিয়ে আসে।
এ সব রোগ-জীবাণুই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে গাভী, মহিষ, বকরি, কবুতর, মুরগী ইত্যাদির মধ্যে কমবেশি যাই হোক, এদের রোগ-ব্যাধি মানুষের মধ্যে ততটা ক্ষতিকর প্রভাব ছড়ায় না। যেমন: আমার মুরগীগুলো 'রাণীখেত' সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। কিন্তু এর কারণে আমার পরিবারের লোকদের মধ্যে তেমন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে নি। পক্ষান্তরে এ জাতীয় কোনো রোগ শূকরের মধ্যে ছড়িয়ে গেলে তার পালন-পোষণকারী এবং ভক্ষণকারী কেউই নিরাপদ থাকতে পারে না। শূকরের কলেরা রোগ হয়। বসন্ত হয়। দ্রুত রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এর অস্ত্রে পরজীবী রোগ-ব্যাধি পালিত হয়। এর তিন মাস্তির মাধ্যমে আশপাশের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
খাদ্যের দিক দিয়ে শূকর সর্বভূক অর্থাৎ সব কিছু খায়। পরগাছা ক্রিমি শূকর ব্যতীত গাভীর দেহেও হতে দেখা যায়। এ পরগাছা খাদ্য দ্রব্যের সঙ্গে মানুষের শরীরে অধিক প্রবেশ করে। তবে যেহেতু গাভীর গোশত সিদ্ধ-ভূনা করে খাওয়া হয়, তাই খাদ্যের সাথে শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা খুব একটা থাকে না। রাহবারে কামিল রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত ক্ষতি ও সমস্যাসমূহ অনুভব করেছিলেন। তাই গাভীর দুধ ও মাখন পছন্দ করা সত্ত্বেও এর গোশতকে রোগের কারণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের জন্য গাভীর দুধ ভাল। কেননা এর দুধ ও মাখন খুব উপাকারী ঔষধও বটে। অবশ্য এর গোশতে রোগ জীবাণু আছে। সুতরাং এ থেকে বাঁচ।
সম্ভবত এ কথাই মুহাম্মদ আহম্মাদ জায়বী হযরত মুহাযের রাযি. হতে বর্ণনা করেছেন। যেমন: হযরত মূল্যয়কা বিনতে আমরা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : গাভীর দুধের মধ্যে শেফা (উপশম) আছে। এর মাখনও একটি উত্তম ঔষধ (প্রতিষেধক)। তবে এর গোশত রোগ-ব্যাধির কারণ। উল্লেখ্য যে, এখানে গাভীর গোশতকে হারাম বলা হয় নি বরং পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, এটা খেতে পার নিশ্চয়। তবে তাতে তোমরা রোগাক্রান্ত হয়ে যেতে পার। গাভীর গোশত সম্পর্কে হাদীস বিশারদগণ কয়েকটি ক্ষতিকর অবস্থার কথা বলেছেন।
এর বিস্তারিত বিবরণ গোস্তের উপকারিতা অধ্যায়ে উল্লেখ করা হবে। তবে অবশ্য আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. একে রোগের কারণ বলে সনাক্ত করেছেন। যেমন, শরীরের কোনো কোনো অঙ্গ ফুলে যাওয়া। এ ফোলা কতিপয় পরগাছা ক্রিমির কারণে হয়। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ হল Wucheria Banerofti Guinea। আফ্রিকা ও মিসরে একটি ক্ষতিকর পোকা (ক্রিমি) গাভীর গোস্টে পাওয়া যায়। শম্পর একটি পরগাছা ক্রিমি অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় শূকরের গোস্তে বেশি হতে দেখা যায়। অনুরূপ নাড়ীভুঁড়ি ও যকৃতে প্রতিপালিত হয়, এমন একটি ভয়ঙ্কর পোকা হল Fasciolopsis Buski। এটা শূকর ও কুকুরের শরীরে বেশি পাওয়া যায়। এর বিষক্রিয়ায় দাস্ত, পেট ব্যথা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। কুকুর ও শূকরের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়ালে সারা জীবন সীমাহীন কষ্ট ও ভোগান্তির কারণ হতে পারে। ইউরোপে প্রাণীর প্রতিপালন ও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বৎসর তাদের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত। এজন্য তারা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চিলি, আর্জেন্টিনা, কেনিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে সেই ঘাটতি পূরণ করত। বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে আর্জেন্টিনা থেকে শূকরের গোশত জার্মানীতে আমদানি করা হত।
যখন দেখা গেল ওখানকার শূকরের গোশতের কারণে জার্মানীদের মধ্যে অস্থি-সন্ধির রোগ-ব্যাধি দেখা দিচ্ছে। তখন জার্মান সরকার গোস্তের টুকরা পাঠানোর পূর্বে প্রত্যক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে। যদিও এটা কষ্টকর কাজ ছিল; কিন্তু উক্ত মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচার জন্য এই একটি মাত্র ব্যবস্থাই ছিল। যার ফলে জার্মানীতে আমদানিকৃত গোশতের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সরবরাহ ও আমদানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট সংযুক্ত করে সাক্ষাৎকার দেয় যে, এতে পরজীবী পোকা নেই। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেল, এত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করা সত্ত্বেও পোকা বাহিত রোগ-ব্যাধি পূর্বের মতোই বহাল আছে। তাই আজ অধিকাংশ দেশে শূকরের গোশত খুব গবেষণা ও পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরই বাজারজাত করা হয়।
যদিও উক্ত পন্থা অবলম্বনের মধ্যে আনন্দিত হওয়ার তেমন কিছু নেই, তথাপি ধরুন স্বীকার করে নিলাম, এ জাতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার পর এতে আর রোগ-জীবাণু থাকে না। কিন্তু তারপরও দেখা যাবে, গোশতের সঙ্গে জড়িত চর্বির কোষের মধ্যে মিশ্রিত জীবাণু পাকস্থলীতে প্রবেশ করছে এবং খাদ্যকে অনুপযুক্ত ও ক্ষতিকর করে দিচ্ছে। দুর্বল শূকরের গোশত থেকেও তাপ উৎপাদিত হয়। তবে বকরির গোশতে উক্ত তাপ মাত্রা ২৪৫। অবশ্য বেশ কিছু পন্থায় উক্ত গোশতের ক্ষতিকর ক্রিয়া কিছুটা হ্রাস করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে, যখন উক্ত গোশত সাধারণ অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায় না, তখন এমন কী আর বিশেষ ব্যবস্থা আর উপযুক্ত করা যাবে? সবচেয়ে বড় কথা হল, ভক্ষণকারী সর্বদা নির্লজ্জ হয়ে থাকে। এজন্য সমগ্র ইউরোপ লজ্জাশীলতা থেকে বঞ্চিত।
📄 গলা টিপে মারা প্রাণী
যে প্রাণী গলায় চাপা খেয়ে মারা যায়, তার শরীরের সমস্ত রক্ত দেহের মধ্যে থেকে যায়। এ কারণে তার গোশত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। গোস্তের রং গাঢ় লাল হয়ে যায়। ফলে তা কুশ্রী ও বিস্বাদ হয়ে যায়। শ্বাস আসা-যাওয়া বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ হওয়ার কারণে রক্তে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়। যদ্দরুন গোস্তের মধ্যে এমন পরিবর্তন আসে, যার পরে তা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বিরাট ক্ষতিকর। আঘাত যে প্রকারের হোক না কেন, এতে হিস্টামিনের উৎপত্তি হয়। এর দুর্গন্ধ গোস্তে মিশে যায়। হিস্টামিনের প্রভাব ও তার ক্ষতি পৃথক শিরোনামে বর্ণনা করা হয়েছে。
📄 আঘাতপ্রাপ্ত প্রাণী
উপর থেকে পতিত কোনো বস্তুর আঘাতে যে প্রাণী মারা যায় বা মানুষের দেহে যখন আঘাত লাগে, তখন এর ভয় ও ব্যথার কারণে শরীরে পরিবর্তন আসে। ধরুন! কেউ মোটর থেকে পড়ে গেল। তার শরীরে আঘাত লাগল। এতে তার হাড় ভাঙল না বা শরীরের কোনো অংশ মচকানও না। তবুও আঘাতের প্রচণ্ডতায় এবং ব্যথা-যন্ত্রণায় তার রং পরিবর্তন হয়ে যায়। নাড়ী দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যায়। ঠাণ্ডা ঘাম নির্গত হয়। মুখ শুকিয়ে যায় এবং ঠাণ্ডা লেগে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে Surgical Shock বলে। রোগীর রক্তচাপ হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে তার চোখের পাতা স্ফীত হয়ে যায়। সে অনুভব করতে পারে, সে মৃত্যু পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আঘাত মারাত্মক না হলেও এ থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর অবস্থা দাঁড়াতে পারে।
মোটকথা, এ সকল অবস্থা আঘাতের প্রচণ্ডতা ও শরীরের অস্থি মচকে যাওয়ার কারণে হয় না। অন্যথায় আমরা কাশ্মীর মুক্তি আন্দোলনে হাজার হাজার আহতকে দেখেছি, গুলি লাগলেও তারা কষ্ট অনুভব করে নি। কারণ, তা দ্রুত বের হয়ে যায়। পক্ষান্তরে কারও পায়ের গোঁড়ালীর নিচের অংশ মচকে গেলেও তা বেশ কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক হয়। আঘাত পাওয়ার পর ক্ষতস্থানটি প্রথমে লাল হয়ে যায়। তারপর ফুলে যায়। পরিশেষে উক্ত স্থান নীল রং ধারণ করে। ঝিল্লির মধ্যে রক্তের শিরা ফেটে গেলে বা মুচড়ে গেলে এমন হয়। সুতরাং এরূপ আঘাত প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তপ্ত পানি বা গরম মাটি দ্বারা সেক দেওয়া হলে ফোলা বৃদ্ধি পায়।
কেননা উত্তপ্ত করার কারণে রক্তের আবর্তন (চাপ) বৃদ্ধি পায়। সুতরাং এর বিপরীতে যদি ঠাণ্ডা পানি বা বরফ লাগানো যায়, তবে ফোলা ও যন্ত্রণা হ্রাস পেতে থাকে। আর ২৪ ঘণ্টা পরে সেক দিলে উক্ত জমাট রক্ত শিরার মধ্যে ফিরে যায়। কথিত আছে, আঘাতের ব্যাপারে এ দৃষ্টিভঙ্গি চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি ঐতিহ্যময় কৃতিত্ব। প্রাচীনকালে আঘাত প্রাপ্তির পরপর উত্তপ্ত দুধ পান বা সেক দেওয়ার প্রথা ছিল। আঘাতের উপর একপ্রকার প্রলেপ দেওয়া হত। ফলে রক্তপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেত।
পক্ষান্তরে উহুদ যুদ্ধের সময় রসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোতা অস্ত্র ও পাথরে আহত হন। এর চিকিৎসায় সর্বপ্রথম আঘাতের স্থানটি ধৌত করান এবং পানি ঢালেন। ফলে রক্ত জমাট হয় নি। এ প্রাথমিক চিকিৎসার সুফলে আঘাতে যন্ত্রণা হল না, ফুলে গেল না বা শঙ্কার কোনো চিহ্নও পাওয়া গেল না। আঘাতপ্রাপ্তি ও ভীতির কারণে শারীরিক গঠনের মধ্যে একপ্রকার রাসায়নিক উপকরণ হিস্টামিন জন্ম নেয়। আঘাত থেকে উদ্ভুত যাবতীয় আলামত হিস্টামিনের প্রতিক্রিয়া। এমনকি 'হোস্স্সাসিয়াত' থেকে উৎপন্ন চর্মরোগ হিস্টামিনের কারণে হয়।
গভীর জঙ্গলের মধ্যে মানুষ হিংস্র জীবজন্তু দেখলে ভীত হয়ে যায়। পরে হিস্টামিন জন্ম নেয়। ফলে জীবজন্তু অনেক দূর থেকে এর (হিস্টামিনের) গন্ধ পায়। বাঘ বনের কোনো অংশে হিস্টামিনের ঘ্রাণ পেলে বুঝতে পারে, আশপাশে কোথাও এমন প্রাণী আছে, যে তার (বাঘের) ভয়ে ভীত। বাঘ তখন ঐ ঘ্রাণ শুঁকে অগ্রসর হতে হতে শেষ পর্যন্ত তাকে শিকার করে বসে। অথচ বাস্তবে উক্ত প্রাণী তার দৃষ্টিসীমার বহু দূরে ছিল। প্রাণী আঘাত প্রাপ্ত হলে অথবা বিশেষ করে ভোতা অস্ত্রে আহত হলে হিস্টামিন সৃষ্টির কারণে রক্তের শিরাগুলো বিস্তৃত ও ঢিলা হয়ে যায় এবং হিস্টামিনের গন্ধ এতে মিশে যায়।
কুরআন মজীদ উপর থেকে নিচে পতিত, লাঠি দ্বারা প্রহৃত এবং আঘাত বা ধাক্কা খেয়ে পড়ে নিহত প্রাণীর গোশত খাওয়াকে হারাম করে দিয়েছে। ইসলামের বিধান ও কানুন পরিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার উপর প্রতিষ্ঠিত। হিস্টামিন কখন, কোথায় কিভাবে সৃষ্টি হয়, এর কার্যকারিতা ও ক্রিয়াশীলতা ইত্যাদির যাবতীয় লক্ষণ ও অবস্থা উলমার পূর্বেই বন্যার কার দিয়েছে।
উল্লিখিত সকল অবস্থায় নিহত হওয়ার পর হিস্টামিন সৃষ্টি হলে তা স্বাদহীন, রংহীন এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়। কুররাম নামীয় চিকিৎসার ভাষায় Blunt Injuries এ ধরনের নিহত প্রাণীর গোশত নিষিদ্ধ করে মুসলমানদের রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার এক গরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পেশ করেছে। উল্লিখিত আলোচনা ও অবস্থা পাঠে আমাদের শুরুতেই বুঝতে হবে, সুস্পষ্ট কারণে নিহত প্রাণীর গোশত ভক্ষণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই উক্ত প্রাণীসমূহের গোশত মানুষের ভক্ষণ উপযোগী নয়। ইসলাম এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের উপর এক বিরাট অনুগ্রহ করেছে।