📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রতিশ্রুতি

📄 প্রতিশ্রুতি


ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মেরুদণ্ডের হাড়ের মতো। ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিশেষজ্ঞ "Derry" (পেরী) তার গ্রন্থে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে লিখেছেন- আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষের প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখার অভ্যাস তাকে অল্প সময়ে অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং তাদের মধ্যে উৎকৃষ্ট করে তোলে। এ কুঞ্জির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের অধিকতর অগ্রগতি ও সফলতার দরজা খুলে যায়। কুরআন মজীদে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে কঠোরভাবে তাগিদ করা হয়েছে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ
হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا
"এবং অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিঃসন্দেহে অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"

যে-ধর্মে অঙ্গীকার রক্ষা করার ব্যাপারে এত কঠিন নির্দেশ রয়েছে, সেখানে এর উপর আমল করে জীবনযাপন না করলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রতিফলন না ঘটালে মানুষ কতই না কঠিন সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হবে। সাধারণত ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীকে আদালতে নানাভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। এ আইন ভঙ্গকারীদের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছে। আর বরকতময় হাদীস সমূহে মুনাফিকের সব আলামত বর্ণনা করা হয়েছে, তন্মধ্যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাও একটি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবদ্দশায় সদাসর্বদা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।

এ বিষয়ে একটি ছোট ঘটনা বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা শত্রুদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল। দুজন সাহাবী মক্কা থেকে মদীনায় আসছিলেন। পথিমধ্যে কাফিররা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলে এবং এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছেড়ে দেয় যে, এরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। উভয়ে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, তোমরা ফিরে যাও! সর্বাবস্থায় আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমরা একমাত্র আল্লাহর সাহায্য চাই।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঋণ গ্রহণ

📄 ঋণ গ্রহণ


বিভিন্ন সময় মানুষ নিজের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বা সমস্যার কারণে অন্যের থেকে করজ গ্রহণ করে। এভাবে দুজন মানুষের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইসলাম ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের হকের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। একদিকে ঋণদাতাকে নির্দেশ দিয়েছে ঋণগ্রহীতা অসহায় দরিদ্র হলে এবং নির্ধারিত সময় ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে অতিরিক্ত সময় দিবে। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমা করে দাও, তবে তো যারপরনাই লাভ। অপরদিকে ঋণগ্রহীতাকে বলেছে: যখন ঋণ গ্রহণ করবে, তখন ঠিকমতো আদায় করার নিয়তে নিবে। আল-কুরআনের নির্দেশ হল, যদি তোমাদের ঋণ গ্রহীতা অস্বচ্ছল হয়, তবে তাকে আরও সুযোগ দাও। যদি দান করে দাও তথা ঋণ ক্ষমা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য অতি উত্তম। (সূরা বাকারাহ : ২৮০)

• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন; যে ব্যক্তি কোনো ঋণগ্রহীতাকে সুযোগ দিবে বা ঋণ ক্ষমা করে দিবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসে নিজের ছায়ায় মধ্যে স্থান দিবেন। (মুসলিম)

• আবু হুরাইরা রাযি. বর্ণনা করেছেন, ধনীর করজ পরিশোধে টালবাহানা করা অবিচার। (বুখারী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00