📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

📄 ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি


• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘নিজের পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য বেশি বেশি কসম করা থেকে বিরত থাকো। এটা তো বাস্তবে বিক্রয়ের সময় প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু পরিশেষে ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যায়।

• অপর হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিযী)

• হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।

• হযরত আবু হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি কিয়ামত দিবসে তিন ব্যক্তির উকিল হব। আর আমি যার শত্রু হব, তার উপর আমি সেদিন (কিয়ামতে) বিজয়ী হব। (১) যে ব্যক্তি আমার নাম নিয়ে অঙ্গীকার ও স্বীকার করে। অথচ পরে তা ভঙ্গ করে। (২) যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে গোলাম (দাস) বানিয়ে বিক্রি করে এবং উক্ত বিক্রীত মূল্য নিজে ভক্ষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি শ্রমিককে শ্রমে নিয়োগ করে। তারপর সে কাজপূর্ণ করে কিন্তু তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে না। (ইবনে মাজা)

উল্লিখিত বরকতময় হাদীসসমূহে শ্রমিকের পারিশ্রমিক অতি দ্রুত তথা গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া করা হয়েছে। শ্রমিক তার পারিশ্রমিক চাওয়ার পূর্বেই অতিদ্রুত পেয়ে গেলে কেন মন দিয়ে কাজ করবে না? তার মধ্যে যখন আস্থা জাগবে যে, তার নিয়োগদাতা তার মূল্য তার ন্যায্য পারিশ্রমিক ঘাম শুকানোর পূর্বেই দিয়ে দিচ্ছে এবং সব কিছু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, তখন যে তার কাজটি আরও অধিক পরিশ্রম ও মনোযোগের সাথে করবে।

শ্রমিক ও কর্মজীবিদের জীবিকা তাদের দুই হাতে বিদ্যমান। শারীরিক শক্তি ও ক্ষমতা আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের দান। তবে জীবিকা মাধ্যম। পেট চলে তো হাত চলে। উপার্জনকারীর জীবিকা হল উপার্জন। উপার্জনকারী ধনী বা গরীব যেই হোক না কেন সে আল্লাহর বন্ধু। কোনো কোনো দেশে নাগরিকত্ব জীবিকার একটি অংশ। বিভ্রান্ত-পাপী হলেও জীবিকা পায় অর্থাৎ তার জীবিকার মাধ্যম হল নাগরিকত্ব।

সর্বাবস্থায় ধর্ম মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়। ধর্ম বলে দেয় হালাল কি জিনিস এবং হারাম কি জিনিস। বৈধ কি এবং অবৈধ কি? পুণ্য কি, শাস্তি কি, অনুগ্রহ কি, অত্যাচার কি? বাস্তবে শ্বাস-প্রশ্বাসের করাত (মানব) জীবনের অস্তিত্বের বৃক্ষকে কর্তন করে জীবিকার যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা চিরকালের জন্য খতম হয়ে যায়। বৈধ প্রয়োজন ও চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য অবৈধ পন্থায় উপার্জন করা নির্বুদ্ধিতা আর গোনাহও বটে। হারাম উপার্জনে লালিত-পালিত ছেলে-মেয়েরা অবশ্যই বিদ্রোহী, বেয়াদব ও অভদ্র হয়। মোটকথা, হারাম অর্থ সম্পদে দ্বিমুখী আযাব। পরিণামে নিজেও বরবাদ; শেষে ছেলে-মেয়েরাও বরবাদ।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রতিশ্রুতি

📄 প্রতিশ্রুতি


ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মেরুদণ্ডের হাড়ের মতো। ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিশেষজ্ঞ "Derry" (পেরী) তার গ্রন্থে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে লিখেছেন- আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষের প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখার অভ্যাস তাকে অল্প সময়ে অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং তাদের মধ্যে উৎকৃষ্ট করে তোলে। এ কুঞ্জির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের অধিকতর অগ্রগতি ও সফলতার দরজা খুলে যায়। কুরআন মজীদে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে কঠোরভাবে তাগিদ করা হয়েছে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ
হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا
"এবং অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিঃসন্দেহে অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"

যে-ধর্মে অঙ্গীকার রক্ষা করার ব্যাপারে এত কঠিন নির্দেশ রয়েছে, সেখানে এর উপর আমল করে জীবনযাপন না করলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রতিফলন না ঘটালে মানুষ কতই না কঠিন সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হবে। সাধারণত ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীকে আদালতে নানাভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। এ আইন ভঙ্গকারীদের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছে। আর বরকতময় হাদীস সমূহে মুনাফিকের সব আলামত বর্ণনা করা হয়েছে, তন্মধ্যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাও একটি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবদ্দশায় সদাসর্বদা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।

এ বিষয়ে একটি ছোট ঘটনা বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা শত্রুদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল। দুজন সাহাবী মক্কা থেকে মদীনায় আসছিলেন। পথিমধ্যে কাফিররা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলে এবং এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছেড়ে দেয় যে, এরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। উভয়ে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, তোমরা ফিরে যাও! সর্বাবস্থায় আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমরা একমাত্র আল্লাহর সাহায্য চাই।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঋণ গ্রহণ

📄 ঋণ গ্রহণ


বিভিন্ন সময় মানুষ নিজের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বা সমস্যার কারণে অন্যের থেকে করজ গ্রহণ করে। এভাবে দুজন মানুষের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইসলাম ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের হকের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। একদিকে ঋণদাতাকে নির্দেশ দিয়েছে ঋণগ্রহীতা অসহায় দরিদ্র হলে এবং নির্ধারিত সময় ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে অতিরিক্ত সময় দিবে। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমা করে দাও, তবে তো যারপরনাই লাভ। অপরদিকে ঋণগ্রহীতাকে বলেছে: যখন ঋণ গ্রহণ করবে, তখন ঠিকমতো আদায় করার নিয়তে নিবে। আল-কুরআনের নির্দেশ হল, যদি তোমাদের ঋণ গ্রহীতা অস্বচ্ছল হয়, তবে তাকে আরও সুযোগ দাও। যদি দান করে দাও তথা ঋণ ক্ষমা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য অতি উত্তম। (সূরা বাকারাহ : ২৮০)

• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন; যে ব্যক্তি কোনো ঋণগ্রহীতাকে সুযোগ দিবে বা ঋণ ক্ষমা করে দিবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসে নিজের ছায়ায় মধ্যে স্থান দিবেন। (মুসলিম)

• আবু হুরাইরা রাযি. বর্ণনা করেছেন, ধনীর করজ পরিশোধে টালবাহানা করা অবিচার। (বুখারী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00