📄 হাদীসে রাসূল
• হযরত মুয়াজ রাযি. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ওই ব্যবসায়ীরা সর্বোত্তম পেশায় নিয়োজিত যারা কথা বললে সত্য বলে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে না, ওয়াদা করলে কখনও খেলাফ করে না, কিছু বিক্রির সময় (এর) সীমাহীন প্রশংসা করে না, কখনও কিছু ক্রয় করলে তার মূল্য পরিশোধে বিলম্ব করে না, তারা কাউকে ঋণ দিলে তার সঙ্গে কঠোরতা করে না। (বায়হাকী)
আমার জনৈক বন্ধু ব্যবসায় শাস্ত্রে মাস্টার ডিগ্রী করে (এম.বি.এ) আসার পর আমি তাকে বাণিজ্যিতত্ত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে উত্তরে বলল, ইদানিং গোটা ইউরোপ অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করে বলছে, গ্রাহকের উপকার কর এবং প্রয়োজনে বিক্রীত পণ্য ফেরৎ নাও। গ্রাহককে নিজের পণ্যের ত্রুটিগুলো বলে দাও, গ্রাহকের সঙ্গে বিনয়, কোমলতা ও মহব্বতের সাথে কথা বল। তাকে নিজের বন্ধু বানাও এবং তার মান-মর্যাদার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখ।
চিন্তার বিষয় হল, এটা ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আবিষ্কার না আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখনিঃসৃত বাণী? এর উপর আমল করার কারণে তারা আজ উন্নতির শীর্ষে উঠে গিয়েছে আর আমরা অবনতি ও ধ্বংসের অতল গহবরে হাবুডুবু খাচ্ছি। উলামা ও মুফাস্সিরগণ এ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন, গোলাম ও কর্মচারীকে ক্ষমা করে দিবে। তাদের সব কাজে সহযোগিতা করবে। তাদেরকে তিরস্কার করার পরিবর্তে প্রশংসা ও বাহবা দিবে। আমরা বাস্তবে কি এরূপ করি?
আমরা কি চাকর-বাকর এবং অধীনস্থদের প্রশংসা ও দু'আ করি? বস্তুত ইউরোপীয়রা এ পন্থা অবলম্বন করেছে। তারা এ বিষয়টির উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সাফল্য অর্জন করেছে। তাই গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং সামনের ঘটনাটি মনোযোগের সাথে পড়ুন।
ইউরোপের কোনো এক কোম্পানীর লভ্যাংশ মূলত পণ্য উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু মালিক কঠিন অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পরে যায়। কেননা অর্ডার ও চাহিদামতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছিল না। অথচ বাস্তবে তার মেশিনপত্র সাজ-সরঞ্জাম অত্যাধুনিক ও অধিক ছিল। কিন্তু কর্মচারী ও অফিসার একের পর এক পরিবর্তন করা হচ্ছিল বলে উৎপাদনে তেমন গতি সৃষ্টি হচ্ছিল না। তাই মালিক কোম্পানীর প্রধান দক্ষ প্রকৌশলীদের শরণাপন্ন হন। তারা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন ও পরামর্শ দেন।
তারা তদন্ত করতে এসে জানতে পারেন, কোম্পানী-প্রধান সাজ-সরঞ্জাম ও মেশিনারীর উপর খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রশংসাপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করার চেষ্টাও করা হচ্ছে কিন্তু উৎপাদন নেই। পক্ষান্তরে শ্রমিকদের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। এরা মেশিন চালায়, সাজ-সরঞ্জাম সব কিছু ঠিক রাখে। অথচ এদেরকে উপযুক্ত মূল্যায়ণ করা তো হতই না বরং উল্টো তাদের উপর জুলুম-শোষণ চালানো হত। সে জন্যই কাজে অগ্রগতি হত না।
তারা কোম্পানীর প্রধানকে পরামর্শ দিলেন, ঘন ঘন শ্রমিক পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এ মুহূর্তে একমাত্র প্রয়োজন আপনি শ্রমিকদের খুশি করুন। তাদেরকে প্রশংসা ও উৎসাহ দিয়ে কাজ করান। তাদের সমস্যা দূর করুন এবং সুযোগ-সুবিধা ও বেতন ঠিকমতো দিন। আপনি ইনচার্জদের (দায়িত্বশীল) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। অফিসাররাও আপনার ব্যবহারে শ্রমিকদের কাছে প্রশংসা করবে এবং তাদের কাজ সমাধা করবে। প্রয়োজনে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে বাবাধন বলে খুশি করে অধিক কাজ নিন। এরূপ করলে দৃঢ়বিশ্বাস আপনার কোম্পানীর উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
"শ্রমিকের মন করলে খুশি কাজ হবে বেশি" কর্মীদের প্রত্যেকের প্রতি এমন কিছু করা দরকার, যেন তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও সাহস বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদক ও উপদেষ্টাগণ ব্রীফকেস থেকে একটি সুন্দর মূল্যবান পোস্টার বের করে তার সম্মুখে মেলে ধরে বললেন, এটাকে প্রত্যেক শাখা ও বিভাগের ইনচার্জের টেবিলের উপর লাগিয়ে দিবেন: এক গ্রাম উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মনজয় এককিলো গালমন্দ থেকে বেশি ভারি।
কোম্পানী প্রধান উক্ত পরামর্শ ও প্রতিবেদন মোতাবেক কাজ করে। কাজের দ্রুত অগ্রগতি দেখে খুশি হন। অল্প দিনের মধ্যে উৎপাদনের জোয়ার বয়ে গেল। তাঁর কাছে এর বাস্তবতা খুলে যায়। তিনি বুঝতে পাবেন, প্রশংসা উৎসাহ প্রদান, তিরস্কার, ভর্ৎসনা, বাধ্য করা ইত্যাদির চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ ও কার্যকর। নতুন টেকনিক (কৌশল) অবলম্বনে শ্রমিকদের মধ্যেও সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় অগ্রগতি হয়।
প্রত্যেক শ্রমিক অপর শ্রমিক থেকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা করতে লাগল। কেননা সে জানে, এতে প্রশংসা, বাহবা ও সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। শ্রমের মূল্যায়ণ করা, উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি করা এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো লোকের মধ্যে এ যোগ্যতা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। যেমন: কিছু লোক সংগীত, কবিতা, প্রবন্ধ, রচনা ইত্যাদিতে অন্যান্যদের তুলনায় অধিক প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন করে।
আমার জানামতে এমন এক শ্রেণীর লোক আছে, যারা প্রশংসা ও বাহবা পাওয়ার কাঙ্গাল। প্রশংসায় কে না খুশি হয়? আমি এক ইমাম সাহেবকে দেখেছিলাম, তার চোখে এত উজ্জ্বলতা ছিল যে, তেমন আর কারও চোখে আমি দেখি নি। মুচকি হাসি ও মোসাফাহার সময়ও অনুরূপ আবেগ-উদ্দীপনা ও মমতার ছাপ ফুটে উঠত। সম্ভবত অনেক লোক তার নিকট মসজিদে এ উদ্দেশ্যে আসত যে, তার চারিত্রিক গুণ, বৈশিষ্ট্য এবং তার প্রতি তার সুদৃষ্টি পতিত হবে। সুতরাং তখন তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বৈঠক থেকে কিছু না কিছু বরকত নিয়ে যেতে পারবে।
একবার জনৈক ইমাম সাহেব আমার একটি লেখার প্রাণ খোলা অভিনন্দন জানিয়ে ছিলেন। এটা কোনো (কৃত্রিমতাপূর্ণ) রাজনৈতিক প্রশংসা ও অভিনন্দন ছিল না। সাধারণত প্রত্যেকে অন্যের প্রশংসা ও গুণ বর্ণনায় পারদর্শী হয় না। সুতরাং অনুশীলন ও চর্চার দ্বারা এটা অর্জন করতে হয়, কিন্তু এ কাজে সফলতা লাভের প্রধান শর্ত হল একনিষ্ঠতা ও আন্তরিককতা। হয়তো একসময় যুগের স্রোত ও বাকপটুতার রত্ন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আন্তরিকতার মধ্যে যে প্রভাব (শক্তি) থাকে উদাসীনতা ও কপটতার মধ্যে তা থাকে না। অন্যের মনোকষ্ট ও জ্বালা ব্যথাভারাক্রান্ত হয়ে শ্রবণ করলে তার মনজয় করা যায়। এতে দুঃখিত ও ব্যথিতদের মনে সাড়া ও সন্তুষ্টি সঞ্চার করা সম্ভব। অন্যকে কিছু ভালো পরামর্শ দেওয়াও আন্তরিকতা ও শুভাকাঙ্ক্ষার দাবি কৃতজ্ঞ ও দয়াবান ব্যক্তি প্রাণীকুলকেও নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে। এমন মানুষ বেদনাদায়ক দৃশ্য দেখলে কৃতজ্ঞতার আবেগে বিমূর্ষ ও ব্যথিত হয়।
আমার জনৈক প্রবীণ বন্ধু একবার কয়েক মাস ধরে অসুস্থ ছিল। সে খুব ব্যথিত ছিল। কেননা তার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব তার খোঁজ-খবর নিত না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর তার প্রবাসী পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনরা বিদেশ থেকে তার জন্য হাদিয়া, তোহফা ইত্যাদি প্রেরণ করল। তন্মধ্যে মূল্যবান পোশাকও ছিল। মোটা অংকের টাকাও প্রেরণ করেছিল। এ সব কিছু পেয়ে সে আরাম-আয়েশেই জীবনযাপন করতে থাকে। আমি লক্ষ করলাম, বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, হঠাৎ সে চিন্তামুক্ত হয়ে সুস্থ সুন্দর স্বাস্থ্যবান হয়ে গেল এবং সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
প্রথা ও অভ্যাসগতভাবে স্নেহ ও বিনয়পূর্ণ কথা বললেও তা প্রভাবশূন্য হয় না। শোকর, মেহেরবানী, ঠাণ্ডা ও নম্রভাবে কথা বলতে সময়ও লাগে না আবার খরচও হয় না। কিন্তু এরূপ মনভোলানো কথায় ভালো প্রভাব পড়ে। শিশুদের মিষ্টি বা খাওয়ার বস্তুর লোভ দেখিয়ে, বিনয় কৃতজ্ঞতা ও মনভোলানো কথা শিখালে মাতা-পিতার নিকট খুব ভালো লাগে। মাতাপিতার মন খুশিতে ভরে যায়। মুচকি হাসির সাথে কথা বলে ও অন্যের মন খুশিতে মুগ্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় খুশি ও মনভোলানো কথা শুনে মনমরা মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও বেদনাগুলোও ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
মোটকথা, শব্দমালার মধ্যে বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জাদু আছে। অনেক মানুষ এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত নয়। আবার অনেকেই এর ব্যবহারে উদাসীনতা ও অলসতার পরিচয় দেয়। (আমীন এণ্ড বিজনেস)
📄 ব্যবসায়ী ও ব্যবসার ভূমিকা
আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিজীবের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছেন যে, তিনি ভূ-পৃষ্ঠের উপর বিচরণকারী সকল প্রাণীর জীবিকার জিম্মাদার। উল্লেখ্য, কেবলমাত্র জিনিসপত্রই রিযিক নয়। আমাদের চারিত্রিক গুণাবলী, রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভাষা, বাক্যচাতুর্য ইত্যাদিও রিযিক। আমাদের অস্তিত্বে আমাদের নম্রতা ও ভদ্রতা একপ্রকার রিযিক। আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এমন উত্তম রিযিকদাতা যে, শিশুজন্মের অনেক পূর্ব থেকেই তার জীবিকার ব্যবস্থা করেন। আমাদের জন্য বরাদ্ধকৃত অংশটুকু অর্জন করার জন্য আমরা চাকরি-বাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাকার হাজারও কাজকর্ম ও পেশায় জড়িত হয়ে পড়ি। আজকের উন্নতি ও অগ্রগতির যুগে আমরা ইউরোপের উন্নতি-অগ্রগতির নীতি, পদ্ধতি ও অনুসরনের করার চেষ্টা করি। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পদ্ধতি আমরা এত বেশি প্রভাবিত যে, পুরাতন ব্যবসসায়িক রেকর্ডপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ি। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সেগুলি খুব গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়। দেশী-বিদেশী ডিগ্রীপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খুব গর্বের সাথে কারবার পদ্ধতি পড়ান এবং শিখান।
লোকেরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ছেলে-মেয়েদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্যের জ্ঞান শিখানোর জন্য আমেরিকা, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশে পাঠায়। অথচ এসব ছেলে মেয়েরাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করেন না। সে জন্য সন্তানের কাছে বিন্দুমাত্র কৈফিয়ৎ তলব করেন না তার পিতামাতা। অন্তত আমরা যদি সীরাতুন্নবী এবং কুরআন মজীদ অধ্যয়ন করি, তবে সকল কাজ-কারবারের তরীকা আমরা শিখতে পারি। আমাদের ইসলাম আমাদেরকে সব কিছু বিস্তারিত শিক্ষা দেয়। অধ্যয়ন করলেই অনায়াসে সব কিছু আমদের সম্মুখে প্রতিভাত হয়ে যায়。
📄 ব্যবসার প্রতি ইউরোপীয়ান বিশেষজ্ঞদের মনোভাব
মুর "Moore" তার গ্রন্থে ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রগতি ও সফলতা লাভের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রতি এবং নিয়মানুবর্তিতা ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে কারবার করার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লিখেন- ব্যবসায়ীর উন্নতি ও সফলতা লাভের জন্য অতি জরুরি হল, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ হওয়া। তাহলে তার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। গ্রাহকরা তার প্রতি সন্তুষ্ট ও আন্তরিক হয়ে বেশি বেশি কারবার করবে। লাভের ব্যাপারে কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ন্যায়নুগ মীমাংসা করবে। তাতে আপনার হাতে স্বর্ণের খনি এসে যাবে। মানুষ আপনার প্রতি গভীরভাবে আস্থা ও নির্ভরশীল হবে।
📄 ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘নিজের পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য বেশি বেশি কসম করা থেকে বিরত থাকো। এটা তো বাস্তবে বিক্রয়ের সময় প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু পরিশেষে ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যায়।
• অপর হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিযী)
• হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।
• হযরত আবু হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি কিয়ামত দিবসে তিন ব্যক্তির উকিল হব। আর আমি যার শত্রু হব, তার উপর আমি সেদিন (কিয়ামতে) বিজয়ী হব। (১) যে ব্যক্তি আমার নাম নিয়ে অঙ্গীকার ও স্বীকার করে। অথচ পরে তা ভঙ্গ করে। (২) যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে গোলাম (দাস) বানিয়ে বিক্রি করে এবং উক্ত বিক্রীত মূল্য নিজে ভক্ষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি শ্রমিককে শ্রমে নিয়োগ করে। তারপর সে কাজপূর্ণ করে কিন্তু তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে না। (ইবনে মাজা)
উল্লিখিত বরকতময় হাদীসসমূহে শ্রমিকের পারিশ্রমিক অতি দ্রুত তথা গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া করা হয়েছে। শ্রমিক তার পারিশ্রমিক চাওয়ার পূর্বেই অতিদ্রুত পেয়ে গেলে কেন মন দিয়ে কাজ করবে না? তার মধ্যে যখন আস্থা জাগবে যে, তার নিয়োগদাতা তার মূল্য তার ন্যায্য পারিশ্রমিক ঘাম শুকানোর পূর্বেই দিয়ে দিচ্ছে এবং সব কিছু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, তখন যে তার কাজটি আরও অধিক পরিশ্রম ও মনোযোগের সাথে করবে।
শ্রমিক ও কর্মজীবিদের জীবিকা তাদের দুই হাতে বিদ্যমান। শারীরিক শক্তি ও ক্ষমতা আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের দান। তবে জীবিকা মাধ্যম। পেট চলে তো হাত চলে। উপার্জনকারীর জীবিকা হল উপার্জন। উপার্জনকারী ধনী বা গরীব যেই হোক না কেন সে আল্লাহর বন্ধু। কোনো কোনো দেশে নাগরিকত্ব জীবিকার একটি অংশ। বিভ্রান্ত-পাপী হলেও জীবিকা পায় অর্থাৎ তার জীবিকার মাধ্যম হল নাগরিকত্ব।
সর্বাবস্থায় ধর্ম মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়। ধর্ম বলে দেয় হালাল কি জিনিস এবং হারাম কি জিনিস। বৈধ কি এবং অবৈধ কি? পুণ্য কি, শাস্তি কি, অনুগ্রহ কি, অত্যাচার কি? বাস্তবে শ্বাস-প্রশ্বাসের করাত (মানব) জীবনের অস্তিত্বের বৃক্ষকে কর্তন করে জীবিকার যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা চিরকালের জন্য খতম হয়ে যায়। বৈধ প্রয়োজন ও চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য অবৈধ পন্থায় উপার্জন করা নির্বুদ্ধিতা আর গোনাহও বটে। হারাম উপার্জনে লালিত-পালিত ছেলে-মেয়েরা অবশ্যই বিদ্রোহী, বেয়াদব ও অভদ্র হয়। মোটকথা, হারাম অর্থ সম্পদে দ্বিমুখী আযাব। পরিণামে নিজেও বরবাদ; শেষে ছেলে-মেয়েরাও বরবাদ।