📄 আকীকের পরিচয়
আকীকের রং লাল সাদা, কাল, ঈষৎ লাল, হলুদ কাচের রংয়ের মতো প্রকার হয়। আকীক গোলাকারও হয়। এর রং রেখার মতো ছড়ানো ও বিক্ষিপ্ত হয়। আকীক ঘর্ষণ করলে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন হয়।
📄 আকীক পাথরের প্রকারভেদ
মণিমুক্তা বিশেষজ্ঞগণ রঙের দিক দিয়ে আকীক পাথরকে নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(১) রেবেশী আকীক: অর্থাৎ রেশমী ফিতা আকীক এর মধ্যে একাধিক রঙের ভাজ থাকে। এ ভাজ পরস্পরকে অতিক্রম করে।
(২) উঙ্গা আকীক: একে সুলায়মানী আকীকও বলা হয়। এর উপর বিভিন্ন প্রকার রেখা থাকে।
(৪) সারকলার আকীক: এর রেখাগুলি গোলাকার হয়। তাই একে গোলাকার আকীক বলা হয়।
(৫) আই আকীক: এ আকীক চোখের আকৃতির মতো হয় অর্থাৎ এরূপ আকীকের রেখা কেন্দ্রে এবং রঙের রেখা বৃত্তের মধ্যে হয়।
(৬) রংধনু আকীক (ধনুক) : এ আকীকের রেখা মিলিত হয়ে ধনুকের আকৃতি ধারণ করে। একে সূর্যের সম্মুখীন করলে মনসুরী রং প্রকাশ করে। পাথর যত পাতলা হয় এর গুণ তত বৃদ্ধি পায়।
(৭) রেবন আকীক : এ আকীক সাইবেরিয়া ও সিসিলী দ্বীপে পাওয়া যায়।
(৮) বরীশীজ আকীক : এ আকীকে রেবন আকীকের উরুরা সংমিশ্রিত থাকে।
(৯) ফার্টি ফিশন আকীক : এটা কয়েক প্রকারের হয়। কাটার সময় এর সমান্তরাল লাইনসমূহ ঘরের আকৃতির মত দেখায়। এতে এলহীট ও ভেকমকীটের টুকরা দেখা যায়।
(১০) মাস আকীক : একে উদ্ভিদসরূপ আকীক বলে। এটা কাল সাজনী ও লাল পাথর ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর রং ঈষৎ লাল মিশ্রিত কাল ও হলুদ বর্ণের হয়।
(১১) পেলাসামা আকীক : এটা সবুজ ঘাসের রংয়ের মতো অর্ধ স্বচ্ছ হলুদ ও সাদা দাগ বিশিষ্ট আকীক।
(১২) সারু আনিক্স আকীক : উল্লিখিত বিভিন্ন প্রকার আকীক ব্যতীত পারস্যের মণিমুক্তা বিশেষজ্ঞগণ নিম্নলিখিত আকীকসমূহের কথা উল্লেখ করেছেনঃ
(১) লাল ও কলিজী : এর ভিতরের রং বাইরের রং অপেক্ষা অধিক লাল।
(২) বাবাগীরী : এরূপ আকীককে সুলায়মানী আকীকও বলে। এতে গোলাকার নিশানা হয়।
(৩) আবলাকী : এটা কিছু সাদা ও কিছু কালো রংয়ের হয়।
(৪) হাকাক আকীক : এটা খুব স্বচ্ছ নয় এবং আয়নার মতো প্রতিবিম্ব ধারণের শক্তি রাখে না।
(৫) শাজারী : এটা আকৃতিতে বৃক্ষ বা পাহাড়ের সাদৃশ হয় অর্থাৎ গাছের শাখা-প্রশাখার মতো দেখায়।
(৬) যু-তবকাতী : একে জওয়াজও বলে। এটা অভ্রের মতো ভাঁজ ভাঁজ হয়।
(৭) স্বচ্ছ আকীক : এটা খুব পরিষ্কার এবং এতে আয়নার মতো প্রতিবিম্বের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও উৎকৃষ্ট ও উন্নত মানের পাথরকে পাশ্চাত্য আকীক এবং সস্তা ও নিম্নমানের আকীককে প্রাচ্য আকীকও বলে। তবে মিসরে সবুজ রংয়ের আকীককে এন্টাস, কাল রংয়ে আকীককে সুলাইমানী আর মেটে রংয়ের আকীককে গৌরি আকীক বলে। সর্বোৎকৃষ্ট ও উন্নতমানের আকীক বলতে ইয়ামানী আকীককে বুঝায়।
📄 আকীকের রহস্যজনক বৈশিষ্ট্য
আকীক পাথর ব্যবহার করলে রাগ-গোস্বা দূর হয়। শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টি হয় এবং তার যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ হয়। বুকের মধ্যে কখনও ব্যথা হয় না। যে আকীক ব্যবহার করে বিষাক্ত পোকা-মাকড় তার কাছে আসতে পারে না, এটা হার্টকে (হৃৎপিণ্ডকে) শক্তিশালী করে। আকীক ব্যবহার করলে তা আলো থেকে উত্তাপ সঞ্চয় করে শরীরে সরবরাহ করে, ফলে ভাল ও ইতিবাচক ফল দেখা যায় এবং স্বাস্থ্যও অক্ষুণ্ণ থাকে।
এ আকীক পাথর ব্যবহার করলে খিট খিটে মেজাজ ও বিরক্তি দূর হয়। হৃৎপিণ্ডের কম্পন সচল রাখে এবং মনের অস্থিরতা ও চাঞ্চল্যতাকে দূর করে। আকীকের আরেকটি রহস্যজনক বৈশিষ্ট্য হল অন্তরের নেফাকী (কপটতা) দূর করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মোটকথা, আকীক পাথর সকল নর-নারীর জন্য উপকারী ও কল্যাণকর। দার্শনিক প্লেটো বলেন, সাদা আকীক পরলে মানুষের মান-মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। অদ্রূপ হলুদ আকীক ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি মনের আশা পূরণ হয়।
এ পাথর পরিধান করলে সফরেও বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বলা হয়, যে ব্যক্তি কপূর, আম্বর ও আকীকের চূর্ণ মিশ্রিত করে মাথার উপর রেখে বিচারকের নিকট যাবে বিচারক তার প্রতি সদয় হবে。
📄 চিকিৎসা বিজ্ঞানে আকীকের বৈশিষ্ট্য
আকীক ব্যবহারে মেজাজ ঠাণ্ডা ও শুষ্ক থাকে। নিয়মানুযায়ী এর সুরমা ব্যবহার করলে চোখের রোগ-ব্যাধিতে উপকার হয়। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। তা মাজনের মতো দাঁতে ব্যবহার করলে পাইরিয়া (ক্ষয়) দূর হয়। দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। দাঁত শক্ত, ঝকঝকে সাদা ও স্বচ্ছ হয়। তদ্রুপ মুখ ভরে রক্ত আসা, আঘাত পেলে রক্ত পড়া ইত্যাদিও বন্ধ হয়। এর কুশতা (উত্তেজক ঔষধ) হৃৎপিণ্ডের কম্পন রোধ করে। মস্তিষ্কের পক্ষাঘাতে এর ব্যবহার খুবই উপকারী হয়। পুরাতন জখমের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য আকীকের কুশতা মলমের মতো উপকার দেয়। মেয়েদের আভ্যন্তরীণ জটিল রোগ-ব্যাধিতেও এর উপকারিতা প্রমাণিত। ফুসফুস থেকে রক্ত আসা বন্ধ করে দেয়। মূত্রথলী ও পেশাবের নলের কার্যকারিতা সচল রাখে।