📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আকীক পাথর

📄 আকীক পাথর


আকীক সুন্দর আকৃতি বিশিষ্ট বিখ্যাত একটি পাথরি মুক্তা। ইংরেজিতে একে এগেট (Agate) ও কাইলিন বলে। ফারসী ও আরবিতে আকীক বলে। ইয়ামানী ও সংস্কৃতে হলীক বলে। এটা লাল, সাদা দুধ, হলুদ ও ঈষৎ লাল রংয়ের চকচকে পাথর। বিশ্বজুড়ে সর্বোৎকৃষ্ট পাথর হিসেবে ইয়ামানী পাথর সর্বজন স্বীকৃত। এর রং কলিজার মতো হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রাপ্তিস্থান

📄 প্রাপ্তিস্থান


আকীক পাথর কংকরময় ভূমিতে পাওয়া যায়। সমুদ্রের তলদেশেও পাওয়া যায়। আকীক পাথর কংকরময় মরুভূমির সংযুক্ত মাটির এক পাতলা স্তরে খোঁজা হয়। সে জন্য তা অতি সহজে পৃথক করা যায়। এটা আকারে যবের দানার মতো হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আকীক পাথরের খনি পাওয়া যায়। তন্মধ্যে জার্মানী, আরব, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, ইয়ামান, আমেরিকা, ভারতের গুজরাট, হায়দারাবাদ ও দাক্ষিণাত্য উল্লেখযোগ্য।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আকীকের পরিচয়

📄 আকীকের পরিচয়


আকীকের রং লাল সাদা, কাল, ঈষৎ লাল, হলুদ কাচের রংয়ের মতো প্রকার হয়। আকীক গোলাকারও হয়। এর রং রেখার মতো ছড়ানো ও বিক্ষিপ্ত হয়। আকীক ঘর্ষণ করলে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আকীক পাথরের প্রকারভেদ

📄 আকীক পাথরের প্রকারভেদ


মণিমুক্তা বিশেষজ্ঞগণ রঙের দিক দিয়ে আকীক পাথরকে নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করেছেন।

(১) রেবেশী আকীক: অর্থাৎ রেশমী ফিতা আকীক এর মধ্যে একাধিক রঙের ভাজ থাকে। এ ভাজ পরস্পরকে অতিক্রম করে।
(২) উঙ্গা আকীক: একে সুলায়মানী আকীকও বলা হয়। এর উপর বিভিন্ন প্রকার রেখা থাকে।
(৪) সারকলার আকীক: এর রেখাগুলি গোলাকার হয়। তাই একে গোলাকার আকীক বলা হয়।
(৫) আই আকীক: এ আকীক চোখের আকৃতির মতো হয় অর্থাৎ এরূপ আকীকের রেখা কেন্দ্রে এবং রঙের রেখা বৃত্তের মধ্যে হয়।
(৬) রংধনু আকীক (ধনুক) : এ আকীকের রেখা মিলিত হয়ে ধনুকের আকৃতি ধারণ করে। একে সূর্যের সম্মুখীন করলে মনসুরী রং প্রকাশ করে। পাথর যত পাতলা হয় এর গুণ তত বৃদ্ধি পায়।
(৭) রেবন আকীক : এ আকীক সাইবেরিয়া ও সিসিলী দ্বীপে পাওয়া যায়।
(৮) বরীশীজ আকীক : এ আকীকে রেবন আকীকের উরুরা সংমিশ্রিত থাকে।
(৯) ফার্টি ফিশন আকীক : এটা কয়েক প্রকারের হয়। কাটার সময় এর সমান্তরাল লাইনসমূহ ঘরের আকৃতির মত দেখায়। এতে এলহীট ও ভেকমকীটের টুকরা দেখা যায়।
(১০) মাস আকীক : একে উদ্ভিদসরূপ আকীক বলে। এটা কাল সাজনী ও লাল পাথর ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর রং ঈষৎ লাল মিশ্রিত কাল ও হলুদ বর্ণের হয়।
(১১) পেলাসামা আকীক : এটা সবুজ ঘাসের রংয়ের মতো অর্ধ স্বচ্ছ হলুদ ও সাদা দাগ বিশিষ্ট আকীক।
(১২) সারু আনিক্স আকীক : উল্লিখিত বিভিন্ন প্রকার আকীক ব্যতীত পারস্যের মণিমুক্তা বিশেষজ্ঞগণ নিম্নলিখিত আকীকসমূহের কথা উল্লেখ করেছেনঃ

(১) লাল ও কলিজী : এর ভিতরের রং বাইরের রং অপেক্ষা অধিক লাল।
(২) বাবাগীরী : এরূপ আকীককে সুলায়মানী আকীকও বলে। এতে গোলাকার নিশানা হয়।
(৩) আবলাকী : এটা কিছু সাদা ও কিছু কালো রংয়ের হয়।
(৪) হাকাক আকীক : এটা খুব স্বচ্ছ নয় এবং আয়নার মতো প্রতিবিম্ব ধারণের শক্তি রাখে না।
(৫) শাজারী : এটা আকৃতিতে বৃক্ষ বা পাহাড়ের সাদৃশ হয় অর্থাৎ গাছের শাখা-প্রশাখার মতো দেখায়।
(৬) যু-তবকাতী : একে জওয়াজও বলে। এটা অভ্রের মতো ভাঁজ ভাঁজ হয়।
(৭) স্বচ্ছ আকীক : এটা খুব পরিষ্কার এবং এতে আয়নার মতো প্রতিবিম্বের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও উৎকৃষ্ট ও উন্নত মানের পাথরকে পাশ্চাত্য আকীক এবং সস্তা ও নিম্নমানের আকীককে প্রাচ্য আকীকও বলে। তবে মিসরে সবুজ রংয়ের আকীককে এন্টাস, কাল রংয়ে আকীককে সুলাইমানী আর মেটে রংয়ের আকীককে গৌরি আকীক বলে। সর্বোৎকৃষ্ট ও উন্নতমানের আকীক বলতে ইয়ামানী আকীককে বুঝায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00