📄 সুন্নত তরীকায় সফর করার কতিপয় ঘটনা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুসলমানদেরকে দীনের উপর চলা অতি সহজ করে দিয়েছেন। তাঁর এক একটি তরীকা অর্থাৎ সুন্নত গোটা বিশ্ব থেকে অধিক মূল্যবান। প্রতিটি মানুষ সফর করে। সুতরাং আমরা যদি রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকায় সফর করি, তবে সর্বপ্রকার বিপদাপদ ও দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকব ইনশাআল্লাহ।
কয়েক বছর পূর্বে Pia তে কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছিল। PIA কর্তৃপক্ষকে সুন্নত তরীকায় সফর করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুতরাং যখন থেকে দু'আ পড়ে সুন্নত তরীকায় সফর শুরু করে, তখন দুর্ঘটনা থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। এ সম্পর্কে নিম্নে কয়েকটি বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করা হল।
📄 দুর্ঘটনায় আমার জনৈক বন্ধুর নিরাপদ থাকা
একবার আমার এক বন্ধু বাসযোগে রাজনপুর থেকে ডেরাগাজী খান যাচ্ছিলেন। সফরের পূর্বে তিনি সুন্নাত মতো দু'আ-দরূদ পড়ে নেন। পথিমধ্যে সীটে বসে ঘুমিয়ে যান এবং বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে উল্টে যায়। আহত যাত্রীদের চীৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ব্যতীত সকল যাত্রী আহত হয়। গাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সাহায্য করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পৌঁছান। আমরা যদি সকল চালক ও কনট্রাক্টর, হেলপার ও সংশ্লিষ্টদের সুন্নত তরীকায় চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করতাম এবং এ নুরানী তরীকাকে ট্রেনিংকোর্সের অন্তর্ভুক্ত করতাম, তবে দৈনন্দিন দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পেতাম।
মূলকথা হল, আমাদের উচিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রদর্শিত সুন্নত তরীকাকে আমাদের জান, মাল, ও ইজ্জতের চেয়ে অধিক প্রিয় মনে করা।
📄 ফয়ছলাবাদ সফর
আমি একবার মুলতান থেকে কার যোগে ফয়সালাবাদ এক রোগী দেখার জন্য গিয়েছিলাম। আমাকে সামনের সীটে চালকের সাথে বসানো হল। গাড়ি যাত্রা শুরু করল। ঝঙ্গের নিকট বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখানে পানি জমে গিয়েছিল। রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় গাড়ি প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে যাচ্ছিল। সেখানে একটি পুল ছিল। তার চারপাশ পানিতে ভরপুর ছিল। কয়েকটি বাস-গাড়িও পুল থেকে ছিটকে পড়েছিল পানিতে। আমাদের গাড়ী সেখানে পৌঁছলে পিছলাতে শুরু করে। আমি জিজ্ঞাসা করলে চালক বলল, গাড়ী পিছলে যাচ্ছে। কিছুতেই কিছু করা যাচ্ছে না। সম্মুখের দোকানদার ও লোকেরা 'মারল', 'মারল' বলে চিৎকার করে উঠল। গাড়ি পানিতে পরিপূর্ণ একটি গর্তের দিকে যাচ্ছিল। একেবারে গর্তের মুখের কাছাকাছি হলে হঠাৎ পিছনে সরে এসে পুলের উপরে উঠে গেল এবং বিপদমুক্ত হয়ে গাড়ি থেমে গেল। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে গাড়িসহ আমরা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলাম। অনেক লোকের ভিড় জমে গেল। বুঝে আসছিল না যে, কে এ গাড়ি পিছনে নিয়ে গেল আবার কে-ই বা পুলের উপর উঠিয়ে দিল? আমাদের সকলের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, সুন্নত তরীকায় সফর করার কারণে আমরা বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছি। আল্লাহ আমাদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকার উপর চলে উভয় জগতের সফলতা অর্জন করার পাকাপোক্ত একীন দান করুন। আমীন।
📄 রাত্রিকালীন সফর
১৯৮০ সালে আমি ভাওয়ালপুরে চাকরি করতাম। একরাতে সংবাদ পেলাম, রাজনপুরে আমার আব্বা গুরুতর অসুস্থ। সেখানে আমার এক্ষনই যেতে হবে। সুতরাং আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে রাতের গাড়িতে যাত্রা করলাম। তৎপূর্বে দু'আ-দরূদ পড়ে নিলাম। খানপুর পৌঁছে দেখলাম, রাস্তা ভেঙে খুব সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে। কোনো রকমে একটি একটি করে গাড়ি পার হচ্ছে। এক স্থানে এসে আমার গাড়ি, বাস ও ট্রাকের মাঝখানে আটকা পড়ে গেল। আমি চালকদের নিকট অনুরোধ করলাম। কিন্তু কে কার কথা শোনে? ট্রাক চালক আমার গাড়ির এক পাশে ধাক্কা দিল। ফলে কার প্রচণ্ড বেগে কেঁপে উঠল। ভিতরে বাচ্চারা উচ্চৈঃস্বরে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। এ অবস্থা দেখে বাস ও ট্রাক চালক পালিয়ে গেল।
আমি নিচে অবতরণ করে পরীক্ষা করে দেখলাম, গাড়ীতে একটু আঁচড় লাগা ব্যতীত আর কিছুই হয় নি। আর গাড়ি টান দিলে ঠিকমতো চলা আরম্ভ করে। এভাবে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলাম। এত বড় মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে আল্লাহ পাক আমাদেরকে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতের উপর আমল করার কারণে রক্ষা করলেন।