📄 জনৈক রোগীর করুণ কাহিনী
আমার এক রোগী মৃত্যু কষ্টে পতিত হয়েছিল। চেহারার রং পীতবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। চোখ বসে গিয়েছিল এবং চরম ছটফট করছিল। এমতাবস্থায় আমি আস্তে আস্তে সূরা ইয়াসীন পড়া শুরু করলাম এবং চিকিৎসকদেরকে চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দিলাম। আমি যখন সূরা ইয়াসীন পড়া সমাপ্ত করলাম, তখন তার চেহারা হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেল এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে সে আল্লাহর প্রিয় হয়ে গেল। দেখলাম উভয় চোখ থেকে পানি তার চোয়ালের উপর গড়িয়ে পড়ল। সূরা ইয়াসীন পড়ার পূর্বে বেচারা খুব কঠিন ও সংকটপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কালামের বরকতে মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণা সহজ করেছেন।
📄 আরও একটি ঘটনা
কয়েক বৎসর পূর্বে মুলতান থেকে আমি ফোকার বিমানে যাত্রা করি। আধ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের চলন্ত বিমানটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। ফোকার বিমান হালকা-পাতলা হওয়ার কারণে তখন খুব নড়াচড়া করছিল। যাত্রীরা তো দুশ্চিন্তায় অস্থির। আমি সূরা ইয়াসীন পড়া শুরু করলাম। এরই মধ্যে প্রবল ঝড় বিমানকে ভারতে নিয়ে গেল। সেখানে সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর পাইলট প্রত্যাবর্তনের দিক ঠিক করল এবং আমরা নিরাপদে মুলতান পৌঁছলাম। মুহূর্তের মধ্যে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু তা থেকে আল্লাহ তা'আলা তার কালামের বরকতে আমাদেরকে ভালয় ভালয় ঘরে পৌঁছে দিলেন।
📄 কষ্টকর সফর
একবার আমরা পাহাড়ের উপর সফর করছিলাম। হঠাৎ গাড়ী নষ্ট হয়ে গেল। ইফতারীর সময়ও ছিল খুব নিকটবর্তী। কিন্তু সাথে এক বিন্দু পানিও ছিল না। সবাই ভেঙ্গে পড়েছিল। কারণ, চারিদিকে পাহাড়-পর্বত ব্যতীত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমাদের ডাক্তার সাহেব ক্ষুধা, পিপাসা, ভয়-ভীতি ইত্যাদি অবস্থায় সূরা ইয়াসীন পড়তে বলেছিলেন। দুশ্চিন্তার মধ্যে সকল সঙ্গীসাথী সূরা ইয়াসীন পড়া শুরু করলাম। হঠাৎ কয়েক মিনিট যেতে না যেতেই একটি খালী গাড়ি আমাদের নিকট এসে থেমে গেল এবং আমাদেরকে গাড়িতে আরোহণ করতে বলা হল। আমরা সকলে বিস্ময়ে অভিভূত হলাম, কিভাবে আল্লাহ তাআলা মরুভূমির মধ্যে আমাদের জন্য সহজে সুন্দর ব্যবস্থা করে দিলেন। গাড়ীর চালককে জিজ্ঞাসা করা হলে আশ্চর্যজনক কথা শুনিয়ে বলল, সে অন্য কোনো দিকে যাচ্ছিল; কিন্তু ভুলক্রমে এদিকে এসে পড়েছে। সুতরাং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সকল বন্ধু নিরাপদে ঘরে পৌঁছলাম।
📄 জনৈক অলি আল্লাহর ঘটনা
১৯৫২ সালে আমি এম.বি.বি.এস এর ছাত্র ছিলাম। মুলতানের এক বাগানে রাতে সাইয়েদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারী মরহুমের মাহফিল ছিল। আমার আব্বা আমাকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। মাওলানা বুখারী রহ. এশার নামাযের পর ওয়ায শুরু করেন এবং ফজরের আযান শেষ হওয়ার পর সমাপ্ত করেন। আনুমানিক রাত একটার সময় লোকজন নিদ্রাবিষ্ট হতে শুরু করলে তিনি সূরা ইয়াসীন পড়া আরম্ভ করলেন। আল্লাহ তার মুখে এত প্রভাব রেখেছিলেন যে, ঘুমন্ত লোকজন জেগে উঠল।
এ সময় সমস্ত লোকদের মধ্যে সাদা রংয়ের মেঘ গাছের উপর ছেয়ে গেল। সে মেঘের মধ্যে সাদা রশ্মি দেখা গেল। আমি আমার আব্বাকে জিজ্ঞাসা করায় তিনিও সে দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। একে একে সবাই এ দৃশ্য অবলোকন করল। প্রায় একঘণ্টা মেঘ মালাটি সবাইকে ছায়া দিয়ে রাখে। অবশেষে যখন বুখারী সাহেবের সূরা ইয়াসীন সমাপ্ত হয়, তখন মেঘ খণ্ডটি একেবারেই অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর বুখারী সাহেব বলেন, আল্লাহর অন্য মাখলুকাত আল্লাহর কালাম শুনতে এসেছিল অর্থাৎ ফেরেশতা।
আমার আব্বা বলেন, ১৯৪২ সালে রাজনপুরে শুদ্ধি আন্দোলনে ধরপাকড় হয়। হিন্দুরা জোরপূর্বক মুসলমানদেরকে ধরে হিন্দু বানাচ্ছিল। ফলে ছয় সাতটি পরিবার হিন্দুও হয়ে গেল। মাথার উপর চুলের খোপা রাখল এবং মন্দিরে প্রবেশ করে মূর্তিপূজাও করা শুরু করল। মুসলমানদের মধ্যে খুব অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার, ও.সি, পুলিশ সকলেই ছিল হিন্দু। মুসলমানরা কিছুই করতে সক্ষম হল না। অবশেষে মুসলমানদের মিটিং হল। আমার আব্বাকে পাঠানো হল আতাউল্লাহ শাহ্ বুখারীকে নিয়ে আসার জন্য।
শাহজী রহ. রাজনপুর এলে অসংখ্য লোক তার বক্তব্য শ্রবণের জন্য একত্র হল। তিনি অভ্যাস মতো সূরা ইয়াসীন পড়লেন। ফলে আল্লাহর কালামের এত প্রভাব পড়ল যে, কেবল মুরতাদ মুসলমানরাই ইসলামে দাখেল হল না বরং তাদের সাথে অনেক হিন্দুও কুরআন শ্রবণ করে মুসলমান হয়ে গেল। ১৯৪৫ সালেও এরূপ আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। রাজনপুরের মুসলমানরাও পুনরায় শাহজী রহ. কে আহবান করল, তখন হিন্দুরা আত্মগোপন করল। ফলে শুদ্ধি অভিযান শেষ হয়ে গেল।