📄 বরকতময় আয়াতের প্রভাব
আমাদের এক প্রফেসরের বোন ছয় মাস ধরে জ্বরে ভুগছিল। গত ছয় মাসে দুনিয়ার যত রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ছিল, সবই একে একে শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবেই তার জ্বর উপশম হচ্ছিল না। মহিলা আমার চিকিৎসালয় ওয়ার্ডে আসল। আমি তাকে বলে দিলাম, অমুক আয়াতে কারীমা পড়তে থাকুন! আল্লাহর হুকুম না হওয়া পর্যন্ত ঔষধে কোনো কাজ হবে না। রোগের উপরও প্রভাব পড়বে না। সুতরাং আল্লাহ অভিমুখী হয়ে তাঁর সুদৃষ্টি কামনা করাই আসল পন্থা। প্রথমে তো মহিলা আয়াত পড়তে অনাগ্রহী ছিলেন; কিন্তু যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখন রাত-দিন সর্বদা
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যোয়ালিনীন) আয়াতে কারীমাটি পড়তে থাকেন। মাত্র ৭ দিনের মধ্যে আল্লাহ তাঁর কালামের বরকতে মহিলাকে আরোগ্য দান করেন।
📄 জনৈক প্রফেসরের আরোগ্য লাভ
আমাদের এক সহযোগী অধ্যাপক মারাত্মক পাণ্ডুরোগে আক্রান্ত হয়ে আমার চিকিৎসাধীনে আসেন। হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তাকে আর কোনো চিকিৎসার উপায় নেই বলে রিলিজ করে দিয়েছিল। কেউ তাঁর নিকট এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি উচ্চৈঃস্বরে কান্নাকাটি শুরু করে দেন।
আসরের নামাযের পর ওয়ার্ডের এক নার্স এসে আমাকে বলল, নিরুপায় হয়ে তিনি এখন কান্নাকাটি করছেন। ফলে আমি তার নিকট উপস্থিত হলাম। কেননা তিনি কুরআনে হাফেয ছিলেন। তাঁকে সূরা ইয়াসীন এবং বিভিন্ন আয়াতে কারীমার ফযীলত ও গুনাগুণ শুনিয়ে বললাম- আল্লাহর উপর আমার বিশ্বাস আছে। আপনি এ কালামে পাক একীনের সাথে পড়লে আপনার শেফা হবে।
প্রফেসর সাহেব আমার কথা স্বীকার করলেন এবং রাতদিন সর্বদা সূরা ইয়াসীন ও সেসব আয়াতে কারীমার অযীফা পড়তে থাকেন। আল্লাহর কি কুদরত! দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। অথচ এ জাতীয় পাণ্ডুরোগের চিকিৎসা দুনিয়ার কোথাও নেই।
📄 সূরা ইয়াসীনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন কিতাবপত্রে অনেকবার পড়েছি, যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়বে সে পরিতৃপ্ত হবে। পথভোলা ব্যক্তি পড়লে পথ পেয়ে যাবে। খাদ্য কম হয়ে যাওয়ার ভয়ে যে পড়ে, সে যথেষ্ট খাদ্য পাবে। মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর ব্যক্তির নিকট পড়লে মৃত্যুকষ্ট লাঘব হয়। প্রসব কষ্টে পতিত মহিলার নিকট পড়লে সহজে বাচ্চা প্রসব হয়। উল্লেখিত সকল সমস্যায় আমি সূরা ইয়াসীন পড়েছি এবং হুবহু উপরিউক্ত উপকারই পেয়েছি।
📄 জনৈক রোগীর করুণ কাহিনী
আমার এক রোগী মৃত্যু কষ্টে পতিত হয়েছিল। চেহারার রং পীতবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। চোখ বসে গিয়েছিল এবং চরম ছটফট করছিল। এমতাবস্থায় আমি আস্তে আস্তে সূরা ইয়াসীন পড়া শুরু করলাম এবং চিকিৎসকদেরকে চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দিলাম। আমি যখন সূরা ইয়াসীন পড়া সমাপ্ত করলাম, তখন তার চেহারা হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেল এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে সে আল্লাহর প্রিয় হয়ে গেল। দেখলাম উভয় চোখ থেকে পানি তার চোয়ালের উপর গড়িয়ে পড়ল। সূরা ইয়াসীন পড়ার পূর্বে বেচারা খুব কঠিন ও সংকটপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কালামের বরকতে মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণা সহজ করেছেন।