📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সুন্নাতে রাসূল

📄 সুন্নাতে রাসূল


যিকির ও অযীফা একজন বিবেকবান ব্যক্তির মনের প্রশান্তি ও ভালবাসার কারণ হতে পারে আবার নির্বোধ বিবেকহীন ব্যক্তির নিকট ঘৃণা ও অপছন্দের কারণ হতে পারে।

জনৈক নাস্তিক এক বুযুর্গকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনার অযীফা ও আয়াতে কি আছে? বুযুর্গ তার কথার উত্তর না দিয়ে খুব রাগান্বিত হয়ে তাকে গালি দিলেন। সেও রাগত স্বরে বলল, আমি আপনাকে প্রশ্ন করলাম কী আর আপনি দিলেন আমাকে গালি! তখন বুযুর্গ বললেন, গালিও তো শব্দ। অথচ এ শব্দ শোনামাত্র আপনার গায়ে কেমন আগুন ধরে উঠল। অযীফার আসরও অনুরূপ।

যিকির ও অযীফার মধ্যে কি শক্তি আছে, তার আলোচনা "নাম ও আধুনিক বিজ্ঞান" শিরোনামে পিছনে বর্ণিত হয়েছে। তা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কিছু কিছু অজিফা আছে, যেগুলো পড়লে মানুষ এত শক্তি-ক্ষমতা লাভ করে যে, মানুষ তখন অস্বাভাবিক অবস্থায় উপনীত হয়।

ডাক্তার লিউল পাউল (জ্যোতির্বিদ) একজন অমুসলিম হয়েও বলতেন, কুরআন কেবল শব্দের সমষ্টি নয় বরং তা একটি বিশেষ শক্তির উৎস। এ শক্তি শুধু পাঠকের নিকটে সঞ্চারিত হয় না বরং তার নিকটে উপবিষ্টদেরকেও পরিবেষ্টন করে নেয়। আমি তিন মাস ব্যাপী কুরআনের কিছু দু'আ-কালাম পড়েছিলাম। চোখ বন্ধ করে যখন উক্ত শব্দসমূহ পড়তাম, তখন আমি অসংখ্য বিষয়ের উপকার উপলব্ধি করতাম। আমার রোগীদেরও সেসব দু'আ-কালাম শিক্ষা দিয়েছি। ফলে তারাও রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

আধুনিক বিজ্ঞান কুরআনের আয়াতের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, দু'আ-কালামের মধ্যে যে শক্তি আছে, প্রকৃতপক্ষে তার উৎস কুরআনের শব্দ ভাণ্ডার। যদিও সাধারণ শব্দ ব্যবহারে ততটা শক্তি থাকে না; কিন্তু কুরআনের প্রতিটি শব্দ যথেষ্ট শক্তি রাখে। (ডাক্তার লিউল পাউল ও জিন্দেগী)। নিম্নে কুরআনের আয়াত ও শব্দের চাক্ষুস দেখা অভূতপূর্ব কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করা হল:

হৃৎপিণ্ডে আগত রক্ত বিভিন্ন শিরা-উপশিরায় বাঁধাপ্রাপ্ত হলে স্পন্দনেও চাপ পড়ে। তখন শ্বাসনালী বন্ধ হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ দুটি সমস্যাই বক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতির কারণে উৎপত্তি হয়। এ বিষয়ে আল-কুরআন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে:
قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ
“তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরের মধ্যস্থিত রোগ-ব্যাধির নিরাময়ক।”
উক্ত রবকতময় আয়াতকে রোগী যদি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার গড়ে নিজের উপর ফুঁক দেয়, তবে এসব রোগ থেকে মুক্তি পাবে।

জনৈক বুযুর্গের ছেলের হৃৎপিণ্ডে চাপ পড়েছিল। তিনি তাকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে ফেরৎ আনার পরিবর্তে কুরআন মজীদের এ আয়াত পড়ে ছেলের শরীরের উপর দম করে দেন। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ওই যুবক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ : فَسَبِّحُ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِّنَ السَّاجِدِينَ : وَاعْبُدُ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ
"আমরা জানি, তাদের কথায় আপনার বক্ষ সঙ্কীর্ণ হয়ে উঠে। আপনি তাদের মুখাপেক্ষী না হয়ে আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করুন এবং নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত হন। এমন একীন ও এখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদত করুন, যেন আপনার পরিপূর্ণ একীন থাকে।"

উক্ত বুযুর্গের ঘটনা জ্ঞাত হওয়ার পর আমরা হৃৎপিণ্ড রোগীদের গত ১০ বৎসর ধরে এ বরকতময় আয়াত পড়ার তাগিদ করে আসছি। দরূদ শরীফসহ উক্ত বরকতময় আয়াত সকাল-সন্ধ্যা তিনবার পড়ায় এবং ঠিকমত নামায পড়ায় এ রোগে আক্রান্ত একজন রোগীও মারা যায় নি। এটা আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ ও কুরআনের বরকত।

দুই বৎসরের এক বাচ্চা কঠিন হাঁপানী রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তাকে ঔষধপত্র দেওয়ার পরিবর্তে কুরআন মজীদের উক্ত আয়াত সকাল-সন্ধ্যা তিনবার পড়ে ফুঁক দেওয়ার পরামর্শ দেই এবং গরম পানিতে মধু মিশ্রিত করে পান করাতে বলি। এরপর গত দুই মাসে ওই বাচ্চার একবারও হাঁপানী দেখা দেয় নি। আলহামদুলিল্লাহ!

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জনৈক পাইলটের ঈমান

📄 জনৈক পাইলটের ঈমান


পাকিস্তানী বিমানের বোম্বাইর পাইলটের হৃদপিণ্ডে অধিকাংশ সময় ব্যথা অনুভূত হত। চিকিৎসকদের নিকট গেলে তারা তাকে বার বার অপারেশন করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু সে-সময় দেশ জুড়ে বৃষ্টির মতো গোলাগুলি হচ্ছিল। ফলে সেই সংকটময় মুহূর্তে অপারেশন থেকে তিনি বিরত থাকেন। অবশেষে ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শত্রু বাহিনী পাকিস্তানের উপর আক্রমণ করে বসে। এদিকে বিমান বাহিনীর অফিসারগণ জানতেন, অমুক পাইলট হৃদপিণ্ডের ব্যথায় কাবু হয়ে আছে। সুতরাং এমন অনিশ্চিত পাইলটের সঙ্গে কোনো বিমান-সৈনিক যেতে প্রস্তুত ছিল না। তথাপি তার প্রবল আগ্রহ দেখে একজন নবীন সৈনিক প্রস্তুত হয় এবং ভারতীয় সেনা শিবিরকে লক্ষ্য করে বোম্বিং করতে চলে যায়। পাইলট তখন হৃদপিণ্ডের ব্যথা থেকে বাঁচার জন্য বিমান নিয়ে যাত্রাকালে এবং প্রত্যাবর্তনের সময় কুরআন মজীদের এ আয়াত পড়েন:
الله نُورُ السَّمَواتِ وَالْأَرْضِ - (النور: ৩৫)
ফলে ১৭ দিন ব্যাপী যুদ্ধের মধ্যে তার হৃদপিণ্ডে আর একবারও ব্যথা অনুভব হয় নি। এভাবে যখন ব্যথা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় হয়, তখন অপারেশন করে এবং চিকিৎসকরা পিত্তথলি থেকে ১৯টি পাথর বের করে দেন। মূলত ডাক্তারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল পিত্তথলিতে ১৯টি পাথর বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে অচল এবং অকেজো। তাকে দিয়ে শারীরিক যে কোনো কাজ করানো একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর কালামের বরকতে উক্ত ব্যক্তি অন্যদের সাথে সক্রিয় ও তৎপর থাকে এবং সুস্থ অন্য সৈনিকদের মতো প্রতিপক্ষদের উপর আক্রমণের কাজে পুরোপুরি শরিক থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দু‘আর প্রভাব

📄 দু‘আর প্রভাব


ডাক্তার নূর আহমাদ নূর সাহেব বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার এক ছেলে খুব আহত হয়েছিল। মাথার অর্ধেক পিষে গিয়েছিল। মুরগীর মতো ছটফট করছিল সে। চিকিৎসকরা মস্তিষ্ক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন আমি একটু পরেই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সদকা করলাম এবং দুই রাকাআত নামাজ পড়ে দু'আ করলাম। এসব করতে করতে আমার প্রায় আধ ঘণ্টা সময় লেগে গেল। তারপর হাসপাতালে ফিরে এসে দেখি, ছটফট করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অপারেশনও স্থগিত করা হয়েছে। এভাবে আল্লাহপাক অপারেশন ব্যতীত আমার ছেলেকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ করে দিয়েছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বরকতময় আয়াতের প্রভাব

📄 বরকতময় আয়াতের প্রভাব


আমাদের এক প্রফেসরের বোন ছয় মাস ধরে জ্বরে ভুগছিল। গত ছয় মাসে দুনিয়ার যত রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ছিল, সবই একে একে শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবেই তার জ্বর উপশম হচ্ছিল না। মহিলা আমার চিকিৎসালয় ওয়ার্ডে আসল। আমি তাকে বলে দিলাম, অমুক আয়াতে কারীমা পড়তে থাকুন! আল্লাহর হুকুম না হওয়া পর্যন্ত ঔষধে কোনো কাজ হবে না। রোগের উপরও প্রভাব পড়বে না। সুতরাং আল্লাহ অভিমুখী হয়ে তাঁর সুদৃষ্টি কামনা করাই আসল পন্থা। প্রথমে তো মহিলা আয়াত পড়তে অনাগ্রহী ছিলেন; কিন্তু যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখন রাত-দিন সর্বদা
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ‎ (লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যোয়ালিনীন) আয়াতে কারীমাটি পড়তে থাকেন। মাত্র ৭ দিনের মধ্যে আল্লাহ তাঁর কালামের বরকতে মহিলাকে আরোগ্য দান করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00