📄 অনিদ্রা
ইদানিং অধিকাংশ মানুষ অনিদ্রার শিকার। ডাক্তারদের ক্লিনিক ও হেকিমদের দাওয়াখানাসমূহ বর্তমানে এরূপ রোগীদের মহাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যতই আধুনিক উপায়-উপকরণ ও পন্থা আবিষ্কৃত হোক, দিন দিন রোগব্যাধি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি আপনার পরিবেশ-পরিস্থিতি উপর সামান্য চিন্তা করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হবেন যে, এর মূল কারণ অচল ও অলস জীবন। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, যখন এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভেউ ভেউ করে কেঁদে নিজের অবস্থা বর্ণনা করে, তখন তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ এমন হয় যারা কাজকর্ম থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা হ্রাস পেয়েছে এবং মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এমন লোকদের যখন দৈনিক পায়ে হেঁটে চলাফেরা করার পরামর্শ দেই এবং যে রোগী কঠোরতার সাথে তা নিয়মিত পালন করে, সে হতাশাজনক অবস্থা থেকে সুস্বাস্থ্যের প্রতি আশাবাদী হয়। ফলে অনিদ্রা তাঁর থেকে বহু দূরে চলে যায়। এমনকি যে রোগীর ঔষধ, পুরিয়া, অনুপান, বটিকা, ও ভোজে কোনো ফল হয় না, তখন যদি সে ধারাবাহিকভাবে অবিরাম গতিতে পায়ে চলাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে, তবে পুনরায় সে স্বাভাবিক নিদ্রাসুখ পাবে ইনশাআল্লাহ।
📄 গ্যাস্ট্রিক
বাস, ট্রেন, স্টেশন, বাজার, অলিতে-গলিতে সর্বত্র ইদানিং আপনি হজমের ঔষধপত্রের বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখবেন অথবা গুলি, বড়ি, দানা, মিকচার ইত্যাদির বিক্রেতা পাবেন। সকলেই দাবি করে, এটা গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি রোগ নিরাময়ের একমাত্র মহৌষধ। বর্তমানে দেশে পাকস্থলীর রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের জন্য যত ঔষধপত্র তৈরি হচ্ছে এবং অন্যান্য রোগের জন্য হবে, তন্মধ্যে গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম চিকিৎসা হল, পায়ে হাঁটা এবং চলাফেরা করা। আমরা যখন ঘি দিয়ে পাকানো সুস্বাদু খাদ্য খেয়ে চেয়ারে বসে থাকি এবং চলাফেরা করি না, তখন উক্ত খাদ্য পঁচে যায়। ফলে তা রোগ প্রতিষেধক হওয়ার পরিবর্তে রোগজীবাণুতে পরিণত হয়।
📄 কোষ্ঠকাঠিন্য
এটি একটি কঠিন সমস্যা। ঔষধপত্র, বটিকা, ফাইল ইত্যাদি খেলে যদি এর উপশম হয়, তবে তো ভালো। অন্যথায় রোগী চিকিৎসার সাথে সাথে যদি পায়ে হেঁটে চলাফেরা শুরু করে দেয়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ইনশাআল্লাহ পরিত্রাণ পাবে।
📄 হৃৎপিণ্ডের রোগ-ব্যাধি
হৃৎপিণ্ড একটি ক্রিয়াশীল অঙ্গ। এটা গতিশীলতাকে পছন্দ করে। কিন্তু হৃৎপিণ্ড বাহক মানুষ অধিক অলসতা করে এবং কাজ থেকে বিরত থাকে। সুতরাং মানুষ যদি হৃৎপিণ্ডের মতো সচল ও সক্রিয় না হয়, তবে হৃৎপিণ্ড অকেজো হয়ে যায়। তারপর একে সক্রিয় ও সচল করার জন্য চিকিৎসার নিমিত্তে বিভিন্ন উপায়-উপকরণ ও পন্থা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু তাও অকেজো হলে অনেক জটিলতা দেখা দেয় এবং পরে এর চিকিৎসার একমাত্র উপায় হচ্ছে হাঁটা।