📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খালি পায়ে হাটার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব

📄 খালি পায়ে হাটার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব


পায়ে হেঁটে চলা সুন্নত। একটি সুন্নত ছেড়ে দিলে তাতে কি কি ক্ষতি ও অসুবিধা হয়, সে বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে তা দেখা যাক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বাজান পায়ে হেঁটে চলাকে অগ্রাধিকার দিতেন। একদিন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে দেখে বললেন, হাকিম সাহেব! আপনাকে পায়ে হেঁটে আসতে দেখলাম। এত দূর থেকে পায়ে হেঁটে আসলেন, এর কারণটা কি? আমার পিতা উত্তরে বললেন, পায়ে হেঁটে চলা স্বাস্থ্যসম্মত। ওই ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। আমাদের এক বন্ধু হার্টের রোগে ভুগছিলেন। তিনি লাহোরের হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সেখানকার হার্ট বিশেষজ্ঞগণ বললেন, আপনি করাচী চলে যান। তিনি সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করালেন। কিন্তু সেখানকার বিশেষজ্ঞরাও রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলেন না বরং বলে দিলেন, আপনি ভাল চিকিৎসার জন্য লণ্ডন চলে যান। তিনি লণ্ডন চলে গেলেন। লণ্ডনের ডাক্তারগণ ভালভাবে মেডিকেল চেকআপের পর বললেন, এ রোগের চিকিৎসা আমেরিকার কার্ডিফ (বক্ষব্যাধি) হাসপাতালে আছে, সেখানে যান। বাঁচার তাগিদে মানুষ কি না করে? অগত্যা তিনি সেখানে পৌঁছুলেন। তিনি বলেন, তিনি সেখানে চিকিৎসা করতে থাকেন। কিছু দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হলেন। পরিশেষে বিদায়ের সময় বিশেষজ্ঞগণ তাকে সর্বশেষ ও বিশেষ পরামর্শ দিলেন, আপনি পায়ে হেঁটে চলবেন। এটাই আপনার চিকিৎসা।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, মানুষ আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ার চেয়ে চিকিৎসার প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে এ চিন্তাও করা দরকার যে, আমাদের রোগ-ব্যাধির কারণ কি? কেন আমরা বিভিন্ন প্রকার মারাত্মক রোগ-ব্যাধিতে ভুগছি? একথা সকলে স্বীকার করবেন যে, এর মূল কারণ হল অলস ও কর্মবিমুখ জীবন। যার মধ্যে পায়ের তৎপরতা অতি অল্প; কিন্তু ভালবের হরকত (ক্রিয়া) অধিক।

জনৈক বাদশাহ সর্বদা সুস্থ ও সবল থাকতেন। একদিন অন্য এক দেশের বাদশাহর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি তাঁর সুস্থ-সবল থাকার কারণ কি জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে বাদশাহ বলেন- দু'জন চিকিৎসক আমাকে সর্বদা চিকিৎসা করেন তারা হল আমার দুই পা। আমি যখনই পায়ে হেঁটে চলাফেরা করি, তখন আমার পা সচল ও ক্রিয়াশীল হয়। সেজন্য এর মধ্যে যখন কর্মসচলতা পয়দা হয়, তখন সমস্ত শরীর আরাম ও প্রশান্তিতে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অনিদ্রা

📄 অনিদ্রা


ইদানিং অধিকাংশ মানুষ অনিদ্রার শিকার। ডাক্তারদের ক্লিনিক ও হেকিমদের দাওয়াখানাসমূহ বর্তমানে এরূপ রোগীদের মহাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যতই আধুনিক উপায়-উপকরণ ও পন্থা আবিষ্কৃত হোক, দিন দিন রোগব্যাধি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি আপনার পরিবেশ-পরিস্থিতি উপর সামান্য চিন্তা করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হবেন যে, এর মূল কারণ অচল ও অলস জীবন। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, যখন এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভেউ ভেউ করে কেঁদে নিজের অবস্থা বর্ণনা করে, তখন তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ এমন হয় যারা কাজকর্ম থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা হ্রাস পেয়েছে এবং মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এমন লোকদের যখন দৈনিক পায়ে হেঁটে চলাফেরা করার পরামর্শ দেই এবং যে রোগী কঠোরতার সাথে তা নিয়মিত পালন করে, সে হতাশাজনক অবস্থা থেকে সুস্বাস্থ্যের প্রতি আশাবাদী হয়। ফলে অনিদ্রা তাঁর থেকে বহু দূরে চলে যায়। এমনকি যে রোগীর ঔষধ, পুরিয়া, অনুপান, বটিকা, ও ভোজে কোনো ফল হয় না, তখন যদি সে ধারাবাহিকভাবে অবিরাম গতিতে পায়ে চলাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে, তবে পুনরায় সে স্বাভাবিক নিদ্রাসুখ পাবে ইনশাআল্লাহ।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গ্যাস্ট্রিক

📄 গ্যাস্ট্রিক


বাস, ট্রেন, স্টেশন, বাজার, অলিতে-গলিতে সর্বত্র ইদানিং আপনি হজমের ঔষধপত্রের বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখবেন অথবা গুলি, বড়ি, দানা, মিকচার ইত্যাদির বিক্রেতা পাবেন। সকলেই দাবি করে, এটা গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি রোগ নিরাময়ের একমাত্র মহৌষধ। বর্তমানে দেশে পাকস্থলীর রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের জন্য যত ঔষধপত্র তৈরি হচ্ছে এবং অন্যান্য রোগের জন্য হবে, তন্মধ্যে গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম চিকিৎসা হল, পায়ে হাঁটা এবং চলাফেরা করা। আমরা যখন ঘি দিয়ে পাকানো সুস্বাদু খাদ্য খেয়ে চেয়ারে বসে থাকি এবং চলাফেরা করি না, তখন উক্ত খাদ্য পঁচে যায়। ফলে তা রোগ প্রতিষেধক হওয়ার পরিবর্তে রোগজীবাণুতে পরিণত হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কোষ্ঠকাঠিন্য

📄 কোষ্ঠকাঠিন্য


এটি একটি কঠিন সমস্যা। ঔষধপত্র, বটিকা, ফাইল ইত্যাদি খেলে যদি এর উপশম হয়, তবে তো ভালো। অন্যথায় রোগী চিকিৎসার সাথে সাথে যদি পায়ে হেঁটে চলাফেরা শুরু করে দেয়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ইনশাআল্লাহ পরিত্রাণ পাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00