📄 ক্যানভাসের জুতা বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর
বাচ্চাদের পায়ের জন্য সাধারণ জুতার চেয়ে টেনিস অথবা ক্যানভাসের জুতা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্ভবত কোনো কোনো চিকিৎসক মাতা-পিতাকে পরামর্শ দেন, যেন তারা তাদের বাচ্চাদেরকে সাধারণ জুতা না পরিয়ে এ ধরনের জুতা পরিধান করান। এরূপ পরামর্শ দানের দ্বারা বাচ্চাদের পায়ের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা শতগুণে বেড়ে যায়। আমেরিকায় স্বাস্থ্যসম্মত জুতা প্রস্তুতকারী সমিতি এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এর বাস্তব নমুনা তুলে ধরেছে। এ সমিতির ভাস্য ছিল বাচ্চাদেরকে ক্যানভাস সু ব্যবহার করানোর যে পরামর্শ বিশেষভাবে শিশু বিশেষজ্ঞগণ এবং কোনো কোনো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য রোগ বিশেষজ্ঞগণও দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে ডাক্তার রই বাচ্চাদেরকে এ জুতা পরানোর কুফল সম্পর্কে গবেষণা করে দেখেছেন।
বাস্তবে এ জুতা ব্যবহার করলে সাধারণ জুতার চেয়ে বাচ্চাদের গরম বেশি লাগে এবং প্রচুর ঘাম বের হয়। যার সবচেয়ে বড় কারণ হল, সাধারণ জুতার চেয়ে এ জুতাগুলির ভিতর পায়ে ঘষা লাগে বেশি। রাবার সোলে সঙ্কীর্ণতা বেশি থাকে। এর ভিতর থেকে লাগানো থাকে আঠা। ফলে রাবার সোল জমীনের উপর আটকে যায়। ক্যানভাস সু প্রতি কদমে আটকে যায়। কিন্তু এর ভিতর পা সামনের দিকে পিছলে যায়। আর এটা যদি সামান্য ঢিলা হয়, তাহলে আরো দ্রুত বেগে পিছলাতে থাকে, ফলে জুতার ভিতর বাচ্চাদের শরীর গরম হয়ে যায়, ঘাম বের হয়। সুতরাং জুতা খোলার পর দেখা যায়, তাদের মোজা ভিজে গেছে। অপর দিকে উভয় পায়ে প্রায় দুই লক্ষ লোমকূপ থাকে, যেগুলো থেকে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। এ পদার্থটি পায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর দ্বারা পায়ে জ্বালা-পোড়া সৃষ্টি হয়।
টেনিস অথবা ক্যানভাস জুতার ভিতর পায়ে ঘষা লাগলে শরীরে উষ্ণতা সৃষ্টির পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। চামড়ার সাধারণ উষ্ণতা থাকে ৯০০ ডিগ্রী। আর গরমের মৌসুমে পরিশ্রম বেশি করলে পায়ের উষ্ণতা ৯৫০ ডিগ্রী থেকে ১০০০ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌঁছে। কিন্তু ক্যানভাস জুতায় এ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫০ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
📄 বাচ্চাদের ঘা অথবা চোট
ক্যানভাস জুতা ব্যবহারকারী বাচ্চাদের এ রোগ প্রায়ই দেখা যায়। এর কারণ হল, এ আঠাল সোল এবং রাবার সোলের উপরের অংশের সঙ্কীর্ণতার ভিতর যখন বাচ্চাদের পা সামনের দিকে পিছলে যায়, তখন সারাদিনে কয়েক হাজার বার অগ্রভাগের সঙ্গে পায়ের ধাক্কা লাগে। চামড়ার জুতায় এ অসুবিধা অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়। কেননা চামড়ার তলা মাটির সাথে আটকে যায় না বরং সামনে দিকে পিছলে যায়।
📄 সোল নরম হওয়া
সাধারণত এ মনে করা হয়, ক্যানভাস সু এর নিচের সোল যথেষ্ট নরম হয়ে থাকে। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, ছোট বাচ্চাদের ক্যানভাস সু-এর সোল সাধরণত ১" ২" ইঞ্চি মোটা রাবারের হয়ে থাকে। বাচ্চাদের এ পরিমাণ ওজন হয় না যে, চলার সময় তারা সে সোল মুড়তে পাবে। অথবা পা নরম করতে পারে বরং তারা পা নরম করার পরিবর্তে খুব দৃঢ়তার সাথে আগে বাড়ায় আর এভাবে হাঁটলে সোল মুড়তে পারে না।
📄 উঁচু হিল জুতা
মেয়েদের উঁচু হিল জুতা পরার খুব শখ বা আগ্রহ থাকে। কিন্তু তারা জানে না যে, এতে তাদের পা, পায়ের গিরা, গোড়ালী এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কত ক্ষতি হয়। ইদানীং ফ্যাশনের বশবর্তী হয়ে মেয়েরা উঁচু হিলের জুতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। মূলত এরূপ জুতা-স্যাণ্ডেল পরিধান করলে পা ও গোড়ালীর রগগুলো ফুলে যায়। দীর্ঘদিন এরূপ জুতা পরলে হাড়ের মধ্যে ব্যথা শুরু হয়। দুর্বলতা জন্মে। আবার সংকীর্ণ পরলে পা ও গোড়ালীর কিছু অংশে রক্তচলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়। ফলে পা ও পায়ের গোড়ালীতে এবং কখনো কখনো কোমরে ব্যথা হয়। ফলে শরীর ফুলে উঠে, রগে ব্যথা হয়ে মোটা হয়ে যায় অর্থাৎ গোঁড়ালী বা পায়ের রগের মধ্যে রক্ত জমে গোশত পিণ্ডাকৃতি হয়ে যায়। মহিলারা যদি (বিপজ্জনক) এ জাতীয় জুতা পরা ত্যাগ করত, তবে অতি দ্রুত এমন কষ্টকর বিপজ্জনক অবস্থা হ্রাস পেত। উঁচু হিল জুতার গঠনই এমন যে, তাতে পা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে না; চলাফেরার সময় বিশেষভাবে কষ্ট পেতে হয়।