📄 সিরা উপশিরার খিচুনি
কিছু কাল পূর্বেও শুধু বুড়োরাই শিরা-উপশিরার রোগে আক্রান্ত হত। এর কারণ যাই থাকুক। কিন্তু আধুনিক গবেষণা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম মানসিক রোগে খুব বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং এর অগণিত কারণ রয়েছে। কিন্তু সর্বজন স্বীকৃত মতে জুতা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য যথেষ্ট সহায়ক; এর অপব্যবহার শিরা-উপশিরায় রোগের কারণ হতে পারে।
📄 হিন্দুস্তানের বাদশাহদের পছন্দ
হিন্দুস্তানের বাদশাহগণ সেলিমশাহী জুতা পছন্দ করতেন। বংশগতভাবে তারা এ জুতাই ব্যবহার করতেন। এ জুতার নমুনার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তারা জুতা ব্যবহারে নিজেদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কায়দা জানতেন। বাদশাহ বাবর বলেন: আমি যখন হিন্দুস্তানের মাটিতে পা রাখলাম, তখন এখানকার মাটি, পরিবেশ ও ভারী সেতাই আমার পছন্দ ছিল।
হাসপাতালে একজন ৮ বৎসরের পুরাতন মাথাব্যথার মহিলা রোগী আসলেন। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেল, তিনি সর্বদা উঁচু হিল জুতা পরতেন। যখন তার জুতা পরিবর্তন করা হল, তখন তার অবস্থারও পরিবর্তন হয়ে গেল।
একজন গ্রাম্য ব্যক্তি তার চামড়ার তৈরি দেশী জুতা সর্বদা তৈলে ভিজিয়ে রাখত আর বলত আমার বয়স আশি বছর থেকেও বেশি। অথচ আমার দৃষ্টিশক্তি একটুও কম নয়। দাঁত পড়ে নি, স্নায়ুবিক দুর্বলতা নেই। আমি মনে করি, এর একমাত্র কারণ হল তৈলে ভিজানো জুতা।
মোটকথা, আপনি উপযুক্ত জুতা নির্বাচন করতে চাইলে সর্বদা চামড়ার জুতা ব্যবহার করুন। সঙ্কীর্ণ জুতা পরিহার করুন। অনেক রোগ থেকে বেঁচে যাবেন। বর্তমান যুগের আধুনিক পাম সু লং সু আমাদের আঞ্চলিক মেজাজ ও মৌসুমের বিপরীত। সর্বদা পায়ে জুতা রাখবেন না। মাঝে মাঝে জুতা ছাড়াও চলাফেরা করবেন। উঁচু হিল এবং (স্থিতিস্থাপক) জুতা বুঝেশুনে পরবেন। আমরা যখন চলাফেরা করি, তখন জুতাও পায়ের ঘর্ষণে একপ্রকার উষ্ণতা সৃষ্টি হয়। সুতরাং জুতা যদি চামড়ার হয়, তাহলে সে উষ্ণতা নিঃশেষ হয়ে যায় আর যদি রাবার প্লাস্টিক ইত্যাদির হয়, তখন এ উষ্ণতা অগণিত রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
📄 ক্যানভাসের জুতা বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর
বাচ্চাদের পায়ের জন্য সাধারণ জুতার চেয়ে টেনিস অথবা ক্যানভাসের জুতা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্ভবত কোনো কোনো চিকিৎসক মাতা-পিতাকে পরামর্শ দেন, যেন তারা তাদের বাচ্চাদেরকে সাধারণ জুতা না পরিয়ে এ ধরনের জুতা পরিধান করান। এরূপ পরামর্শ দানের দ্বারা বাচ্চাদের পায়ের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা শতগুণে বেড়ে যায়। আমেরিকায় স্বাস্থ্যসম্মত জুতা প্রস্তুতকারী সমিতি এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এর বাস্তব নমুনা তুলে ধরেছে। এ সমিতির ভাস্য ছিল বাচ্চাদেরকে ক্যানভাস সু ব্যবহার করানোর যে পরামর্শ বিশেষভাবে শিশু বিশেষজ্ঞগণ এবং কোনো কোনো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য রোগ বিশেষজ্ঞগণও দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে ডাক্তার রই বাচ্চাদেরকে এ জুতা পরানোর কুফল সম্পর্কে গবেষণা করে দেখেছেন।
বাস্তবে এ জুতা ব্যবহার করলে সাধারণ জুতার চেয়ে বাচ্চাদের গরম বেশি লাগে এবং প্রচুর ঘাম বের হয়। যার সবচেয়ে বড় কারণ হল, সাধারণ জুতার চেয়ে এ জুতাগুলির ভিতর পায়ে ঘষা লাগে বেশি। রাবার সোলে সঙ্কীর্ণতা বেশি থাকে। এর ভিতর থেকে লাগানো থাকে আঠা। ফলে রাবার সোল জমীনের উপর আটকে যায়। ক্যানভাস সু প্রতি কদমে আটকে যায়। কিন্তু এর ভিতর পা সামনের দিকে পিছলে যায়। আর এটা যদি সামান্য ঢিলা হয়, তাহলে আরো দ্রুত বেগে পিছলাতে থাকে, ফলে জুতার ভিতর বাচ্চাদের শরীর গরম হয়ে যায়, ঘাম বের হয়। সুতরাং জুতা খোলার পর দেখা যায়, তাদের মোজা ভিজে গেছে। অপর দিকে উভয় পায়ে প্রায় দুই লক্ষ লোমকূপ থাকে, যেগুলো থেকে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। এ পদার্থটি পায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর দ্বারা পায়ে জ্বালা-পোড়া সৃষ্টি হয়।
টেনিস অথবা ক্যানভাস জুতার ভিতর পায়ে ঘষা লাগলে শরীরে উষ্ণতা সৃষ্টির পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। চামড়ার সাধারণ উষ্ণতা থাকে ৯০০ ডিগ্রী। আর গরমের মৌসুমে পরিশ্রম বেশি করলে পায়ের উষ্ণতা ৯৫০ ডিগ্রী থেকে ১০০০ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌঁছে। কিন্তু ক্যানভাস জুতায় এ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫০ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
📄 বাচ্চাদের ঘা অথবা চোট
ক্যানভাস জুতা ব্যবহারকারী বাচ্চাদের এ রোগ প্রায়ই দেখা যায়। এর কারণ হল, এ আঠাল সোল এবং রাবার সোলের উপরের অংশের সঙ্কীর্ণতার ভিতর যখন বাচ্চাদের পা সামনের দিকে পিছলে যায়, তখন সারাদিনে কয়েক হাজার বার অগ্রভাগের সঙ্গে পায়ের ধাক্কা লাগে। চামড়ার জুতায় এ অসুবিধা অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়। কেননা চামড়ার তলা মাটির সাথে আটকে যায় না বরং সামনে দিকে পিছলে যায়।