📄 আশ্চর্য অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার জুতা ব্যবহার করতেন। যেদিন থেকে মুসলমান তা ছেড়ে দিয়েছে, সেদিন থেকেই অহরহ পেরেশানীতে পতিত হয়েছে। সুতরাং সুন্নত এবং ফ্যাশনের পার্থক্য আপনিই করুন। মানব প্রকৃতি সুন্দর ও সৌন্দর্যের প্রতি সর্বদা দুর্বল। মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ তার আত্মা ও শরীরের জন্য সহজসাধ্য ও সাবলীল জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আসছে। বিভিন্ন যুগে যারা তার শারীরিক প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিও কৌশল অবলম্বন করে আসছে। প্রস্তর যুগের মানুষ কিভাবে জীবন যাপন করত, সেটা সকলেরই জানা আছে। তাদের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। পায়ে জুতা ছিল না। দিন-রাত এভাবেই কেটে যেত তাদের।
এখন প্রশ্ন জাগে, বর্তমান যুগ কি আমাদেরকে উন্নতির পথে অগ্রসর করছে? যে যুগে সবদিকেই শুধু ফ্যাশনের ছড়াছড়ি! সুতরাং নিজের সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য জুতা নির্বাচনেও ভেবেচিন্তে করা দরকার।
অবশ্যই জুতা নরম, সুন্দর এবং ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সোনায় সোহাগা হতে হবে। কিন্তু এ জুতাটা কি সুস্থতা ও জীবন যাপনের সহযোগী? এ প্রশ্নটির প্রতি খুব কম লোকই খেয়াল করেন।
এক ব্যক্তি বলছিলেন, আমার পেশাবের সময় কষ্ট হয়। বার বার চিকিৎসা করার পরও রোগ কমছে না বরং বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে একদিন একটি অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে এক বন্ধুর সাথে দেখা হল। তিনি বলতে লাগলেন, আরে ইউসুফ সাহেব! আপনি এত জ্ঞানী মানুষ হয়েও কেন এরূপ জুতা ব্যবহার করছেন? এর ফলে তো অনেক স্নায়ু রোগ এবং মূত্রথলির রোগ হওয়ার খুবই সম্ভাবনা থাকে। তাঁর কথা শুনে আপনাআপনিই আমার রোগের প্রতি খেয়াল চলে গেল। আমি জুতা পরিবর্তন করে ফেললাম এবং খাঁটি চামড়ার জুতা ব্যবহার করতে শুরু করলাম। আমার পূর্বের জুতা ছিল রাবারের। এখন চামড়ার জুতা ব্যবহারের ফলে আমার রোগ কমতে আরম্ভ করল। আমি একসময় সুস্থতা লাভ করলাম।
এক যুবক হাসপাতালে অভিযোগ নিয়ে এল যে, আমার শিরা-উপশিরার খিঁচুনি, মস্তিষ্কের দুর্বলতা এবং সার্বক্ষণিক পেরেশানী থাকে। এ পেরেশানী ও বোঝা আমার জন্য আযাবের চেয়ে কম নয়। এর ফলে আমি বেশ কয়েক বছর ধরে পরীক্ষায় সাফল্য থেকে অনেক দূরে থেকে যাচ্ছি। মোটকথা, রোগীর অস্থিরতা ছিল অবর্ণনীয় এবং সে অনেক মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীনও ছিল। তার রোগের কারণ নির্ণয় করার পর বুঝা গেল, এর কারণ ছিল তার জুতা। কেননা মূলত এসব জুতা সে সকল দেশে ব্যবহৃত হয়, যেখানে বরফ পড়ে। এরূপ ইংলিশ জুতা আমাদের মেজাজ ও মৌসুমের পরিপন্থী। যখন তার জুতা পরিবর্তন করিয়ে সামান্য চিকিৎসা দেওয়া হল, তখন আলহামদুলিল্লাহ রোগী সুস্থতা লাভ করল।
📄 বোনের উপর জুতার প্রভাব
যখন পায়ে চোট লাগে, তখন পায়ে তো এর প্রভাব পড়েই। কিন্তু তার চেয়েও মারাত্মক প্রভাব পড়ে ব্রেনের ওপর। অনেক সময় মস্তিষ্কের রোগের কারণে পায়ের জখম তাড়াতাড়ি ভালো হয় না। সুতরাং বুঝা গেল, পায়ের আরামের সঙ্গে ব্রেনের এবং ব্রেনের আরামের সঙ্গে পায়ের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী নিউটন যখন মস্তিষ্কের চাপ এবং অবসন্নতার শিকার হলেন, তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে জুতার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে জুতা পাল্টাতে লাগলেন। অবশেষে তিনি এক জোড়া জুতায় আরাম পেলেন। তারপর তিনি ওই জোড়াই ব্যবহার করতে থাকেন। জার্মানির বিশেষজ্ঞগণ আবিষ্কার করেছেন, জুতা ভালো হলে ব্রেনও ভাল থাকে। জুতা শক্ত হলে ব্রেন শক্ত, জুতা নরম হলে ব্রেন নরম: এ কথাগুলো মূলত রূপক হলেও চিন্তা-ভাবনা করলে বেশ তথ্য পাওয়া যাবে।
📄 সিরা উপশিরার খিচুনি
কিছু কাল পূর্বেও শুধু বুড়োরাই শিরা-উপশিরার রোগে আক্রান্ত হত। এর কারণ যাই থাকুক। কিন্তু আধুনিক গবেষণা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম মানসিক রোগে খুব বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং এর অগণিত কারণ রয়েছে। কিন্তু সর্বজন স্বীকৃত মতে জুতা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য যথেষ্ট সহায়ক; এর অপব্যবহার শিরা-উপশিরায় রোগের কারণ হতে পারে।
📄 হিন্দুস্তানের বাদশাহদের পছন্দ
হিন্দুস্তানের বাদশাহগণ সেলিমশাহী জুতা পছন্দ করতেন। বংশগতভাবে তারা এ জুতাই ব্যবহার করতেন। এ জুতার নমুনার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তারা জুতা ব্যবহারে নিজেদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কায়দা জানতেন। বাদশাহ বাবর বলেন: আমি যখন হিন্দুস্তানের মাটিতে পা রাখলাম, তখন এখানকার মাটি, পরিবেশ ও ভারী সেতাই আমার পছন্দ ছিল।
হাসপাতালে একজন ৮ বৎসরের পুরাতন মাথাব্যথার মহিলা রোগী আসলেন। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেল, তিনি সর্বদা উঁচু হিল জুতা পরতেন। যখন তার জুতা পরিবর্তন করা হল, তখন তার অবস্থারও পরিবর্তন হয়ে গেল।
একজন গ্রাম্য ব্যক্তি তার চামড়ার তৈরি দেশী জুতা সর্বদা তৈলে ভিজিয়ে রাখত আর বলত আমার বয়স আশি বছর থেকেও বেশি। অথচ আমার দৃষ্টিশক্তি একটুও কম নয়। দাঁত পড়ে নি, স্নায়ুবিক দুর্বলতা নেই। আমি মনে করি, এর একমাত্র কারণ হল তৈলে ভিজানো জুতা।
মোটকথা, আপনি উপযুক্ত জুতা নির্বাচন করতে চাইলে সর্বদা চামড়ার জুতা ব্যবহার করুন। সঙ্কীর্ণ জুতা পরিহার করুন। অনেক রোগ থেকে বেঁচে যাবেন। বর্তমান যুগের আধুনিক পাম সু লং সু আমাদের আঞ্চলিক মেজাজ ও মৌসুমের বিপরীত। সর্বদা পায়ে জুতা রাখবেন না। মাঝে মাঝে জুতা ছাড়াও চলাফেরা করবেন। উঁচু হিল এবং (স্থিতিস্থাপক) জুতা বুঝেশুনে পরবেন। আমরা যখন চলাফেরা করি, তখন জুতাও পায়ের ঘর্ষণে একপ্রকার উষ্ণতা সৃষ্টি হয়। সুতরাং জুতা যদি চামড়ার হয়, তাহলে সে উষ্ণতা নিঃশেষ হয়ে যায় আর যদি রাবার প্লাস্টিক ইত্যাদির হয়, তখন এ উষ্ণতা অগণিত রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।