📄 হাদীসে রাসূল
• হযরত ইবনে বুরাইদা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেদমতে দুটি কালো মোজা পাঠালেন আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটা পরিধান করলেন। (ইবনে মাজা)
• হযরত ইবনে ওমর রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ দুটি জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি, যেগুলির উপর পশম ছিল না (অর্থাৎ পাকানো চামড়ার ছিল)। (বুখারী)
• একজন সাহাবী বলেন, আমি হযরত আনাস রাযি.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুতা মোবারক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তখন তিনি বললেন, প্রতিটি জুতা মোবারকে দুটি করে ফিতা ছিল। (তিরমিযী)
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জুতা মোবারক চামড়ার ছিল এবং একেবারে সমান ছিল। বর্তমান যুগে বেড়ীওয়ালা এবং রাবার ও প্লাস্টিকের জুতা কিরূপ ক্ষতিকর, তা বলাই বাহুল্য। একজন ফিজিও থেরাপিস্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বেড়ীওয়ালা জুতা ইহুদিদের চক্রান্ত। এটা নারী-পুরুষের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত যৌন সুড়সুড়ি এবং ব্যভিচারের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। আজও যদি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জুতার মতো জুতা তৈরি করি এবং শুধু চামড়ার জুতা তৈরি করে পরিধান করি, তা হলে অগণিত রোগ-ব্যাধি হতে বেঁচে যেতে পারি।
📄 আশ্চর্য অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার জুতা ব্যবহার করতেন। যেদিন থেকে মুসলমান তা ছেড়ে দিয়েছে, সেদিন থেকেই অহরহ পেরেশানীতে পতিত হয়েছে। সুতরাং সুন্নত এবং ফ্যাশনের পার্থক্য আপনিই করুন। মানব প্রকৃতি সুন্দর ও সৌন্দর্যের প্রতি সর্বদা দুর্বল। মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ তার আত্মা ও শরীরের জন্য সহজসাধ্য ও সাবলীল জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আসছে। বিভিন্ন যুগে যারা তার শারীরিক প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিও কৌশল অবলম্বন করে আসছে। প্রস্তর যুগের মানুষ কিভাবে জীবন যাপন করত, সেটা সকলেরই জানা আছে। তাদের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। পায়ে জুতা ছিল না। দিন-রাত এভাবেই কেটে যেত তাদের।
এখন প্রশ্ন জাগে, বর্তমান যুগ কি আমাদেরকে উন্নতির পথে অগ্রসর করছে? যে যুগে সবদিকেই শুধু ফ্যাশনের ছড়াছড়ি! সুতরাং নিজের সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য জুতা নির্বাচনেও ভেবেচিন্তে করা দরকার।
অবশ্যই জুতা নরম, সুন্দর এবং ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সোনায় সোহাগা হতে হবে। কিন্তু এ জুতাটা কি সুস্থতা ও জীবন যাপনের সহযোগী? এ প্রশ্নটির প্রতি খুব কম লোকই খেয়াল করেন।
এক ব্যক্তি বলছিলেন, আমার পেশাবের সময় কষ্ট হয়। বার বার চিকিৎসা করার পরও রোগ কমছে না বরং বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে একদিন একটি অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে এক বন্ধুর সাথে দেখা হল। তিনি বলতে লাগলেন, আরে ইউসুফ সাহেব! আপনি এত জ্ঞানী মানুষ হয়েও কেন এরূপ জুতা ব্যবহার করছেন? এর ফলে তো অনেক স্নায়ু রোগ এবং মূত্রথলির রোগ হওয়ার খুবই সম্ভাবনা থাকে। তাঁর কথা শুনে আপনাআপনিই আমার রোগের প্রতি খেয়াল চলে গেল। আমি জুতা পরিবর্তন করে ফেললাম এবং খাঁটি চামড়ার জুতা ব্যবহার করতে শুরু করলাম। আমার পূর্বের জুতা ছিল রাবারের। এখন চামড়ার জুতা ব্যবহারের ফলে আমার রোগ কমতে আরম্ভ করল। আমি একসময় সুস্থতা লাভ করলাম।
এক যুবক হাসপাতালে অভিযোগ নিয়ে এল যে, আমার শিরা-উপশিরার খিঁচুনি, মস্তিষ্কের দুর্বলতা এবং সার্বক্ষণিক পেরেশানী থাকে। এ পেরেশানী ও বোঝা আমার জন্য আযাবের চেয়ে কম নয়। এর ফলে আমি বেশ কয়েক বছর ধরে পরীক্ষায় সাফল্য থেকে অনেক দূরে থেকে যাচ্ছি। মোটকথা, রোগীর অস্থিরতা ছিল অবর্ণনীয় এবং সে অনেক মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীনও ছিল। তার রোগের কারণ নির্ণয় করার পর বুঝা গেল, এর কারণ ছিল তার জুতা। কেননা মূলত এসব জুতা সে সকল দেশে ব্যবহৃত হয়, যেখানে বরফ পড়ে। এরূপ ইংলিশ জুতা আমাদের মেজাজ ও মৌসুমের পরিপন্থী। যখন তার জুতা পরিবর্তন করিয়ে সামান্য চিকিৎসা দেওয়া হল, তখন আলহামদুলিল্লাহ রোগী সুস্থতা লাভ করল।
📄 বোনের উপর জুতার প্রভাব
যখন পায়ে চোট লাগে, তখন পায়ে তো এর প্রভাব পড়েই। কিন্তু তার চেয়েও মারাত্মক প্রভাব পড়ে ব্রেনের ওপর। অনেক সময় মস্তিষ্কের রোগের কারণে পায়ের জখম তাড়াতাড়ি ভালো হয় না। সুতরাং বুঝা গেল, পায়ের আরামের সঙ্গে ব্রেনের এবং ব্রেনের আরামের সঙ্গে পায়ের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী নিউটন যখন মস্তিষ্কের চাপ এবং অবসন্নতার শিকার হলেন, তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে জুতার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে জুতা পাল্টাতে লাগলেন। অবশেষে তিনি এক জোড়া জুতায় আরাম পেলেন। তারপর তিনি ওই জোড়াই ব্যবহার করতে থাকেন। জার্মানির বিশেষজ্ঞগণ আবিষ্কার করেছেন, জুতা ভালো হলে ব্রেনও ভাল থাকে। জুতা শক্ত হলে ব্রেন শক্ত, জুতা নরম হলে ব্রেন নরম: এ কথাগুলো মূলত রূপক হলেও চিন্তা-ভাবনা করলে বেশ তথ্য পাওয়া যাবে।
📄 সিরা উপশিরার খিচুনি
কিছু কাল পূর্বেও শুধু বুড়োরাই শিরা-উপশিরার রোগে আক্রান্ত হত। এর কারণ যাই থাকুক। কিন্তু আধুনিক গবেষণা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম মানসিক রোগে খুব বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং এর অগণিত কারণ রয়েছে। কিন্তু সর্বজন স্বীকৃত মতে জুতা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য যথেষ্ট সহায়ক; এর অপব্যবহার শিরা-উপশিরায় রোগের কারণ হতে পারে।