📄 সুন্নাতে রাসূল
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। উদ্দেশ্য 'তাহনীকা' করণ বা তাঁর মুখের পবিত্র লালামিশ্রিত চর্বিত খেজুরের অংশবিশেষ নবজাতকের মুখে দিয়ে বরকত লাভ করা। মুখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখের চর্বিত খেজুরের মাধ্যমে সর্বপ্রথম তাকওয়া ও হিকমত তাঁর দেহে প্রবেশ করে।
📄 নেচারাল থেরাপি (NATURAL THERAPY)
খাদ্যের সন্ধান করতে করতে আমরা এক জঙ্গলে ঢুকে পড়লাম। সেখানে আমরা দুটি বস্তায় দু ধরনের খাবারযোগ্য জিনিস দেখতে পেলাম। যার একটা হলো খেজুর আর অন্যটা হলো হলুদ শক্ত খোসা আবৃত ছোট ছোট শস্য দানা। আমরা এ দুই প্রকারের খাদ্যই সৈন্যদের জন্য নিয়ে এলাম।
আমাদের একজন এই ছোট ছোট দানা দেখে বললেন: 'এটা বিষ। শত্রুরা আমাদের জন্য তৈরি করে রেখেছে। তাই এর ধারে-কাছে যাওয়াও ঠিক হবে না। তাই আমরা খেজুরের দিকে মনোনিবেশ করলাম এবং খেজুরই খেতে থাকলাম। আমরা ছোট দানাবিশিষ্ট খাদ্যকে পরিহার করলাম। এ সময় আমাদের একটি ঘোড়া রশি ছিঁড়ে সেখানে এসে তা খেতে থাকে। আল্লাহর শপথ! আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, ঘোড়াটি মারা যাবে। তাই মৃত্যুর আগেই সেটিকে যবাহ করে এর গোশত কাজে লাগাব এমন চিন্তা করতে লাগলাম।'
কিন্তু ঘোড়ার মালিক এসে বলল: 'ঘোড়াটিকে এ অবস্থায়ই থাকতে দাও, আমি আজ রাতে এটিকে পাহারা দিয়ে রাখব। যদি এর মৃত্যুর আশঙ্কা দেখি, তাহলে যবেহ করে ফেলব।'
সকালে আমরা দেখলাম : 'ঘোড়াটি সুস্থই আছে। কোনোরূপ বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া এর দেহে নেই।'
আমার বোন আমাকে বলল : 'আমি আব্বার কাছে শুনেছি, বিষাক্ত খাদ্য রান্না করলে বা আগুনে তাপ দিলে এর বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।'
অতঃপর কিছু দানা নিয়ে হাড়িতে জাল দেওয়া হলো। কিছুক্ষণ পরেই সে বলতে থাকে : 'তোমরা এসে দেখ, এই দানাগুলো লাল হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর সে এর খোসা ফেলে দিলে সাদা সাদা দানা বের হয়ে এল এবং তা খাবার জন্য প্রস্তুত করল।'
তারপর আমরা সেগুলো খাওয়ার জন্য বড় বড় প্লেটে রাখলাম। সেনাপতি উত্তা আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন : 'খাদ্য গ্রহণের পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়ে নাও, তারপর খেতে থাক।'
আমরা দেখতে পেলাম তা এক সুস্বাদু খাদ্য। তারপর আমরা এই ছোট ছোট দানাবিশিষ্ট খাদ্য সম্পর্কে জানতে পারি যে, এর নাম হলো ধান।
টিকাঃ
১. আমাদের দেশে ঘোড়ার গোশ্ত খাওয়ার প্রচলন নেই। অথচ শরীআতের দৃষ্টিতে এর গোশ্ত হালাল।
📄 পারফিউম থেরাপি (PERFUME THERAPY)
খাব্বাব ইবনে আরত রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর প্রতি সিবাআর চেয়ে তাঁর মালিকা উম্মু আনমারের নির্যাতন কোনো অংশেই কম ছিল না। একদা উম্মু আনমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাব্বাবের দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় তাঁর সাথে কথা বলতে দেখে তার মাথায় রক্ত চড়ে যায়। এরপর সে প্রতিদিন খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দোকানে আসত এবং তাঁর হাপর থেকে উত্তপ্ত লাল টকটকে লৌহখণ্ড তাঁর মাথার ওপর চেপে ধরত। এতে খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মাথা পুড়ে বাষ্প উত্থিত হতো এবং তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলতেন। এমতাবস্থায় খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁর মালিকা উম্মু আনমার ও তার ভাই সিবাআর জন্য আল্লাহর দরবারে বদদু'আ করতে থাকতেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মদীনায় হিজরত করে চলে যাওয়ার অনুমতি দিলে খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুও সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং সুযোগমতো হিজরত করে মদীনায় চলে যান। মক্কা ত্যাগের পূর্বে আল্লাহ উম্মু আনমারের জন্য তাঁর কৃত বদদু'আ বাস্তবে পরিণত করে দেখান। তা এইভাবে যে, উম্মু আনমার কঠিন মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের তীব্র ও কঠিন মাথা ব্যথার কথা ইতঃপূর্বে কেউ শোনেনি। প্রচণ্ড মাথা ব্যথার তাড়নায় সে কুকুরের মতো চিৎকার করত। চিকিৎসার জন্য তার ছেলেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পরিশেষে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেয়:
'এ ধরনের মাথা ব্যথার একমাত্র চিকিৎসা হলো লৌহখণ্ড উত্তপ্ত করে লাল টগবগে হলে তা দ্বারা নিয়মিত মাথায় দাগ দেওয়া। এই মাথা ব্যথা থেকে বাঁচার জন্য উম্মু আনমার লৌহখণ্ড গরম করে মাথায় ইস্ত্রির মতো ঘষতো। তাতে তার যন্ত্রণার অনুভূতি কিছুটা লাঘব হওয়ার পরিবর্তে আরো বহুগুণ বেড়ে যেত, এমনকি তার যন্ত্রণায় পূর্বের মাথা ব্যথাই ভুলে যেত।