📄 ইংল্যাণ্ডের অবস্থা
আমি এ দুঃখজনক অবস্থার বর্ণনাকে আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না। ইতিহাস A History of Prostitution বইয়ের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ না করে শেষ করাটা ভাল মনে করি না। উক্ত বইয়ের লেখক একজন ইংরেজ। তিনি তাঁর দেশেরই অবস্থা তুলে ধরে লিখেছেন:
যে সকল মহিলাদের জীবন ধারণের একমাত্র উপায় হল দেহ-ব্যবসা করে পয়সা উপার্জন করা, তারা ছাড়াও এমন মহিলাদেরও বিরাট একটি সংখ্যা আছে (যাদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে), যারা অন্য উপায়েও পয়সা উপার্জন করতে পারে কিন্তু তবুও উপার্জনের অতিরিক্ত পন্থা হিসেবে দেহ বিক্রি করে বেড়ায়। এরা পেশাদার বেশ্যাদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আমরা এদেরকে হয়তো পেশাদার বেশ্যা বলব না, তবে অপেশাদার বেশ্যা (Ametear Prostanutes) অবশ্যই বলা যেতে পারে।
বর্তমানে এরূপ অপেশাদার দেহ ব্যবসায়ীদের সংখ্যা যেরূপ বাড়ছে, এরূপ কখনো দেখা যায় নি। সমাজের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে এরূপ বহু নারী দেখা যায়। যদি এ সকল ভদ্র মহিলাদেরকে কোথাও ইশারা ইঙ্গিতেও বেশ্যা বা দেহপসারিণী বলা যায়, তখন ক্রোধে তাদের শরীর থেকে আগুন ঠিকরে পড়ে। কিন্তু তাদের এ ক্রোধের কারণে বাস্তবতা পরিবর্তিত হতে পারে না।
বাস্তবে এদের মধ্যে আর পতিতালয়ের বেশ্যার মধ্যে চারিত্রিক দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে যুবতী নারীদের নির্ভীক চালচলন, বল্গাহীন বেহায়াপনা এবং বাজারী চাল-চলন তাদের ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে। সিগারেট পান করা, পঁচা মদ সেবন, যৌন বিজ্ঞান ও জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নিজ জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, অশ্লীল পত্র-পত্রিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা ইত্যাদি সব কিছু তাদের বিনোদন বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরূপ মেয়েদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরা বিয়ের পূর্বেই দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। আর এরূপ মেয়ে আজ কোথাও নাই বললেই চলে, যারা গীর্জার সম্মুখে বিয়ের অঙ্গীকার পূর্ণ করার সময় বাস্তবিকই কুমারী থাকে।"
তারপর এ লেখক সে সকল কারণ বিশ্লেষণ করেন, যেসব কারণে বর্তমান সমাজ এ করুণ পরিস্থিতির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্লেষণটি উক্ত লেখকের ভাষায়ই উল্লেখ করা ভালো মনে করি।
প্রথমে তাদের সৌখিনতা ও আরাম আয়েশের কথা ধরুন। এর ফলে প্রতিটি মেয়ের মধ্যে ফ্যাশনের মূল্যমান, পোশাকাদি এবং রূপচর্চার নানা ধরনের সামগ্রীর প্রতি লোভ সীমাহীনভাবে বেড়ে যায়। এটি হল লাগামহীন বেহায়াপনার একটি বিরাট কারণ। প্রতিটি দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই দেখেন, তার সামনে দিয়ে প্রতিদিন শত শত মেয়ে যাতায়াত করে। যাদের প্রায়ই এরূপ মূল্যবান কাপড় পরিধান করে, যা তাদের বৈধ আয়-উপার্জনে কখনো যোগানো সম্ভব নয়।
সুতরাং আজও এরূপ বলা যায়, যেরূপ অর্ধশত বছর পূর্বে বলা যেত অর্থাৎ তাদের জন্য কাপড় ক্রয় করে পুরুষরাই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, পূর্বে যে সকল পুরুষগণ তাদের জন্য কাপড় ক্রয় করতেন, তারা ছিলেন তাদের স্বামী, পিতা অথবা ভাই। আর বর্তমানে তাদের স্থলে অন্যরা ক্রয় করে দেয়। এ নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পিছনে নারী স্বাধীনতারও বিরাট একটি প্রভাব রয়েছে। গত কয়েক বছরে মেয়েদের প্রতি মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া দারুণ কমে গেছে। বিগত ৩০/৪০ বছর পূর্বে ছেলেদেরও এত স্বাধীনতা ছিল না।
সমাজে বেহায়াপনা এরূপ বিস্তৃতি লাভ করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, নারীরা দিন দিন প্রচুর পরিমাণে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে, অফিসে কল-কারখানাসহ বিভিন্ন পেশায় নির্বিঘ্নে যোগ দিচ্ছে। যেখানে দিবারাত্র তারা পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা ও উঠাবসার সুযোগ পায়। এ নারী পুরুষের চারিত্রিক অবকাঠামোকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে এবং উভয় শ্রেণীর পাশবিক সম্পর্ককে সকল চারিত্রিক বন্ধন থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। বর্তমানে যুবতীদের বিয়ে করে পবিত্র জীবন যাপনের ধারণাও মাথায় আসে না। আগে বখাটেরা মুক্তভাবে ফুর্তি করে সময় কাটানোর সুযোগ সন্ধানে থাকত আর আজ সমাজের প্রতিটি নারীই এ সুযোগ খুঁজে বেড়ায়।
বর্তমানে কুমারীত্বকে একটি অতি প্রাচীন জিনিস মনে করা হয়। আধুনিক যুগের মেয়েরা একে একটি বিপদ মনে করে। তাদের মতে প্রাণ খুলে আনন্দ-ফুর্তি ও প্রবৃত্তি পুঁজা করতে পারলেই জীবন-যৌবন সার্থক হয়। এরই অনুসন্ধানে তারা নাচের আসরে, নাইট ক্লাবে, আড্ডাখানায় এবং আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। এজন্যই তারা সম্পূর্ণ অপরিচিত পুরুষের সাথে মোটর ভ্রমণে বের হতেও দ্বিধা করে না। অন্য কথায় তারা জেনেশুনেই নিজেকে স্বেচ্ছায় এমন পরিবেশে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের জৈবিক চাহিদা আরও উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তারপর এর ভয়াবহ অনিষ্টের জন্য তারা মোটেও ভীত নয় বরং সাদরে বরণ করে নেয়। (মুসলমান আওরত আওর এছমাত)