📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শিক্ষা জীবন

📄 শিক্ষা জীবন


এমনিভাবে যে সকল বাচ্চাদের মধ্যে অসময়েই উত্তেজনা জাগ্রত হয়, তাদের জন্য প্রথম অনুশীলনকেন্দ্র হল স্কুলসমূহ। স্কুল দু'ধরনের। এক ধরনের স্কুলে শুধু ছেলে অথবা শুধু মেয়েরা পড়ে। দ্বিতীয় প্রকার স্কুলগুলোতে রয়েছে সহ-শিক্ষার ব্যবস্থা। প্রথম প্রকার স্কুলে সমকামিতা (Homosexuality) এবং স্বমেহন (Masturbation) এর মতো মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। কেননা যে উত্তেজনাকে শৈশবেই প্রজ্জ্বলিত করে দেওয়া হয়েছে এবং উত্তেজিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে, সেখানে ওই উত্তেজনা প্রশমিত করার যে কোনো উপায় সে খুঁজে নেবেই।

ডাক্তার হোকর লিখেন, এ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কলেজে ও নার্স ট্রেনিং স্কুলে এরূপ ঘটনা ঘটতেই থাকে। সেগুলির মধ্যে একই লিঙ্গের দুজনকে যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখা যায়। ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তাদের আকর্ষণ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি এরূপ অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং এর ফলে মেয়েরা ভয়াবহ পরিণামের শিকার হয়েছে। আরও বিভিন্ন বই পড়লে অনুমান করা যায় যে, এ সমকামিতায় দুরারোগ্য ব্যাধি সমাজে কি পরিমাণ ছড়িয়ে পড়েছে।

ডা. লোরী (Dr. Lowry) তার রচিত "herself" বইয়ে (১৭৯) লিখেন, একবার এক স্কুলের হেডমাস্টার ৪০ টি পরিবারকে গোপনে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ছেলেদেরকে এখন স্কুলে রাখা যাবে না। কারণ, তাদের চরিত্রহীনতার পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ।

এখন দ্বিতীয় প্রকারের স্কুলসমূহের আলোচনার আসুন, বেগুলিতে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের স্কুলগুলোতে যেমনি উত্তেজনা সৃষ্টির উপকরণ রয়েছে, আবার তা প্রশমিত করার উপকরণও বিদ্যমান আছে। শৈশবে যে উত্তেজনার সূচনা ছিল, এখানে পৌঁছে তা পূর্ণতা পেয়েছে। এসব স্কুল-কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে থাকে কুরুচিপূর্ণ পত্র-পত্রিকা, উপন্যাস, অশ্লীল ছবির বই, যৌন বিজ্ঞানের বিভিন্ন অশ্লীল বই এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এগুলি যৌবনের প্রারম্ভেই স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রসিদ্ধ আমেরিকান লেখক হ্যান্ড্রিচ ভনলুন (Handrich Von Loain) বলেন: আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলোতে সে সকল অশ্লীল পত্র-পত্রিকাগুলির চাহিদা অনেক বেশি, যেগুলিকে অশ্লীলতা আর নোংরামীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সমাহার বলা যেতে পারে। যা কোনো যুগেই এরূপ খোলাখুলিভাবে সর্বসাধরণের সামনে আসার সুযোগ পায় নি। এ সকল পত্র-পত্রিকার বিষয়গুলি যুবক-যুবতীরা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে আলোচনা করে। তারপর বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য তারা অগ্রসর হয় এবং যুবক-যুবতীরা মিলে Petting Parties এর জন্য বের হয়। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে মদপান, ধুমপান, নাচ-গান ও আনন্দ-আহলাদে মত্ত থাকে।

ডা. লিন্ডসের ধারণা মতে হাইস্কুলের কমপক্ষে ৪৫% মেয়ে হাইস্কুল ছাড়ার পূর্বেই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী শিক্ষাস্তরগুলোতে এ হার আরও অনেক বেশি হয়। তিনি লিখেন, হাই স্কুলের ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় যৌন উত্তেজনার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। সাধারণত মেয়েরাই বিভিন্ন কলাকৌশলে অগ্রসর হয় আর ছেলেরা তাদের ইশারায় নাচে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 তিনটি মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারক জিনিস

📄 তিনটি মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারক জিনিস


স্কুল কলেজগুলোতে যদি কিছুটা হলেও নিয়ম-কানুন থাকে, যা স্বাধীন ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু একটি যুবক যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে অপ্রতিরোধ্য উত্তেজনা, বিকৃত মন-মেজাজ ও কু-অভ্যাস নিয়ে উন্মুক্ত জীবনে পদার্পণ করে, তখন তার কার্যকলাপ সফল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। তখন তার যৌবনের অগ্নিকে প্রজ্জ্বলিত করার জন্য অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত থাকে এবং তার উন্মুক্ত পাশবিকতাকে শান্ত করার জন্য সকল প্রকারের উপকরণ জুটিয়ে নেওয়া ইচ্ছার ব্যাপার মাত্র।

একটি আমেরিকান বইতে চরিত্রহীনতা অসাধারণভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণসমূহ তুলে ধরে লিখা হয়েছে, তিনটি শয়তানী শক্তির ত্রিমুখী আক্রমণ আমাদের সমাজকে অধঃপতনের গহবরে পৌছে দিয়েছে এবং এ তিনটি শক্তি একটি জাহান্নাম তৈরির কাজে লিপ্ত রয়েছে। (১) অশ্লীল পত্র-পত্রিকার অধিক প্রকাশনা। (২) অশ্লীল চলচ্চিত্র, যা শুধু অবৈধ প্রেমের আকর্ষণকেই বাড়ায় না বরং তার বাস্তব জ্ঞানও দান করে। (৩) নারীদের অধঃপতিত চারিত্রিক অবস্থা, যা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, উলঙ্গপনা, ধুমপান এবং পুরুষদের সঙ্গে অনভিপ্রেত মেলামেশার দ্বারা প্রকাশ পায়। এ তিনটি জিনিস আমাদের সমাজে মারাত্মক হারে বেড়ে চলেছে। যার কুফলে আজ 'মসীহী সভ্যতা' ও সংস্কৃতি বিদায় হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যদি এগুলোকে প্রতিরোধ না করা হয়, তবে আমাদের ইতিহাসও রোম এবং অন্যান্য জাতির মতো হয়ে যাবে, যাদেরকে প্রবৃত্তি পুঁজা, পাশবিকতা, মদ্যপান, নারীভোগ এবং নাচ গানের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এ তিনটি কারণ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজের সকল স্তরে পৌছে গেছে। যার শরীরে বিন্দুমাত্র রক্ত আছে, এরূপ প্রতিটি নারী-পুরুষের মাঝে সার্বক্ষণিক যৌন অস্থিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছে। আর অশ্লীলতার সয়লাবে অস্থিরতাই অনিবার্য ফল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অশ্লীলতার সয়লাব

📄 অশ্লীলতার সয়লাব


আমেরিকায় যে সমস্ত মহিলারা দেহব্যবসাকে তাদের মূল পেশা বানিয়ে নিয়েছে, তাদের সংখ্যাও আনুমানিক চার থেকে পাঁচ লক্ষ হবে। কিন্তু তাই বলে আমেরিকার দেহব্যবসাকে হিন্দুস্তানের দেহব্যবসার উপর অনুমান করা যাবে না। কারণ, আমেরিকানদের ব্যবসা বংশানুক্রমিক ব্যবসা নয় বরং একজন মহিলা যে হয়তো গতকাল পর্যন্তও ভালো পেশায় জড়িত ছিল, তারপর খারাপ সংশ্রবের ফলে চরিত্রহীনা হয়ে পড়েছে এবং পতিতালয়ে এসে ঢুকেছে। কয়েক বৎসর পতিতালয়ে কাটাবে, তারপর এ কাজ ছেড়ে কোনো অফিস অথবা কারখানায় কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হয়ে যাবে। বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, আমেরিকার ৫০ শতাংশ বেশ্যা গৃহ পরিচারিকার (Domestic servant) কাজ ছেড়ে বেশ্যাবৃত্তিতে যোগ দেয় এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ হাসপাতাল, অফিস এবং দোকানের চাকরি ছেড়ে আসে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বৎসর বয়সে তাদের এ ঘৃণ্য পেশা শুরু হয় এবং ২৫ থেকে ৩০ বৎসর বয়সে উপনীত হওয়ার পর দেহব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো সম্ভ্রান্ত পেশায় যোগ দেয়। এ থেকেই অনুমান করা যায়, আমেরিকায় চার পাঁচ লক্ষ বেশ্যার উপস্থিতির কারণ কি?

পূর্বেও বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে দেহব্যবসায় একটি সুসংহত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমেরিকায় নিউইয়র্ক এবং বুয়েন্স আয়ারস এ ব্যবসার সর্ববৃহৎ কেন্দ্র। নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় দুটি দেহব্যবসা কেন্দ্রের প্রত্যেকটির এক একটি করে পরিচালনা পরিষদ আছে, যার সভাপতি ও সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়। প্রত্যেকের আলাদাভাবে আইনবিদ নিযুক্ত করা আছে। যেন কোনো মামলায় ফেঁসে গেলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

যুবতীদের লোভ দেখিয়ে এবং তাদেরকে অপহরণ করে আনার জন্য হাজারো দালাল নিযুক্ত রয়েছে, যারা প্রতিটি স্থানে এদের তালাশে ঘুরতে থাকে। এ শিকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ক্ষমতার অনুমান এ রিপোর্ট থেকেও করা যেতে পারে যে, শিকাগোতে আগমনকারী অভিবেশন সমিতির সভাপতি একবার ১৫ মাসের একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। তাতে উল্লেখ ছিল ১৫ মাস সময়ের ভিতর লীগের অফিসে ৭,২০০ মেয়ের চিঠি এসে পৌছেছে। চিঠিগুলোতে লেখা ছিল, তারা শিকাগোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১,৭০০ মেয়েই তার গন্তব্যস্থলে গিয়ে পৌছতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদের কোনো সন্ধান মিলে নি, তারা কোথায় গিয়েছে।

পতিতালয় ছাড়াও অভিসার কক্ষ Assignation Houses ও Call Houses রয়েছে। (যেগুলিকে শুধু ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের যুবক-যুবতীদের অভিসার পূরণের জন্যেই সুসজ্জিত রাখা হয়।) এগুলোর খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এক শহরে এরূপ ৭৮ টি বাড়ি আছে এবং আরেকটি শহরে ৪৩টি, অন্য এক শহরে ৩৩টি বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িগুলোতে শুধু অবিবাহিতা নারীরাই যেত না বরং বিবাহিতা নারীরাও যাতায়াত করত। একজন প্রসিদ্ধ রিপোর্টার লিখেন,

নিউইয়র্কের বিবাহিত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের অবস্থা এরূপ, যারা তার চরিত্র ও শারীরিক দিক থেকে পারিবারিক জীবনের দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে বিশ্বস্ত নয় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা এর থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়।

আমেরিকায় Committee of Fourteen নামে চরিত্র সংশোধনকারী একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপের পক্ষ থেকে চরিত্রহীনতার মূল কারণ অনুসন্ধান, দেশের চারিত্রিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেওয়া ও চরিত্র সংশোধনের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ খুবই দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে করা হয়ে থাকে। তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকায় যত নৃত্য প্রতিষ্ঠান, নাইট ক্লাব, রূপচর্চা প্রতিষ্ঠান (Beanuty Salloons); ম্যাসেজ রুম (Massage Rooms) এবং কেশ পরিচর্যার দোকান (Hair Dressings) রয়েছে, সবগুলোই এখন পতিতালয়ের মতো হয়ে গেছে বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ, ওই সব স্থানে অবর্ণনীয় অনেক ঘৃণ্য কাজও হয়ে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঘৃণ্য রোগ-ব্যাধি

📄 ঘৃণ্য রোগ-ব্যাধি


অধিক পরিমাণ অশ্লীলতার অপরিহার্য ফলাফল হল ঘৃণ্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া। অনুমান করা হয় যে, আমেরিকার প্রায় ৯০ শতাংশ বসতিই ঘৃণ্য রোগসমূহে প্রভাবিত। এনসাইক্লোপেডিয়া বিট্রানিকা (৩৩/৪৫পৃঃ) থেকে জানা যায়, সেখানকার সরকারী হাসপাতালসমূহে প্রতি বছর দুই লক্ষ মেহ-প্রমেহ রোগীর এবং এক লক্ষ ষাট হাজার গণোরিয়া, সিফিলিস রোগীর চিকিৎসা করা হয় এবং ৬৫ টি হাসপাতালে শুধু এ রোগগুলিরই চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির চেয়ে প্রাইভেট ডাক্তারদের নিকট এসব রোগীরা বেশি ভিড় জমায়। তাদের নিকট ৬১ শতাংশই আসে মেহ-প্রমেহ রোগী এবং ৮৯ শতাংশ গণোরিয়া বা সিফিলিস রোগী।

বছরে প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার শিশু বংশানুক্রমিক মেহ প্রমেহ রোগে মারা যায়। ক্ষয়জুর ব্যতীত অন্যান্য রোগের কারণে যে পরিমাণ মৃত্যু ঘটে, তন্মধ্যে বেশির ভাগ মৃত্যুর কারণই মেহ-প্রমেহ। সিফিলিস স্পেশালিস্টদের ধারণা মতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ যুবকই এ রোগে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে বিবাহিত-অবিবাহিত সকলেই শামিল। স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা মতে নারীদের যে পরিমাণ যৌনাঙ্গ অপারেশন হয়, তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগীর মধ্যেই গণোরিয়া, সিফিলিসের চিহ্ন পাওয়া যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00