📄 ইউরোপে ব্যভিচারের ধ্বংসাত্মক পরিণাম
ইসলামের দুশমন ইউরোপ এখন অস্থির, পেরেশান ও উম্মাদ হয়ে গেছে। তাদের জীবনে আজ এ কি হল? কিভাবে হল? আর তারপরই বা কি হবে? ইত্যাদি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। নিম্নে তাদের বড় বড় ব্যক্তিবর্গের কিছু মন্তব্য উদ্ধৃত করা হল。
**আমেরিকা**
জজ বেন লিন্ডসে (Ben lindsey) যিনি ডেনভার (Denver) এর আদালতে শিশু অপরাধের (Juveline Court) এর প্রধান বিচপরপতি হওয়ার সুবাদে উঠতি বয়সের যুবকদের চারিত্রিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। তিনি স্বরচিত (Revolt of Modern Youth) এ লিখেন, আমেরিকায় শিশুরা নির্ধারিত বয়সের পূর্বেই সাবালক (প্রাপ্ত বয়স্ক) হয়ে যায় এবং খুব অল্প বয়সেই তাদের ভিতর যৌন অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে যায়। তিনি পরীক্ষা হিসেবে ৩১২ জন মেয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারলেন যে, তাদের ২৫৫ জন মেয়েই ১১ থেকে ১৩ বৎসর বয়সেই পরিণত বয়সে পদার্পণ করেছে এবং তাদের ভিতর শারীরিক চাহিদার এরূপ নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা একজন ১৮ বছর বয়স্ক বা তদূর্ধ্ব বয়সের রমণীর ভিতর থাকা উচিত।
ডা. এডিশ হুকার (Edith Hooker) স্বরচিত Law of Sex এ (৩২৮ পৃষ্ঠায়) লিখেন, "সভ্য ধনী পরিবারেও এটা কোনো অসাধারণ ব্যাপার নয় যে, ৭/৮ বৎসরের মেয়েরা তাদের সমবয়সীদের সাথে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক রাখবে এবং কখনো কখনো তাদের সঙ্গে দৈহিক মিলনেও লিপ্ত হবে।” তিনি আরও লিখেন, খুবই ভদ্র পরিবারের ৭ বৎসরের একটি ছোট মেয়ে তার বড় ভাই ও কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। দ্রুপ আরেকটি ঘটনায় পাঁচটি বাচ্চার একটি দল, যাদের দুজন ছিল মেয়ে ও তিনজন ছিল ছেলে এবং তাদের আবাসগৃহও ছিল খুব কাছাকাছি। তারা এরূপ যৌনাচারে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের সমবয়সী অন্যান্য বাচ্চাদেরকেও যৌনাচারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করত। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাচ্চাটির বয়স ছিল মাত্র দশ বৎসর। এরূপ আরেকটি ঘটনা ৯ বৎসরের একটি মেয়ের জীবনে ঘটে, যাকে সাবধানতার সাথে লালন-পালন করা হত। সে মেয়েটি গর্ব করে বলত, কয়েকজন ছেলে বন্ধু তার প্রেমের ভিখারী।
হল্টিমোর (Haltimor) এর একজন ডাক্তার রিপোর্ট দিয়েছেন, এক বছরে এক হাজারেরও বেশি এরূপ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোতে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগ রয়েছে। (ল' অফ সেক্স: ১৭৭)
এটিই হল কামোদ্দীপক পরিবেশের সর্বপ্রথম কুফল। আমেরিকার একজন সাহিত্যিক লিখেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই চরম স্বভাব চরিত্রহীন জীবনযাপন করছে। ফলে ছেলে-মেয়েরা ১০/১৫ বৎসর বয়সেই প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর পরিণতি খুবই মারাত্মক। এরূপ অসময়ে যৌনাচারের ফলে অনেক মারাত্মক কুফল দেখা দেয় এবং দিচ্ছে। তার সর্বনিম্ন কুফল হল, উঠতি বয়সের মেয়েরা তাদের ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে উধাও হয়ে যায় অথবা অল্প বয়সেই বিয়ে-শাদী করে ফেলে। আর যদি প্রেম-ভালবাসায় ব্যর্থ হয়, তা হলে আত্মহত্যা করে বসে।
**শিক্ষা জীবন**
এমনিভাবে যে সকল বাচ্চাদের মধ্যে অসময়েই উত্তেজনা জাগ্রত হয়, তাদের জন্য প্রথম অনুশীলনকেন্দ্র হল স্কুলসমূহ। স্কুল দু'ধরনের। এক ধরনের স্কুলে শুধু ছেলে অথবা শুধু মেয়েরা পড়ে। দ্বিতীয় প্রকার স্কুলগুলোতে রয়েছে সহ-শিক্ষার ব্যবস্থা। প্রথম প্রকার স্কুলে সমকামিতা (Homosexuality) এবং স্বমেহন (Masturbation) এর মতো মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। কেননা যে উত্তেজনাকে শৈশবেই প্রজ্জ্বলিত করে দেওয়া হয়েছে এবং উত্তেজিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে, সেখানে ওই উত্তেজনা প্রশমিত করার যে কোনো উপায় সে খুঁজে নেবেই।
ডাক্তার হোকর লিখেন, এ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কলেজে ও নার্স ট্রেনিং স্কুলে এরূপ ঘটনা ঘটতেই থাকে। সেগুলির মধ্যে একই লিঙ্গের দুজনকে যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখা যায়। ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তাদের আকর্ষণ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি এরূপ অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং এর ফলে মেয়েরা ভয়াবহ পরিণামের শিকার হয়েছে। আরও বিভিন্ন বই পড়লে অনুমান করা যায় যে, এ সমকামিতায় দুরারোগ্য ব্যাধি সমাজে কি পরিমাণ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডা. লোরী (Dr. Lowry) তার রচিত "herself" বইয়ে (১৭৯) লিখেন, একবার এক স্কুলের হেডমাস্টার ৪০ টি পরিবারকে গোপনে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ছেলেদেরকে এখন স্কুলে রাখা যাবে না। কারণ, তাদের চরিত্রহীনতার পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ।
এখন দ্বিতীয় প্রকারের স্কুলসমূহের আলোচনার আসুন, বেগুলিতে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের স্কুলগুলোতে যেমনি উত্তেজনা সৃষ্টির উপকরণ রয়েছে, আবার তা প্রশমিত করার উপকরণও বিদ্যমান আছে। শৈশবে যে উত্তেজনার সূচনা ছিল, এখানে পৌঁছে তা পূর্ণতা পেয়েছে। এসব স্কুল-কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে থাকে কুরুচিপূর্ণ পত্র-পত্রিকা, উপন্যাস, অশ্লীল ছবির বই, যৌন বিজ্ঞানের বিভিন্ন অশ্লীল বই এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এগুলি যৌবনের প্রারম্ভেই স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রসিদ্ধ আমেরিকান লেখক হ্যান্ড্রিচ ভনলুন (Handrich Von Loain) বলেন: আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলোতে সে সকল অশ্লীল পত্র-পত্রিকাগুলির চাহিদা অনেক বেশি, যেগুলিকে অশ্লীলতা আর নোংরামীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সমাহার বলা যেতে পারে। যা কোনো যুগেই এরূপ খোলাখুলিভাবে সর্বসাধরণের সামনে আসার সুযোগ পায় নি। এ সকল পত্র-পত্রিকার বিষয়গুলি যুবক-যুবতীরা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে আলোচনা করে। তারপর বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য তারা অগ্রসর হয় এবং যুবক-যুবতীরা মিলে Petting Parties এর জন্য বের হয়। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে মদপান, ধুমপান, নাচ-গান ও আনন্দ-আহলাদে মত্ত থাকে।
ডা. লিন্ডসের ধারণা মতে হাইস্কুলের কমপক্ষে ৪৫% মেয়ে হাইস্কুল ছাড়ার পূর্বেই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী শিক্ষাস্তরগুলোতে এ হার আরও অনেক বেশি হয়। তিনি লিখেন, হাই স্কুলের ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় যৌন উত্তেজনার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। সাধারণত মেয়েরাই বিভিন্ন কলাকৌশলে অগ্রসর হয় আর ছেলেরা তাদের ইশারায় নাচে।
**তিনটি মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারক জিনিস**
স্কুল কলেজগুলোতে যদি কিছুটা হলেও নিয়ম-কানুন থাকে, যা স্বাধীন ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু একটি যুবক যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে অপ্রতিরোধ্য উত্তেজনা, বিকৃত মন-মেজাজ ও কু-অভ্যাস নিয়ে উন্মুক্ত জীবনে পদার্পণ করে, তখন তার কার্যকলাপ সফল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। তখন তার যৌবনের অগ্নিকে প্রজ্জ্বলিত করার জন্য অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত থাকে এবং তার উন্মুক্ত পাশবিকতাকে শান্ত করার জন্য সকল প্রকারের উপকরণ জুটিয়ে নেওয়া ইচ্ছার ব্যাপার মাত্র।
একটি আমেরিকান বইতে চরিত্রহীনতা অসাধারণভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণসমূহ তুলে ধরে লিখা হয়েছে, তিনটি শয়তানী শক্তির ত্রিমুখী আক্রমণ আমাদের সমাজকে অধঃপতনের গহবরে পৌছে দিয়েছে এবং এ তিনটি শক্তি একটি জাহান্নাম তৈরির কাজে লিপ্ত রয়েছে। (১) অশ্লীল পত্র-পত্রিকার অধিক প্রকাশনা। (২) অশ্লীল চলচ্চিত্র, যা শুধু অবৈধ প্রেমের আকর্ষণকেই বাড়ায় না বরং তার বাস্তব জ্ঞানও দান করে। (৩) নারীদের অধঃপতিত চারিত্রিক অবস্থা, যা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, উলঙ্গপনা, ধুমপান এবং পুরুষদের সঙ্গে অনভিপ্রেত মেলামেশার দ্বারা প্রকাশ পায়। এ তিনটি জিনিস আমাদের সমাজে মারাত্মক হারে বেড়ে চলেছে। যার কুফলে আজ 'মসীহী সভ্যতা' ও সংস্কৃতি বিদায় হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যদি এগুলোকে প্রতিরোধ না করা হয়, তবে আমাদের ইতিহাসও রোম এবং অন্যান্য জাতির মতো হয়ে যাবে, যাদেরকে প্রবৃত্তি পুঁজা, পাশবিকতা, মদ্যপান, নারীভোগ এবং নাচ গানের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
এ তিনটি কারণ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজের সকল স্তরে পৌছে গেছে। যার শরীরে বিন্দুমাত্র রক্ত আছে, এরূপ প্রতিটি নারী-পুরুষের মাঝে সার্বক্ষণিক যৌন অস্থিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছে। আর অশ্লীলতার সয়লাবে অস্থিরতাই অনিবার্য ফল।
**অশ্লীলতার সয়লাব**
আমেরিকায় যে সমস্ত মহিলারা দেহব্যবসাকে তাদের মূল পেশা বানিয়ে নিয়েছে, তাদের সংখ্যাও আনুমানিক চার থেকে পাঁচ লক্ষ হবে। কিন্তু তাই বলে আমেরিকার দেহব্যবসাকে হিন্দুস্তানের দেহব্যবসার উপর অনুমান করা যাবে না। কারণ, আমেরিকানদের ব্যবসা বংশানুক্রমিক ব্যবসা নয় বরং একজন মহিলা যে হয়তো গতকাল পর্যন্তও ভালো পেশায় জড়িত ছিল, তারপর খারাপ সংশ্রবের ফলে চরিত্রহীনা হয়ে পড়েছে এবং পতিতালয়ে এসে ঢুকেছে। কয়েক বৎসর পতিতালয়ে কাটাবে, তারপর এ কাজ ছেড়ে কোনো অফিস অথবা কারখানায় কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হয়ে যাবে। বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, আমেরিকার ৫০ শতাংশ বেশ্যা গৃহ পরিচারিকার (Domestic servant) কাজ ছেড়ে বেশ্যাবৃত্তিতে যোগ দেয় এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ হাসপাতাল, অফিস এবং দোকানের চাকরি ছেড়ে আসে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বৎসর বয়সে তাদের এ ঘৃণ্য পেশা শুরু হয় এবং ২৫ থেকে ৩০ বৎসর বয়সে উপনীত হওয়ার পর দেহব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো সম্ভ্রান্ত পেশায় যোগ দেয়। এ থেকেই অনুমান করা যায়, আমেরিকায় চার পাঁচ লক্ষ বেশ্যার উপস্থিতির কারণ কি?
পূর্বেও বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে দেহব্যবসায় একটি সুসংহত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমেরিকায় নিউইয়র্ক এবং বুয়েন্স আয়ারস এ ব্যবসার সর্ববৃহৎ কেন্দ্র। নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় দুটি দেহব্যবসা কেন্দ্রের প্রত্যেকটির এক একটি করে পরিচালনা পরিষদ আছে, যার সভাপতি ও সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়। প্রত্যেকের আলাদাভাবে আইনবিদ নিযুক্ত করা আছে। যেন কোনো মামলায় ফেঁসে গেলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
যুবতীদের লোভ দেখিয়ে এবং তাদেরকে অপহরণ করে আনার জন্য হাজারো দালাল নিযুক্ত রয়েছে, যারা প্রতিটি স্থানে এদের তালাশে ঘুরতে থাকে। এ শিকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ক্ষমতার অনুমান এ রিপোর্ট থেকেও করা যেতে পারে যে, শিকাগোতে আগমনকারী অভিবেশন সমিতির সভাপতি একবার ১৫ মাসের একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। তাতে উল্লেখ ছিল ১৫ মাস সময়ের ভিতর লীগের অফিসে ৭,২০০ মেয়ের চিঠি এসে পৌছেছে। চিঠিগুলোতে লেখা ছিল, তারা শিকাগোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১,৭০০ মেয়েই তার গন্তব্যস্থলে গিয়ে পৌছতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদের কোনো সন্ধান মিলে নি, তারা কোথায় গিয়েছে।
পতিতালয় ছাড়াও অভিসার কক্ষ Assignation Houses ও Call Houses রয়েছে। (যেগুলিকে শুধু ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের যুবক-যুবতীদের অভিসার পূরণের জন্যেই সুসজ্জিত রাখা হয়।) এগুলোর খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এক শহরে এরূপ ৭৮ টি বাড়ি আছে এবং আরেকটি শহরে ৪৩টি, অন্য এক শহরে ৩৩টি বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িগুলোতে শুধু অবিবাহিতা নারীরাই যেত না বরং বিবাহিতা নারীরাও যাতায়াত করত। একজন প্রসিদ্ধ রিপোর্টার লিখেন,
নিউইয়র্কের বিবাহিত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের অবস্থা এরূপ, যারা তার চরিত্র ও শারীরিক দিক থেকে পারিবারিক জীবনের দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে বিশ্বস্ত নয় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা এর থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়।
আমেরিকায় Committee of Fourteen নামে চরিত্র সংশোধনকারী একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপের পক্ষ থেকে চরিত্রহীনতার মূল কারণ অনুসন্ধান, দেশের চারিত্রিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেওয়া ও চরিত্র সংশোধনের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ খুবই দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে করা হয়ে থাকে। তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকায় যত নৃত্য প্রতিষ্ঠান, নাইট ক্লাব, রূপচর্চা প্রতিষ্ঠান (Beanuty Salloons); ম্যাসেজ রুম (Massage Rooms) এবং কেশ পরিচর্যার দোকান (Hair Dressings) রয়েছে, সবগুলোই এখন পতিতালয়ের মতো হয়ে গেছে বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ, ওই সব স্থানে অবর্ণনীয় অনেক ঘৃণ্য কাজও হয়ে থাকে।
**ঘৃণ্য রোগ-ব্যাধি**
অধিক পরিমাণ অশ্লীলতার অপরিহার্য ফলাফল হল ঘৃণ্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া। অনুমান করা হয় যে, আমেরিকার প্রায় ৯০ শতাংশ বসতিই ঘৃণ্য রোগসমূহে প্রভাবিত। এনসাইক্লোপেডিয়া বিট্রানিকা (৩৩/৪৫পৃঃ) থেকে জানা যায়, সেখানকার সরকারী হাসপাতালসমূহে প্রতি বছর দুই লক্ষ মেহ-প্রমেহ রোগীর এবং এক লক্ষ ষাট হাজার গণোরিয়া, সিফিলিস রোগীর চিকিৎসা করা হয় এবং ৬৫ টি হাসপাতালে শুধু এ রোগগুলিরই চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির চেয়ে প্রাইভেট ডাক্তারদের নিকট এসব রোগীরা বেশি ভিড় জমায়। তাদের নিকট ৬১ শতাংশই আসে মেহ-প্রমেহ রোগী এবং ৮৯ শতাংশ গণোরিয়া বা সিফিলিস রোগী।
বছরে প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার শিশু বংশানুক্রমিক মেহ প্রমেহ রোগে মারা যায়। ক্ষয়জুর ব্যতীত অন্যান্য রোগের কারণে যে পরিমাণ মৃত্যু ঘটে, তন্মধ্যে বেশির ভাগ মৃত্যুর কারণই মেহ-প্রমেহ। সিফিলিস স্পেশালিস্টদের ধারণা মতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ যুবকই এ রোগে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে বিবাহিত-অবিবাহিত সকলেই শামিল। স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা মতে নারীদের যে পরিমাণ যৌনাঙ্গ অপারেশন হয়, তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগীর মধ্যেই গণোরিয়া, সিফিলিসের চিহ্ন পাওয়া যায়।
**তালাক ও বিচ্ছেদ**
এরূপ পরিস্থিতিতে পারিবারিক শৃঙ্খলা ও বৈবাহিক জীবনের পবিত্র সম্পর্ক কিভাবে টিকে থাকতে পারে? স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জনকারী সে সকল নারীরা বিবাহকে নিষ্প্রয়োজন মনে করে। তারা নিজেদের মানবীয় চাহিদা ছাড়া জীবনের কোনো স্তরেই পুরুষদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না এবং বিবাহ-শাদী ছাড়া সহজেই পুরুষ পাওয়া যায়। আধুনিক বিজ্ঞান এবং জড়-জগতের পূজার তাদের অন্তর থেকে এ অনুভূতিও দূর করে দিয়েছে যে, বিবাহ-শাদী ব্যতীত কোনো পুরুষের সহিত দৈহিক সম্পর্ক রাখা একটি জঘন্য অপরাধ। এ ঘৃণ্য পরিবেশের কারণে আজকের নিষ্প্রাণ সমাজ এরূপ মহিলাকে ঘৃণা বা তিরস্কারের পাত্র বলেও মনে করে না।
জজ লিওসে আমেরিকার সাধারণ মেয়েদের ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে লিখেন: "আমি বিবাহ কেন করব? গত দুই বছরে আমার সাথীদের মধ্যে যারা বিয়ে করেছে, তাদের প্রতি দশ জনের মধ্যে পাঁচ জনেরই বিয়ের পর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। আমি মনে করি, এ যুগের প্রতিটি মেয়ের ভালবাসার ক্ষেত্রে মুক্তভাবে যে কোনো কাজ করার মানবিক অধিকার রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমাদের অনেক কৌশল জানা আছে। সুতরাং এর দ্বারা আকস্মিক কোনো হারামী বাচ্চা জন্ম নেওয়ার ভয় থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। “পাল্টে দেওয়া দরকার।” এ ধ্যান-ধারণার নির্লজ্জ নারীদেরকে বিয়ের ব্যাপারে কোনো জিনিস যদি উদ্বুদ্ধ করে, তবে তা হল ভালবাসার তাগিদ। কিন্তু এ ভালবাসাও হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করে না বরং এটি একটি সাময়িক আকর্ষণ হয় মাত্র। তার জৈবিক চাহিদা মিটে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসার লেশ মাত্র বাকি থাকে না। মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণার সামান্যতম অমিল তাদের মাঝে ঘৃণা ও দূরত্বের সৃষ্টি করে দেয়। অবশেষে কোর্টে গিয়ে তালাক অথবা বিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয়ে যায়।
লিওসে লিখেন, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ডেনভারের প্রতিটি বিয়ের সঙ্গে একটি করে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতি দুটি বিয়ের একটিতে তালাকের মামলা দায়ের হয়েছে। এ পরিস্থিতি শুধু ডেনভারেই নয় বরং আমেরিকার সবগুলো শহরের অবস্থা প্রায় এরকমই। তারপর তিনি লিখেন, তালাক এবং বিচ্ছেদের ঘটনা বেড়েই চলেছে। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে, যেমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে, তাহলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই যতগুলি বিয়ের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, ততগুলি তালাকের মামলা দায়ের হবে।
অধিক হারে তালাক এবং বিচ্ছেদ প্রতিরোধের চিকিৎসা হিসেবে (Compassinate Marriage) পরীক্ষামূলক বিয়ের প্রথা চালু করা হয়েছে। কিন্তু এ চিকিৎসা মূল রোগের চেয়েও মারাত্মক এবং ঘৃণ্য। পরীক্ষামূলক বিবাহের অর্থ হল, নারী-পুরুষ পুরাতন সিস্টেমে বিয়ে না করে কিছু দিন পরস্পর ঘর বেঁধে থাকবে। যদি এ ঘর বাঁধায় পরস্পরের মনের মিল হয়ে যায়, তা হলে বিবাহ করবে। অন্যথায় দুজন আলাদা হয়ে আবার ভাগ্য পরীক্ষায় নেমে পড়বে। এ পরীক্ষামূলক বিয়ে অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে উভয়কেই বেঁচে থাকতে হবে। অন্যথায় সন্তানের জন্ম হয়ে গেলে অবশ্যই তাদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। বস্তুত এ পদ্ধতি এবং রাশিয়ার Free Love বা মুক্ত ভালবাসা একই জিনিস।
**জাতীয় আত্মহত্যা**
প্রবৃত্তি পূজা, বৈবাহিক জীবনের দায়িত্বসমূহের প্রতি ঘৃণা, পারিবারিক জীবনের প্রতি অনাগ্রহ, বৈবাহিক জীবনে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা নারীদের খোদাপ্রদত্ত মাতৃত্বের আবেগকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। যা নারীসূলভ আবেগের মাঝে সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রূহানী আবেগ, যার অস্তিত্বের উপর শুধু সভ্যতা-সংস্কৃতিই নয় বরং মানবজাতির অস্তিত্বও নির্ভর করে। জনা নিরোধ, গর্ভপাত, সন্তান হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের জন্ম হয়েছে মা হওয়ার আবেগের মৃত্যু থেকেই। জন্ম নিরোধ জ্ঞান সকল প্রকার আইনের গণ্ডির ভিতর থাকা সত্ত্বেও আমেরিকায় প্রতিটি যুবক-যুবতী তা সংগ্রহ করতে পারে। জন্মনিরোধক ঔষধপত্রাদি স্বাধীনভাবে দোকানে ক্রয়-বিক্রয় হয়। সাধারণ মহিলাদের কথা বাদই দিলাম। স্কুল-কলেজের মেয়েরাও এসব ব্যবস্থা সর্বদা নিজেদের সাথে রাখে। যেন কোনো ছেলে বন্ধু জন্ম নিরোধক আনতে ভুলে গেলেও একটি সুন্দর সন্ধ্যা বিনষ্ট না হয়ে যায়। জজ লিওসে লিখেন,
হাই স্কুলের ৪৯৫ জন অল্প বয়সী তরুণী আমার কাছে এসে স্বীকার করেছে, তারা ছেলেদের সঙ্গে মিলনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। তাদের মধ্যে মাত্র ১২৫ জন এর গর্ভসঞ্চার হয়ে গিয়ে ছিল। অবশিষ্টদের মধ্যে কেউ কেউ ঘটনাচক্রে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু অধিকাংশেরই জন্মনিরোধের কার্যকরী পন্থার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। এ জ্ঞান তাদের জন্য এত সাধারণ হয়ে গিয়েছে যে, মানুষ তার অনুমানও করতে পারে না।
কুমারী মেয়েরা এ সকল পদ্ধতি এজন্য ব্যবহার করে, যাতে তাদের স্বাধীনতায় কোনো প্রভাব না পড়ে। বিবাহিতা মেয়েরা এজন্য নিরোধ ব্যবহার করে, যেন সন্তান হলে তার লালন-পালন, লেখাপড়া শিখানোর ঝামেলা এবং স্বামীকে তালাক দেওয়ার স্বাধীনতায় বাঁধা এসে পড়ে। নারীদের মাতৃত্বের প্রতি অনীহার কারণ হল, বৈবাহিক জীবনের পূর্ণ স্বাদ অনুভব করতে হলে এ সকল ঝুট-ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়া তাদের মতে বাচ্চা হলে সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে যাবে।
মোটকথা, কারণ যাই হোক ৯৫ শতাংশ নারী-পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের ফলাফলকে প্রতিরোধ করে থাকে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশের যদিও ঘটনাচক্রে গর্ভসঞ্চার হয়, তাদের জন্যও রয়েছে গর্ভপাত এবং শিশু হত্যার পদ্ধতি। তাছাড়া হাজারো সন্তানকে জন্মের সাথে সাথেই হত্যা করে ফেলা হয়। (পৃঃ ২২০)
**ইংল্যাণ্ডের অবস্থা**
আমি এ দুঃখজনক অবস্থার বর্ণনাকে আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না। ইতিহাস A History of Prostitution বইয়ের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ না করে শেষ করাটা ভাল মনে করি না। উক্ত বইয়ের লেখক একজন ইংরেজ। তিনি তাঁর দেশেরই অবস্থা তুলে ধরে লিখেছেন:
যে সকল মহিলাদের জীবন ধারণের একমাত্র উপায় হল দেহ-ব্যবসা করে পয়সা উপার্জন করা, তারা ছাড়াও এমন মহিলাদেরও বিরাট একটি সংখ্যা আছে (যাদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে), যারা অন্য উপায়েও পয়সা উপার্জন করতে পারে কিন্তু তবুও উপার্জনের অতিরিক্ত পন্থা হিসেবে দেহ বিক্রি করে বেড়ায়। এরা পেশাদার বেশ্যাদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আমরা এদেরকে হয়তো পেশাদার বেশ্যা বলব না, তবে অপেশাদার বেশ্যা (Ametear Prostanutes) অবশ্যই বলা যেতে পারে।
বর্তমানে এরূপ অপেশাদার দেহ ব্যবসায়ীদের সংখ্যা যেরূপ বাড়ছে, এরূপ কখনো দেখা যায় নি। সমাজের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে এরূপ বহু নারী দেখা যায়। যদি এ সকল ভদ্র মহিলাদেরকে কোথাও ইশারা ইঙ্গিতেও বেশ্যা বা দেহপসারিণী বলা যায়, তখন ক্রোধে তাদের শরীর থেকে আগুন ঠিকরে পড়ে। কিন্তু তাদের এ ক্রোধের কারণে বাস্তবতা পরিবর্তিত হতে পারে না।
বাস্তবে এদের মধ্যে আর পতিতালয়ের বেশ্যার মধ্যে চারিত্রিক দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে যুবতী নারীদের নির্ভীক চালচলন, বল্গাহীন বেহায়াপনা এবং বাজারী চাল-চলন তাদের ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে। সিগারেট পান করা, পঁচা মদ সেবন, যৌন বিজ্ঞান ও জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নিজ জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, অশ্লীল পত্র-পত্রিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা ইত্যাদি সব কিছু তাদের বিনোদন বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরূপ মেয়েদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরা বিয়ের পূর্বেই দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। আর এরূপ মেয়ে আজ কোথাও নাই বললেই চলে, যারা গীর্জার সম্মুখে বিয়ের অঙ্গীকার পূর্ণ করার সময় বাস্তবিকই কুমারী থাকে।"
তারপর এ লেখক সে সকল কারণ বিশ্লেষণ করেন, যেসব কারণে বর্তমান সমাজ এ করুণ পরিস্থিতির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্লেষণটি উক্ত লেখকের ভাষায়ই উল্লেখ করা ভালো মনে করি।
প্রথমে তাদের সৌখিনতা ও আরাম আয়েশের কথা ধরুন। এর ফলে প্রতিটি মেয়ের মধ্যে ফ্যাশনের মূল্যমান, পোশাকাদি এবং রূপচর্চার নানা ধরনের সামগ্রীর প্রতি লোভ সীমাহীনভাবে বেড়ে যায়। এটি হল লাগামহীন বেহায়াপনার একটি বিরাট কারণ। প্রতিটি দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই দেখেন, তার সামনে দিয়ে প্রতিদিন শত শত মেয়ে যাতায়াত করে। যাদের প্রায়ই এরূপ মূল্যবান কাপড় পরিধান করে, যা তাদের বৈধ আয়-উপার্জনে কখনো যোগানো সম্ভব নয়।
সুতরাং আজও এরূপ বলা যায়, যেরূপ অর্ধশত বছর পূর্বে বলা যেত অর্থাৎ তাদের জন্য কাপড় ক্রয় করে পুরুষরাই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, পূর্বে যে সকল পুরুষগণ তাদের জন্য কাপড় ক্রয় করতেন, তারা ছিলেন তাদের স্বামী, পিতা অথবা ভাই। আর বর্তমানে তাদের স্থলে অন্যরা ক্রয় করে দেয়। এ নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পিছনে নারী স্বাধীনতারও বিরাট একটি প্রভাব রয়েছে। গত কয়েক বছরে মেয়েদের প্রতি মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া দারুণ কমে গেছে। বিগত ৩০/৪০ বছর পূর্বে ছেলেদেরও এত স্বাধীনতা ছিল না।
সমাজে বেহায়াপনা এরূপ বিস্তৃতি লাভ করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, নারীরা দিন দিন প্রচুর পরিমাণে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে, অফিসে কল-কারখানাসহ বিভিন্ন পেশায় নির্বিঘ্নে যোগ দিচ্ছে। যেখানে দিবারাত্র তারা পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা ও উঠাবসার সুযোগ পায়। এ নারী পুরুষের চারিত্রিক অবকাঠামোকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে এবং উভয় শ্রেণীর পাশবিক সম্পর্ককে সকল চারিত্রিক বন্ধন থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। বর্তমানে যুবতীদের বিয়ে করে পবিত্র জীবন যাপনের ধারণাও মাথায় আসে না। আগে বখাটেরা মুক্তভাবে ফুর্তি করে সময় কাটানোর সুযোগ সন্ধানে থাকত আর আজ সমাজের প্রতিটি নারীই এ সুযোগ খুঁজে বেড়ায়।
বর্তমানে কুমারীত্বকে একটি অতি প্রাচীন জিনিস মনে করা হয়। আধুনিক যুগের মেয়েরা একে একটি বিপদ মনে করে। তাদের মতে প্রাণ খুলে আনন্দ-ফুর্তি ও প্রবৃত্তি পুঁজা করতে পারলেই জীবন-যৌবন সার্থক হয়। এরই অনুসন্ধানে তারা নাচের আসরে, নাইট ক্লাবে, আড্ডাখানায় এবং আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। এজন্যই তারা সম্পূর্ণ অপরিচিত পুরুষের সাথে মোটর ভ্রমণে বের হতেও দ্বিধা করে না। অন্য কথায় তারা জেনেশুনেই নিজেকে স্বেচ্ছায় এমন পরিবেশে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের জৈবিক চাহিদা আরও উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তারপর এর ভয়াবহ অনিষ্টের জন্য তারা মোটেও ভীত নয় বরং সাদরে বরণ করে নেয়। (মুসলমান আওরত আওর এছমাত)
📄 আমেরিকা
জজ বেন লিন্ডসে (Ben lindsey) যিনি ডেনভার (Denver) এর আদালতে শিশু অপরাধের (Juveline Court) এর প্রধান বিচপরপতি হওয়ার সুবাদে উঠতি বয়সের যুবকদের চারিত্রিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। তিনি স্বরচিত (Revolt of Modern Youth) এ লিখেন, আমেরিকায় শিশুরা নির্ধারিত বয়সের পূর্বেই সাবালক (প্রাপ্ত বয়স্ক) হয়ে যায় এবং খুব অল্প বয়সেই তাদের ভিতর যৌন অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে যায়। তিনি পরীক্ষা হিসেবে ৩১২ জন মেয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারলেন যে, তাদের ২৫৫ জন মেয়েই ১১ থেকে ১৩ বৎসর বয়সেই পরিণত বয়সে পদার্পণ করেছে এবং তাদের ভিতর শারীরিক চাহিদার এরূপ নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা একজন ১৮ বছর বয়স্ক বা তদূর্ধ্ব বয়সের রমণীর ভিতর থাকা উচিত।
ডা. এডিশ হুকার (Edith Hooker) স্বরচিত Law of Sex এ (৩২৮ পৃষ্ঠায়) লিখেন, "সভ্য ধনী পরিবারেও এটা কোনো অসাধারণ ব্যাপার নয় যে, ৭/৮ বৎসরের মেয়েরা তাদের সমবয়সীদের সাথে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক রাখবে এবং কখনো কখনো তাদের সঙ্গে দৈহিক মিলনেও লিপ্ত হবে।” তিনি আরও লিখেন, খুবই ভদ্র পরিবারের ৭ বৎসরের একটি ছোট মেয়ে তার বড় ভাই ও কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। দ্রুপ আরেকটি ঘটনায় পাঁচটি বাচ্চার একটি দল, যাদের দুজন ছিল মেয়ে ও তিনজন ছিল ছেলে এবং তাদের আবাসগৃহও ছিল খুব কাছাকাছি। তারা এরূপ যৌনাচারে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের সমবয়সী অন্যান্য বাচ্চাদেরকেও যৌনাচারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করত। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাচ্চাটির বয়স ছিল মাত্র দশ বৎসর। এরূপ আরেকটি ঘটনা ৯ বৎসরের একটি মেয়ের জীবনে ঘটে, যাকে সাবধানতার সাথে লালন-পালন করা হত। সে মেয়েটি গর্ব করে বলত, কয়েকজন ছেলে বন্ধু তার প্রেমের ভিখারী।
হল্টিমোর (Haltimor) এর একজন ডাক্তার রিপোর্ট দিয়েছেন, এক বছরে এক হাজারেরও বেশি এরূপ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোতে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগ রয়েছে। (ল' অফ সেক্স: ১৭৭)
📄 শিক্ষা জীবন
এমনিভাবে যে সকল বাচ্চাদের মধ্যে অসময়েই উত্তেজনা জাগ্রত হয়, তাদের জন্য প্রথম অনুশীলনকেন্দ্র হল স্কুলসমূহ। স্কুল দু'ধরনের। এক ধরনের স্কুলে শুধু ছেলে অথবা শুধু মেয়েরা পড়ে। দ্বিতীয় প্রকার স্কুলগুলোতে রয়েছে সহ-শিক্ষার ব্যবস্থা। প্রথম প্রকার স্কুলে সমকামিতা (Homosexuality) এবং স্বমেহন (Masturbation) এর মতো মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। কেননা যে উত্তেজনাকে শৈশবেই প্রজ্জ্বলিত করে দেওয়া হয়েছে এবং উত্তেজিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে, সেখানে ওই উত্তেজনা প্রশমিত করার যে কোনো উপায় সে খুঁজে নেবেই।
ডাক্তার হোকর লিখেন, এ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কলেজে ও নার্স ট্রেনিং স্কুলে এরূপ ঘটনা ঘটতেই থাকে। সেগুলির মধ্যে একই লিঙ্গের দুজনকে যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখা যায়। ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তাদের আকর্ষণ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি এরূপ অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং এর ফলে মেয়েরা ভয়াবহ পরিণামের শিকার হয়েছে। আরও বিভিন্ন বই পড়লে অনুমান করা যায় যে, এ সমকামিতায় দুরারোগ্য ব্যাধি সমাজে কি পরিমাণ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডা. লোরী (Dr. Lowry) তার রচিত "herself" বইয়ে (১৭৯) লিখেন, একবার এক স্কুলের হেডমাস্টার ৪০ টি পরিবারকে গোপনে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ছেলেদেরকে এখন স্কুলে রাখা যাবে না। কারণ, তাদের চরিত্রহীনতার পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ।
এখন দ্বিতীয় প্রকারের স্কুলসমূহের আলোচনার আসুন, বেগুলিতে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের স্কুলগুলোতে যেমনি উত্তেজনা সৃষ্টির উপকরণ রয়েছে, আবার তা প্রশমিত করার উপকরণও বিদ্যমান আছে। শৈশবে যে উত্তেজনার সূচনা ছিল, এখানে পৌঁছে তা পূর্ণতা পেয়েছে। এসব স্কুল-কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে থাকে কুরুচিপূর্ণ পত্র-পত্রিকা, উপন্যাস, অশ্লীল ছবির বই, যৌন বিজ্ঞানের বিভিন্ন অশ্লীল বই এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এগুলি যৌবনের প্রারম্ভেই স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রসিদ্ধ আমেরিকান লেখক হ্যান্ড্রিচ ভনলুন (Handrich Von Loain) বলেন: আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলোতে সে সকল অশ্লীল পত্র-পত্রিকাগুলির চাহিদা অনেক বেশি, যেগুলিকে অশ্লীলতা আর নোংরামীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সমাহার বলা যেতে পারে। যা কোনো যুগেই এরূপ খোলাখুলিভাবে সর্বসাধরণের সামনে আসার সুযোগ পায় নি। এ সকল পত্র-পত্রিকার বিষয়গুলি যুবক-যুবতীরা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে আলোচনা করে। তারপর বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য তারা অগ্রসর হয় এবং যুবক-যুবতীরা মিলে Petting Parties এর জন্য বের হয়। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে মদপান, ধুমপান, নাচ-গান ও আনন্দ-আহলাদে মত্ত থাকে।
ডা. লিন্ডসের ধারণা মতে হাইস্কুলের কমপক্ষে ৪৫% মেয়ে হাইস্কুল ছাড়ার পূর্বেই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী শিক্ষাস্তরগুলোতে এ হার আরও অনেক বেশি হয়। তিনি লিখেন, হাই স্কুলের ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় যৌন উত্তেজনার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। সাধারণত মেয়েরাই বিভিন্ন কলাকৌশলে অগ্রসর হয় আর ছেলেরা তাদের ইশারায় নাচে।
📄 তিনটি মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারক জিনিস
স্কুল কলেজগুলোতে যদি কিছুটা হলেও নিয়ম-কানুন থাকে, যা স্বাধীন ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু একটি যুবক যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে অপ্রতিরোধ্য উত্তেজনা, বিকৃত মন-মেজাজ ও কু-অভ্যাস নিয়ে উন্মুক্ত জীবনে পদার্পণ করে, তখন তার কার্যকলাপ সফল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। তখন তার যৌবনের অগ্নিকে প্রজ্জ্বলিত করার জন্য অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত থাকে এবং তার উন্মুক্ত পাশবিকতাকে শান্ত করার জন্য সকল প্রকারের উপকরণ জুটিয়ে নেওয়া ইচ্ছার ব্যাপার মাত্র।
একটি আমেরিকান বইতে চরিত্রহীনতা অসাধারণভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণসমূহ তুলে ধরে লিখা হয়েছে, তিনটি শয়তানী শক্তির ত্রিমুখী আক্রমণ আমাদের সমাজকে অধঃপতনের গহবরে পৌছে দিয়েছে এবং এ তিনটি শক্তি একটি জাহান্নাম তৈরির কাজে লিপ্ত রয়েছে। (১) অশ্লীল পত্র-পত্রিকার অধিক প্রকাশনা। (২) অশ্লীল চলচ্চিত্র, যা শুধু অবৈধ প্রেমের আকর্ষণকেই বাড়ায় না বরং তার বাস্তব জ্ঞানও দান করে। (৩) নারীদের অধঃপতিত চারিত্রিক অবস্থা, যা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, উলঙ্গপনা, ধুমপান এবং পুরুষদের সঙ্গে অনভিপ্রেত মেলামেশার দ্বারা প্রকাশ পায়। এ তিনটি জিনিস আমাদের সমাজে মারাত্মক হারে বেড়ে চলেছে। যার কুফলে আজ 'মসীহী সভ্যতা' ও সংস্কৃতি বিদায় হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যদি এগুলোকে প্রতিরোধ না করা হয়, তবে আমাদের ইতিহাসও রোম এবং অন্যান্য জাতির মতো হয়ে যাবে, যাদেরকে প্রবৃত্তি পুঁজা, পাশবিকতা, মদ্যপান, নারীভোগ এবং নাচ গানের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
এ তিনটি কারণ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজের সকল স্তরে পৌছে গেছে। যার শরীরে বিন্দুমাত্র রক্ত আছে, এরূপ প্রতিটি নারী-পুরুষের মাঝে সার্বক্ষণিক যৌন অস্থিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছে। আর অশ্লীলতার সয়লাবে অস্থিরতাই অনিবার্য ফল।