📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের গবেষণা

📄 পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের গবেষণা


পশ্চিমা ধর্মগুরু মনে করেন, মানুষের শরীর থেকে বিভিন্ন রংয়ের কিরণ বিচ্ছুরিত হয়। যা শরীরের আশপাশে একটি পরিমণ্ডল সৃষ্টি করে। এ কিরণ প্রতিটি মানুষই বিচ্ছুরণ করে। চাই সে ভালো লোক হোক অথবা খারাপ লোকই হোক। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, কিরণের রং কর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের হয়। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে এ বিচ্ছুরণ নীল বর্ণ থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে।

আরেকটি মতবাদ আছে, প্রতিটি মানুষ তার চারপাশে নিজের আমল অনুযায়ী একটি পরিবেশ (Atmosphere) তৈরি করে নেয়। বদআমলকারীর পরিবেশ দেয়ালের মতো শক্ত হয়। যার ফলে কোনো ফরিয়াদ অথবা দু'আ বাইরে যেতে পারে না এবং কসমিক ওয়ার্ল্ডের উত্তম প্রভাব ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। এরূপ লোকেরা অদৃশ্য শক্তির সাহায্য থেকে মাহরুম থাকে। আর মনে হয় কুরআনুল কারীমের শব্দ পর্দা, দেয়াল এবং 'গেলাফ' দ্বারা উদ্দেশ্য এ পরিবেশই।

ডাক্তার ক্রিংটন মনে করেন, Aura is an invisitble magnatic radiation from the human body which either attracts or ripels.

অর্থাৎ 'ওরা' এমন একটি অদৃশ্য ম্যাগনেটিক আলো, যা মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হয়। এটা হয়তো অন্যকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে অথবা দূরে ঠেলে দেয়।

এ জাতীয় রশ্মিকে অস্বীকার করা যায় না। কারণ, কাউকে আকর্ষণ করা আর কারও কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া আমাদের দৈনন্দিনের অভিজ্ঞতা। এ আলোক রশ্মি মাটির শরীর এবং সূক্ষ্ম শরীর উভয় থেকেই বের হয়। ভালো লোকেরা সূক্ষ্ম শরীরের কিরণ দ্বারা দুনিয়াকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে এবং দুনিয়া সুধারণা, ঈমান এবং শৃঙ্খলার হাদিয়া নিয়ে তার নিকট আগমন করে। অপরদিকে খারাপ লোকের রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধঃপতনের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। এর বেশি কিছু নয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দু‘আ ও ইবাদতের দর্শন

📄 দু‘আ ও ইবাদতের দর্শন


দু'আ ও ইবাদতের হাকীকত বুঝতে হলে প্রথমে দুটি জিনিসের ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন।

(১) আত্মা বিশেষজ্ঞগণের মতে প্রতিটি অক্ষরের একটি বিশেষ রং এবং শক্তি থাকে। অদৃশ্য দর্শনকারীগণ (Clairvoyants) অক্ষরগুলি লিখে তৃতীয় চক্ষু দ্বারা দেখেছেন, তখন তারা 'আলিফ' এর রং লাল 'বা' এর রং নীল, 'ওয়াও' এর রং সবুজ এবং সীন এর রং হলুদ দেখতে পেয়েছেন। এরপর যখন এগুলির প্রভাব সম্পর্কে জরিপ করলেন, তখন দেখলেন, কোন্ শব্দ পড়লে রোগ ভালো হয়। কোনটি দ্বারা বৃশ্চিকদংশনের ব্যথা দূর হয় এবং কোন্টি দিয়ে সাপও ধরে আনা যায়। আম্বিয়া-আওলিয়াদের রূহানী শক্তি খুব বেশি হয়। তাদের শব্দসমূহে আশ্চর্যজনক শক্তি পাওয়া যায় এবং এরূপ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি পাওয়া যায়, যার দ্বারা একজন হৃদয়বান ব্যক্তি মারাত্মক ব্যাধিও দূর করে দিতে পারে। আকাশে আল্লাহ তা'আলার পর সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হযরত জিব্রাইল আ.। আর তাঁরই মাধ্যমে কালামে এলাহী দুনিয়াতে আগমন করে। একারণেই অহী প্রেরিত কিতাবসমূহের প্রতিটি শব্দে শক্তির একটি ভাণ্ডার নিহিত থাকে। অন্য কথায় এলহামী শব্দসমূহ সর্বোচ্চ শক্তির আধার বা Highly Energised।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 তাবীজের শক্তির রহস্য

📄 তাবীজের শক্তির রহস্য


A talisman or an amult strongly Charged with magnatism for a particular purpose by some one who possesses strong magnetic power may be of invaluable help.

অর্থাৎ কোন তাবীজ বা টোটকায় কোনো ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগনেট ব্যক্তিত্ব কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ম্যাগনেট শক্তি ভরে দিলে, তা যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এ জাতীয় আরও দুটি ঘটনা

📄 এ জাতীয় আরও দুটি ঘটনা


(১) এক মজলিসে কয়েক বন্ধু আলোচনারত ছিল। আর আমি কিছুটা দূরে বসে তাদের সূক্ষ্ম শরীর অবলোকন করছিলাম। কোনো এককথায় একজন খুব অট্টহাসি দিল। পরপরই আরেকজন একটি উপমা দিল। সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম, তার সূক্ষ্ম শরীরে গাঢ় ধোঁয়াটে রঙ্গের একটি জাল জড়িয়ে গেল। এটা দেখে আমার খুবই খারাপ লাগছিল。

(২) পাদ্রী রেডবেটার এক ব্যক্তির সুস্থ শরীরে অগণিত ফোঁড়া এবং ফুস্কুড়ি দেখতে পেলেন। সেগুলি থেকে পুঁজের ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছিল। পাদ্রী তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসলেন এবং তাকে যাবুরের কয়েকটি আয়াত পড়তে দিলেন এবং প্রায় দু'মাস পর তার শরীরে ফুস্কুরি ও ফোঁড়া একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেল।..

ঐশী শব্দসমূহ এবং আল্লাহ তা'আলার নামসমূহে রয়েছে অপূর্ব শক্তি, নিয়মিত এগুলির যিকির করলে আমাদের সকল পেরেশানী ও রোগ-ব্যাধি দূর হয়ে যায়। এ হিসেবে মুসলমানদের ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হয়। কারণ, তাদের নিকট রয়েছে আল্লাহ তা'আলার নিরান্নব্বইটি সিফাতী বা গুণবাচক নাম। যেমন: রাহীম (দয়ালু), কারীম (সম্মানী), গাকুর (ক্ষমাকারী), খাবীর (সর্বজ্ঞ) ইত্যাদি। সকল নাম ধরে প্রয়োজন মাফিক তাকে ডাকা যায়। কিন্তু এ বিরাট সুযোগটি অন্যান্য ধর্মে নেই। খ্রিস্টানদের নিকট রয়েছে শুধু "গড" শব্দ। আর হিন্দুদের রয়েছে "ওম" আথবা "রাম"।

শব্দের এ শক্তি মূলত অক্ষরের ভিতর সুপ্ত থাকে। কিন্তু শব্দটির অনুবাদ করে তা জপ করা হলে সে গুণটি আর অবশিষ্ট থাকে না। তার প্রভাবও বিনষ্ট হয়ে যায়। "ইয়া রাহমানু" এর ভিতর যে শক্তি রয়েছে, "হে দয়াময়” এর ভিতরে তা নেই। কেননা শক্তির যে সকল ভাণ্ডার ইলাহী শব্দাবলি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণনাকৃত দু'আসমূহে রয়েছে, তা আমাদের শব্দসমূহে থাকতে পারে না।

প্রতিটি শব্দই একটি ইউনিট বা এটম। যা মানুষের আত্মিক আবেগের বিদ্যুৎ দ্বারা তরঙ্গায়িত হয় এবং তার প্রভাব নিখিল জগৎ ও পরজগৎ উত্তর স্থানেই প্রতিফলিত হয়। তার একটি সামান্য উদাহরণ হল 'গালি'। গালি কোন তরবারি বা তোপ-কামানের নাম নয় বরং কয়েকটি অক্ষর বা শব্দের সমষ্টি মাত্র, কিন্তু তা মুখ থেকে বের হতেই সম্বোধিত ব্যক্তির গায়ে আগুন ধরে যায়। এ অগ্নি কোত্থেকে আসে? শব্দের এ সমষ্টি হতেই।

এর আরেকটি উদাহরণ হল, কোনো দুঃখী ব্যক্তির মুখের চিৎকার, পুরো পরিবেশকে অস্থির করে তোলে। একটি জ্বালাময়ী ভাষণ, যা কোনো জেনারেল তার নিষ্প্রাণ সৈন্যদের সম্মুখে প্রদান করেন, তা প্রতিটি সিপাহীর ভিতর তুমুল যুদ্ধের দাবনল প্রজ্জ্বলিত করে দেয়। মুত্যুর বিভৎসতা যাকে নিভাতে পারে না।

বাইবেলে রয়েছে,
By the word of the lord were the heavens made.
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা একটি শব্দ দ্বারাই আকাশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাইবেলে সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, “প্রথমে আল্লাহ তা'আলা জমিন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন। তখন জমিন ছিল বিরাণভূমি। আর সমুদ্র ছিল-অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আল্লাহ তা'আলার তত্ত ছিল পানিতে ভাসমান তারপর- God said let "there be light", and there was light.
আল্লাহ তা'আলা বললেন, আলোকিত হয়ে যাও। তারপর সঙ্গে সঙ্গে তা আলোকিত হয়ে গেল। (পয়দা ১:৩)
মোটকথা, এটাই ছিল আল্লাহ তা'আলার সেই শব্দ, যার দ্বারা কোটি কোটি চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্রের সৃষ্টি হয়েছে এবং পৃথিবীর প্রতিটি স্থান আলোতে ঝলমল করে উঠেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00