📄 গবেষণার ফসল
লাহোরের ইসলামি কলেজের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রফেসর নাসরুল্লাহ খান বলেন- এক ইংরেজ ডাক্তার যখন এ হাদীসটি পড়ল যে, মুসলমানদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মুসলমান হাঁচি দিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ' পড়বে আর যে মুসলমান তার আশ-পাশে থাকবে, সে জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে। এরপর হাঁচিদাতা বলবে- 'ইয়াহদীকুমুল্লাহ'। তখন সে ভাবল, এ সামান্য কাজে এতগুলি দু'আ পড়ার কারণ কি? তারপর সে গবেষণা করল এবং জানতে পারল, এতগুলি দু'আ পড়া অযথা নয় বরং আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায়। কেননা গবেষণা দ্বারা জানা গেছে, মস্তিষ্কের রগসমূহে বায়ু আটকে যায় এবং কুদরত এ হাওয়া বের করার জন্য একটি প্রেসারের ব্যবস্থা করেছে এবং এভাবে হাঁচি প্রেসারের মাধ্যমে সে বায়ু নাসিকা পথে বেরিয়ে যায়। যদি মস্তিষ্কে এ বাতাস আটকে থাকে, তবে প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য হাঁচি দেওয়ার পর 'আলহামদুলিল্লাহ' পড়া মানে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। সারাদিনের ব্যস্ততায় মানুষ বিভিন্ন ধরনের কাজ-কর্ম করে। অনেকে পেশাগত কারণে, তাদেরকে ধূলোবালিতে কাজ করতে হয়। এভাবে এ ধুলোবালি, নাকের ভিতর প্রবেশ করে। কুদরত নাকের পশমগুলোকে ওই বালিকণা এবং তাতে বিদ্যমান জীবাণু প্রতিরোধ করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। হাঁচি দিলে জমে থাকা ধূলোবালি এবং জীবাণুগুলো (Germ) বের হয়ে যায়। আর হাঁচির হাওয়া এত প্রেসারপূর্ণ হয় যে, সেখানে কোনো জীবাণু আটকে থাকার সুযোগ পায় না। যদি এই জীবাণুগুলো ও ধূলোবালি ভিতরে প্রবেশ করে, তা হলে অগণিত রোগের কারণ হয়ে যেতে পারে। এরূপ বহু রোগ রয়েছে, সেগুলো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং পরে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আল্লাহ তা'আলা এ সকল রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিষেধক হিসেবে হাঁচির ব্যবস্থা করেছেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাঁচিকে পছন্দ করেছেন।