📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমেরিকার কয়েকটি ঘটনা

📄 আমেরিকার কয়েকটি ঘটনা


(১) আজ থেকে তিন মাস পূর্বে এক শহরের একটি বরযাত্রী দল সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বাজার অতিক্রম করেছে।

(২) ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লাবে মেয়েরা কোমর পর্যন্ত ছয় ইঞ্চির একটি কাপড় পরিধান করে। কিন্তু উপরের অংশ একবারে খোলা থাকে। এরূপ মেয়ে পাকিস্তানেও রয়েছে, যারা নাচের সময় শরীরের উপরি অংশের কাপড় খুলে ফেলে। আর এসব নর্তকী নামী-দামী ঘরেরই আদুরে মেয়ে।

(৩) এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের একটি দোকানে প্রবেশ করল। সেখানে ১৮ বছরের একটি মেয়ে বিক্রেতার দায়িত্ব পালন করছিল। সে ব্যক্তি মেয়েটিকে ধরে তার কাপড় খুলে ফেলল এবং তার ইজ্জত লুটতে লাগল। মেয়েটি চিৎকার দিতে লাগল; কিন্তু কেউ ভ্রূক্ষেপও করল না। মেয়েটি কোনো কৌশল অবলম্বন করে তার হাত থেকে ছুটে বাজারের উপর দিয়েই দৌড়ে পালাল। এ লোকটিও পিছু পিছু দৌড়াতে লাগল। কিছু দূর গিয়ে মেয়েটিকে ধরে ফেলল। প্রথমে তাকে প্রহার করল। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে দোকানের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। সেখানে তামাশা দেখার জন্য অনেকেই ভিড় জমাল। কিন্তু কেউ মেয়েটির সাহায্য করল না। তারপর সেখানে পুলিশ আসল এবং মেয়েটিকে দানবের হাত থেকে উদ্ধার করল।

এ ঘটনার কিছু দিন পর এ জাতীয় এক নরপশু একটি মেয়ের ফ্লাটে গিয়ে প্রবেশ করল। প্রথমে তার সঙ্গে অপকর্ম করল। তারপর তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে ফেলল। পড়শিরা সকলে এ তামাশা দেখতে থাকল। কিন্তু কেউ তার উদ্ধারে এগিয়ে আসল না। (পাকিস্তান টাইমস)

(৪) নিউইয়র্কের উচ্চ আদালত ২৯ বছর বয়স্ক ওয়ানষ্টন মোসলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। কারণ, সে উঠতি বয়সের যুবতীদের সঙ্গে অপকর্ম করে তাদের হত্যা করত। একবার সে একটি মেয়েকে উলঙ্গ করল এবং তার শরীরের কাপড় দিয়ে বল তৈরি করে তার গায়ে জড়াল এবং তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। এ নরপশু সফল দান দিয়ে হত্যা করত। গ্রেফতারের এক সন্ধ্যা পূর্বে সে নিয়ম মাফিক তার সাদা কার নিয়ে ঘর থেকে বেরুল। রাস্তায় সে একটি কারে একটি মেয়েকে একা যেতে দেখল। মেয়েটি যখন বাড়ির পাশে এসে গাড়ি থামাল, তখন মোসলেও তার গাড়ি থেকে নেমে আসল। মেয়েটি তার মনোভাব বুঝতে পেরে দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ল। মোসলেও তার পিছু পিছু ঘরে ঢুকে পড়ল। মেয়েটি ছিল একা। সে চিৎকার দিতে লাগল। তবু নরপশু সামনে অগ্রসর হয়ে মেয়েটিকে আক্রমণ করল এবং ছোরা দিয়ে চালনি করে দিল। তাকে সেখানে ফেলেই কারে করে ফিরে আসল এবং নতুন শিকারের উদ্দেশ্যে রাস্তায় চক্কর দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসল। মেয়েটি তখনো ছটফট করছিল। তাকে আরও কয়েকবার ছুরিকাঘাত করল। মেয়েটি যখন ঠাণ্ডা হয়ে গেল, তখন সে তার অপকর্ম সেরে ঘরে ফিরে গেল। ছোরা ধুয়ে আলমারীতে রাখল এবং কাপড় পাল্টে শুয়ে পড়ল। দ্বিতীয় দিন আরেকটি ঘরে হামলা চালানোর সময় সে গ্রেফতার হয়ে গেল। পুলিশের নিকট জবানবন্দীতে সে এসব তথ্য বর্ণনা করেছে। (সাপ্তাহিক তা'মীর)

(৫) ফ্রান্সের পুলিশ একবার এক হাসপাতালের একজন নওজোয়ান কর্মচারীকে পাকড়াও করল। সে হাসপাতালের ডিউটির অবসরে কার চুরি করত এবং শিশুদেরকে হত্যা করত। নয় নম্বর শিশু হত্যার সময় সে ধরা পড়ল।

(৬) বর্তমানে আত্মহত্যা আমেরিকায় একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ ছয় মাসে আমেরিকার প্রসিদ্ধ শহর লস এঞ্জেলসে পঁচাত্তর হাজার নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। (পাকিস্তান টাইমস)

(৭) ৯ই মে ৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্যাসিফিক এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে করে আরও ৪৪ জন যাত্রীর সঙ্গে সফর করছিল। সে নিজ জীবনের প্রতি তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ পিস্তল বের করে সে পাইলটকে ছয়টি গুলি করল। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সকল যাত্রীই প্রাণ হারাল। পরে জানা গেল, সে সফরের পূর্বে পঞ্চাশ হাজার ডলারে একটি বীমা তার স্ত্রীর নামে করিয়ে রেখেছে। (পাকিস্তান টাইমস ১০ই মে ১৯৬৪ইং)

(১) আজ থেকে তিন মাস পূর্বে এক শহরের একটি বরযাত্রী দল সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বাজার অতিক্রম করেছে।

(২) ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লাবে মেয়েরা কোমর পর্যন্ত ছয় ইঞ্চির একটি কাপড় পরিধান করে। কিন্তু উপরের অংশ একবারে খোলা থাকে। এরূপ মেয়ে পাকিস্তানেও রয়েছে, যারা নাচের সময় শরীরের উপরি অংশের কাপড় খুলে ফেলে। আর এসব নর্তকী নামী-দামী ঘরেরই আদুরে মেয়ে।

(৩) এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের একটি দোকানে প্রবেশ করল। সেখানে ১৮ বছরের একটি মেয়ে বিক্রেতার দায়িত্ব পালন করছিল। সে ব্যক্তি মেয়েটিকে ধরে তার কাপড় খুলে ফেলল এবং তার ইজ্জত লুটতে লাগল। মেয়েটি চিৎকার দিতে লাগল; কিন্তু কেউ ভ্রূক্ষেপও করল না। মেয়েটি কোনো কৌশল অবলম্বন করে তার হাত থেকে ছুটে বাজারের উপর দিয়েই দৌড়ে পালাল। এ লোকটিও পিছু পিছু দৌড়াতে লাগল। কিছু দূর গিয়ে মেয়েটিকে ধরে ফেলল। প্রথমে তাকে প্রহার করল। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে দোকানের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। সেখানে তামাশা দেখার জন্য অনেকেই ভিড় জমাল। কিন্তু কেউ মেয়েটির সাহায্য করল না। তারপর সেখানে পুলিশ আসল এবং মেয়েটিকে দানবের হাত থেকে উদ্ধার করল।

এ ঘটনার কিছু দিন পর এ জাতীয় এক নরপশু একটি মেয়ের ফ্লাটে গিয়ে প্রবেশ করল। প্রথমে তার সঙ্গে অপকর্ম করল। তারপর তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে ফেলল। পড়শিরা সকলে এ তামাশা দেখতে থাকল। কিন্তু কেউ তার উদ্ধারে এগিয়ে আসল না। (পাকিস্তান টাইমস)

(৪) নিউইয়র্কের উচ্চ আদালত ২৯ বছর বয়স্ক ওয়ানষ্টন মোসলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। কারণ, সে উঠতি বয়সের যুবতীদের সঙ্গে অপকর্ম করে তাদের হত্যা করত। একবার সে একটি মেয়েকে উলঙ্গ করল এবং তার শরীরের কাপড় দিয়ে বল তৈরি করে তার গায়ে জড়াল এবং তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। এ নরপশু সফল দান দিয়ে হত্যা করত। গ্রেফতারের এক সন্ধ্যা পূর্বে সে নিয়ম মাফিক তার সাদা কার নিয়ে ঘর থেকে বেরুল। রাস্তায় সে একটি কারে একটি মেয়েকে একা যেতে দেখল। মেয়েটি যখন বাড়ির পাশে এসে গাড়ি থামাল, তখন মোসলেও তার গাড়ি থেকে নেমে আসল। মেয়েটি তার মনোভাব বুঝতে পেরে দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ল। মোসলেও তার পিছু পিছু ঘরে ঢুকে পড়ল। মেয়েটি ছিল একা। সে চিৎকার দিতে লাগল। তবু নরপশু সামনে অগ্রসর হয়ে মেয়েটিকে আক্রমণ করল এবং ছোরা দিয়ে চালনি করে দিল। তাকে সেখানে ফেলেই কারে করে ফিরে আসল এবং নতুন শিকারের উদ্দেশ্যে রাস্তায় চক্কর দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসল। মেয়েটি তখনো ছটফট করছিল। তাকে আরও কয়েকবার ছুরিকাঘাত করল। মেয়েটি যখন ঠাণ্ডা হয়ে গেল, তখন সে তার অপকর্ম সেরে ঘরে ফিরে গেল। ছোরা ধুয়ে আলমারীতে রাখল এবং কাপড় পাল্টে শুয়ে পড়ল। দ্বিতীয় দিন আরেকটি ঘরে হামলা চালানোর সময় সে গ্রেফতার হয়ে গেল। পুলিশের নিকট জবানবন্দীতে সে এসব তথ্য বর্ণনা করেছে। (সাপ্তাহিক তা'মীর)

(৫) ফ্রান্সের পুলিশ একবার এক হাসপাতালের একজন নওজোয়ান কর্মচারীকে পাকড়াও করল। সে হাসপাতালের ডিউটির অবসরে কার চুরি করত এবং শিশুদেরকে হত্যা করত। নয় নম্বর শিশু হত্যার সময় সে ধরা পড়ল।

(৬) বর্তমানে আত্মহত্যা আমেরিকায় একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ ছয় মাসে আমেরিকার প্রসিদ্ধ শহর লস এঞ্জেলসে পঁচাত্তর হাজার নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। (পাকিস্তান টাইমস)

(৭) ৯ই মে ৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্যাসিফিক এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে করে আরও ৪৪ জন যাত্রীর সঙ্গে সফর করছিল। সে নিজ জীবনের প্রতি তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ পিস্তল বের করে সে পাইলটকে ছয়টি গুলি করল। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সকল যাত্রীই প্রাণ হারাল। পরে জানা গেল, সে সফরের পূর্বে পঞ্চাশ হাজার ডলারে একটি বীমা তার স্ত্রীর নামে করিয়ে রেখেছে। (পাকিস্তান টাইমস ১০ই মে ১৯৬৪ইং)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 একই ধ্যান একই মন

📄 একই ধ্যান একই মন


বিশ্বাস এক অর্থাৎ আল্লাহ এক, রাসূল এক, কুরআন এক, কাবা এক এবং জীবন যাপনের নিয়মও এক হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত পুরো ইসলামি বিশ্বের ধ্যান-ধারণা ও মন-মানসিকতা এক। এটা একই মন-মানসিকতার ফলে কোটি কোটি মানুষ অন্ন-বস্ত্রহীন হওয়া সত্ত্বেও রীতি-নীতি, ধর্ম ও নিয়মের ক্ষেত্রে তারা সরল পথের উপরই চলে। যদি কোনো সময় ধর্মের বন্ধন ঢিলে হয়ে যায় আর পাকিস্তানে মাত্র দশ হাজার ডাকাত, চোর, খুনী ও বিদ্রোহীর জন্য হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বেকার হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও শান্তি দূর হয়ে যাবে। সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ধর্ম এমন একটি একক শক্তি যা দর্পকারী, গর্বকারী অহংকারী এবং হস্তীশক্তির অধিকারীকেও দুর্বলদের পায়ে মস্তক অবনত করতে বাধ্য করে এবং সিংহের গর্দানে বকরির গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দিতে পারে। এ জন্যই ক্ষুধার্তরা বাজার লুট করে না। কারণ, এটা গুনাহের কাজ। সবলেরা দুর্বলদেরকে এ জন্যই কষ্ট দেয় না যে, আল্লাহ তা'আলা এটা পছন্দ করেন না। সম্পদশালীরা ইয়াতিম মিসকীনদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই লালন পালন করে। যখন কোনো বিপদ এসে পড়ে, তখন লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। যে সকল লোক নির্লজ্জতা ও অপকর্ম দ্বারা এ পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। বিশেষত যারা জনগণের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের বেতন ভোগ করে জনগণের সম্মুখেই তাদের দীন-ধর্ম ও আকীদা বিশ্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের ইসলামের হৃদয়ে আঘাতের পর আঘাত হানে।

এ বাস্তব সত্যটি সকলেরই জানা আছে যে, উঁচু শ্রেণীর লোকেরা প্রতি সন্ধ্যায় হোটেল এবং ক্লাবে পরনারীর সঙ্গে নাচগান ও মদ পানে লিপ্ত হয়। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নামায ও কুরআন থেকে হাজারো মাইল দূরে সরে যায়। যদি তাদেরকে দেখে আমাদের লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান এবং কোটি কোটি জনসাধারণ ধর্মের সীমানা পেরিয়ে বাইরে চলে যায়, তা হলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?

পবিত্র কুরআনের ফয়সালা মতে এ আরামপ্রিয় শ্রেণী খুবই বিদপজনক। এরাই প্রত্যেকে রাসূলের প্রতিপক্ষে শামিল হয়েছে এবং এদের কারণেই প্রতিটি জাতি ধ্বংসের কোলে ঢলে পড়েছে। "যখন কোনো লোকালয়ে সম্পদশালী শ্রেণী অন্যায় ও অপকর্মে ডুবে যায়, তখন সে আমার গযবকে আহবান করে এবং আমি সে লোকালয়কে ধ্বংস করে দেই।" (সূরা সাবা: ৩৪-৩৫)

"যখন আমি সম্পদশালী শ্রেণীকে পাকড়াও করলাম, তখন তারা চিৎকার দিতে লাগল। এ চিৎকার আজ আমার পাকড়াও থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আমার আহবান তোমাদেরকে শোনানো হয়েছিল। কিন্তু তোমরা অহংকার প্রকাশ করতে, অযথা বকাবকি করতে এবং অপবাদ দিয়ে পিছনে সরে যেতে। (সূরা মুমিনুন: ৬৪-৬৭)

আজ ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষ মাত্র একটি। সেটি হল, ইউরোপ ও তার নগ্ন সংস্কৃতি। ইউরোপের চরম উৎকর্ষের প্রতি দৃষ্টি বুলিয়ে দেখুন। সে কিভাবে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রচার-প্রসারে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামি সালতানাতের নেতৃবর্গ জ্যোতির্ময় এবং মজবুত মূল্যবোধ সৃষ্টি করার কল্পনাকেও ভয় করে। যখন সততা ময়দান থেকে পালিয়ে যায়, তখন বাতিল ছেয়ে যায় এবং মানবতার চিৎকার ধ্বনিত হয়। (ইসলাম আওর আছরে রওয়া)

বিশ্বাস এক অর্থাৎ আল্লাহ এক, রাসূল এক, কুরআন এক, কাবা এক এবং জীবন যাপনের নিয়মও এক হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত পুরো ইসলামি বিশ্বের ধ্যান-ধারণা ও মন-মানসিকতা এক। এটা একই মন-মানসিকতার ফলে কোটি কোটি মানুষ অন্ন-বস্ত্রহীন হওয়া সত্ত্বেও রীতি-নীতি, ধর্ম ও নিয়মের ক্ষেত্রে তারা সরল পথের উপরই চলে। যদি কোনো সময় ধর্মের বন্ধন ঢিলে হয়ে যায় আর পাকিস্তানে মাত্র দশ হাজার ডাকাত, চোর, খুনী ও বিদ্রোহীর জন্য হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বেকার হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও শান্তি দূর হয়ে যাবে। সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ধর্ম এমন একটি একক শক্তি যা দর্পকারী, গর্বকারী অহংকারী এবং হস্তীশক্তির অধিকারীকেও দুর্বলদের পায়ে মস্তক অবনত করতে বাধ্য করে এবং সিংহের গর্দানে বকরির গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দিতে পারে। এ জন্যই ক্ষুধার্তরা বাজার লুট করে না। কারণ, এটা গুনাহের কাজ। সবলেরা দুর্বলদেরকে এ জন্যই কষ্ট দেয় না যে, আল্লাহ তা'আলা এটা পছন্দ করেন না। সম্পদশালীরা ইয়াতিম মিসকীনদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই লালন পালন করে। যখন কোনো বিপদ এসে পড়ে, তখন লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। যে সকল লোক নির্লজ্জতা ও অপকর্ম দ্বারা এ পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। বিশেষত যারা জনগণের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের বেতন ভোগ করে জনগণের সম্মুখেই তাদের দীন-ধর্ম ও আকীদা বিশ্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের ইসলামের হৃদয়ে আঘাতের পর আঘাত হানে।

এ বাস্তব সত্যটি সকলেরই জানা আছে যে, উঁচু শ্রেণীর লোকেরা প্রতি সন্ধ্যায় হোটেল এবং ক্লাবে পরনারীর সঙ্গে নাচগান ও মদ পানে লিপ্ত হয়। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নামায ও কুরআন থেকে হাজারো মাইল দূরে সরে যায়। যদি তাদেরকে দেখে আমাদের লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান এবং কোটি কোটি জনসাধারণ ধর্মের সীমানা পেরিয়ে বাইরে চলে যায়, তা হলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?

পবিত্র কুরআনের ফয়সালা মতে এ আরামপ্রিয় শ্রেণী খুবই বিদপজনক। এরাই প্রত্যেকে রাসূলের প্রতিপক্ষে শামিল হয়েছে এবং এদের কারণেই প্রতিটি জাতি ধ্বংসের কোলে ঢলে পড়েছে। "যখন কোনো লোকালয়ে সম্পদশালী শ্রেণী অন্যায় ও অপকর্মে ডুবে যায়, তখন সে আমার গযবকে আহবান করে এবং আমি সে লোকালয়কে ধ্বংস করে দেই।" (সূরা সাবা: ৩৪-৩৫)

"যখন আমি সম্পদশালী শ্রেণীকে পাকড়াও করলাম, তখন তারা চিৎকার দিতে লাগল। এ চিৎকার আজ আমার পাকড়াও থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আমার আহবান তোমাদেরকে শোনানো হয়েছিল। কিন্তু তোমরা অহংকার প্রকাশ করতে, অযথা বকাবকি করতে এবং অপবাদ দিয়ে পিছনে সরে যেতে। (সূরা মুমিনুন: ৬৪-৬৭)

আজ ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষ মাত্র একটি। সেটি হল, ইউরোপ ও তার নগ্ন সংস্কৃতি। ইউরোপের চরম উৎকর্ষের প্রতি দৃষ্টি বুলিয়ে দেখুন। সে কিভাবে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রচার-প্রসারে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামি সালতানাতের নেতৃবর্গ জ্যোতির্ময় এবং মজবুত মূল্যবোধ সৃষ্টি করার কল্পনাকেও ভয় করে। যখন সততা ময়দান থেকে পালিয়ে যায়, তখন বাতিল ছেয়ে যায় এবং মানবতার চিৎকার ধ্বনিত হয়। (ইসলাম আওর আছরে রওয়া)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মারাজাল বাহরাইনের রহস্য

📄 মারাজাল বাহরাইনের রহস্য


কোস্টো একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী। খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সে সমুদ্রের পানি নিয়ে গবেষণা করছিল, কী কারণে দুই সমুদ্রের পানি মিশে একাকার হয় না। এক সমুদ্রের পানি এক রংয়ের ও এক স্বাদের আর অপর সমুদ্রের পানি আরেক রংয়ের ও আরেক স্বাদের। কিন্তু এক পানি আরেক পানির সঙ্গে মিশে না কেন?
সে সমুদ্রে গিয়ে প্রত্যক্ষ করল। তারপর সে পানি সম্পর্কে গবেষণায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিল এবং কোস্টো-থিওরী নামে একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করল। কিছু দিন পর তার সঙ্গে একজন মুসলমান বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎ হল। তাঁর সম্মুখে কোস্টো যখন তার থিওরী উত্থাপন করল, তখন তিনি কোস্টোকে বললেন, আপনি তো এখন রিসার্চ করছেন। আমি আপনাকে শতশত বছর আগের রিসার্চ দেখাতে পারব। যখন মুসলমান বিজ্ঞানী তাকে কুরআন দেখাল। তখন কোস্টো স্তম্ভিত হয়ে গেল এবং ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হল।

কোস্টো একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী। খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সে সমুদ্রের পানি নিয়ে গবেষণা করছিল, কী কারণে দুই সমুদ্রের পানি মিশে একাকার হয় না। এক সমুদ্রের পানি এক রংয়ের ও এক স্বাদের আর অপর সমুদ্রের পানি আরেক রংয়ের ও আরেক স্বাদের। কিন্তু এক পানি আরেক পানির সঙ্গে মিশে না কেন?
সে সমুদ্রে গিয়ে প্রত্যক্ষ করল। তারপর সে পানি সম্পর্কে গবেষণায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিল এবং কোস্টো-থিওরী নামে একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করল। কিছু দিন পর তার সঙ্গে একজন মুসলমান বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎ হল। তাঁর সম্মুখে কোস্টো যখন তার থিওরী উত্থাপন করল, তখন তিনি কোস্টোকে বললেন, আপনি তো এখন রিসার্চ করছেন। আমি আপনাকে শতশত বছর আগের রিসার্চ দেখাতে পারব। যখন মুসলমান বিজ্ঞানী তাকে কুরআন দেখাল। তখন কোস্টো স্তম্ভিত হয়ে গেল এবং ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কুরআনই সঠিক পথ দেখিয়েছে

📄 কুরআনই সঠিক পথ দেখিয়েছে


(THE VERSE THAT SHOWED CORSLEAU THE RIGHT WAY)

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِينِ بَيْنَهُمَا بَرْزَخْ لا يَبْغِينِ

"দুটি সমুদ্রকে আল্লাহ তা'আলা পাশাপাশি প্রবাহিত করেছেন। তাদের মাঝে একটি অন্তরাল সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।" (সূরা আর-রহমান)

"He has let two Seas that should meet together there is a barrier between them which they do not overpass"

(১) আয়াতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
(২) দুটি সমুদ্রের বিরাট জলরাশি একটি সূক্ষ্ম জলস্রোতে (Strait) মিলিত হওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার।
(৩) দুটি সমুদ্রের মাঝে একটি বিশেষ বাধা থাকায় পরস্পরে পুরোপুরি মিলিত হয় না।

আসুন! এ বিষয়ে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করি। ফ্রান্সের বিজ্ঞানী জ্যাক ভি কোস্টো, যিনি সমুদ্রের ভিতর পানি রিসার্চ বিষয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বুঝতে পারলেন, রোম সাগর Medeterranian এবং আটলান্টিক Atlantic মহাসাগর রাসায়নিক দিক থেকে একটি অন্যটির চেয়ে ভিন্ন রকমের। তিনি এ বাস্তব সত্যটি অনুধাবন করার জন্য জিব্রাল্টরের দুই সমুদ্রের মোহনার কাছাকাছি সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা চালান। সেখান থেকে তথ্য পেলেন যে, জিব্রাল্টরে উত্তর তীর (মরক্কো) এবং দক্ষিণ তীর (স্পেন) থেকে আশাতীতভাবে একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা উথলে উঠে এবং এ বড় ঝর্ণাটি উভয় সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ৪৫ ডিগ্রি সূক্ষ্ম কোণে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়ে চিরুনীর দাঁতের আকৃতি ধারণ করে বাঁধের মতো কাজ করে। ফলে রোম সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর একটি আরেকটির সঙ্গে মিশতে পারে না।

কোস্টোকে এ গবেষণার পরই কুরআনের আয়াত দেখানো হয়েছিল। তিনি তখন খুবই আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং কুরআনের প্রশংসা ও বড়ত্ব প্রকাশ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। এ আশ্চর্যজনক আয়াতটিতে জাবালুত তারেক (জিব্রালটর) এর সীমানা ও বাঁধটিকে সঠিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আসুন, আমরা আয়াতটিকে সূরায়ে আর-রাহমানের সাধারণ আলোচনার নিরিখে পরখ করে দেখি। নিঃসন্দেহে এ সূরার আলোচনায় আল্লাহ তা'আলার অপূর্ব সৃষ্টি এবং তাঁর অপার নেয়ামতের মধ্যে মানুষের জন্য সীমাহীন জ্ঞান-প্রজ্ঞার কথা রয়েছে।

সমুদ্রের এ মোহনায় যে বাঁধা রয়েছে, তার মূল রহস্য কি? সমুদ্রের প্রাণীর সংখ্যা স্থলের প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি। তাতে রয়েছে অসীম শরীরী Organism। আরও রয়েছে অসংখ্য অদ্ভুত ধরনের উদ্ভিদ। মোটকথা, তাতে আল্লাহ তা'আলার কুদরতের এক বিরাট কীর্তি রয়েছে। তা ছাড়া বিভিন্ন প্রকারের প্রাণী বিভিন্ন পরিবেশে বাস করতে অভ্যস্ত। তাই আল্লাহ তা'আলার কুদরত সমুদ্রগুলোকে একটি অপরটির মাঝে একাকার হতে দেয় না। এ বক্তব্যটি আমাদের দৃষ্টিকে ২২ নম্বর আয়াতে নিবদ্ধ করে দেয়। বিশেষভাবে সমুদ্র তৈরির ধাঁচের দিকে এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং মাছের বিভিন্ন প্রকারের দিকে। এ আয়াত উভয় সমুদ্রে মুক্তা এবং সামুদ্রিক মূল্যবান পাথরের উপস্থিতির কথা ঘোষণা করে। সমুদ্রের পানি পরম্পর একাকার না হওয়ার কারণে সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলিকে তাদের কুদরতী পরিবেশে দেখে সীমাহীন আনন্দ অনুভূত হয়।

সমুদ্রে এক বিশেষ ধরনের ফুল রয়েছে, যেগুলো কয়েক প্রকার উদ্ভিদে ঢাকা থাকে। যাদের উপমা স্থলভাগে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ জাতীয় বিভিন্ন রকমের ফুল স্থলে থেকে কল্পনাও করা যায় না। সমুদ্রের তলদেশে লালা (Lepasfaris) ফুল হয়। যেগুলো স্থলভাগের লালা ফুল থেকে অনেক সুন্দর। সমুদ্রের তলদেশে এরূপ অনেক সুন্দর পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ আছে, যেগুলি দেখার মতো। এরা (Radar) রাডারের মতো কৌশল দ্বারা হাজার হাজার মিটার নিচে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে।

Acan Thurus Triostegus নামক একটি মাছ আছে। যার লাল শরীরে ফ্লোরাইডের লাল লাল দাগ থাকে। যাদের থেকে খুবই সুন্দর আলো বের হয় এবং নিজেদের আশপাশের পরিবেশকে উজ্জ্বল করে দেয়। সমুদ্রের অতল গভীরে অন্ধকারে ত্রিশ প্রকারের বিভিন্ন আলোক মাছ পাওয়া গেছে।

এসব জীব আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির বিশেষ নমুনা এবং সমুদ্রগুলো পরস্পর সংমিশ্রণ না হওয়ার গোপন রহস্য প্রকাশ করে। যেমন: আয়াতে কারীমা থেকেও এরূপ বুঝে আসে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারাও প্রকাশ পায় যে, জিব্রাল্টরে সমুদ্রের মিলনস্থলের উভয় পাশের তলদেশে এবং সেখানে বিদ্যমান পাহাড়ের চূড়ায় বিভিন্ন প্রকারের সুন্দর সুন্দর উদ্ভিদ ও কীট-প্রতঙ্গ রয়েছে, যার পরিসংখ্যান এত উন্নত যুগেও সম্ভব হয় নি।

এ জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল উভয় সমুদ্রেই রয়েছে। যেমন: নাগফনী, (একটি ফুলগাছ যার পাতা সাপের ফণার মতো এবং ফুল খুব সুন্দর হয়) থোহর (রং বেরংয়ের ফুল বিশেষ নীলাভ, বেগুনি, লাল ইত্যাদি রংয়ের নানাফুল।) কিন্তু উভয় সমুদ্রের ফুলের প্রকার আলাদা আলাদা। এমনিভাবে সমুদ্রের অথৈ পানির নিচে নীলাভ রং বিচ্ছুরণকারী একপ্রকারের কীট (Spiders) রয়েছে, যেগুলো এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে।

(THE VERSE THAT SHOWED CORSLEAU THE RIGHT WAY)

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِينِ بَيْنَهُمَا بَرْزَخْ لا يَبْغِينِ

"দুটি সমুদ্রকে আল্লাহ তা'আলা পাশাপাশি প্রবাহিত করেছেন। তাদের মাঝে একটি অন্তরাল সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।" (সূরা আর-রহমান)

"He has let two Seas that should meet together there is a barrier between them which they do not overpass"

(১) আয়াতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
(২) দুটি সমুদ্রের বিরাট জলরাশি একটি সূক্ষ্ম জলস্রোতে (Strait) মিলিত হওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার।
(৩) দুটি সমুদ্রের মাঝে একটি বিশেষ বাধা থাকায় পরস্পরে পুরোপুরি মিলিত হয় না।

আসুন! এ বিষয়ে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করি। ফ্রান্সের বিজ্ঞানী জ্যাক ভি কোস্টো, যিনি সমুদ্রের ভিতর পানি রিসার্চ বিষয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বুঝতে পারলেন, রোম সাগর Medeterranian এবং আটলান্টিক Atlantic মহাসাগর রাসায়নিক দিক থেকে একটি অন্যটির চেয়ে ভিন্ন রকমের। তিনি এ বাস্তব সত্যটি অনুধাবন করার জন্য জিব্রাল্টরের দুই সমুদ্রের মোহনার কাছাকাছি সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা চালান। সেখান থেকে তথ্য পেলেন যে, জিব্রাল্টরে উত্তর তীর (মরক্কো) এবং দক্ষিণ তীর (স্পেন) থেকে আশাতীতভাবে একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা উথলে উঠে এবং এ বড় ঝর্ণাটি উভয় সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ৪৫ ডিগ্রি সূক্ষ্ম কোণে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়ে চিরুনীর দাঁতের আকৃতি ধারণ করে বাঁধের মতো কাজ করে। ফলে রোম সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর একটি আরেকটির সঙ্গে মিশতে পারে না।

কোস্টোকে এ গবেষণার পরই কুরআনের আয়াত দেখানো হয়েছিল। তিনি তখন খুবই আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং কুরআনের প্রশংসা ও বড়ত্ব প্রকাশ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। এ আশ্চর্যজনক আয়াতটিতে জাবালুত তারেক (জিব্রালটর) এর সীমানা ও বাঁধটিকে সঠিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আসুন, আমরা আয়াতটিকে সূরায়ে আর-রাহমানের সাধারণ আলোচনার নিরিখে পরখ করে দেখি। নিঃসন্দেহে এ সূরার আলোচনায় আল্লাহ তা'আলার অপূর্ব সৃষ্টি এবং তাঁর অপার নেয়ামতের মধ্যে মানুষের জন্য সীমাহীন জ্ঞান-প্রজ্ঞার কথা রয়েছে।

সমুদ্রের এ মোহনায় যে বাঁধা রয়েছে, তার মূল রহস্য কি? সমুদ্রের প্রাণীর সংখ্যা স্থলের প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি। তাতে রয়েছে অসীম শরীরী Organism। আরও রয়েছে অসংখ্য অদ্ভুত ধরনের উদ্ভিদ। মোটকথা, তাতে আল্লাহ তা'আলার কুদরতের এক বিরাট কীর্তি রয়েছে। তা ছাড়া বিভিন্ন প্রকারের প্রাণী বিভিন্ন পরিবেশে বাস করতে অভ্যস্ত। তাই আল্লাহ তা'আলার কুদরত সমুদ্রগুলোকে একটি অপরটির মাঝে একাকার হতে দেয় না। এ বক্তব্যটি আমাদের দৃষ্টিকে ২২ নম্বর আয়াতে নিবদ্ধ করে দেয়। বিশেষভাবে সমুদ্র তৈরির ধাঁচের দিকে এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং মাছের বিভিন্ন প্রকারের দিকে। এ আয়াত উভয় সমুদ্রে মুক্তা এবং সামুদ্রিক মূল্যবান পাথরের উপস্থিতির কথা ঘোষণা করে। সমুদ্রের পানি পরম্পর একাকার না হওয়ার কারণে সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলিকে তাদের কুদরতী পরিবেশে দেখে সীমাহীন আনন্দ অনুভূত হয়।

সমুদ্রে এক বিশেষ ধরনের ফুল রয়েছে, যেগুলো কয়েক প্রকার উদ্ভিদে ঢাকা থাকে। যাদের উপমা স্থলভাগে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ জাতীয় বিভিন্ন রকমের ফুল স্থলে থেকে কল্পনাও করা যায় না। সমুদ্রের তলদেশে লালা (Lepasfaris) ফুল হয়। যেগুলো স্থলভাগের লালা ফুল থেকে অনেক সুন্দর। সমুদ্রের তলদেশে এরূপ অনেক সুন্দর পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ আছে, যেগুলি দেখার মতো। এরা (Radar) রাডারের মতো কৌশল দ্বারা হাজার হাজার মিটার নিচে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে।

Acan Thurus Triostegus নামক একটি মাছ আছে। যার লাল শরীরে ফ্লোরাইডের লাল লাল দাগ থাকে। যাদের থেকে খুবই সুন্দর আলো বের হয় এবং নিজেদের আশপাশের পরিবেশকে উজ্জ্বল করে দেয়। সমুদ্রের অতল গভীরে অন্ধকারে ত্রিশ প্রকারের বিভিন্ন আলোক মাছ পাওয়া গেছে।

এসব জীব আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির বিশেষ নমুনা এবং সমুদ্রগুলো পরস্পর সংমিশ্রণ না হওয়ার গোপন রহস্য প্রকাশ করে। যেমন: আয়াতে কারীমা থেকেও এরূপ বুঝে আসে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারাও প্রকাশ পায় যে, জিব্রাল্টরে সমুদ্রের মিলনস্থলের উভয় পাশের তলদেশে এবং সেখানে বিদ্যমান পাহাড়ের চূড়ায় বিভিন্ন প্রকারের সুন্দর সুন্দর উদ্ভিদ ও কীট-প্রতঙ্গ রয়েছে, যার পরিসংখ্যান এত উন্নত যুগেও সম্ভব হয় নি।

এ জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল উভয় সমুদ্রেই রয়েছে। যেমন: নাগফনী, (একটি ফুলগাছ যার পাতা সাপের ফণার মতো এবং ফুল খুব সুন্দর হয়) থোহর (রং বেরংয়ের ফুল বিশেষ নীলাভ, বেগুনি, লাল ইত্যাদি রংয়ের নানাফুল।) কিন্তু উভয় সমুদ্রের ফুলের প্রকার আলাদা আলাদা। এমনিভাবে সমুদ্রের অথৈ পানির নিচে নীলাভ রং বিচ্ছুরণকারী একপ্রকারের কীট (Spiders) রয়েছে, যেগুলো এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00