📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইহ্সানে রাসূল

📄 ইহ্সানে রাসূল


ইসলাম নারীদেরকে সম্মান ও শান্তি দিয়েছে। অন্য কোনো ধর্ম এরূপ সম্মান ও মর্যাদা দান করে নি। কাজেই আমার প্রশ্ন-
• ইসলাম কি নারীদেরকে উলঙ্গ করেছে, নাকি সম্মানজনক পোশাক প্রদান করেছে?
• ইসলাম কি নারীদেরকে বাজারের সদাই বানিয়েছে, নাকি ঘরের প্রদীপ বানিয়েছে?
• ইসলাম কি নারীদেরকে রঙ্গশালার সৌন্দর্য-উপকরণ বানিয়েছে, না কি ঘরের চাঁদ বানিয়েছে?
• নারী কি শুধু রাজা-বাদশাদের মনোরঞ্জনের উপকরণ?
• নারী কি শুধু দাসী হওয়ার জন্যই জন্মেছে?
• ইউরোপ নারীদেরকে সম্মান দিয়েছে না কি ইসলাম দিয়েছে?
• ইউরোপিয়ান নারীরা কি হাজার মাইল ট্রাক ড্রাইভিং করেও নিজেদের ইজ্জতের হেফাযত করতে পারে?
আমি একদিকে মুসলমান নারীর ইজ্জত, পবিত্রতা ও ক্রিয়াকলাপ দেখি, অপরদিকে ইউরোপিয়ান নারীদের মর্যাদা ও সম্মান দেখি। তখন আমার কাছে পরিষ্কার মনে হয়, ইসলাম নারীদেরকে ঘর-সংসারে সম্মান দান করেছে। আর যখনই এ নারী ঘর সংসার ছেড়ে খোদাদ্রোহীতাকে বেছে নেয়, তখনই অপমান ও লাঞ্ছনা তার ভাগ্যে জুটে। তার মানসম্মান পদদলিত ও মথিত হয়। তারপর নারী লিলুদের খেলনা হয়ে যায়। বলুন! ইউরোপিয়ান নারীরা কী মর্যাদা পেয়েছে? তাদের জীবন কি আদৌ শান্তিপূর্ণ? তাহলে তালাক দিতে এবং আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় কেন? এর কিছু নমুনা পাঠক দেখুন!

ইসলাম নারীদেরকে সম্মান ও শান্তি দিয়েছে। অন্য কোনো ধর্ম এরূপ সম্মান ও মর্যাদা দান করে নি। কাজেই আমার প্রশ্ন-
• ইসলাম কি নারীদেরকে উলঙ্গ করেছে, নাকি সম্মানজনক পোশাক প্রদান করেছে?
• ইসলাম কি নারীদেরকে বাজারের সদাই বানিয়েছে, নাকি ঘরের প্রদীপ বানিয়েছে?
• ইসলাম কি নারীদেরকে রঙ্গশালার সৌন্দর্য-উপকরণ বানিয়েছে, না কি ঘরের চাঁদ বানিয়েছে?
• নারী কি শুধু রাজা-বাদশাদের মনোরঞ্জনের উপকরণ?
• নারী কি শুধু দাসী হওয়ার জন্যই জন্মেছে?
• ইউরোপ নারীদেরকে সম্মান দিয়েছে না কি ইসলাম দিয়েছে?
• ইউরোপিয়ান নারীরা কি হাজার মাইল ট্রাক ড্রাইভিং করেও নিজেদের ইজ্জতের হেফাযত করতে পারে?
আমি একদিকে মুসলমান নারীর ইজ্জত, পবিত্রতা ও ক্রিয়াকলাপ দেখি, অপরদিকে ইউরোপিয়ান নারীদের মর্যাদা ও সম্মান দেখি। তখন আমার কাছে পরিষ্কার মনে হয়, ইসলাম নারীদেরকে ঘর-সংসারে সম্মান দান করেছে। আর যখনই এ নারী ঘর সংসার ছেড়ে খোদাদ্রোহীতাকে বেছে নেয়, তখনই অপমান ও লাঞ্ছনা তার ভাগ্যে জুটে। তার মানসম্মান পদদলিত ও মথিত হয়। তারপর নারী লিলুদের খেলনা হয়ে যায়। বলুন! ইউরোপিয়ান নারীরা কী মর্যাদা পেয়েছে? তাদের জীবন কি আদৌ শান্তিপূর্ণ? তাহলে তালাক দিতে এবং আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় কেন? এর কিছু নমুনা পাঠক দেখুন!

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 একটি প্রশ্ন সাতটি উত্তর

📄 একটি প্রশ্ন সাতটি উত্তর


প্রশ্ন: কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, নারী-পুরুষের অবাধ-স্বাধীন মেলামেশায় ক্ষতি কি?
উত্তর: এ প্রশ্নের অনেক গুলি উত্তর আছে。

প্রথমত এতে আত্মসম্ভ্রমবোধ লোপ পায়। রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত ঘরের প্রশান্তি বিদূরিত হয়ে যায়। পুরুষ যতই নির্লজ্জ ও বেহায়া হোক, সে কখনো বরদাশত করে না যে, তার স্ত্রী কয়েক রাত ঘরের বাইরে যাপন করুক। তার স্ত্রী আজ একজনের বাহু বন্ধনে থাকুক আর কাল আরেক জনের বাহু বন্ধনে। খাবে একজনের আর সুখ দিবে অন্য জনকে? এতটুকু সম্ভ্রমবোধ তো প্রাণীদেরও থাকে, সে কাউকে তার বাসস্থানের কাছেও আসতে দেয় না। স্ত্রী যদি ফূর্তিবাজ হয়ে যায়, তাহলে ঘর সামলাবে কে? আর স্বামী প্রশান্তির খোঁজে কোথায় যাবে? স্বামী-স্ত্রীর একজন করে ফুর্তিবাজ হোক, তা না হলে একজন আরেক জনের স্বাদ থেকে মাহরূম হয়ে অস্থিরতার শিকার হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত নারীদের শিক্ষা বিঘ্নিত হয়। ধরুন, কলেজে পড়ুয়া একটি মেয়ে যদি গর্ভবতী হয়ে যায়, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই সে খেলাধুলায় শামিল হতে পারবে না। কলেজের উপর তলায় উঠতে সক্ষম হবে না। ছয় সাত মাস পর যখন বোঝা বেড়ে যাবে, তখন বাধ্য হয়েই কলেজ ত্যাগ করতে হবে। এ জাতীয় ঘটনা আমেরিকায় এত বেশি ঘটছে যে, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের শুরুতে ছাত্রী সংখ্যা থাকে একশ, তবে বছরের শেষে থাকবে মাত্র বিশজন। (দেখুন মাসিক “লক”)

চতুর্থত তালাকের মোকদ্দমা বৃদ্ধি পায়। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, আমেরিকায় মাত্র এক বছরে বিশ লক্ষ দম্পত্তি তালাকের শিকার হয়েছে। তালাকের পর সন্তানের অবস্থা যে কি হয়, তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।

পঞ্চমত মেয়েদের বিরাট একটি সংখ্যা বিবাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজে অপরাধ ছড়ায়। সুতরাং এরূপ দ্বিচারিণী নারীকে বিবাহ করার শখ কার হবে?

ষষ্ঠত অবৈধ সন্তানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আমেরিকায় ১৯৬৩ সালে ২০ লাখ জারজ সন্তান জন্ম নিয়েছে। ("টাইম" ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ) এর পূর্ববর্তী বৎসরে এ সংখ্যা ছিল সাড়ে তেইশ লাখ। এ সকল শিশুদের পিতৃপরিচয় নেই। এদের লালন-পালন কে করবে? সরকার? ভালো কথা! এদেরকে চরিত্র ও ভদ্রতা শিখাবে কে? স্বভাবতই এই সকল কু-সন্তান বড় হয়ে সমাজের জন্য একটি অভিশাপ হয়ে যাবে। এটা মা-বাবারই ভয়, তারা পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য সন্তানদেরকে ভবঘুরে হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যেখানে বাপও নেই, পরিবারও নেই, সেখানে আশ্রয় কোথায়?

সপ্তমত এক রোগ থেকে আরেক রোগের সৃষ্টি হয়। ধরুন! একজন যুবক যখন স্বহস্তেই নিজের যৌবনের মূলোৎপাটন করছে, তখন প্রথমে তার কষা রোগের সৃষ্টি হবে। এরপর মাথাব্যথা, তারপর অনিদ্রা এবং রক্ত স্বল্পতা দেখা দিবে। একজন নওজোয়ান যখন চরিত্রহীন এবং উগ্র-উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যায়, তখন সর্বপ্রথম সে নারী শিকারে মত্ত হয়। এর জন্য তার টাকা পয়সার প্রয়োজন পড়ে। যখন ঘরে টাকা না পায়, তখন শুরু করে জুয়া, চুরি, পকেটমার ও ডাকাতি। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে সৌখিন দেশ। সেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় হাজার হাজার ডলার। বৃটেনেও জনপ্রতি আয় হাজার হাজার পাউণ্ড এবং পাকিস্তানে অনুরূপ মাথাপিছু আয় হাজার হাজার টাকা। কিন্তু আমেরিকায় অপকর্মের হার এত বেশি যে, প্রতি এক মিনিটে একটি হত্যাকাণ্ড, আটটি চুরির ঘটনা এবং মাসে পচিশ হাজার কার চুরি হয়। এসব অপকর্মের জন্য শুধু একটি অপরাধই দায়ী। সেটি হল নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। একটি নারীর সঙ্গে এক সন্ধ্যা কাটানোর জন্য মদ, নাচ, সিনেমা এবং ডিনারে হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। এত টাকা আসে কোত্থেকে? আজ কোনোভাবে যোগাড় হয়ে গেলেও আগামী কাল কি হবে! ফলে হয় চুরি ডাকাতি এবং ব্যাংক লুট। এ ধরনের ঘটনা আমেরিকায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের কোনো কোনো শহরেও এরূপ শুরু হয়ে গিয়েছে। যদি ইংলিশ ফিল্ম আমা বন্ধ না হয় মদ ও নাচ-গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করা না হয় এবং আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে উত্তম চরিত্র গঠনের বইপত্র অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তা হলে এখানেও খুব দ্রুত কেয়ামত কায়েম হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, নারী-পুরুষের অবাধ-স্বাধীন মেলামেশায় ক্ষতি কি?
উত্তর: এ প্রশ্নের অনেক গুলি উত্তর আছে。

প্রথমত এতে আত্মসম্ভ্রমবোধ লোপ পায়। রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত ঘরের প্রশান্তি বিদূরিত হয়ে যায়। পুরুষ যতই নির্লজ্জ ও বেহায়া হোক, সে কখনো বরদাশত করে না যে, তার স্ত্রী কয়েক রাত ঘরের বাইরে যাপন করুক। তার স্ত্রী আজ একজনের বাহু বন্ধনে থাকুক আর কাল আরেক জনের বাহু বন্ধনে। খাবে একজনের আর সুখ দিবে অন্য জনকে? এতটুকু সম্ভ্রমবোধ তো প্রাণীদেরও থাকে, সে কাউকে তার বাসস্থানের কাছেও আসতে দেয় না। স্ত্রী যদি ফূর্তিবাজ হয়ে যায়, তাহলে ঘর সামলাবে কে? আর স্বামী প্রশান্তির খোঁজে কোথায় যাবে? স্বামী-স্ত্রীর একজন করে ফুর্তিবাজ হোক, তা না হলে একজন আরেক জনের স্বাদ থেকে মাহরূম হয়ে অস্থিরতার শিকার হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত নারীদের শিক্ষা বিঘ্নিত হয়। ধরুন, কলেজে পড়ুয়া একটি মেয়ে যদি গর্ভবতী হয়ে যায়, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই সে খেলাধুলায় শামিল হতে পারবে না। কলেজের উপর তলায় উঠতে সক্ষম হবে না। ছয় সাত মাস পর যখন বোঝা বেড়ে যাবে, তখন বাধ্য হয়েই কলেজ ত্যাগ করতে হবে। এ জাতীয় ঘটনা আমেরিকায় এত বেশি ঘটছে যে, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের শুরুতে ছাত্রী সংখ্যা থাকে একশ, তবে বছরের শেষে থাকবে মাত্র বিশজন। (দেখুন মাসিক “লক”)

চতুর্থত তালাকের মোকদ্দমা বৃদ্ধি পায়। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, আমেরিকায় মাত্র এক বছরে বিশ লক্ষ দম্পত্তি তালাকের শিকার হয়েছে। তালাকের পর সন্তানের অবস্থা যে কি হয়, তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।

পঞ্চমত মেয়েদের বিরাট একটি সংখ্যা বিবাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজে অপরাধ ছড়ায়। সুতরাং এরূপ দ্বিচারিণী নারীকে বিবাহ করার শখ কার হবে?

ষষ্ঠত অবৈধ সন্তানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আমেরিকায় ১৯৬৩ সালে ২০ লাখ জারজ সন্তান জন্ম নিয়েছে। ("টাইম" ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ) এর পূর্ববর্তী বৎসরে এ সংখ্যা ছিল সাড়ে তেইশ লাখ। এ সকল শিশুদের পিতৃপরিচয় নেই। এদের লালন-পালন কে করবে? সরকার? ভালো কথা! এদেরকে চরিত্র ও ভদ্রতা শিখাবে কে? স্বভাবতই এই সকল কু-সন্তান বড় হয়ে সমাজের জন্য একটি অভিশাপ হয়ে যাবে। এটা মা-বাবারই ভয়, তারা পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য সন্তানদেরকে ভবঘুরে হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু যেখানে বাপও নেই, পরিবারও নেই, সেখানে আশ্রয় কোথায়?

সপ্তমত এক রোগ থেকে আরেক রোগের সৃষ্টি হয়। ধরুন! একজন যুবক যখন স্বহস্তেই নিজের যৌবনের মূলোৎপাটন করছে, তখন প্রথমে তার কষা রোগের সৃষ্টি হবে। এরপর মাথাব্যথা, তারপর অনিদ্রা এবং রক্ত স্বল্পতা দেখা দিবে। একজন নওজোয়ান যখন চরিত্রহীন এবং উগ্র-উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যায়, তখন সর্বপ্রথম সে নারী শিকারে মত্ত হয়। এর জন্য তার টাকা পয়সার প্রয়োজন পড়ে। যখন ঘরে টাকা না পায়, তখন শুরু করে জুয়া, চুরি, পকেটমার ও ডাকাতি। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে সৌখিন দেশ। সেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় হাজার হাজার ডলার। বৃটেনেও জনপ্রতি আয় হাজার হাজার পাউণ্ড এবং পাকিস্তানে অনুরূপ মাথাপিছু আয় হাজার হাজার টাকা। কিন্তু আমেরিকায় অপকর্মের হার এত বেশি যে, প্রতি এক মিনিটে একটি হত্যাকাণ্ড, আটটি চুরির ঘটনা এবং মাসে পচিশ হাজার কার চুরি হয়। এসব অপকর্মের জন্য শুধু একটি অপরাধই দায়ী। সেটি হল নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। একটি নারীর সঙ্গে এক সন্ধ্যা কাটানোর জন্য মদ, নাচ, সিনেমা এবং ডিনারে হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। এত টাকা আসে কোত্থেকে? আজ কোনোভাবে যোগাড় হয়ে গেলেও আগামী কাল কি হবে! ফলে হয় চুরি ডাকাতি এবং ব্যাংক লুট। এ ধরনের ঘটনা আমেরিকায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের কোনো কোনো শহরেও এরূপ শুরু হয়ে গিয়েছে। যদি ইংলিশ ফিল্ম আমা বন্ধ না হয় মদ ও নাচ-গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করা না হয় এবং আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে উত্তম চরিত্র গঠনের বইপত্র অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তা হলে এখানেও খুব দ্রুত কেয়ামত কায়েম হয়ে যাবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমেরিকার কয়েকটি ঘটনা

📄 আমেরিকার কয়েকটি ঘটনা


(১) আজ থেকে তিন মাস পূর্বে এক শহরের একটি বরযাত্রী দল সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বাজার অতিক্রম করেছে।

(২) ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লাবে মেয়েরা কোমর পর্যন্ত ছয় ইঞ্চির একটি কাপড় পরিধান করে। কিন্তু উপরের অংশ একবারে খোলা থাকে। এরূপ মেয়ে পাকিস্তানেও রয়েছে, যারা নাচের সময় শরীরের উপরি অংশের কাপড় খুলে ফেলে। আর এসব নর্তকী নামী-দামী ঘরেরই আদুরে মেয়ে।

(৩) এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের একটি দোকানে প্রবেশ করল। সেখানে ১৮ বছরের একটি মেয়ে বিক্রেতার দায়িত্ব পালন করছিল। সে ব্যক্তি মেয়েটিকে ধরে তার কাপড় খুলে ফেলল এবং তার ইজ্জত লুটতে লাগল। মেয়েটি চিৎকার দিতে লাগল; কিন্তু কেউ ভ্রূক্ষেপও করল না। মেয়েটি কোনো কৌশল অবলম্বন করে তার হাত থেকে ছুটে বাজারের উপর দিয়েই দৌড়ে পালাল। এ লোকটিও পিছু পিছু দৌড়াতে লাগল। কিছু দূর গিয়ে মেয়েটিকে ধরে ফেলল। প্রথমে তাকে প্রহার করল। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে দোকানের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। সেখানে তামাশা দেখার জন্য অনেকেই ভিড় জমাল। কিন্তু কেউ মেয়েটির সাহায্য করল না। তারপর সেখানে পুলিশ আসল এবং মেয়েটিকে দানবের হাত থেকে উদ্ধার করল।

এ ঘটনার কিছু দিন পর এ জাতীয় এক নরপশু একটি মেয়ের ফ্লাটে গিয়ে প্রবেশ করল। প্রথমে তার সঙ্গে অপকর্ম করল। তারপর তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে ফেলল। পড়শিরা সকলে এ তামাশা দেখতে থাকল। কিন্তু কেউ তার উদ্ধারে এগিয়ে আসল না। (পাকিস্তান টাইমস)

(৪) নিউইয়র্কের উচ্চ আদালত ২৯ বছর বয়স্ক ওয়ানষ্টন মোসলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। কারণ, সে উঠতি বয়সের যুবতীদের সঙ্গে অপকর্ম করে তাদের হত্যা করত। একবার সে একটি মেয়েকে উলঙ্গ করল এবং তার শরীরের কাপড় দিয়ে বল তৈরি করে তার গায়ে জড়াল এবং তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। এ নরপশু সফল দান দিয়ে হত্যা করত। গ্রেফতারের এক সন্ধ্যা পূর্বে সে নিয়ম মাফিক তার সাদা কার নিয়ে ঘর থেকে বেরুল। রাস্তায় সে একটি কারে একটি মেয়েকে একা যেতে দেখল। মেয়েটি যখন বাড়ির পাশে এসে গাড়ি থামাল, তখন মোসলেও তার গাড়ি থেকে নেমে আসল। মেয়েটি তার মনোভাব বুঝতে পেরে দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ল। মোসলেও তার পিছু পিছু ঘরে ঢুকে পড়ল। মেয়েটি ছিল একা। সে চিৎকার দিতে লাগল। তবু নরপশু সামনে অগ্রসর হয়ে মেয়েটিকে আক্রমণ করল এবং ছোরা দিয়ে চালনি করে দিল। তাকে সেখানে ফেলেই কারে করে ফিরে আসল এবং নতুন শিকারের উদ্দেশ্যে রাস্তায় চক্কর দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসল। মেয়েটি তখনো ছটফট করছিল। তাকে আরও কয়েকবার ছুরিকাঘাত করল। মেয়েটি যখন ঠাণ্ডা হয়ে গেল, তখন সে তার অপকর্ম সেরে ঘরে ফিরে গেল। ছোরা ধুয়ে আলমারীতে রাখল এবং কাপড় পাল্টে শুয়ে পড়ল। দ্বিতীয় দিন আরেকটি ঘরে হামলা চালানোর সময় সে গ্রেফতার হয়ে গেল। পুলিশের নিকট জবানবন্দীতে সে এসব তথ্য বর্ণনা করেছে। (সাপ্তাহিক তা'মীর)

(৫) ফ্রান্সের পুলিশ একবার এক হাসপাতালের একজন নওজোয়ান কর্মচারীকে পাকড়াও করল। সে হাসপাতালের ডিউটির অবসরে কার চুরি করত এবং শিশুদেরকে হত্যা করত। নয় নম্বর শিশু হত্যার সময় সে ধরা পড়ল।

(৬) বর্তমানে আত্মহত্যা আমেরিকায় একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ ছয় মাসে আমেরিকার প্রসিদ্ধ শহর লস এঞ্জেলসে পঁচাত্তর হাজার নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। (পাকিস্তান টাইমস)

(৭) ৯ই মে ৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্যাসিফিক এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে করে আরও ৪৪ জন যাত্রীর সঙ্গে সফর করছিল। সে নিজ জীবনের প্রতি তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ পিস্তল বের করে সে পাইলটকে ছয়টি গুলি করল। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সকল যাত্রীই প্রাণ হারাল। পরে জানা গেল, সে সফরের পূর্বে পঞ্চাশ হাজার ডলারে একটি বীমা তার স্ত্রীর নামে করিয়ে রেখেছে। (পাকিস্তান টাইমস ১০ই মে ১৯৬৪ইং)

(১) আজ থেকে তিন মাস পূর্বে এক শহরের একটি বরযাত্রী দল সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বাজার অতিক্রম করেছে।

(২) ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লাবে মেয়েরা কোমর পর্যন্ত ছয় ইঞ্চির একটি কাপড় পরিধান করে। কিন্তু উপরের অংশ একবারে খোলা থাকে। এরূপ মেয়ে পাকিস্তানেও রয়েছে, যারা নাচের সময় শরীরের উপরি অংশের কাপড় খুলে ফেলে। আর এসব নর্তকী নামী-দামী ঘরেরই আদুরে মেয়ে।

(৩) এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের একটি দোকানে প্রবেশ করল। সেখানে ১৮ বছরের একটি মেয়ে বিক্রেতার দায়িত্ব পালন করছিল। সে ব্যক্তি মেয়েটিকে ধরে তার কাপড় খুলে ফেলল এবং তার ইজ্জত লুটতে লাগল। মেয়েটি চিৎকার দিতে লাগল; কিন্তু কেউ ভ্রূক্ষেপও করল না। মেয়েটি কোনো কৌশল অবলম্বন করে তার হাত থেকে ছুটে বাজারের উপর দিয়েই দৌড়ে পালাল। এ লোকটিও পিছু পিছু দৌড়াতে লাগল। কিছু দূর গিয়ে মেয়েটিকে ধরে ফেলল। প্রথমে তাকে প্রহার করল। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে দোকানের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। সেখানে তামাশা দেখার জন্য অনেকেই ভিড় জমাল। কিন্তু কেউ মেয়েটির সাহায্য করল না। তারপর সেখানে পুলিশ আসল এবং মেয়েটিকে দানবের হাত থেকে উদ্ধার করল।

এ ঘটনার কিছু দিন পর এ জাতীয় এক নরপশু একটি মেয়ের ফ্লাটে গিয়ে প্রবেশ করল। প্রথমে তার সঙ্গে অপকর্ম করল। তারপর তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে ফেলল। পড়শিরা সকলে এ তামাশা দেখতে থাকল। কিন্তু কেউ তার উদ্ধারে এগিয়ে আসল না। (পাকিস্তান টাইমস)

(৪) নিউইয়র্কের উচ্চ আদালত ২৯ বছর বয়স্ক ওয়ানষ্টন মোসলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। কারণ, সে উঠতি বয়সের যুবতীদের সঙ্গে অপকর্ম করে তাদের হত্যা করত। একবার সে একটি মেয়েকে উলঙ্গ করল এবং তার শরীরের কাপড় দিয়ে বল তৈরি করে তার গায়ে জড়াল এবং তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। এ নরপশু সফল দান দিয়ে হত্যা করত। গ্রেফতারের এক সন্ধ্যা পূর্বে সে নিয়ম মাফিক তার সাদা কার নিয়ে ঘর থেকে বেরুল। রাস্তায় সে একটি কারে একটি মেয়েকে একা যেতে দেখল। মেয়েটি যখন বাড়ির পাশে এসে গাড়ি থামাল, তখন মোসলেও তার গাড়ি থেকে নেমে আসল। মেয়েটি তার মনোভাব বুঝতে পেরে দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ল। মোসলেও তার পিছু পিছু ঘরে ঢুকে পড়ল। মেয়েটি ছিল একা। সে চিৎকার দিতে লাগল। তবু নরপশু সামনে অগ্রসর হয়ে মেয়েটিকে আক্রমণ করল এবং ছোরা দিয়ে চালনি করে দিল। তাকে সেখানে ফেলেই কারে করে ফিরে আসল এবং নতুন শিকারের উদ্দেশ্যে রাস্তায় চক্কর দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসল। মেয়েটি তখনো ছটফট করছিল। তাকে আরও কয়েকবার ছুরিকাঘাত করল। মেয়েটি যখন ঠাণ্ডা হয়ে গেল, তখন সে তার অপকর্ম সেরে ঘরে ফিরে গেল। ছোরা ধুয়ে আলমারীতে রাখল এবং কাপড় পাল্টে শুয়ে পড়ল। দ্বিতীয় দিন আরেকটি ঘরে হামলা চালানোর সময় সে গ্রেফতার হয়ে গেল। পুলিশের নিকট জবানবন্দীতে সে এসব তথ্য বর্ণনা করেছে। (সাপ্তাহিক তা'মীর)

(৫) ফ্রান্সের পুলিশ একবার এক হাসপাতালের একজন নওজোয়ান কর্মচারীকে পাকড়াও করল। সে হাসপাতালের ডিউটির অবসরে কার চুরি করত এবং শিশুদেরকে হত্যা করত। নয় নম্বর শিশু হত্যার সময় সে ধরা পড়ল।

(৬) বর্তমানে আত্মহত্যা আমেরিকায় একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ ছয় মাসে আমেরিকার প্রসিদ্ধ শহর লস এঞ্জেলসে পঁচাত্তর হাজার নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। (পাকিস্তান টাইমস)

(৭) ৯ই মে ৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্যাসিফিক এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে করে আরও ৪৪ জন যাত্রীর সঙ্গে সফর করছিল। সে নিজ জীবনের প্রতি তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ পিস্তল বের করে সে পাইলটকে ছয়টি গুলি করল। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সকল যাত্রীই প্রাণ হারাল। পরে জানা গেল, সে সফরের পূর্বে পঞ্চাশ হাজার ডলারে একটি বীমা তার স্ত্রীর নামে করিয়ে রেখেছে। (পাকিস্তান টাইমস ১০ই মে ১৯৬৪ইং)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 একই ধ্যান একই মন

📄 একই ধ্যান একই মন


বিশ্বাস এক অর্থাৎ আল্লাহ এক, রাসূল এক, কুরআন এক, কাবা এক এবং জীবন যাপনের নিয়মও এক হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত পুরো ইসলামি বিশ্বের ধ্যান-ধারণা ও মন-মানসিকতা এক। এটা একই মন-মানসিকতার ফলে কোটি কোটি মানুষ অন্ন-বস্ত্রহীন হওয়া সত্ত্বেও রীতি-নীতি, ধর্ম ও নিয়মের ক্ষেত্রে তারা সরল পথের উপরই চলে। যদি কোনো সময় ধর্মের বন্ধন ঢিলে হয়ে যায় আর পাকিস্তানে মাত্র দশ হাজার ডাকাত, চোর, খুনী ও বিদ্রোহীর জন্য হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বেকার হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও শান্তি দূর হয়ে যাবে। সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ধর্ম এমন একটি একক শক্তি যা দর্পকারী, গর্বকারী অহংকারী এবং হস্তীশক্তির অধিকারীকেও দুর্বলদের পায়ে মস্তক অবনত করতে বাধ্য করে এবং সিংহের গর্দানে বকরির গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দিতে পারে। এ জন্যই ক্ষুধার্তরা বাজার লুট করে না। কারণ, এটা গুনাহের কাজ। সবলেরা দুর্বলদেরকে এ জন্যই কষ্ট দেয় না যে, আল্লাহ তা'আলা এটা পছন্দ করেন না। সম্পদশালীরা ইয়াতিম মিসকীনদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই লালন পালন করে। যখন কোনো বিপদ এসে পড়ে, তখন লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। যে সকল লোক নির্লজ্জতা ও অপকর্ম দ্বারা এ পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। বিশেষত যারা জনগণের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের বেতন ভোগ করে জনগণের সম্মুখেই তাদের দীন-ধর্ম ও আকীদা বিশ্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের ইসলামের হৃদয়ে আঘাতের পর আঘাত হানে।

এ বাস্তব সত্যটি সকলেরই জানা আছে যে, উঁচু শ্রেণীর লোকেরা প্রতি সন্ধ্যায় হোটেল এবং ক্লাবে পরনারীর সঙ্গে নাচগান ও মদ পানে লিপ্ত হয়। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নামায ও কুরআন থেকে হাজারো মাইল দূরে সরে যায়। যদি তাদেরকে দেখে আমাদের লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান এবং কোটি কোটি জনসাধারণ ধর্মের সীমানা পেরিয়ে বাইরে চলে যায়, তা হলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?

পবিত্র কুরআনের ফয়সালা মতে এ আরামপ্রিয় শ্রেণী খুবই বিদপজনক। এরাই প্রত্যেকে রাসূলের প্রতিপক্ষে শামিল হয়েছে এবং এদের কারণেই প্রতিটি জাতি ধ্বংসের কোলে ঢলে পড়েছে। "যখন কোনো লোকালয়ে সম্পদশালী শ্রেণী অন্যায় ও অপকর্মে ডুবে যায়, তখন সে আমার গযবকে আহবান করে এবং আমি সে লোকালয়কে ধ্বংস করে দেই।" (সূরা সাবা: ৩৪-৩৫)

"যখন আমি সম্পদশালী শ্রেণীকে পাকড়াও করলাম, তখন তারা চিৎকার দিতে লাগল। এ চিৎকার আজ আমার পাকড়াও থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আমার আহবান তোমাদেরকে শোনানো হয়েছিল। কিন্তু তোমরা অহংকার প্রকাশ করতে, অযথা বকাবকি করতে এবং অপবাদ দিয়ে পিছনে সরে যেতে। (সূরা মুমিনুন: ৬৪-৬৭)

আজ ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষ মাত্র একটি। সেটি হল, ইউরোপ ও তার নগ্ন সংস্কৃতি। ইউরোপের চরম উৎকর্ষের প্রতি দৃষ্টি বুলিয়ে দেখুন। সে কিভাবে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রচার-প্রসারে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামি সালতানাতের নেতৃবর্গ জ্যোতির্ময় এবং মজবুত মূল্যবোধ সৃষ্টি করার কল্পনাকেও ভয় করে। যখন সততা ময়দান থেকে পালিয়ে যায়, তখন বাতিল ছেয়ে যায় এবং মানবতার চিৎকার ধ্বনিত হয়। (ইসলাম আওর আছরে রওয়া)

বিশ্বাস এক অর্থাৎ আল্লাহ এক, রাসূল এক, কুরআন এক, কাবা এক এবং জীবন যাপনের নিয়মও এক হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত পুরো ইসলামি বিশ্বের ধ্যান-ধারণা ও মন-মানসিকতা এক। এটা একই মন-মানসিকতার ফলে কোটি কোটি মানুষ অন্ন-বস্ত্রহীন হওয়া সত্ত্বেও রীতি-নীতি, ধর্ম ও নিয়মের ক্ষেত্রে তারা সরল পথের উপরই চলে। যদি কোনো সময় ধর্মের বন্ধন ঢিলে হয়ে যায় আর পাকিস্তানে মাত্র দশ হাজার ডাকাত, চোর, খুনী ও বিদ্রোহীর জন্য হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বেকার হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও শান্তি দূর হয়ে যাবে। সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ধর্ম এমন একটি একক শক্তি যা দর্পকারী, গর্বকারী অহংকারী এবং হস্তীশক্তির অধিকারীকেও দুর্বলদের পায়ে মস্তক অবনত করতে বাধ্য করে এবং সিংহের গর্দানে বকরির গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দিতে পারে। এ জন্যই ক্ষুধার্তরা বাজার লুট করে না। কারণ, এটা গুনাহের কাজ। সবলেরা দুর্বলদেরকে এ জন্যই কষ্ট দেয় না যে, আল্লাহ তা'আলা এটা পছন্দ করেন না। সম্পদশালীরা ইয়াতিম মিসকীনদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই লালন পালন করে। যখন কোনো বিপদ এসে পড়ে, তখন লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। যে সকল লোক নির্লজ্জতা ও অপকর্ম দ্বারা এ পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। বিশেষত যারা জনগণের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের বেতন ভোগ করে জনগণের সম্মুখেই তাদের দীন-ধর্ম ও আকীদা বিশ্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের ইসলামের হৃদয়ে আঘাতের পর আঘাত হানে।

এ বাস্তব সত্যটি সকলেরই জানা আছে যে, উঁচু শ্রেণীর লোকেরা প্রতি সন্ধ্যায় হোটেল এবং ক্লাবে পরনারীর সঙ্গে নাচগান ও মদ পানে লিপ্ত হয়। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নামায ও কুরআন থেকে হাজারো মাইল দূরে সরে যায়। যদি তাদেরকে দেখে আমাদের লক্ষ লক্ষ নওজোয়ান এবং কোটি কোটি জনসাধারণ ধর্মের সীমানা পেরিয়ে বাইরে চলে যায়, তা হলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?

পবিত্র কুরআনের ফয়সালা মতে এ আরামপ্রিয় শ্রেণী খুবই বিদপজনক। এরাই প্রত্যেকে রাসূলের প্রতিপক্ষে শামিল হয়েছে এবং এদের কারণেই প্রতিটি জাতি ধ্বংসের কোলে ঢলে পড়েছে। "যখন কোনো লোকালয়ে সম্পদশালী শ্রেণী অন্যায় ও অপকর্মে ডুবে যায়, তখন সে আমার গযবকে আহবান করে এবং আমি সে লোকালয়কে ধ্বংস করে দেই।" (সূরা সাবা: ৩৪-৩৫)

"যখন আমি সম্পদশালী শ্রেণীকে পাকড়াও করলাম, তখন তারা চিৎকার দিতে লাগল। এ চিৎকার আজ আমার পাকড়াও থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আমার আহবান তোমাদেরকে শোনানো হয়েছিল। কিন্তু তোমরা অহংকার প্রকাশ করতে, অযথা বকাবকি করতে এবং অপবাদ দিয়ে পিছনে সরে যেতে। (সূরা মুমিনুন: ৬৪-৬৭)

আজ ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষ মাত্র একটি। সেটি হল, ইউরোপ ও তার নগ্ন সংস্কৃতি। ইউরোপের চরম উৎকর্ষের প্রতি দৃষ্টি বুলিয়ে দেখুন। সে কিভাবে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রচার-প্রসারে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামি সালতানাতের নেতৃবর্গ জ্যোতির্ময় এবং মজবুত মূল্যবোধ সৃষ্টি করার কল্পনাকেও ভয় করে। যখন সততা ময়দান থেকে পালিয়ে যায়, তখন বাতিল ছেয়ে যায় এবং মানবতার চিৎকার ধ্বনিত হয়। (ইসলাম আওর আছরে রওয়া)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00