📄 রোগীকে অধিক খাওয়ার উপর পীড়াপীড়ি না করা
• হাদীস গ্রন্থে রোগীকে অধিক খাওয়ার উপর তাগিদ না করার অসংখ্য নির্দেশ পাওয়া যায়। (যাদুল মা'আদ)
রোগীর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল থাকে। এ দুর্বল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অধিক শক্তির কাজ করতে পারে না। শক্তিশালী খাদ্য সহ্য করতে পারে না। তখন পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তা সকল প্রকার খাদ্য হজম করার সামর্থ্য রাখে না। তাই রোগীকে হালকা ও দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খাওয়ানো হয়। রোগীকে যদি অধিক খাবার খাওয়ানো হয় অথবা অধিক খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়, তা হলে রোগীর রোগ বেড়ে যাবে। এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কা পর্যন্ত রয়েছে।
📄 বাস্তব অভিজ্ঞতা
কোনো এক ব্যক্তি অল্প কয়েকদিন অসুস্থ ছিলেন। এতে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। একদিন ঘরে মাছ রান্না হচ্ছিল। তার এমন ঘ্রাণ ছুটছিল যে, তিনি মাছ খাওয়ার লোভ সামলাতে পারছিলেন না। বাড়ির লোকেরাও পীড়াপীড়ি করে বলতে লাগল- কিছু খেয়ে নাও, শক্তি বাড়বে। ওই ব্যক্তিও যথেষ্ট পরিমাণ রুটি এবং মাছ খেয়ে নিলেন। কিন্তু মাছ হজম হল না তার। সন্ধ্যাবেলায় বমি শুরু হয়ে গেল। রোগ আরও বেড়ে গেল। পরের দিন উক্ত রোগী এ নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করল।
বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূলনীতি হল, রোগীর চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং তাকে কোনো কিছু খাওয়ার ক্ষেত্রে পিড়াপীড়ি করবে না বরং তার পরিপাকতন্ত্রকে এমন শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে, যেন নিজ থেকেই খাদ্যের চাহিদা হয়। এটাই আসল চিকিৎসা।