📄 সুন্নাতে রাসূল
• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতে লাঠি ব্যবহার (উসওয়ায়ে রাসূল) করতেন।
তাহের সাহেব বর্ণনা করেন- আমি যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তিকে পাগড়ী বেঁধে, হাতে লাঠি নিয়ে ও সুন্নাতি পোশাক পরে ঠক ঠক করে চলতে দেখলাম। আমি আমার মেজবানকে জিজ্ঞেস করলাম, এ ফকীর বাবা কে? দেখতে তো মুসলমানদের মতো মনে হচ্ছে। তিনি বললেন, তিনি একজন পরমাণু বিজ্ঞানী (Atomic scientist)। তিনি পরমাণু গবেষণাগারে ডিউটি করতে যাচ্ছেন। আমি এগিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার অবস্থা জানতে চাইলাম- আপনি যে সেন্টারে চলছেন, সেখানে তো সকলেই ইহুদি এবং খ্রিস্টান। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদও সম্পূর্ণ আলাদা। কাজেই এ পোশাকে সেখানে গেলে আপনার অবস্থা কি হবে? এ কথা শুনে বিজ্ঞানী অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জবাব দিলেন, "সে সকল লোক তো ইহুদি ধর্মমত এবং তাদের ধর্মীয় পোশাকের উপর গঠিত। আর আমি মুহাম্মদী ধর্মবিশ্বাস এবং মুহাম্মদী লেবাসের উপর গঠিত।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, হাতে লাঠি রাখার উদ্দেশ্য কি? বিজ্ঞানী জবাব দিলেন, "লাঠি ডান হাতে থাকে। সুতরাং যে হাতে লাঠি থাকে, সে হাত শক্তিশালী হয়। এতে অস্বাভাবিক শক্তি ও সামর্থ্য বেড়ে যায়। জীবন ধারণের ক্ষেত্রে ডান হাত যেহেতু অধিক প্রয়োজন। তাই ডান হাত মজবুত হওয়া আবশ্যক। আর এর শক্তি ও মজবুতী লাঠির মধ্যে নিহিত।
অধিকন্তু লাঠি শরীরের ভারসাম্যতা রক্ষা করে এবং শক্তি ও সামর্থ্য যোগায়। লাঠির কারণে ডান হাত মুষ্ঠিবদ্ধতায় নিয়োজিত থাকে। আর এ মুষ্ঠিবদ্ধতার প্রতিক্রিয়া শরীরবিদ্যা (Physiology) অনুযায়ী দিল এবং দিলের গ্রন্থির উপর পতিত হয়। ফলে অন্তর মজবুত হয় ও ভীরুতা দূর হয়। লাঠির কারণে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর জীব-জন্তুর ভয় দূর হয়।
📄 লিপল গিরলিপ এর (THE CHIEFS OF PUNJAB)-এ প্রকাশিত অভিমত
স্যার লিপন গিরলিপন "সিয়াসাতে ফেরাউন ইয়াদি চিপ অব পাঞ্জাব" নামক প্রসিদ্ধ কিতাবে আর একটি কথা বাড়িয়ে বলেছেন, লাঠি হল শরীরের অবলম্বন এবং সঙ্গী। শরীরের শিরা-উপশিরার উপর লাঠির একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে। যার হাতে সর্বদা লাঠি থাকে ওই লাঠির অদৃশ্য প্রভাব তার শরীর ও রূহের উপর পতিত হতে থাকে। এরূপ ব্যক্তি কখনও ভীরু বা ভয়কাতুর হয় না। আমি পাঞ্জাবের আমীর এবং সর্দার লোকদের হাতে লাঠি রাখতে দেখেছি। যাদের হাতে আমি লাঠি দেখেছি, তাদেরকে আমি সাহসী ও দূরদর্শী পেয়েছি। নিঃসন্দেহে লাঠি সকল নবী-রাসূলের সুন্নাত। হযরত মূসা আ.-এর লাঠি প্রসিদ্ধ।
📄 মাঝে মধ্যে খালি পায়ে চলার উপদেশ
• হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কখনও খালি পায়ে চলার উপদেশ দিয়েছেন। (মামূলাতে নববী)
জুতা পায়ের সঙ্গে আটকা অবস্থায় থাকে। আর সর্বক্ষণ এরূপ পায়ের সঙ্গে লেগে থাকা জুতা অসংখ্য রোগ সৃষ্টির কারণ হয়। বিশেষ করে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগের জীবাণু (Contagious Germs) জুতার সঙ্কীর্ণতার কারণে জুতার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে। যদি উক্ত পা জমিনে রাখা হত, তা হলে পায়ে বাতাস লাগার কারণে পায়ে লেগে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসগুলি (Virus) খতম হয়ে যেত। পায়ে মাটি লাগার কারণে মাটিস্থ এন্টি সেপটিক (Anti-Septic) অর্থাৎ পচন নিরোধক পদার্থের দরুন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়।
জুতা যদি রবার অথবা প্লাস্টিকের হয়, তবে উক্ত হাদীসের ভাষ্য একেবারেই যথাযথ। কেননা সে সকল জুতার উত্তাপে পায়ে আগুন লেগে যায় (এটা অবশ্য ভিন্ন কথা যে, আমরা ওই অসহ্য গরম সকলেই সহ্য করে নিতে সকলেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি)। সুতরাং আমাদের জুতা থেকে মাঝে মধ্যে পা বের করে জমিনের উপর খালি পায়ে হাঁটা উচিত।
অধিকাংশ দক্ষ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী (Hygiene) প্রতি দিন খুব সকালে মাটি এবং ঘাসের উপর খালি পায়ে চলার উপর বিশেষ জোর দেন। এতে মস্তিষ্কের দুর্বলতা, শুষ্কতা এবং শিরাতন্ত্রীর ক্ষয় থেকে রেহাই পাওয়া পরীক্ষিত।
📄 রোগীকে অধিক খাওয়ার উপর পীড়াপীড়ি না করা
• হাদীস গ্রন্থে রোগীকে অধিক খাওয়ার উপর তাগিদ না করার অসংখ্য নির্দেশ পাওয়া যায়। (যাদুল মা'আদ)
রোগীর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল থাকে। এ দুর্বল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অধিক শক্তির কাজ করতে পারে না। শক্তিশালী খাদ্য সহ্য করতে পারে না। তখন পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তা সকল প্রকার খাদ্য হজম করার সামর্থ্য রাখে না। তাই রোগীকে হালকা ও দ্রুত হজমযোগ্য খাবার খাওয়ানো হয়। রোগীকে যদি অধিক খাবার খাওয়ানো হয় অথবা অধিক খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়, তা হলে রোগীর রোগ বেড়ে যাবে। এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কা পর্যন্ত রয়েছে।