📄 হাদীসে রাসূল
• হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ঘরের মধ্যে একটি মেয়েকে দেখলেন, যার চেহারা হলুদ ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে দম করাও। কারণ, তার কুদৃষ্টি বা বদ-নজর লেগেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
• নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন, বদনজর সত্য।
• হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মস্তিষ্ক বিকৃতির দোষ এবং মানুষের বদ নজর লাগা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এমনকি সূরা নাছ ও সূরা ফালাক নাযিল হওয়ার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত সূরা দুটিকে গ্রহণ করে এ জাতীয় বাকি কাজগুলি ছেড়ে দিলেন। (তিরমিযী)
বদনজর এবং এর কার্যকারিতা নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা কোনো কোনো ব্যক্তির চক্ষুর মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি রেখেছেন, যখন তারা পূর্ণ দৃষ্টিতে কোনো কিছুর দিকে তাকায়, তখন উক্ত জিনিসের ক্ষতি হয়।
• নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন: যদি কোনো কিছু তাকদীর বা আল্লাহর ফায়সালাকে ছাড়িয়ে যেত, তবে তা হত বদনজর। এমন কিছু লোক দেখা যায়, বাদের শুধু একটি দৃষ্টি মানুষ, জীব-জন্তু এমনকি জড় বস্তুকে পর্যন্ত ধ্বংস করে দেয়।
📄 স্টিফেন গোলনের তেজ দীপ্ত চোখ
স্টিফেন নামক একুশ বৎসর বয়সের এক যুবক আশ্চর্য ধরনের ক্ষমতার অধিকারী ছিল। তার চোখে এক বিশেষ গোপন রহস্য পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা এর তত্ত্ব উদঘাটনে লিপ্ত হয়েছিল। স্টিফেনের চোখ থেকে অদৃশ্য রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে যার উপর পতিত হত, তা খতম হয়ে যেত। স্টিফেন একটা বন্ধ দরজার উপর মাত্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। এতেই দরজা টুকরা টুকরা হয়ে গেল। অনুরূপভাবে সে কোনো একটি খুঁটির দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় তাতে ফাটল ধরল। সে আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে উক্ত খুঁটি ভেঙে পড়ল।
এটা ছিল এক যুবকের কৃতিত্ব। যার চক্ষুদ্বয় বিশ্ব জগতের সমস্ত মানুষের চোখের কারিগরী থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। কেন তার চক্ষুদ্বয় এত তেজদীপ্ত এবং গরম ছিল? এ সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্যে প্যারাসাইক্লোজী দ্রষ্টব্য।
📄 প্যারাসাইক্লোজী এর গবেষণা (RESEARCH OF PARAPSYCHOLOGY)
চোখে দেখা যায় না এমন গুপ্ত জ্ঞান অনুসন্ধানের নাম প্যারাসাইক্লোজী। বিশেষজ্ঞদের মতে মূলত প্রত্যেক ব্যক্তির চক্ষু হতেই অদৃশ্য আলোকরশ্মি বের হয়ে থাকে, যার মধ্যে আবেগময় শক্তির বিদ্যুৎ (Emotronal Energy) থাকে। এ সকল বিদ্যুৎ দ্রুত লোমকূপের মাধ্যমে শরীরের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক গঠনের অবনতি ঘটে।
যদি আবেগময় শক্তির বিদ্যুৎ প্রবাহ বা আলোকরশ্মি পজেটিভ (+) হয়, তা হলে মানুষের উপকার হয় আর যদি এ রশ্মি নেগেটিভ (-) হয়, তবে অব্যাহত ক্ষতি হতে থাকে। কুদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের চক্ষু থেকে নির্গত রশি মূলত নেগেটিভ হয়ে থাকে এবং এর মধ্যে এত শক্তি নিহিত থাকে যে, শরীরের স্বাভাবিক নিয়ম শৃঙ্খলাকে ওলট-পালট করে দেয়।
কোনো এক কুদষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি কোনো সুন্দর একটি মাকড়শা দেখে এর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করায় অন্য এক ব্যক্তির চেহারা কালো হয়ে গিয়েছে। তার রক্তে মিলানিন (Melanin) বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত রং কালো হয়ে যায়। মোটকথা, (বদ-নযর সম্পর্কিত) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী সঠিক। আর বদনজরের প্রতিরোধ হয় পবিত্র কুরআন এর মাধ্যমে। কুরআনের সূরা নাস ও সূরা ফালাক এবং সূরা ইখলাস বা সূরা কাফিরূন ওই নেগেটিভ বা নেতিবাচক রশিকে দূর করে দেয়।