📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উপর শরাবের বিরূপ প্রভাব

📄 রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উপর শরাবের বিরূপ প্রভাব


রক্ত সঞ্চালনের উপর শরাবের প্রভাব দু'ভাবে পতিত হয়। প্রথমত হৃদযন্ত্রের উপর শরাবের প্রভাব কোনো মাধ্যম দ্বারা হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত মাধ্যম ব্যতিরেকেই হৃদযন্ত্রে পেশীর (Myocardial Tissue) উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে। যে পেশী রসালো চর্বি জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে, তার মধ্যে দুর্বলতা সৃষ্টি করে। ফলে রক্তবাহী শিরাগুলি শক্ত হয়ে যায়, যাকে (Arteriosclerosis) বলা হয়। এর কারণে ব্লাড প্রেসার (Hypertension) দেখা দেয়। অন্যদিকে এ্যালকোহলের (মদের) তীব্রতায় হৃদযন্ত্র জ্বলে যাওয়ায় নিয়মতান্ত্রিক রক্তপ্রবাহের বিঘ্ন ঘটে। ফলে অন্তরের মধ্যে অবসন্নতা আসে। চর্বিকণিকা জমা হয়ে যায় আর শিরাতন্ত্রের বিরূপ প্রভাবের দ্বারা মানসিক ভারসাম্যতা নষ্ট হয়ে যায়।

বস্তুত শরাবে অভ্যস্ত ব্যক্তি হয়তো হৃদক্রিয়া বন্ধ (Cirrhosis) হয়ে নতুবা হার্টফেল করে নিজের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য এক ফোঁটা শরাব গ্রহণ যেন ওই উন্মাদ ব্যক্তির মতো কর্ম, যে নিজের প্রাণনাশের বা অঙ্গহানির কোনো পরোয়া করে না।

কতিপয় মদ্যপায়ীদের ধারণা হলো, স্বল্পমাত্রায় এবং সহনীয় পরিমাণ মদ পান করায় মনেপ্রাণে এবং শিরা-উপশিরায় এক প্রকার সতেজতা আসে। আর এটা শরাব পানেরই একটি উপকারিতা। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এ ধারণার কোনো মূল্য নেই। ডাক্তারী শাস্ত্রে এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় না। তথাপি হতচ্ছড়া কিছু লোক পাওয়া যায়, যারা বিজ্ঞানেরও বিপরীত ধারণা রাখে।

মানুষের হৃদপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের শেষ কেন্দ্রবিন্দু ধরা হয়। মদ্যপানের ফলে উক্ত হৃদপিণ্ডের সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতি হয়। কেননা হৃদপিণ্ড অনুভূতি-যন্ত্রের মিলিত (Balance) হওয়ার স্থানে ছাঁকনীর কাজ দেয়। কিন্তু শরাব বা এ্যালকোহল এ জটিল কাজটিকেও ব্যাহত করে। নিঃসন্দেহে যে-সকল শরাবে এ্যালকোহলের পরিমাণ কম থাকে, তা হৃদপিণ্ডের জন্য অধিক ক্ষতিকর। যেমন: অধিক মাত্রায় তিতো মদ (Beer) পান করায় হৃদপিণ্ড সিংহভাগ ধ্বংস হয়ে থাকে।

রসবাহী নল (Lymphatic) মানবীয় শরীর রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রণালীর রক্তবাহী শিরাগুলি শরাবের দ্বারা চিকিৎসার অযোগ্য হয়ে পড়ে। কেননা লিপিড (Lipid) প্রণালীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, যা শরাব পানের ফলে সেটি বরবাদ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা যদি নিজ অনুগ্রহে মানবীয় জিন্দেগীর হেদায়েত বিভিন্ন পন্থায় না করতেন, তা হলে শরাব আমাদের জন্য কত অধিক ক্ষতিকর তা আমাদের জন্যে পরিষ্কার হয়ে যেত।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সমাজ জীবনের উপর মদের প্রভাব

📄 সমাজ জীবনের উপর মদের প্রভাব


এ সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, মদ সামাজিক সম্পর্ক ও বন্ধনের উপর কতটা বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। নিম্নে বিশেষ কয়েকটি প্রভাবের কথা উল্লেখ করছি:

১. মদ্যপায়ীরা দ্রুত চিন্তিত অথবা দ্রুত ক্রোধান্বিত হওয়ার ফলে তারা সমাজে অসংখ্য ঝগড়া-ফাসাদে জড়িয়ে পড়ে。
২. অসংখ্য মদ্যপায়ীদের দ্বারা তালাকের দুর্ঘটনা সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এভাবে অপরাধ প্রবণ লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পুরো সমাজব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
৩. বিভিন্ন স্তরের শ্রমজীবী তথা কৃষক ও কারিগরদের উপর মদের কারণে উদাসীনতা ও অলসতা দেখা দেয়। ফলে তাদের কর্মজীবন এবং অভিজ্ঞতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যার থেকে সমাজও রেহাই পায় না。
৪. মদ্যপানের ফলে মানুষের মাঝে সহানুভূতি লোপ পায়। ফলে একতা এবং নীতি বিবর্জিত সমাজের বিরুদ্ধে জেহাদী মনোভাব নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা পরিপূর্ণরূপে খতম হয়ে যায়。

উপরাউক্ত চার প্রকার সমস্যা পশ্চিমা বিজ্ঞানীদেরকে এ পরিমাণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে রেখেছে যে, তারা বারবার তাদের সরকারের দৃষ্টি এদিকে আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছে। যদি মদের ব্যবহার এরূপ বাড়তেই থাকে, তাহলে এ দেশগুলোতে জাতীয় চিন্তা-চেতনা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

pবিত্র কুরআন এ সমস্যার মূলোৎপাটন করে দিয়েছে। কোনো দার্শনিকেরও হিম্মত হয় নি এ সমস্যা সহজে সমাধান করে যাওয়ার। এ মদ সেবন সমস্যা পশ্চিমাগোষ্ঠীর সামাজিক ভিত্তিকে ঘুণপোকার মতো ধীরে ধীরে খেয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছে। অথচ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সমাজকে শত শত বছর ধরে এ বিপদ থেকে হেফাযত করে আসছেন। (ড. হুলুক বাকীর গবেষণা থেকে)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00