📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঘটনা : ২

📄 ঘটনা : ২


এক প্রফেসর সাহেবের হার্টে ব্যথা আরম্ভ হল। তাঁর এ ব্যথা এত মারাত্মক ছিল যে, তাঁর জীবননাবসানের সম্ভাবনাই ছিল প্রকট। তাঁর আম্মা শিয়রে বসে বারবার দু'আ করছিল। আমরাও শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন, আয় আল্লাহ! আমি আমার এ সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট আছি। তুমিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আমরা তো তার চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলাম আর উক্ত মহিলা লিপ্ত ছিলেন দু'আয়। প্রফেসর সাহেব জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে কালিমা পাঠ করলেন। এরপর মুচকি হেসে পরজগতে পারি জমালেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঘটনা : ৩

📄 ঘটনা : ৩


১৯৬৭ সন এর ঘটনা। আমাকে মেডিসিনের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনে উপস্থিত করা হল। আল্লাহ তা'আলার মেহেরবানী ও মাতা-পিতার দু'আয় আমি পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করেছি। কিন্তু কয়েকটি কারণে আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ করা হয় নি। তাই আমাকে সৌদি আরব যেতে হল। যার ফলে আমার মাতা-পিতাও মনে খুব আঘাত পেলেন। তাঁরা দিবারাত্র আমার ফিরে আসা এবং আমার উক্ত পদে নিয়োগের জন্য দু'আ করলেন। তখন আমার ফিরে আসা এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনে নির্বাচিত হওয়া প্রায় অসম্ভবই ছিল। কিন্তু তাদের নিরন্তর দু'আর বরকতে হজ্ব করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি এবং এক বছরের ভিতরেই আমি সেই পদ লাভ করেছি। যার জন্য আমি নিজেকে হকদারও মনে করতাম।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ঘটনা : ৪

📄 ঘটনা : ৪


করাচীতে আমার এক বন্ধু ব্যাংক অফিসার ছিলেন। কয়েক বছর পূর্বে তিনি একটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন। তিনি পাণ্ডুরোগে এত দুর্বল হয়ে পড়লেন যে, একেবারে বেহুঁশ হয়ে গেলেন। তদুপরি পেটে পানি এসে গিয়েছিল এবং মূত্রাশয়ের কার্যক্ষমতাও নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ওই ব্যাংক অফিসারের কয়েকজন যুবতী কন্যাও ছিল এবং তিনি ছিলেন মাতা-পিতার একমাত্র সম্বল। চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার কারণে তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত মনে করে আমাকে করাচী আসার অনুরোধ জানালেন। আমি করাচী গেলাম। বন্ধুকে জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত দেখে এবং তাঁর দায়-দায়িত্বগুলি দেখে মনে খুবই ব্যথা পেলাম। আমার যাওয়ার পূর্বে ১৮ জন ডাক্তার তাঁকে দেখে গিয়েছেন এবং সকলেই একমত ছিলেন যে, এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। আমি ছিলাম উনিশতম ফিজিশিয়ান। আমিও তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে একমত পোষণ করলাম। তবে আমি একটি জিনিসের অভাব পেয়েছি। সেটা হলো, চিকিৎসায় অনিয়ম। আমি তার মাতা-পিতাকে কাছে বসিয়ে বুঝালাম, যদি সদকা করে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে দু'আ করে চিকিৎসা আরম্ভ করা হয়, তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা দান করবেন। আমি তাঁর মাতা-পিতাকে আরও বুঝালাম, সন্তানের জন্য মাতা-পিতার দু'আ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের দু'আ ফেরত দেন না। ডাক্তারগণ সেই পূর্বের চিকিৎসাই পুনরায় আরম্ভ করলেন। এ দিকে তার পিতা-মাতা একাধারে তিনদিন পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার দরবারে রোগ মুক্তির দু'আ করতে থাকলেন। সেখানকার লোকেরা বলল, তৃতীয়দিন আল্লাহ তা'আলার রহমতের সাগরে ঢেউ উঠল। তার মূত্রাশয় কাজ আরম্ভ করল। পাণ্ডু এবং পেটের পানি ধীরে ধীরে কমতে আরম্ভ করল। এভাবে এক সপ্তাহের মধ্যেই আল্লাহ তা'আলা তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করলেন। আমি করাচী থেকে ফিরে আসার চতুর্দশ দিনেই বন্ধুর স্বহস্তে লেখা চিঠি পেলাম। তিনি স্বীকার করলেন যে, একমাত্র পিতা-মাতার দু'আয়ই তিনি এ কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মেডিকেল সাইন্সের ভাষ্যমতে এরূপ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার নিকট তো সব কাজেই সম্ভব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00