📄 বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তারী যৌক্তিকতা
(১) চোখ ওঠাকে ক্ষতিকর মনে করো না। কেননা তা অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করে। চক্ষু ওঠার কারণে চোখ রক্ত বর্ণ ধারণ করে। চোখ থেকে অনবরত কেতর ও পানি ঝরতে থাকে। ফলে খুবই কষ্ট ও যন্ত্রণাবোধ হয়। ফলে চোখ থেকে এমন সব ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়, যা চোখের মণি বা পুতলির সিক্ততা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষতিকারক। চোখ ওঠার কারণে চোখের দূষিত পদার্থ নির্গত হওয়ায় চোখ স্থায়ীভাবে বিভিন্ন প্রকার মারাত্মক রোগ থেকে মুক্ত থাকে। (তিব্বে নববী)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছমত নামক এক প্রকার বিশেষ সুরমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তা ব্যবহার করলে চক্ষু দিয়ে পানি ঝরতে থাকে এবং চোখ ওঠার কারণেও চোখ দিয়ে পানি ঝরে। ফলে চক্ষু বিভিন্ন প্রকার কঠিন ব্যাধি, বিশেষ করে অন্ধত্ব থেকে মুক্ত থাকে।
(২) মানুষের চোখে এবং নাকে কুষ্ঠ রোগ হয়ে থাকে। ড. কিউবের অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত হলো, “কুষ্ঠরোগের জীবাণু (Germs) নাসিকা পথে শরীরে প্রবেশ করে এবং নাসিকাই এ মারাত্মক জীবাণুর নিরাপদ সড়ক।” সর্দি হলে নাক দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। ফলে নাসিকার ভিতর থেকে সর্বপ্রকার ধূলা-বালি ও জীবাণু বের হয়ে যায়। কেননা সর্দির কারণে নাক দিয়ে অধিক পরিমাণ সিকনি ঝরতে থাকে। ফলে বিভিন্ন প্রকার ধ্বংসাত্মক জীবাণু ও ময়লা যা স্বাভাবিকভাবে নির্গত হয় না, তা নাক ঝাড়ার কারণে বের হয়ে যায়। এ কারণেই সর্দিকে কুষ্ঠরোগের রক্ষাকবজ মনে করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কুষ্ঠ ব্যাধিকে একপ্রকার কফ বা শ্লেষ্মাজনিত রোগ মনে করা হয়। শ্লেষ্মা এবং সর্দি একত্রে মিলিতভাবে কুষ্ঠরোগের সৃষ্টি করে। সর্দির কারণে কফ বের হয়ে যায়। সুতরাং সর্দি মানুষের জন্য খুবই উপকারী।
(৩) কাশিকে খারাপ ভেবো না। কেননা তা সর্ববিকলাঙ্গতার শিকড় কেটে দেয়। বিকলাঙ্গতা মূলত মস্তিষ্কপ্রসূত স্নায়ুবিক রোগ। বর্তমান যুগে এ রোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ তথা হাই ব্লাড প্রেসার এ রোগের বিশেষ কারণ। কাশির কারণে ফুসফুসে অধিক পরিমাণ অক্সিজেন প্রবেশ করে। ফলে পালমোনারি ভেইনের (Pulmonary Vein) মাধ্যমে ফুসফুসে আগত রক্ত ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়। ওই রক্তেরই একটা বিশেষ অংশ বা উপাদান (যা কিছুকাল পরে রক্তকে গাঢ় করে বিভিন্ন রোগের উদ্ভব ঘটায় সেটা) পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে মানুষ অঙ্গহীনতা বা বিকলাঙ্গতা থেকে পরিত্রাণ পায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে এ রোগের বিভিন্ন কারণ ও বিভিন্ন প্রকার আছে। তন্মধ্যে একটি সামগ্রিক কারণ হলো কফ। যখন মস্তিষ্কপ্রসূত শ্লেষ্মা অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন এমন বস্তুর প্রয়োজন দেখা দেয়, যদ্বারা কফ বের হতে পারে। কফ বের হওয়ার প্রধান মাধ্যম কাশি। এ কাশির ফলে কফ জনিত অতিরিক্ত আর্দ্রতা হ্রাস পায়।
(৪) দম্বল মূলত কফ জনিত ফোঁড়া। এ ফোঁড়ার মাধ্যমে পুঁজ ও পানি নির্গত হয়। ফলে মস্তিষ্কের কফ জনিত আর্দ্রতা স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর এই কফ জনিত অস্বাভাবিক আর্দ্রতাই শ্বেত-কুষ্ঠের প্রধান কারণ। এ ব্যাপারে আমি (লেখক) একজন ফিজিওলজিস্টকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রক্তে মেলানিন-এর ঘাটতিই শ্বেত-কুষ্ঠের প্রধান কারণ। আর মেলানিন ঘাটতির কারণ হলো, রক্তে W.B.C-এর আধিক্য এবং W.B.C মূলত কফ। আলোচ্য ফোঁড়ার কারণে রক্তপুঁজ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে তরল পদার্থ নির্গত হয়। ফলে দম্বল তথা কফ জনিত ফোঁড়ার রোগী শ্বেত-কুষ্ঠ থেকে মুক্ত থাকে।
📄 নাসিকা ও কর্ণের চুলের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নাসিকা এবং কর্ণে উন্নত চুল কুষ্ঠ ব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “কর্ণ এবং নাসিকা রন্ধ্রের পশম উপড়ে ফেলবে না। কেননা এতে নাকের মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হয়। তবে খুব বেশি বেড়ে গেলে কেটে ফেলবে।” (নুজহাতুল মাজালিস : ২য় খণ্ড)
ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছিলাম, ড. কিউবের অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত হলো, “শ্বেত রোগের জীবাণু নাকের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং নাসিকাই এ জীবাণুর সর্বোত্তম বাসস্থান।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্ণ ও নাসিকার পশম কাটতে নিষেধ করেছেন। কারণ, নাসিকা রন্ধ্রের চুলের কারণে রোগ জীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। অধিকন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ওযুর সময় ও সর্দি ঝাড়ার সময় অনেক জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়। চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করার আরও একটা কারণ হলো, এর ফলে জখম ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। নাসিকা রন্ধ্রে ক্ষত সৃষ্টি হলে উক্ত ক্ষতের মাধ্যমে জীবাণু অতি দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।