📄 দ্রুত হজমশীল ও বিপরীত স্বভাবের খাবার একত্রে না খাওয়া
সহজ-পাচ্য খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায়। আর বিলম্বে হজমশীল খাবার দীর্ঘক্ষণ যাবৎ পাকাশয়ে পড়ে থাকার কারণে পাকস্থলীর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। যেমন: উট ও বকরির গোশত একত্রে রান্না করা হলে উভয়টা একত্রে সিদ্ধ হয় না, উটের গোশতের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এমনিভাবে খাদ্যশস্যের বেলায়ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেমন: আপেল ও মূলা।
📄 ভুনা করা ও পানি দিয়ে রান্না করা খাবার একত্রে না খাওয়া
ভুনা করা গোশত খাওয়ার পর যদি পানিতে পাকানো খাবার খাওয়া হয়, তা হলে পানি পাকস্থলীতে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করবে। আর ভুনা গোশত শুষ্ক বিধায় শুষ্কতা সৃষ্টি করবে।
📄 তাজা ও বাসি খাদ্য একত্রিত করা অনুচিত
কানাডার এক খাদ্য বিশেষজ্ঞ 'বাজিষ্ট বোর্ণ' বলেন, তাজা খাদ্যই ভক্ষণ করা উচিত, যদিও তা বিলের ঘাস হয়। বাসি গোশত অপেক্ষা বিলের তাজা ঘাস পাকিয়ে খাওয়া শ্রেয়। আমি বাসি খাদ্য ভক্ষণের কারণে অনেককেই রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে দেখেছি। আমার জীবন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়াদি, ঘটনাবলী ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে আমি একজন বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞের মর্যাদায় উপনীত হয়েছি। সুতরাং আমার পরামর্শ হলো, আপনি যদি খাদ্য গ্রহণ করতে চান, প্রথমে দেখুন খাদ্যটি তাজা না বাসি? কেননা সজীবতার মাঝেই প্রকৃত স্বাদ; মসলার মাঝে নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাজা খাদ্য পছন্দ করতেন এবং অন্যদেরকেও তাজা খাদ্য ভক্ষণের নির্দেশ দিতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য আদৌ পছন্দ করতেন না।
📄 অধিক মসলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য খাওয়া ক্ষতিকর
বাজিষ্ট বোর্ণ আরও বলেন, সাদাসিধা বিশুদ্ধ খাদ্যই সুস্থতা ও সজীবতার নিয়ামক। কেননা তা মানুষের শারীরিক শৃঙ্খলা বিধানের (Physical System) জন্য উপকারী। আর যে খাদ্য মরিচ ও বিভিন্ন প্রকার মসলাযোগে পাকিয়ে সুস্বাদু করা হয়, তা নিশ্চিতরূপে শারীরিক সুস্থতার পরিপন্থী। আধুনিককালে ইউরোপীয় জগতের উপহার যেমন, রোস্ট, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি নিশ্চিতরূপে শারীরিক সুস্থতার পরিপন্থী। এসব খাদ্যের কারণে আলসার (Ulcer), পাকস্থলীতে গ্যাস (Acidity of Stomach) এবং বদহজমী ইত্যাদি জটিল রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। পক্ষান্তরে ইসলাম আমাদেরকে সাদাসিধে খাদ্য ভক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। এতে রয়েছে স্বাদ ও সুস্থতার অপূর্ব সমন্বয়।