📄 গুরুত্ব ও তাৎপর্য
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং অপরকেও এর নির্দেশ দিতেন।
আল্লামা ইবনুল কাইয়েম যাদুল মা'আদ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধ ও মাছ, দুধ ও যে কোন টক জাতীয় জিনিস এবং দুই গরম জাতীয় খাবার কখনো একত্রে ভক্ষণ করতেন না। তাছাড়া দুই রকম ঔষধ, দুই তৈলাক্ত খাবার কখনো একত্রে খেতেন না এবং দুই বিপরীত জিনিস যেমন কাঠিন্য ও নরমকারী, একটি দ্রুত হজমশীল ও অপরটি বিলম্বে হজমশীল। একটি ভুনা ও অপরটি (পানি দ্বারা) রান্না করা খাবার একত্রে ভক্ষণ করতেন না। আবার একটি তাজা খাবার ও অপরটি বাসি খাবার একত্রে খেতেন না। তেমনিভাবে বেশি গরম খাবারও তিনি ভক্ষণ করতেন না। তাছাড়া রাত্রে পাকানো খাবার পরের দিন বাসি করে খেতেন না। দুর্গন্ধযুক্ত খানা ও চাটনী ইত্যাদিও কখনো ভক্ষণ করতেন না। (যাদুল মা'আদ)
এ সমস্ত সতর্কতা অবলম্বনের কারণসমূহ বিস্তারিত নিম্নে বর্ণিত হলো।
📄 তীব্র গরম খাবারের নিষেধাজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তীব্র গরম খাবারে বরকতহীনতার কথা বলেছেন। তীব্র গরম খাবারে মুখের ভিতরে ঘা, পেট ফোলা ও জ্বালা-পোড়া সৃষ্টি হয়। তাছাড়া তীব্র গরম খাবার কখনো গলা নষ্ট করে ফেলে। আর গরম খাবারের সাথে ঠাণ্ডা পানি পান করলে দন্ত ও পাকস্থলীতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। খাওয়ার আবেগ ও উদ্যমকে প্রশমিত করার পর খাবার, ঠাণ্ডা করে খেলে এসব রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তীব্র গরম খাবারে বরকতহীনতার প্রমাণ হলো, চুলা বা তন্দুর থেকে নামিয়ে গরম গরম রুটি খেলে তা অধিক পরিমাণে খাওয়া যায়। কিন্তু একটু ঠাণ্ডা করে খেলে অনেক কম খাওয়া যায়। আর হুযুর সা.-এর কথা অনুযায়ী বরকত এসে যায়। এখানে এমন ধারণা করা ঠিক নয় যে, একেবারে জমাট বাঁধা খাবার খেতে হবে বরং একটু ঠাণ্ডা করে খেলেই চলবে।
ডা. আলবার্ট "ফীড এণ্ড কেয়ার” নামক একটি পুস্তক প্রণয়ন করেছেন, যাতে যাবতীয় খাদ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, উপকারিতা ও তার সতর্কতাসমূহ উত্তমরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। তদানুযায়ী একজন সুস্থ মস্তিষ্কবান ব্যক্তির জন্য যাবতীয় খাদ্যের জ্ঞান অর্জন করা একান্ত কর্তব্য। অথচ আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক পূর্বেই এ সম্বন্ধে ধারণা দিয়ে গেছেন।
📄 দুধ ও মাছ একত্রিত না করা
একবার এমন কিছু জেলের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়, যাদের শরীরের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম- তোমাদের এ অবস্থা কিভাবে হলো? তারা বলল- আমরা হলাম মৎস্য শিকারী। একবার মাছ খাওয়ার পর দুধ পান করেছিলাম। তারপর থেকেই আমাদের চামড়ার রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল। অভিজ্ঞতায় জানা গেছে, সর্বপ্রকার দুধ আর মাছেই কুষ্ঠ রোগ হয় না বরং শুধু মাছ খেয়ে বকরির দুধ পান করলেই এ ধরনের রোগ হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধ ও মাছ একত্রে খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা এর দ্বারা ক্ষতি হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। (যাদুল মা'আদ)
উপরাউক্ত ফরমান হলো এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের, যার সত্যতায় লেশমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই বরং এখন তো গবেষণা দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, দুধ বকরির হলে তার দ্বারা সত্যিই চামড়ার রঙ পরিবর্তন হয়ে যায়।
📄 দুই গরম খাবার একত্রিত না করা
এক গরম খাবারের সাথে যদি আরেক গরম খাবার মিলিত হয়, তা হলে তা অতি গরমে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এক খাবারের যদি ক্যালোরী (Calories) বেশি হয়, তার সাথে যদি এমন আরেকটি খাবার যুক্ত করা হয় যার মধ্যেও বেশি ক্যালোরী (Calories) থাকে, তাহলে রক্ত ও চর্বিতে এর ক্ষতির প্রভাব পড়বে। এমনকি কখনো ব্লাড প্রেসার আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই বিভিন্ন গরম খাবার একাধারে এবং একই সময় না খাওয়া উচিত।