📄 পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা
আমার এক বন্ধু বলছিল, আমার এক নিকট আত্মীয় ইংল্যান্ডে বসবাস করত। সে একবার আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসল। কিছু দিন থাকল আমার বাড়ীতে। একদিন আমার ছোট মেয়ে বলল, আম্মু! আংকেল রঙ বেরঙের পায়খানা করেন। আমরা মনে করলাম, ও তো ছোট মানুষ, হয়ত এমনিই কথাটা বলছে। কিন্তু কথাটি সে বারবার বলতে থাকলে আমরা টয়লেটে গিয়ে দেখি যে, ভদ্রলোক পানি ব্যবহার করেন না বরং শুধু রঙ বেরঙের টিস্যু বা টয়লেট পেপারই ব্যবহার করেন।
কলুষিত ও দুর্গন্ধময় ইউরোপীয় জীবন। সেখানে তারা পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা করে না। যার কারণে সেই দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনা শরীরে আটকে থাকে এবং বিভিন্ন রোগের কারণে পরিণত হয়। লন্ডনের হার্ড স্টেটের বিশিষ্ট ডাক্তার “কেনন ডেভিস” সমগ্র ইউরোপীয় জাতিকে কড়া সতর্ক করে বলেছেন: তোমরা যদি এভাবেই জীবন যাপন করতে থাক, তা হলে নিম্নোক্ত রোগ-ব্যাধির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও: লিঙ্গ ক্যান্সার, ভগন্দর, চর্ম ইনফেকশন (Skin Infections) ও ফুসফুসের রোগ।
পানি হলো এ জগতের সর্বোৎকৃষ্ট নেয়ামত। এটা যাবতীয় কলুষতাকে পবিত্রতায় রূপান্তরিত করে দেয়। ইসলাম পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতিকে এত সুস্পষ্ট করে দিয়েছে, যেন পানি আমাদেরকে আমলের দিকে আহ্বান করছে। জ্যান্ট মিলন নামের জনৈক খ্রিস্টান বলেন, ইসলাম হলো পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ধর্ম। সকল ধর্মাবলম্বীগণ ইসলাম ধর্ম থেকে তার পরিচ্ছন্নতার অধ্যায়কে পূর্ণ করে থাকে। দেহের কোনো অংশ অপবিত্র হলে পানি ব্যবহার ছাড়া ওই অংশকে পরিষ্কার করলে দেখা যাবে, তা ভালোভাবে পরিষ্কার হয় নি। (সাইন্স আওর সিহহাত)
তাছাড়া পানি ব্যবহার করলে শরীরের ওই অংশের তাপমাত্রা নরমাল হয়ে যায়। আর ইস্তেঞ্জার সময় পানি ব্যবহার করা না হলে পূর্ণ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং দেহ অসংখ্য রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
📄 প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাকুন রোগ থেকে রক্ষা পাবেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাক। কেননা কবরের অধিকাংশ আযাব প্রস্রাবের কারণেই হয়ে থাকে।
জ্যান্ট মিলন বলেন, আমার নিকট খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া, চর্ম খসে যাওয়া, নিতম্বের আশপাশে এলার্জি, গোপন অঙ্গের ক্ষত ইত্যাদির রোগী আসলে তার কাছে আমার সর্বপ্রথম প্রশ্ন থাকে, তুমি কি প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাক? তন্মধ্যে দেখা যায়, অধিকাংশ লোকই প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাকে না; যার কারণে এরূপ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আমার নিকট আসে। (সাইন্স আওর সিহহাত)
প্যান্টের চেইন খুলে প্রস্রাব করে পানি দ্বারা পবিত্র না হয়েই আবার চেইন এঁটে দিলে প্রস্রাবের ফোঁটা শরীরে লাগতে থাকে। যদ্বারা চর্মরোগসহ অসংখ্য রোগ সৃষ্টি হয়। সুবহানাল্লাহ্! ইসলাম কত সুন্দর ও পবিত্র ধর্ম! সে তার অনুসারীদেরকে কত রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করে। আজ ইউরোপীয়গণও পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা করার প্রতি পুনরায় ঝুঁকে পড়েছে।
📄 বাতাসের দিকে মুখ করে প্রস্রাব করা
বাতাসের দিকে মুখ করে প্রস্রাব করলে বাতাসের চাপে প্রস্রাবের ছিঁটা উড়ে এসে শরীর ও চেহারায় পড়ে। এভাবে দেহ ও পোশাক অপবিত্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ অপবিত্রতা হলো রোগ-ব্যাধির উৎস। তাই প্রস্রাবের জন্য এমন দিক নির্বাচন করা উচিত যেদিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয় না।
📄 গর্তে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঁদুর, সাপ ইত্যাদির গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। কেননা কোনো বিষাক্ত প্রাণীর গর্তে প্রস্রাব করলে, সেই প্রাণী এসে তার ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাছাড়া অনেক জায়গা থাকে লবণাক্ত আর সেই স্থানের গর্তের মধ্যে এসিড ও নাইট্রোজেন থাকে। সুতরাং সেখানে যদি প্রস্রাব করা হয়, যা খোদ এক প্রকার এসিড, এ উভয় প্রকার এসিড মিলে বিষাক্ত বাষ্প সৃষ্টি হয়ে মানব দেহে ক্ষতি সাধন করতে পারে।