📄 কাঁচা মাটিতে মলত্যাগের উপকারিতা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মলত্যাগের জন্য নরম মাটি বেছে নিতেন।
বিশিষ্ট স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী লেভেন পাওয়েল 'উসূলে সিহহাত' নামক গ্রন্থে লিখেন, মানবজাতির জীবন-মরণ উভয়ই মাটিতে নিহিত। যখন থেকে আমরা মাটিতে মলত্যাগ ছেড়ে দিয়েছি এবং শক্ত জমিন তথা ফ্লাশ ইত্যাদি ব্যবহার আরম্ভ করেছি, তখন থেকেই পুরুষদের যৌন দুর্বলতা এবং পাথরী রোগ অধিক হারে দেখা দিয়েছে এবং এর প্রভাব প্রোস্টেট গ্রন্থিতেও পড়ছে। মূলত মানুষের শরীর থেকে যখন মল বের হয়, তখন মাটি তার জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) ও বিষাক্ত প্রভাবকে চুষে নেয়। কিন্তু জমিন যদি শক্ত হয়, তা হলে ওই বিষাক্ত প্রভাব ও জীবাণু পুনরায় শরীরে ফিরে আসে এবং মানুষের শরীর তখন সুস্থতার পরিবর্তে অসুস্থতার দিকে ধাবিত হয়।
📄 বসার পদ্ধতি
মলত্যাগের জন্য বসার পদ্ধতি সম্বন্ধে হাদীসের কিতাবসমূহে যথেষ্ট বিশ্লেষণ রয়েছে। সুন্নত অনুযায়ী মলত্যাগের জন্য বসলে বিভিন্ন উপকারিতা পাওয়া যায়। আমি এর উপকারিতা ও বিজ্ঞানের নিয়ম আলোচনা করতে গিয়ে ফিজিওলজির একজন সিনিয়র প্রফেসরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি বলেন, আমি মরক্কো থাকাকালে জ্বরের ঔষধের জন্য একজন ইহুদি ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার ছিলেন খুবই বৃদ্ধ। তাই তাঁর কাছে রোগীদের ভিড় কমই ছিল। যখন আমি নিজের নাম লেখালাম, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মুসলমান? আমি উত্তর দিলাম—হ্যাঁ, মুসলমান এবং পাকিস্তানী। তিনি বললেন, তোমাদের পাকিস্তানে যদি তোমাদেরই নবীর একটি তরীকা উজ্জীবিত হয়ে যায়, তাহলে পাকিস্তানীরা কয়েকটি রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। আমি আশ্চর্য হয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করলাম—সে তরীকাটি কী? তিনি বললেন : মলত্যাগের জন্য যদি ইসলামি পদ্ধতিতে বসা যায়, তা হলে অ্যাপেনডিসাইটিস, সর্বদা কষা, পাইলস এবং হৃদরোগ হবে না। এরপর তিনি বললেন—আমি কসম খেয়ে বলতে পারি, সমস্ত মুসলমান যদি এ নিয়মেই মলত্যাগ করে, তা হলে উল্লিখিত রোগসমূহ থেকে বেঁচে যাবে।
পাকিস্তানী প্রফেসর বলেন, তখন আমার এ পদ্ধতিটি জানার আগ্রহ বাড়ল। আমি তাঁর কাছে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে সেখানেই উপস্থিত একজন আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি যখন আমাকে উক্ত পদ্ধতিটির বিশ্লেষণ দিলেন, তখন আমি এর উপর আমল আরম্ভ করলাম। কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এর উপকারিতা আমার সম্পূর্ণরূপে বুঝে এসে গেল। তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমি ইস্তেঞ্জার জন্য উক্ত পদ্ধতিই ব্যবহার করি। আধুনিক বিজ্ঞান হুজুরে আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইস্তেঞ্জার এ পদ্ধতি নিয়ে রিসার্চ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সুস্থতা ও সুন্দর জীবন যাপন এবং আর্থিক উন্নতির জন্য এ পদ্ধতির চেয়ে উপকারী আর কোনো পদ্ধতি নেই। এ পদ্ধতিতে গ্যাস, পাকস্থলীর তাপমাত্রা, বদহজম, কষা এবং মূত্রাশয় রোগ কমে যায় এবং একাধারে এ নিয়ম পালন করলে এ রোগ সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যায়।
📄 ইস্তেঞ্জার জন্য ঢিলার ব্যবহার
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তেঞ্জার জন্য বেজোড় সংখ্যায় ঢিলা ব্যবহার করতেন। (তিরমিযী)
বিজ্ঞানের সর্বশেষ রিসার্চ অনুযায়ী মাটিতে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এবং উৎকৃষ্ট মানের রোগ প্রতিরোধক পদার্থ রয়েছে। যেহেতু পেশাব-পায়খানা পুরোটাই ময়লা, জীবাণু এবং রোগ-ব্যাধিপূর্ণ, তাই এ মলমূত্র মানুষের শরীরে লাগলে খুবই ক্ষতি হয়। আর যদি তার কিছু অংশ শরীরে আটকে থাকে অথবা হাতে লেগে থাকে, তাহলে অগণিত রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হওয়ার খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। ডাক্তার হুলুক লিখেন, ঢিলার ব্যবহার বিজ্ঞান এবং গবেষণা জগৎকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে। কেননা মাটির যে কোনো অংশই জীবাণুনাশক। যখন ঢিলা ব্যবহার করা হয়, তখন গুপ্তাঙ্গে মাটি লাগার কারণে বাইরের অংশে বিদ্যমান জীবাণু মৃত্যুবরণ করে; বরং গবেষণা দ্বারা একথাও প্রমাণিত হয়েছে যে, ঢিলা ব্যবহার করলে পেনিস (পুরুষাঙ্গ) ক্যান্সার থেকে নিরাপদ থাকে। আবার যদি হাড় দ্বারা ইস্তেঞ্জা করা হয়, তাহলে অন্যান্য রোগ-জীবাণুর সাথে তার বিশেষ জীবাণু দেহে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। তাছাড়া হাড় হলো অসমতল ও অমসৃণ বস্তু, যার দ্বারা মানবদেহ ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে সকল রোগীর পেনিসে যখম এবং ক্ষত হয়ে গিয়েছিল, আমি সে সকল রোগীকে ঢিলা ব্যবহার করিয়েছি এবং তাদেরকে মাটি দ্বারা ইস্তেঞ্জা করতে বলেছি। এতে রোগী আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থতা লাভ করেছে। মোটকথা, এ মাটির তৈরি মানুষ মাটি দ্বারাই মুক্তি লাভ করবে। দুনিয়ার যত ফর্মুলাই সে ব্যবহার করুক।