📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার (Nervous System) উপর রোযার প্রভাব

📄 স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার (Nervous System) উপর রোযার প্রভাব


রোযার কারণে কিছু লোকের মধ্যে চঞ্চলতা ও মনমরাভাব প্রকাশ পায়। কিন্তু এর দ্বারা স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। সে সমস্ত লোকদের মাঝে এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের আত্মম্ভরিতা (Egotism) বা মেজাজের রুক্ষ্মতার কারণেই হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রোযার কারণে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ায় আসে পূর্ণ শান্তি। ইবাদত বন্দেগী পালনের দ্বারা অর্জিত প্রশান্তি আমাদের মনের যাবতীয় পঙ্কিলতা ও ক্রোধ দূরীভূত করে দেয়। ইবাদতে অধিক খুশু-খুযু, বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সম্মুখে মস্তক অবনত হয়ে যায়। রোযার কারণে আমাদের যাবতীয় পেরেশানী চিন্তা-ভাবনা দুরীভূত হয়ে যায়। রোযার কারণে যেহেতু আমাদের যৌন চাহিদা হ্রাস পায়, তাই এ কারণেও আমাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না।

রোযা ও ওযুর যৌথ প্রতিক্রিয়ার যে শক্তিশালী সমন্বয় সাধিত হয়, তার দ্বারা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের এক অতুলনীয় ভারসাম্য সৃষ্টি হয়, যা সুস্থ স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে।

আভ্যন্তরীণ মাংসগ্রন্থিতে যে আরাম ও শান্তি অর্জিত হয়, তা পূর্ণরূপে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে। মানবজাতির উপর এটা আরও একটি অনুগ্রহ। মানুষের যে আবেগপ্রবণতা রমাযানের কারণে, ইবাদতের অনুগ্রহের বদৌলতে পরিচ্ছন্ন ও শান্তিকামী হয়ে থাকে, তা স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার সর্বপ্রকার অশান্তি দূরীকরণে সহায়ক হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোযার সামাজিক প্রভাব

📄 রোযার সামাজিক প্রভাব


ইসলাম আমাদের দুখীজনের লালন-পালনের পদ্ধতি শিক্ষা প্রদান করে। উদরপূর্তি থাকলে অন্যের ক্ষুধা সম্পর্কে অনুভব করা যায় না। আর পানি দ্বারা জিহবা তরতাজা থাকলে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির পিপাসার জ্বালা অনুভব করা যায় না। রোযা মুসলমানদেরকে দয়া, করুণা ও গরীব-দুঃখীর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শিক্ষা দেয়। এ সবকিছুই ইসলামি সমাজ-সভ্যতার অন্যমত অংশ। ইউরোপে দুঃখীজনদের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য অসংখ্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সেখানে তারা সর্বাধিকভাবে বঞ্চিত।

মাওসেতুং ছিল চীনের মহান নেতা। চীনের সামাজিক পরিস্থিতি তাকে ভাবিয়ে তুলল। তিনি ভাষণ প্রদান কালে বলতেন- নিজের খাবারের মধ্যে প্রতিবেশী ও সামনে উপস্থিত ব্যক্তিকেও শামিল করে নাও। নিজে ক্ষুধার্ত থেকে অন্যের ক্ষুধার জ্বালা অনুভব কর। এ শিক্ষাগুলি বস্তুত মাওসেতুং এর নয় বরং বহু পূর্বেই ইসলাম আমাদেরকে এগুলি শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম গরীব-দুঃখীদের ধর্ম। ইসলাম বিত্তবানদের নিরাপত্তা প্রদান করে। ইসলাম ধন-দৌলত অর্জনের বিরোধিতা করে না বরং তা উপার্জন ও ব্যয়ের উৎকৃষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পাকিস্তানে সার্ভে রিপোর্ট

📄 বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পাকিস্তানে সার্ভে রিপোর্ট


জার্মান, ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের একটি টিম এতৎসংক্রান্ত এক পর্যবেক্ষণের নিমিত্ত পাকিস্তান এসেছিল যে, কিভাবে রমাযানুল মুবারক মাসে (E.N.T) কান, নাক ও গলার রোগ-ব্যাধি হ্রাস পায়। উক্ত অনুসন্ধানের জন্য তারা পাকিস্তানের করাচি, লাহোর ও ফয়সালাবাদ এ তিনটি শহর নির্বাচন করেছিল। উক্ত সার্ভে রিপোর্টের সারসংক্ষেপ হল-

মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমাযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে ওযু করে। এ ওযু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক জং, ১৯৮৮)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অভিজ্ঞতার আলোকে মানবদেহে রোযার প্রভাব

📄 অভিজ্ঞতার আলোকে মানবদেহে রোযার প্রভাব


মৌসুম ও ভৌগোলিক অবস্থানের বিভিন্নতার কারণে রোযার সময়কাল ১২ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং রাত্রের দীর্ঘতা অনুপাতে সাধারণত এক থেকে দুইবার (ইফতারের পর সাহরীর পূর্বে) খাবার খাওয়া হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে একথা পূর্ণ আস্থার সাথে বলা সম্ভব নয় যে, দেহের উপর রোযার কি প্রভাব পড়ে এবং কিভাবে পড়ে ? কিছু সংখ্যক লোকের ধারণা মতে রোযায় দৈহিক কর্মক্ষমতা হ্রাস ও শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি করে না। কেননা রোযা রাখার দ্বারা কেবল দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়কাল সাধারণ সময়ের তুলনায় একটু বেশি হয়ে যায়। বস্তুত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমষ্টিগতভাবে এ পরিমাণ তাপ বা আহার্য এবং পানীয় শরীরে অর্জিত হয়, যা রমাযান ব্যতীত অন্য মাসে অর্জিত হয় না। তদুপরি সুস্পষ্টত, রমাযান মাসে মানুষেরা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য এবং উত্তেজক দ্রব্য সাধারণ দিনের তুলনায় বেশিই ব্যবহার করে থাকে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, সমষ্টিগত আহার্য অন্য সময়ের তুলনায় রোযার মাসে দেহে অধিক পরিমাণে অর্জিত হয়।

স্বকীয়ভাবে এসব ভিন্ন মতাদর্শের সত্যতা ও অসত্যতা প্রমাণ করা বা তাদের সম্পর্কে কোন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ব্যাপারে রোযাদারদের দেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতৎসংক্রান্ত ১৩ জন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছিল। তন্মধ্যে একজন গর্ভবতী (৬ মাসের) মহিলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবার ২৭ বছর বয়স্ক একজন বে-রোযাদার পুরুষও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এভাবে ১৪ জনের উপর সমীক্ষা চালানো হল। পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলিকে বিস্তারিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে:

(১) ওজন বা পরিমাণ, (২) দৈহিক উচ্চতা (৩) শিরা ও ধমনী, (৪) রক্তচাপ, (৫) বি.এম.পি (৬) দৈহিক প্রবহমান তরল পদার্থ, (৭) রক্ত ও প্রস্রাবের রাসায়নিক বিশ্লেষণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00