📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কোষের (CELL) উপর রোযার প্রভাব

📄 কোষের (CELL) উপর রোযার প্রভাব


রোযার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হল, শরীরে প্রবহমান পদার্থসমূহের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক রাখা। যেহেতু রোযার দ্বারা বিভিন্ন প্রবহমান পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পায়, তাই ওসবের কার্যক্রমে ব্যাপক প্রশান্তির সৃষ্টি হয়। মুখের লালাযুক্ত ঝিল্লির উপরের অংশ সম্পৃক্ত Cell সমূহ, যাকে প্রাপথেলীন সেল বলা হয় এবং যেগুলি দেহের আর্দ্রতাসমূহকে অনবরত বের করার দায়িত্বে নিয়োজিত, সেগুলিও রোযার দ্বারা অর্জন করে এক অনাবিল শান্তি এবং তাদের সুস্থতায় যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে একথা সহজেই বলা যায়, লালা তৈরিকারী মাংসগ্রন্থি, গর্দানের মাংসগ্রন্থি এবং Pancreas-এর মাংসগ্রন্থিসমূহ অধীর আগ্রহের সাথে মাহে রমাযানের অপেক্ষায় থাকে। যাতে রমাযানের বরকতে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পায় এবং অধিক কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের অপারগতাসমূহ পেশ করতে পারে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার (Nervous System) উপর রোযার প্রভাব

📄 স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার (Nervous System) উপর রোযার প্রভাব


রোযার কারণে কিছু লোকের মধ্যে চঞ্চলতা ও মনমরাভাব প্রকাশ পায়। কিন্তু এর দ্বারা স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। সে সমস্ত লোকদের মাঝে এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের আত্মম্ভরিতা (Egotism) বা মেজাজের রুক্ষ্মতার কারণেই হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রোযার কারণে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ায় আসে পূর্ণ শান্তি। ইবাদত বন্দেগী পালনের দ্বারা অর্জিত প্রশান্তি আমাদের মনের যাবতীয় পঙ্কিলতা ও ক্রোধ দূরীভূত করে দেয়। ইবাদতে অধিক খুশু-খুযু, বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সম্মুখে মস্তক অবনত হয়ে যায়। রোযার কারণে আমাদের যাবতীয় পেরেশানী চিন্তা-ভাবনা দুরীভূত হয়ে যায়। রোযার কারণে যেহেতু আমাদের যৌন চাহিদা হ্রাস পায়, তাই এ কারণেও আমাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না।

রোযা ও ওযুর যৌথ প্রতিক্রিয়ার যে শক্তিশালী সমন্বয় সাধিত হয়, তার দ্বারা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের এক অতুলনীয় ভারসাম্য সৃষ্টি হয়, যা সুস্থ স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে।

আভ্যন্তরীণ মাংসগ্রন্থিতে যে আরাম ও শান্তি অর্জিত হয়, তা পূর্ণরূপে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে। মানবজাতির উপর এটা আরও একটি অনুগ্রহ। মানুষের যে আবেগপ্রবণতা রমাযানের কারণে, ইবাদতের অনুগ্রহের বদৌলতে পরিচ্ছন্ন ও শান্তিকামী হয়ে থাকে, তা স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার সর্বপ্রকার অশান্তি দূরীকরণে সহায়ক হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোযার সামাজিক প্রভাব

📄 রোযার সামাজিক প্রভাব


ইসলাম আমাদের দুখীজনের লালন-পালনের পদ্ধতি শিক্ষা প্রদান করে। উদরপূর্তি থাকলে অন্যের ক্ষুধা সম্পর্কে অনুভব করা যায় না। আর পানি দ্বারা জিহবা তরতাজা থাকলে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির পিপাসার জ্বালা অনুভব করা যায় না। রোযা মুসলমানদেরকে দয়া, করুণা ও গরীব-দুঃখীর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শিক্ষা দেয়। এ সবকিছুই ইসলামি সমাজ-সভ্যতার অন্যমত অংশ। ইউরোপে দুঃখীজনদের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য অসংখ্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সেখানে তারা সর্বাধিকভাবে বঞ্চিত।

মাওসেতুং ছিল চীনের মহান নেতা। চীনের সামাজিক পরিস্থিতি তাকে ভাবিয়ে তুলল। তিনি ভাষণ প্রদান কালে বলতেন- নিজের খাবারের মধ্যে প্রতিবেশী ও সামনে উপস্থিত ব্যক্তিকেও শামিল করে নাও। নিজে ক্ষুধার্ত থেকে অন্যের ক্ষুধার জ্বালা অনুভব কর। এ শিক্ষাগুলি বস্তুত মাওসেতুং এর নয় বরং বহু পূর্বেই ইসলাম আমাদেরকে এগুলি শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম গরীব-দুঃখীদের ধর্ম। ইসলাম বিত্তবানদের নিরাপত্তা প্রদান করে। ইসলাম ধন-দৌলত অর্জনের বিরোধিতা করে না বরং তা উপার্জন ও ব্যয়ের উৎকৃষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পাকিস্তানে সার্ভে রিপোর্ট

📄 বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পাকিস্তানে সার্ভে রিপোর্ট


জার্মান, ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের একটি টিম এতৎসংক্রান্ত এক পর্যবেক্ষণের নিমিত্ত পাকিস্তান এসেছিল যে, কিভাবে রমাযানুল মুবারক মাসে (E.N.T) কান, নাক ও গলার রোগ-ব্যাধি হ্রাস পায়। উক্ত অনুসন্ধানের জন্য তারা পাকিস্তানের করাচি, লাহোর ও ফয়সালাবাদ এ তিনটি শহর নির্বাচন করেছিল। উক্ত সার্ভে রিপোর্টের সারসংক্ষেপ হল-

মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমাযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে ওযু করে। এ ওযু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক জং, ১৯৮৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00