📄 সিগমণ্ড নারায়াড (SIGMOND NARAYAD)
তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী। তার থিওরী (Theory) মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণের জন্য পথিকৃৎ। তিনি অভুক্ত থাকা ও রোযা রাখার পক্ষপাতি ছিলেন। তিনি বলেন, রোযা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্ক রোগ (Mental and Psychological) নির্মূল করে দেয়। মানব দেহে আবর্তন-বিবর্তন আছে। কিন্তু রোযাদার ব্যক্তির শরীর বারংবার বাহ্যিক চাপ (External Pressure) গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোযাদার ব্যক্তি দৈহিক খিঁচুনী (Body Congestion) এবং মানসিক অস্থিরতা (Mental Depression) এর মুখোমুখি হয় না।
📄 প্যারাসাইক্লৌজি রিসার্চ (Research of parapsychology)
জড় পদার্থের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের পর অস্থির ও আত্মহারা হয়ে আত্মহত্যাপ্রবণ জাতি পুনরায় প্রশান্তির পুষ্প অন্বেষণে একটি বাগিচা লাগাতে যাচ্ছে, যাকে বলা হয় প্যারাসাইক্লোজী।
পাশ্চাত্যের (European Scientists) চিকিৎসা বিজ্ঞান (Medical Expert) এবং মনোবিজ্ঞান (Psychologist) সম্মিলিতভাবে ইসলামি জীবনের উপর গবেষণা রিসার্চের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কেননা পাশ্চাত্য জাতি বর্তমান জীবন-যাপন ও জন্মদান সম্পর্কে হতাশাগ্রস্ত। তারা সর্বাধিক আত্মহনন, হত্যার পদক্ষেপ, সম্ভ্রমহানী, সাম্প্রদায়িকতা, অপহরণ, প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, বোমা বিস্ফোরণ, গণহত্যা, অবৈধ সন্তান তালাক ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক কাজের দিকে ধাবিত।
এখন তারা এ পাঁক-কাদা থেকে নিষ্কৃতি চায়। তারা বুঝতে পেরেছে মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম।
এক নও-মুসলিম মহিলা গুলবার্গ ডিফেন্স ও লিবার্টির গ্রন্থ দেবের পাশ্চাত্য মাসজকে বলে উঠল, আফসোস! আমি যে সমাজের প্রতি থু নিক্ষেপ করে চলে এসেছি, এরা আজ সেই কলুষিত সমাজকে চাটতে শুরু করেছে। এটি কত গুরুত্বপূর্ণ কথা! একটু চিন্তা করে দেখুন।
খ্রিস্টান মিশনারীরা এখন ইসলামি শিক্ষা গভীরভাবে অধ্যয়ন করে তার মধ্যে নিজেদের জন্য সংশোধনের পথ উন্নয়নের রাস্তা অন্বেষণে ব্যস্ত। রোযা সম্পর্কে ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণ অব্যাহত গতিতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, রোযা যেমন মানুষের দেহে নবজীবন ও উদ্যম সৃষ্টি করে, তেমনি এর দ্বারা জীবিকা (Economical) নির্বাহের দুশ্চিন্তাও দূরীভূত হয়। কেননা যখন রোগ-ব্যাধি কম হবে, তখন হাসপাতালও কম হবে। আর হাসপাতাল কম হওয়া শান্তির পরিবেশেরই আলামত।
ইউরোপীয় জাতি আজ ঘুরে ফিরে পুনরায় ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। আর আমরা তাদের অন্ধ অনুসরণ করে পশ্চাদদিকে ধাবিত হচ্ছি। একজন বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার কত সুন্দর কথাই না বলেছেন, আজকের যুব সমাজ যে ইউরোপকে আদর্শ মনে করছে, আমি তা প্রত্যক্ষ করে এসেছি। শান্তি পেতে চাও তো ইসলামের দিকে চলে আস।
প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক চিত্রনায়ক আবেদন বাট এর জীবন দেখেও তাই বোঝা যায়। যখন সে ইসলামি জিন্দেগী গ্রহণ করে, তখন তার পোশাক হয়ে যায় সুন্নত অনুযায়ী, লাঠি সুন্নত অনুযায়ী। তার কালো পাগড়ী, বাবরি চুল ও দাড়ি দেখে মনে হত, যেন একজন প্রবীণ বুযুর্গ; অথচ তার পূর্বের ইতিহাস বিশ্বাবাসীর জানা।
এখনও সময় আছে, আমরা পুনরায় সুন্নতী জিন্দেগীর দিকে ফিরে আসি। আমরা যদি বিজ্ঞানকে মেনে নিয়ে সুন্নতে নববীর উপর আমল না করি, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে মুখ দেখাব কিভাবে? তাছাড়া বিজ্ঞানকে মেনে নেওয়ার পর যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা দেওয়া পদ্ধতিসমূহ অবলম্বন করি, তাহলে এর দ্বারা পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে লাভবান হওয়া যাবে ঠিকই, কিন্তু এর দ্বারা দ্বীনী উপকারিতা তথা পুণ্য অর্জনের আশা করা বোকামি বৈ কিছুই নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা প্রমাণের জন্য কোনো দলিলের প্রয়োজন পড়ে না।
📄 এমন দিনও আসবে যখন সকল মানুষ রোযা রাখবে
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার। গণনার কয়েকটি দিনের জন্য। অধিকন্তু তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য সময়ে রোযা পূরণ করে নিতে পারবে। আর এটা যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়, তারা এর বিনিময়ে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সাথে সৎকর্ম করে, তার জন্য তা কল্যাণকর হয় আর যদি রোযা রাখ, তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণময়, যদি তোমরা বুঝতে পার।
আমরা সকলেই জানি, সূরা বাকারায় আয়াত ১৮৩ হতে ১৮৭ পর্যন্ত দীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন রোযার ব্যাপারে সবিস্তারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা ১৮৪ নং আয়াতের শেষাংশে বর্ণিত তাৎপর্যের উপর চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করব।
এ অংশে বর্ণনা করা হয়েছে, রোযা হল একটি উত্তম বস্তু, যার দ্বারা অনেক কল্যাণ অর্জিত হয়। সাথে সাথে আরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা সেই অর্জিত রহমত ও বরকতসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম হব। যদি আমরা সত্যকে জানতে পারি। মাত্র কিছুদিন পূর্বেও মনে করা হত, রোযা দ্বারা নিছক হজম প্রক্রিয়াতেই সামান্য কিছু প্রশান্তি পাওয়া যায়। দিন যত যাচ্ছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানও দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা এর আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে তাই রোযা হল এক স্বভাবগত মোজেযা। এ কারণেই পবিত্র আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, যদি তোমরা অনুধাবন করতে পার।
সুতরাং আসুন! যেভাবে আমরা প্রথম আয়াত সম্পর্কে বলেছি, এখন আমরা এর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখব কিভাবে রোযা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার সহায়ক হতে পারে।
📄 (ক) হজম প্রক্রিয়ার উপর রোযার প্রভাব
হজম প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমরা জানি, যে অঙ্গগুলি এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, সেগুলি একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেমন- মুখ ও চোয়ালের মধ্যে লালার কোষ, জিহবা, গলা, খাদ্যনালী (Alimentary Canal) পাকস্থলী, বার আঙ্গুল বিশিষ্ট অস্ত্র, যকৃতের আঠাযুক্ত পদার্থ এবং অস্ত্রের বিভিন্ন অংশ। এ পেঁচানো অঙ্গগুলি স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে কার্যকর হয়। যেমন: আমরা যখন আহার শুরু করি অথবা আহারের ইচ্ছা পোষণ করি, তখনই এগুলো সচল হয়ে ওঠে এবং প্রতিটি অঙ্গই তার নির্দিষ্ট কাজে নিয়োজিত হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় সমস্ত অঙ্গগুলি ২৪ ঘণ্টা ডিউটিরত থাকে। স্নায়ু চাপ এবং কুখাদ্য খাওয়ার ফলে তাতে একপ্রকার ক্ষয় সৃষ্টি হয়।
আর রোযা একদিকে এসব হজম প্রক্রিয়ার উপর এক মাসের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেয়। তবে এর আশ্চর্যজনক প্রভাব পড়ে যকৃতের ওপর। কেননা যকৃতের দায়িত্বে খাবার হজম করা ব্যতীত আরও পনের প্রকার কাজ রয়েছে। যেসব দায়িত্ব পালন করতে করতে যকৃত অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ফলে হজমের জন্য নির্গত পিত্তের আর্দ্র পদার্থে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং যকৃতের কাজের উপরও বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই যকৃতের বিশ্রাম দরকার।
রোযার উসিলায় যকৃত চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিশ্রাম গ্রহণ করে। যা রোযা ব্যতীত অন্য কোনোভাবেই এটা সম্ভব নয়। কেননা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর খাবার এমনকি ১ গ্রামের এক-দশমাংশও যদি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তখন হজম প্রক্রিয়ার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এ দাবি খুবই যুক্তিযুক্ত যে, যকৃতের এ অবসর গ্রহণের সময়কাল বছরে কমপক্ষে একমাস হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।
আধুনিক যুগের লোকজন যারা নিজেদের জীবনের অসাধারণ মূল্য নিরূপণ করে থাকে, তারা অনেকবার ডাক্তারী পরীক্ষা দ্বারা নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করে; কিন্তু যদি যকৃতের মধ্যে কথা বলার শক্তি অর্জিত হত, তাহলে সে নির্দ্বিধায় উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে বলত, রোযার দ্বারাই তোমরা আমার উপর বিরাট বড় করুণা করতে পার।
রোযার বরকতসমূহের মধ্যে একটি হল রক্তের রাসায়নিক ক্রিয়ার উপর প্রভাব সংক্রান্ত। যকৃতের কঠিনতর কাজের মধ্যে একটি হল হজম না হওয়া খাদ্যদ্রব্য ও হজম হওয়া খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা! তার কাজ হল প্রতি গ্রাস খাবারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বস্তুত রোযার কারণে সেই যকৃত বলবর্ধক খাবারকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। তেমনিভাবে যকৃত তার শক্তিকে রক্তের মধ্যে Globulin; (যা দেহবে হেফাযতকারী Immune সিস্টেমকে শক্তিশালী করে) সৃষ্টিতে ব্যয় করতে সক্ষম হয়। রোযা রাখার কারণে গলা ও খাদ্যনালী যে শক্তি পায়, তার মূল্য দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। মানুষের পাকস্থলী রোযার সাহায্যে যে প্রভাবগুলি অর্জন করে, তা খুবই উপকারী। এ পদ্ধতিতে পাকস্থলী থেকে নির্গত আর্দ্র পদার্থসমূহ উত্তমভাবে তার ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হয়। যার কারণে রোযা রাখাকালীন সময়ে গ্যাস জমা হতে পারে না। যদি ও সাধারণ ক্ষুধা তা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু রোযার নিয়ত ও উদ্দেশ্যের পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সৃষ্টি থেমে যায়। এর দ্বারা পাকস্থলী আঠাযুক্ত পদার্থ ও আর্দ্রতা তৈরিকারী কোষগুলি রমাযান মাসে বিশ্রাম গ্রহণ করে। যারা জীবনে কোনো দিন রোযা রাখে নি, তাদের দাবির বিপরীতে একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, রোযা বিশ্রামক্রিয়া সম্পাদন করতে পারে। রোযা অস্ত্রগুলিকেও প্রশান্তি দেয় এবং তাতে শক্তি সঞ্চার করে। রোযার দ্বারা সুস্থ আর্দ্র পদার্থ সৃষ্টি ও পাকস্থলীর আঠাযুক্ত পদার্থের নড়াচড়া হয়ে তাকে। এভাবে আমরা রোযা দ্বারা অসংখ্য রোগ-ব্যাধির আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি।