📄 গান্ধিজীর বাসনা
গান্ধিজীর ক্ষুধার্ত থাকার ব্যাপারটা খুব প্রসিদ্ধ। জনাব ফিরোজ রাজ গান্ধীর জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি ছিলেন রোযা রাখার পক্ষপাতী। তিনি বলতেন, মানুষ খেয়ে খেয়ে নিজের শরীরকে অলস বানিয়ে ফেলে। এ অলস শরীর না জগৎবাসীর আর না মহারাজের। যদি তোমরা শরীরকে সতেজ ও সচল রাখতে চাও, তাহলে শরীরকে দাও তার ন্যূনতম আহার আর পূর্ণ দিবস রোযা রাখ। সন্ধ্যাবেলা বকরির দুগ্ধ দ্বারা রোযা খোল। (দাস্তানে গান্ধী বিশেষ সংখ্যা)
📄 অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিস্ময়
প্রফেসর মুর পাল্ড দিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিচিত নাম। তিনি তার আত্মজীবনীতে লিখেন, আমি বহু ইসলামি বইপত্র অধ্যয়ন করেছি। যখন রোযার অধ্যায়ে পৌঁছলাম, তখন আমি বিস্মিত হলাম যে, ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এক মহৎ ফর্মুলা শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম যদি শুধু রোযার ফর্মুলাই শিক্ষা দিত, তা হলেও এর চেয়ে উত্তম আর কোনো নেয়ামত তাদের জন্য হত না।
আমি একবার চিন্তা করলাম, ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। সুতরাং আমি মুসলমানদের পদ্ধতিতে রোযা রাখা শুরু করে দিলাম। আমি দীর্ঘদিন যাবত পেটের ফোলা (Stomach Inflammation) রোগে আক্রান্ত ছিলাম। অল্পদিন পরেই অনুভব করলাম, রোগ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। আমি রোযার অনুশীলন অব্যাহত রাখলাম। কিছুদিনের মধ্যে শরীরে আমূল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করলাম। এভাবে চলতে থাকলে দেখতে পেলাম, আমার শরীর স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ একমাস পর শরীরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
📄 পোপ এলফ গাল এর গবেষণা (P.E.G.'S ANALYSIS)
পোপ এলফ গাল ছিলেন হল্যাণ্ডের একজন নামকরা বড় পাদ্রী। রোযা সম্পর্কে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমি আমার অনুসারীদের প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ কর্মপদ্ধতিতে দৈহিক ও পরিমাপিক সমন্বয় অনুভব করেছি। আমার রোগীরা বারংবার আমাকে জোর দিয়ে বলেছে, আমাকে আরও কিছু পদ্ধতি বলে দিন, কিন্তু আমি নীতি বানিয়ে দিয়েছি যে, দূরারোগ্য রোগীদের প্রতিমাসে তিনদিন নয় বরং পূর্ণ একমাস রোযা রাখার নির্দেশ দিব। আমি ডায়াবেটিস (Diabetes), হৃদরোগ (Heart Diseases) ও পাকস্থলী রোগে (Stomach Diseases) আক্রান্ত রোগীদেরকে পূর্ণ একমাস রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
এ পদ্ধতি অবলম্বনে ডায়াবেটিস রোগের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাদের সুগার কন্ট্রোল হয়ে গেছে। হৃদরোগীদের অস্থিরতা ও শ্বাস স্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে পাকস্থলীর রোগীরা।
📄 ডা. লুথরজেম অব ক্যামব্রিজ
তিনি ছিলেন একজন ফারমাকোলোজী (Pharmacology) বিশেষজ্ঞ। প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে দেখা ছিল তার স্বভাবগত ব্যাপার। একবার তিনি ক্ষুধার্ত মানুষ (রোযাদার)-এর পাকস্থলীর আর্দ্র পদার্থ (Stomach Secretion) নিয়ে তার ল্যাবরেটরীতে টেস্ট করেছিলেন। পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পেলেন, তাতে সেই খাদ্যের দুর্গন্ধময় উপাদান (Food Particles Septic) যার দ্বারা পাকস্থলী রোগ-ব্যাধি গ্রহণ করে, তা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। মি. লুথর বলেন, রোযা শারীরিক রোগ-ব্যাধি বিশেষভাবে পাকস্থলীর রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির গ্যারান্টি।