📄 সিকান্দার আযম ও আরাসতু
সিকান্দার আযম ও আরাসতু একাধারে উপবাস থাকাকে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। বাদশা সেকান্দার বলেন, আমার পুরা জীবনটা অতিবাহিত হয়েছে অভিজ্ঞতা ও ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, যে ব্যক্তি সকাল আর সন্ধ্যায় আহার করবে, সে রোগমুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারবে। আমি হিন্দুস্থানে কোনো কোনো এলাকাতে এমন তীব্র গরম প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে সবুজ তরুলতা পর্যন্ত জ্বলে গিয়েছে। অথচ আমি সেই উষ্ণ এলাকাতেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার না করেই কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তখনও আমি অনুভব করেছি নিজের মধ্যে এক প্রকার সজীবতা ও শক্তি। (সিকান্দার আযম, কৃত-মাহফুজুর রহমান)
📄 গান্ধিজীর বাসনা
গান্ধিজীর ক্ষুধার্ত থাকার ব্যাপারটা খুব প্রসিদ্ধ। জনাব ফিরোজ রাজ গান্ধীর জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি ছিলেন রোযা রাখার পক্ষপাতী। তিনি বলতেন, মানুষ খেয়ে খেয়ে নিজের শরীরকে অলস বানিয়ে ফেলে। এ অলস শরীর না জগৎবাসীর আর না মহারাজের। যদি তোমরা শরীরকে সতেজ ও সচল রাখতে চাও, তাহলে শরীরকে দাও তার ন্যূনতম আহার আর পূর্ণ দিবস রোযা রাখ। সন্ধ্যাবেলা বকরির দুগ্ধ দ্বারা রোযা খোল। (দাস্তানে গান্ধী বিশেষ সংখ্যা)
📄 অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিস্ময়
প্রফেসর মুর পাল্ড দিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিচিত নাম। তিনি তার আত্মজীবনীতে লিখেন, আমি বহু ইসলামি বইপত্র অধ্যয়ন করেছি। যখন রোযার অধ্যায়ে পৌঁছলাম, তখন আমি বিস্মিত হলাম যে, ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এক মহৎ ফর্মুলা শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম যদি শুধু রোযার ফর্মুলাই শিক্ষা দিত, তা হলেও এর চেয়ে উত্তম আর কোনো নেয়ামত তাদের জন্য হত না।
আমি একবার চিন্তা করলাম, ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। সুতরাং আমি মুসলমানদের পদ্ধতিতে রোযা রাখা শুরু করে দিলাম। আমি দীর্ঘদিন যাবত পেটের ফোলা (Stomach Inflammation) রোগে আক্রান্ত ছিলাম। অল্পদিন পরেই অনুভব করলাম, রোগ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। আমি রোযার অনুশীলন অব্যাহত রাখলাম। কিছুদিনের মধ্যে শরীরে আমূল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করলাম। এভাবে চলতে থাকলে দেখতে পেলাম, আমার শরীর স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ একমাস পর শরীরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
📄 পোপ এলফ গাল এর গবেষণা (P.E.G.'S ANALYSIS)
পোপ এলফ গাল ছিলেন হল্যাণ্ডের একজন নামকরা বড় পাদ্রী। রোযা সম্পর্কে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমি আমার অনুসারীদের প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ কর্মপদ্ধতিতে দৈহিক ও পরিমাপিক সমন্বয় অনুভব করেছি। আমার রোগীরা বারংবার আমাকে জোর দিয়ে বলেছে, আমাকে আরও কিছু পদ্ধতি বলে দিন, কিন্তু আমি নীতি বানিয়ে দিয়েছি যে, দূরারোগ্য রোগীদের প্রতিমাসে তিনদিন নয় বরং পূর্ণ একমাস রোযা রাখার নির্দেশ দিব। আমি ডায়াবেটিস (Diabetes), হৃদরোগ (Heart Diseases) ও পাকস্থলী রোগে (Stomach Diseases) আক্রান্ত রোগীদেরকে পূর্ণ একমাস রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
এ পদ্ধতি অবলম্বনে ডায়াবেটিস রোগের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাদের সুগার কন্ট্রোল হয়ে গেছে। হৃদরোগীদের অস্থিরতা ও শ্বাস স্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে পাকস্থলীর রোগীরা।