📄 এক আমেরিকান অমুসলমানের ঘটনা
জনৈক আমেরিকান ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে সে আমাকে বলল, আমি রোযা রাখি। আমি তাকে বললাম- তুমি তো অমুসলিম। তুমি কেন রোযা রাখ? সে বলল, আমার রোযা রাখার কারণ হল, বছরে কিছু সময় মানুষের জন্য এমনভাবে অতিবাহিত করা উচিত, যেন সে ডায়েটিং করে তার হজমপ্রক্রিয়াকে (Digestive System) কিছু সময়ের জন্য অবসর রাখে। এভাবে তার মধ্যে বিদ্যমান আর্দ্রতা, যা সময় সাপেক্ষে বিষে (Poison) পরিণত হয়ে যায়, রোযা রাখার দ্বারা তা নিঃশেষ হয়ে যায়। আর এ মারাত্মক আর্দ্রতা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক জটিল জটিল রোগ নিঃশেষ হয়ে যায়। এভাবেই হজমপ্রক্রিয়া পূর্ব অপেক্ষা শক্তিশালী হয়ে উঠে। এ কারণে আমরা স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা প্রতি মাসে রোযা রেখে “ডায়েটিং” (Dieting) করব। আমি বললাম, আমাদের দীন ইসলাম আমাদেরকে এ পদ্ধতিতে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছে, প্রতি মাসে আইয়ামে বীযের তিনটি রোযা রাখবে। বিশেষ করে অবিবাহিত লোকজন। কেননা এতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা (Discipline) সংযম ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তা কুপ্রবৃত্তি দমনে সহায়ক হয়। (মাওয়ায়েযে নকশবন্দী)
📄 সিকান্দার আযম ও আরাসতু
সিকান্দার আযম ও আরাসতু একাধারে উপবাস থাকাকে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। বাদশা সেকান্দার বলেন, আমার পুরা জীবনটা অতিবাহিত হয়েছে অভিজ্ঞতা ও ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, যে ব্যক্তি সকাল আর সন্ধ্যায় আহার করবে, সে রোগমুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারবে। আমি হিন্দুস্থানে কোনো কোনো এলাকাতে এমন তীব্র গরম প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে সবুজ তরুলতা পর্যন্ত জ্বলে গিয়েছে। অথচ আমি সেই উষ্ণ এলাকাতেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার না করেই কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তখনও আমি অনুভব করেছি নিজের মধ্যে এক প্রকার সজীবতা ও শক্তি। (সিকান্দার আযম, কৃত-মাহফুজুর রহমান)
📄 গান্ধিজীর বাসনা
গান্ধিজীর ক্ষুধার্ত থাকার ব্যাপারটা খুব প্রসিদ্ধ। জনাব ফিরোজ রাজ গান্ধীর জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি ছিলেন রোযা রাখার পক্ষপাতী। তিনি বলতেন, মানুষ খেয়ে খেয়ে নিজের শরীরকে অলস বানিয়ে ফেলে। এ অলস শরীর না জগৎবাসীর আর না মহারাজের। যদি তোমরা শরীরকে সতেজ ও সচল রাখতে চাও, তাহলে শরীরকে দাও তার ন্যূনতম আহার আর পূর্ণ দিবস রোযা রাখ। সন্ধ্যাবেলা বকরির দুগ্ধ দ্বারা রোযা খোল। (দাস্তানে গান্ধী বিশেষ সংখ্যা)
📄 অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিস্ময়
প্রফেসর মুর পাল্ড দিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিচিত নাম। তিনি তার আত্মজীবনীতে লিখেন, আমি বহু ইসলামি বইপত্র অধ্যয়ন করেছি। যখন রোযার অধ্যায়ে পৌঁছলাম, তখন আমি বিস্মিত হলাম যে, ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এক মহৎ ফর্মুলা শিক্ষা দিয়েছে। ইসলাম যদি শুধু রোযার ফর্মুলাই শিক্ষা দিত, তা হলেও এর চেয়ে উত্তম আর কোনো নেয়ামত তাদের জন্য হত না।
আমি একবার চিন্তা করলাম, ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। সুতরাং আমি মুসলমানদের পদ্ধতিতে রোযা রাখা শুরু করে দিলাম। আমি দীর্ঘদিন যাবত পেটের ফোলা (Stomach Inflammation) রোগে আক্রান্ত ছিলাম। অল্পদিন পরেই অনুভব করলাম, রোগ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। আমি রোযার অনুশীলন অব্যাহত রাখলাম। কিছুদিনের মধ্যে শরীরে আমূল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করলাম। এভাবে চলতে থাকলে দেখতে পেলাম, আমার শরীর স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ একমাস পর শরীরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।