📄 রোযার পার্থিব উপকারিতা
ইসলাম রোযাকে মুমিনের জন্য রোগমুক্তি বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ সম্পর্কে বিজ্ঞানের বক্তব্য কি? নিচে এ সম্পর্কে কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হল।
📄 ফ্রান্সে ইহুদিদের রোযা রাখার ঘটনা
একবার আমি ফ্রান্স গিয়েছিলাম। সেখানে আমার এক বন্ধু বলল, রমাযান মাস এসেছে। আমাকে রোযা রাখতে হবে। তারাবীহ পড়তে হবে। আমি আমার প্রফেসরকে বললাম, আমাকে ছুটি দিন। তিনি বললেন- কেন? আমি বললাম, তারাবীহ নামায পড়ার জন্য। তিনি বললেন : তাতে তোমার আবার ছুটির কি প্রয়োজন? আমি বললাম, এসব ইবাদত পালনের জন্য আমাকে অনেক দূরে অমুক স্থানে যেতে হবে। তাই প্রত্যহ যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এখানে এমন কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিচ্ছি। যাদের মুখে দাড়ি, মাথায় পাগড়ী, পরনে জুব্বা, মিস্তয়াক শেষে ওযু করে আযান দিচ্ছে, নামায আদায় করছে, একজন সকলের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করছে। আর পিছনে সকলে তা শ্রবণ করছে। আরও মজার ব্যাপার হল, তারা পুরা মাস রোযাও পালন করছে। তাছাড়া তারা ইতিকাফেও বসেছে। সকাল-সন্ধ্যা, সাহরী-ইফতারীও দস্তুর মতো আদায় হচ্ছে।
তাঁর কথা শুনে আমি ঠিকানা নিয়ে তাদের সাথে মিলিত হয়ে পুরা রমাযান মাস কাটালাম ও সবশেষে আমি ঈদের নামায আদায় করে ফিরে এলাম। পরবর্তী সময়ে আমি প্রফেসর সাহেবকে বললাম- জনাব! আপনার বড় অনুগ্রহ। আপনি আমাকে এমন বুযুর্গ লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছেন। আমার রমাযান মাস অত্যন্ত আনন্দের সাথে কেটেছে।
একথা শুনতেই প্রফেসর সাহেব মুচকি হাসলেন। আমি বললাম, ব্যাপার কি স্যার? তিনি বললেন: তুমি কি জান, এরা কারা? এরা সবাই ছিল ইহুদি। আমি বললাম, বলেন কী! তা তো আমি জানতে পারি নি। তিনি বললেন, তারা সকলে এ প্রজেক্টের আওতায় কাজ করছে যে, ইসলামের মুসলিম সম্প্রদায় একাধারে একমাস রোযা রাখে; আমরাও তদ্রুপ করে দেখব যে এর মধ্যে কল্যাণকর কি রয়েছে? যদি কল্যাণকর কিছু থাকে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে মুসলমান হয়ে যাব। (উলামায়ে কিরামকী যিম্মাদারীয়া)
📄 এক আমেরিকান অমুসলমানের ঘটনা
জনৈক আমেরিকান ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে সে আমাকে বলল, আমি রোযা রাখি। আমি তাকে বললাম- তুমি তো অমুসলিম। তুমি কেন রোযা রাখ? সে বলল, আমার রোযা রাখার কারণ হল, বছরে কিছু সময় মানুষের জন্য এমনভাবে অতিবাহিত করা উচিত, যেন সে ডায়েটিং করে তার হজমপ্রক্রিয়াকে (Digestive System) কিছু সময়ের জন্য অবসর রাখে। এভাবে তার মধ্যে বিদ্যমান আর্দ্রতা, যা সময় সাপেক্ষে বিষে (Poison) পরিণত হয়ে যায়, রোযা রাখার দ্বারা তা নিঃশেষ হয়ে যায়। আর এ মারাত্মক আর্দ্রতা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক জটিল জটিল রোগ নিঃশেষ হয়ে যায়। এভাবেই হজমপ্রক্রিয়া পূর্ব অপেক্ষা শক্তিশালী হয়ে উঠে। এ কারণে আমরা স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা প্রতি মাসে রোযা রেখে “ডায়েটিং” (Dieting) করব। আমি বললাম, আমাদের দীন ইসলাম আমাদেরকে এ পদ্ধতিতে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছে, প্রতি মাসে আইয়ামে বীযের তিনটি রোযা রাখবে। বিশেষ করে অবিবাহিত লোকজন। কেননা এতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা (Discipline) সংযম ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তা কুপ্রবৃত্তি দমনে সহায়ক হয়। (মাওয়ায়েযে নকশবন্দী)
📄 সিকান্দার আযম ও আরাসতু
সিকান্দার আযম ও আরাসতু একাধারে উপবাস থাকাকে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। বাদশা সেকান্দার বলেন, আমার পুরা জীবনটা অতিবাহিত হয়েছে অভিজ্ঞতা ও ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, যে ব্যক্তি সকাল আর সন্ধ্যায় আহার করবে, সে রোগমুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারবে। আমি হিন্দুস্থানে কোনো কোনো এলাকাতে এমন তীব্র গরম প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে সবুজ তরুলতা পর্যন্ত জ্বলে গিয়েছে। অথচ আমি সেই উষ্ণ এলাকাতেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার না করেই কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তখনও আমি অনুভব করেছি নিজের মধ্যে এক প্রকার সজীবতা ও শক্তি। (সিকান্দার আযম, কৃত-মাহফুজুর রহমান)