📄 বিছানাপত্র ঝাড়ু দেওয়া
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয়নে গমনের পূর্বে বিছানা ও আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র ঝাড়ু দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (রাহবারে জিন্দেগী) এমন সুন্দর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কোনো ধর্মে আছে বলে মনে হয় না।
📄 এক ব্যক্তির ঘটনা
শীতকালে কোনো এক ব্যক্তির বিছানার মধ্যে তাপ পাওয়ার জন্য একটি সাপ ঢুকে পড়ে। ঝাড়ু না দিয়ে সেও উক্ত বিছানায় শয়ন করে। এর মধ্যে সাপ তাকে দংশন করে। ফলে সে মারা যায়। এভাবে জীবনে বহু বিপদজনক ঘটনা ঘটে যায়। তাই মহাদার্শনিক ও দূরদর্শী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সকল দিক থেকে শান্তি ও নিরাপদ থাকার জন্য বিছানাপত্র উত্তমরূপে ঝাড়ু দিতে হুকুম দিয়েছেন। এরূপ করলে পোকামাকড়, বিচ্ছু, কীট-পতঙ্গ, সাপ ইত্যাদি কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না।
📄 পেশাবদানী
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চৌকির নিচে একটি পেশাব করার পাত্র (হাজতী) রাখা হত। রাতে তিনি তার মধ্যে পেশাব করতেন। (রাহবারে জিন্দেগী)
এটাচ বাথ (ঘর সংলগ্ন শৌচাগার) রাখার পিছনে ইউরোপীয়রা কারণ দর্শিয়েছে যে, শীতকালে মানুষ পেশাব-পায়খানা করতে গৃহের গরম বিছানা ছেড়ে (যার ভিতর শয়ন করা হয়) বাইরে গেলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগে। ফলে পক্ষাঘাত রোগ, মুখের অর্ধাঙ্গ রোগ, জোড়াসমূহের ব্যথা ইত্যাদি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়। সে জন্য এমন ব্যবস্থা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জরুরি। 'হাজতী' অনুরূপ একটা বাথরুমের মতো। স্বাস্থ্য রক্ষামূলক' এ ব্যবস্থাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বের মুসলমান জাতিকে দেখিয়েছেন।
প্রকাশ থাকে যে, তাফসীরকারকগণ উক্ত বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন। কারও কারও মতে হতে পারে বিশেষ প্রয়োজনে তিনি এমন করেছেন অথবা প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এরূপ ব্যবস্থা অবলম্বন করতেন। (রাহবরে জিন্দেগী)
📄 পানির পাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখা
মশক তথা বর্তমান কলস, ঘড়া, বালতি ইত্যাদির মুখ খুলে রাখলে ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর পাত্রের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। এমন ক্ষতির আশঙ্কায় পাত্রের মুখ বেঁধে রাখা দরকার।
এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বনের পূর্বাভাষ দিয়েছে।এ ছাড়াও বদনার নালীর মুখে মুখ রেখে পানি পান করতেও নিষেধ করেছে। কেননা এতে ক্ষতিকর প্রাণী মুখের মধ্যে চলে যেতে পারে। এ সতর্কতাই আজকের আধুনিক জীবন যাত্রায় একটি নতুন সংযোজন ও সমাদৃত অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে।