📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গুরুত্ব ও তাৎপর্য

📄 গুরুত্ব ও তাৎপর্য


সাহাবাগণের মধ্যে একজনও স্বপ্নদোষের শিকার হয় নি। কারণ, তারা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকতময় তরীকা ও আদর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম করতেন। তাই আসুন! আমরা আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসার আলোকে আলোচনা করি এবং খতিয়ে দেখি এসব বরকতময় পন্থা বর্তমান মানব জীবনের জন্য উপকারী ও প্রযোজ্য কি না ?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ডান পার্শ্বে শয়ন করা

📄 ডান পার্শ্বে শয়ন করা


হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান পার্শ্বে কিবলা মুখী হয়ে বিশ্রাম করতেন। (উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম) মানব দেহের মধ্যে হার্ট বাম দিকে থাকে। সুতরাং বাম পাশে কাত হয়ে শয়ন করলে নিম্নের ক্ষতি ও বিপদসমূহ দেখা দেয়:

হার্টের মধ্যে রোগ-ব্যাধি পয়দা হয়। কারণ, বাম পাশে শয়ন করলে পাকস্থলী ও নাড়ীভুঁড়ির চাপ তার উপর পড়ে। ফলে রক্তের প্রবাহ ও হার্টের তৎপরতা হ্রাস পায়। ডা. কারশান লাল শর্মা নিদ্রার ব্যাপারে বোম্বে হাসপাতালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : যেসব রোগীকে সর্বদা ডান পাশে শয়ন করানো হয়, তাদের রোগ অতিদ্রুত আরোগ্য হয়। পক্ষান্তরে যেসব রোগীকে বাম পাশে শয়ন করানো হয়, তাদের রোগ নিরাময় হয় না।

অত্যাধুনিক গবেষণা দ্বারা একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ডান পাশে শয়ন করলে হার্ট ও পাকস্থলীর যাবতীয় রোগ-ব্যাধির আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এমনকি অজ্ঞান ও বিরামহীন অজ্ঞান হওয়া থেকেও নিরাপদ থাকা সম্ভব। মাদারেজুন নবুওয়াহ কিতাবের লেখক এর হেকমত প্রসঙ্গে লিখেছেন: বাম দিকে যেহেতু হার্ট থাকে, সেহেতু সোদকে নিদ্রা গেলে গভীরভাবে ঘুম আসে। এমনকি কোনো অনুভূতি পর্যন্ত থাকে না। হালকা আঘাত করলেও জ্ঞান ফিরে না। চোখ খোলে না। সুতরাং এমন সীমাতিরিক্ত ঘুম প্রশংসনীয় নয়। পক্ষান্তরে ডান পাশে ঘুমালে হার্ট চাপ মুক্ত থাকে। গভীর ঘুম আসে না। সূক্ষ্ম আঘাতে নিদ্রা ভেঙ্গে যায়। চোখ খোলা সহজ হয়। সকালে সহজে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া যায়। এজন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে যেতেন, তখন হাত খাঁড়া করে তালুর উপর মাথা রেখে ঘুমাতেন, যেন গভীর নিদ্রা না আসে এবং ফজরের নামায কাযা না হয়। এভাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করতেন।

রেলিং (বেড়া) বিহীন ছাদের উপর শয়ন করা নিষেধ। অনেক রাতে নিদ্রা ভাঙার পর (অথবা পেশাবের প্রয়োজনে জাগার সময়) চোখে ঘুম ঘুম ভাব থাকার কারণে অন্ধকারে দিশা না পেয়ে বেড়া বিহীন ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন সতর্কতা বর্তমান বিশ্বে সচরাচর করা হয় না। কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে এ বিষয়ে সংকেত দিয়ে গেছেন। মানুষ সম্প্রতি সতর্কতার জন্য ছাদের চারিপাশে গ্রীলের বেড়া লাগিয়ে নিচ্ছে। অথচ বহুকাল পূর্ব থেকেই দীন ইসলাম এমন প্রতিরোধক দেওয়াল লাগানোর প্রবক্তা ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উপুড় হয়ে শয়ন করা

📄 উপুড় হয়ে শয়ন করা


• নবীজী বলেছেন, উপুড় হয়ে শয়ন করো না। উপুর হয়ে শয়ন করলে হজম ও সংশ্লিষ্ট অংশ বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। এর প্রথম চাপ মাথার উপর পড়ে। তখন মাথার স্নায়ুগুলো নিজস্ব প্রবাহ ও গতি থেকে বিপরীতমুখী হয়ে যায়। ফলে মানুষ ভীতিকর স্বপ্ন দেখে। অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীদের মতে এমন মানুষের জীবনের মোড় বিপরীত দিকে যেতে পারে। ফলে সে উল্টা ও উদ্ভট চিন্তাশীল (পাগলপারার মতো) মানুষে পরিণত হয়ে যায়। এমনভাবে শয়ন করাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগল হয়ে যাওয়ার কারণ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইমাম গাযালী রহ. উপুর হয়ে শয়ন করাকে আহমকের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাদীসে আছে, শয়তান এভাবে শয়ন করে। এমন উল্টাভাবে শয়নকারী ব্যক্তির সাথে শয়তান অপকর্ম (ব্যভিচার) করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অধিক ঘুম নিষিদ্ধ

📄 অধিক ঘুম নিষিদ্ধ


অধিক সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে হাদীস শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। অতিমাত্রায় নিদ্রা গমন করলে শরীরে শক্তি থাকে না। অবসাদ, ক্লান্তি ও দূর্বলতা আসে। দৈনন্দিন কাজ-কর্মে ক্ষতি হয়। সাথে সাথে ধর্মীয় কাজেও দ্রুত ঘাটতি দেখা দেয়। অধিক শয়নে মৃগী রোগ, যৌন রোগ, হিস্টিরিয়াস, স্বপ্নদোষ ইত্যাদি দেখা দেয়। চোখের রোগ বিশেষ করে চোখের পাতা ফুলে যায়।
অধিক ঘুম স্বপ্নদোষে অভ্যস্ত ব্যক্তির জন্য ঘাতক বিষ থেকেও মারাত্মক। লক্ষণীয় যে, জাপানের লোকেরা কম ঘুমায়। তাই তারা বিশ্বে উন্নতির শীর্ষে আরোহণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00