📄 চুষে পানি পান করা
• রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, চুষে চুষে পানি পান করো। ঘটঘট করে পান করো না।
জনৈক ব্যক্তি বলেন- একবার আমরা মরুভূমিতে গেলাম। সেখানে রৌদ্রের প্রখরতায় পিপাসার কষ্ট শুরু হল। কিন্তু সেখানে পানি পাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি বাড়ী পাওয়া গেল। সেখানে আমরা উপস্থিত হয়ে কিছু পানি প্রার্থনা করলাম। ভিতর থেকে এক বৃদ্ধ লোক একটি মাটির পাত্রে করে পানি দিলেন বটে; কিন্তু তাতে মধ্যে ভূষি ছড়িয়ে দিলেন। এদিকে পানি পিপাসায় আমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। পানি তো পান করতেই হবে। তাই প্রথমে ছোট ছোট ঢোক পান করলাম। পরে বৃদ্ধকে পানিতে ভূষি দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি উত্তর দিলেন: আপনারা এত কঠিন পিপাসায় ছিলেন যে, যদি আমি পরিষ্কার পানি দিতাম আর আপনারা তৎক্ষণাৎ ঘটঘট করে পান করতেন, তবে কঠিন বিপদ ও কষ্টে পড়ে যেতেন। ইতোপূর্বে আমরা এভাবে পানি দিয়ে দেখেছি, কয়েকটি লোক কঠিন পিপাসায় ঘটঘট্ করে পানি পান করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। আমরা যদি বড় বড় শ্বাসে ঘটঘট করে পানি পান করি, তবে খাদ্যনালী থেকে পানি শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটিয়ে ভীষণ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সুতরাং পানি চুষে চুষে পান করলে মুখের মধ্যে যেসব খাদ্য বেঁধে থাকে, তা সহজে ছুটে যায় এবং দাঁতের গোড়া পরিষ্কার হয়ে যায়। তা না হলে ওই কণাসমূহ দাঁতে জড়িয়ে পঁচে গলে মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
📄 পানি দেখে পান করা
• মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বদা দেখার পর পানি পান করবে।
জনৈক ব্যক্তি সেনাবাহিনীর একজন অডিট ইন্সপেক্টর ছিলেন। আমি তার সাথে কোনো এক সফরে ছিলাম। তিনি তার সাথে খুব হালকা সাদা একপ্রকার কাপড় রাখতেন। রাতে যখন পানি পান করতেন, তখন গ্লাসে পানি নিয়ে তার উপর ওই কাপড় রাখতেন। তারপর চুষে চুষে পানি পান করতেন। কারণ, জিজ্ঞাসা করলে বলতেন- পানিতে ময়লা বা পোকামাকড় থাকলে তাতে আটকে যাবে। ফলে পেটের ভিতর যেতে পারবে না।
সচরাচর পানিতে এমন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ থাকতে পারে, যা পেটের অভ্যন্তরে ঢুকে যকৃত, পাকস্থলী, প্লীহা ইত্যাদিকে অকার্যকর ও নষ্ট করে দিতে পারে। কিছু ক্ষুদে পোকা (প্যারা সাইটস)-এর পানি দেখে পান না করলে পানির সাথে পেটের ভিতর প্রবেশ করতে পারে। পানির মধ্যে বিচ্ছুর বাচ্চা থাকে এবং তা পেটের ভিতর চলে গেলে কি অবস্থা ঘটবে?
একবার মুলতান শহরের নিশতার হাসপাতালে এক নবীন যুবককে অপারেশন করা হয় এবং পাকস্থলী থেকে একটি কেঁচো বের করা হয়। ডাক্তার বলেন, পানির সাথে এটি ভিতরে চলে গিয়েছিল। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহা মূল্যবান প্রতিটি সুন্নত সফলতা ও বিপদ মুক্তির এক একটি বিরাট হাতিয়ার।
📄 বসা অবস্থায় পানি পান না করা
বসা অবস্থায় পানি পান করলে পানি দেহের চাহিদা মতো সর্বত্র পৌছে যায়। তবে বেশি পানি পান করলে এবং শরীরের চাহিদা থেকে অতিরিক্ত হলে অকিমা (Ockema) নামক মারাত্মক পানিরোগ হতে পারে। ফলে সমস্ত শরীর ফুলে যাবে।
📄 দাঁড়িয়ে পানি পান করা
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পাকস্থলী ও যকৃতে এমন মারাত্মক রোগ পয়দা হয়, যা চিকিৎসকগণ নিরাময় করতে অনেক সময় অপারগ হয়ে পড়েন। তদ্রুপ দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পায়ে ফোলা রোগ হওয়ার ভয় থাকে। সুতরাং পা ফুলে গেলে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তা ছড়িয়ে যেতে পারে। অনুরূপ দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করলে ইস্তিসকা নামক পানিরোগ হতে পারে।