📄 খাওয়ার পর হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা
ইসলামী শরী'আতের বিধান হল খাওয়া-দাওয়ার পর হাত ধৌত করবে এবং কাপড়ে হাত মুছবে। হাদীস শরীফে আছে-
"কেউ রাতে খাদ্য গ্রহণের পর হাত না ধৌত করলে এবং কোনো পোকা মাকড় তাকে কামড়ালে (ক্ষতি করলে) আমাদের কোনো জিম্মাদারী নেই”।
অর্থাৎ হাতে তরকারি বা মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকলে এবং ইঁদুর ছুঁছা ইত্যাদি কামড়ালে হাত জখম হয়ে যাবে। এর ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্টের শিকার হতে হবে।
খাদ্য গ্রহণের পর হাতে খাদ্যের কিছু অংশ লেগে থাকে। তাই তা ধৌত না করলে যেখানে যেখানে লাগবে, সেখানে ওই খাদ্যবস্তু মিশে যাবে। ফলে ওই সব স্থানে পঁচা-গলা শুরু হবে এবং অসংখ্য রোগব্যাধি বিস্তার লাভ করবে।
কাপড় দিয়ে হাত মুছতে বলা হয়েছে এজন্য যে, হাতের মধ্যে অনেক সময় মসলা ও তৈল জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে। কাপড় দ্বারা মুছলে এসব পরিষ্কার হয়ে যায়। মোটকথা, দীন (ইসলাম) হল ধারাবাহিক সতর্কতা ও উপকার লাভের একটি মাধ্যম।
📄 খাদ্যগ্রহণের পরপরই পানি পান না করা
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাওয়ার পরপরই পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (মাদারিজুন্ নবুওয়াত)
📄 ডাক্তার কর্ণেল চোপড়া ও ইসলামি বিধান
ডা. কর্ণেল চোপড়া একজন হিন্দু বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি কয়েকটি বইও রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি দীর্ঘ গবেষণার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, খাওয়ার পর পানি পান করলে পাকস্থলীর রগগুলো ঢিলা হয়ে যায়। এর ভিতরের ঝিল্লী ফুলে যায় এবং হজমশক্তি হ্রাস পায়।
সুতরাং অধিকাংশ সময় পানি পাকস্থলীতে রোগ জন্ম দেয়। তা থেকে আবার হার্টের রোগ দেখা দেয়। এরই মধ্যে আমার একজন মুসলমান অধ্যাপকের সাথে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। তিনি বললেন, আপনার গবেষণা প্রশংসনীয় বটে; কিন্তু এ গবেষণা নতুন কোনো গবেষণা নয় বরং চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মহা সত্যটি প্রকাশ করে দিয়েছেন।
আমি তার এ দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলে তিনি হাদীসের গ্রন্থসমূহের মধ্যে এ কথা আমাকে দেখিয়েছেন।
📄 খাদ্যগ্রহণের পরপরই শয়ন করা
খাদ্য খেয়েই শয়ন করা মূলত রোগ-ব্যাধিকে ডেকে নিয়ে আসে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদ্য খাওয়ার পরপরই শয়ন করতে নিষেধ করেছেন। (যাদুল মা'আদ)
খাওয়ার সাথে সাথে পাকাশয় তার পরিপাক ক্রিয়া শুরু করে দেয়। মানুষ শয়ন করলে পাকস্থলীও শয়ন করে। পূর্বের মতো কর্মতৎপর থাকে না। পাকস্থলীর কর্মতৎপরতা মানব দেহের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।
জীব-বিজ্ঞান ও দেহ-বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের যাবতীয় বইপত্রে এ বিষয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তারা বলেন, খাওয়ার পর শরীরের কর্মতৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পাকাশয়ে জমা হওয়া খাদ্য পঁচে যায় এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ উৎপন্ন হয়।
পেটের মধ্যে গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার একমাত্র কারণ, খাওয়ার পরপরই শয়ন করা। মানুষ সাধারণত দুনিয়ার বিস্তৃত কর্মশালায় বিভিন্ন কাজে মগ্ন হওয়ার পর যখন ঘরে প্রত্যাবর্তন করে, তখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে যায়। সেজন্য খাবার খেয়েই শয়ন করে। অথচ খাদ্য যেমন গতিতে হজম হওয়া দরকার, তা সঠিকভাবে হয় না। সে অনিয়ম ও অসাবধানতার কারণে সুগার, হার্টেররোগ, পাকস্থলীর রোগ, প্যারালাইসিস ইত্যাদি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়।