📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা
ফিকাহ বিশেষজ্ঞগণ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন : যেসব খাদ্যকণা খিলাল ব্যতীত বের হয়, তা গিলে ফেলা শ্রেয়। আর যা খিলাল করে বের করা হয় তা ফেলে দেওয়া উচিত। পরিতাপের বিষয় হল, ইসলাম মানুষের জীবনকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার জন্যে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেই শিক্ষা থেকে মানুষ যোজন যোজন দূরে সরে পড়েছে। ফলে আমাদের কাছে দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও হতাশা আর অশান্তি আমাদের জীবনকে গ্রাস করছে। তাই যখন কারও কাছে এ শিক্ষা এবং দীনী জীবন পেশ করা হয়, তখন সে বিস্ময়কর ভঙ্গিতে বলে, “দীন কি এতই বিস্তৃত এবং ইসলাম কি এটাও আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে ?” ইত্যাদি।
খিলাল ব্যতীত যে খাদ্যকণা বের হয়, তা অন্যান্য খাদ্যবস্তুর মতো। সুতরাং তা খাওয়া প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তবে খিলাল দ্বারা যা বের করা হয়, তা গিলে ফেলা ঠিক নয়। কারণ, সতর্কের বিষয় হচ্ছে অনেক সময় দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে পুঁজ বা জীবাণু জন্মে।
সুতরাং এসব কণার সাথে ওই পুঁজ বা জীবাণু যদি মিশে যায় এবং পেটের ভিতরে চলে যায়, তবে সেখানেও ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং খিলাল দ্বারা নির্গত খাদ্যকণা উপকারী নয় বরং অপকারী ও মারাত্মক ক্ষতিকারক।
📄 খাওয়ার পর হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা
ইসলামী শরী'আতের বিধান হল খাওয়া-দাওয়ার পর হাত ধৌত করবে এবং কাপড়ে হাত মুছবে। হাদীস শরীফে আছে-
"কেউ রাতে খাদ্য গ্রহণের পর হাত না ধৌত করলে এবং কোনো পোকা মাকড় তাকে কামড়ালে (ক্ষতি করলে) আমাদের কোনো জিম্মাদারী নেই”।
অর্থাৎ হাতে তরকারি বা মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকলে এবং ইঁদুর ছুঁছা ইত্যাদি কামড়ালে হাত জখম হয়ে যাবে। এর ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্টের শিকার হতে হবে।
খাদ্য গ্রহণের পর হাতে খাদ্যের কিছু অংশ লেগে থাকে। তাই তা ধৌত না করলে যেখানে যেখানে লাগবে, সেখানে ওই খাদ্যবস্তু মিশে যাবে। ফলে ওই সব স্থানে পঁচা-গলা শুরু হবে এবং অসংখ্য রোগব্যাধি বিস্তার লাভ করবে।
কাপড় দিয়ে হাত মুছতে বলা হয়েছে এজন্য যে, হাতের মধ্যে অনেক সময় মসলা ও তৈল জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে। কাপড় দ্বারা মুছলে এসব পরিষ্কার হয়ে যায়। মোটকথা, দীন (ইসলাম) হল ধারাবাহিক সতর্কতা ও উপকার লাভের একটি মাধ্যম।
📄 খাদ্যগ্রহণের পরপরই পানি পান না করা
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাওয়ার পরপরই পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (মাদারিজুন্ নবুওয়াত)
📄 ডাক্তার কর্ণেল চোপড়া ও ইসলামি বিধান
ডা. কর্ণেল চোপড়া একজন হিন্দু বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি কয়েকটি বইও রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি দীর্ঘ গবেষণার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, খাওয়ার পর পানি পান করলে পাকস্থলীর রগগুলো ঢিলা হয়ে যায়। এর ভিতরের ঝিল্লী ফুলে যায় এবং হজমশক্তি হ্রাস পায়।
সুতরাং অধিকাংশ সময় পানি পাকস্থলীতে রোগ জন্ম দেয়। তা থেকে আবার হার্টের রোগ দেখা দেয়। এরই মধ্যে আমার একজন মুসলমান অধ্যাপকের সাথে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। তিনি বললেন, আপনার গবেষণা প্রশংসনীয় বটে; কিন্তু এ গবেষণা নতুন কোনো গবেষণা নয় বরং চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মহা সত্যটি প্রকাশ করে দিয়েছেন।
আমি তার এ দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলে তিনি হাদীসের গ্রন্থসমূহের মধ্যে এ কথা আমাকে দেখিয়েছেন।